বাণী

প্রিয়	মুহরে-নবুয়ত-ধারী হে হজরত
		(প্রিয়) তারিতে উম্মত এলে ধরায়
	মোহাম্মদ মোস্তফা, আমহদ মুরতজা
		নাম জপিতে নয়নে আঁসু ঝরায়।।
দিলে 	মুখে তক্‌বির, দিলে বুকে তৌহিদ
দিলে 	দুঃখেরই সান্ত্বনা খুশির ঈদ
দিলে 	প্রাণে ঈমান, দিলে হাতে কোরআন
		শিরে শিরতাজ নাম মুসলিম আমায়।।
তব	সব নসিহত মোরা গিয়াছি ভুলে
শুধু	নাম তব আছে জেগে প্রাণের কূলে
	ও-নামে এ প্রাণ-সিন্ধু তব দুলে
		আমি ঐ নামে ত’রে যাব, আছি আশায়।।

বাণী

পথহারা পাখি কেঁদে ফিরে একা
আমার জীবনে শুধু আঁধারের লেখা।।
বাহিরে অন্তরে ঝড় উঠিয়াছে
আশ্রয় যাচি হায় কাহার কাছে
	বুঝি দুখ-নিশি মোর
	হবে না হবে না ভোর
ফুটিবে না আশার আলোক রেখা।।

নাটকঃ ‘সিরাজদ্দৌলা’

বাণী

পরদেশি বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে
আসিলে এতদিন কেমনে পথ চিনে।।
তোমারে খুঁজিয়া কত রবি-শশী
অন্ধ হইল প্রিয় নিভিল তিমিরে
তব আশে আকাশ-তারা দ্বীপ জ্বালি'
জাগিয়াছে নিশি ঝুরিয়া শিশিরে।
শুকায়েছে স্বরগ দেবতা তোমা বিনে।।
কত জনম ধরি' ছিলে বল পাসরি'
এতদিনে বাঁশরি বাজিল কি বিপিনে।।

বাণী

প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথাই
পরি চাঁপা ফুলের শাড়ি খয়েরিটিপ,
জাগি বাতায়নে জ্বালি আঁখি প্রদীপ,
মালা চন্দন দিয়ে মোর থালা সাজাই।।
তুমি আসিবে বলে সুদূর অতিথি
জাগে চাঁদের তৃষা লয়ে কৃষ্ণা তিথি,
কভু ঘরে আসিকভু বাহিরে চাই।।
আজি আকাশে বাতাসে কানাকানি,
জাগে বনে বনে নবফুলের বাণী,
আজি আমার কথা যেন বলিতে পাই।।

বাণী

পরি’ জাফরানি ঘাগরি চলে শিরাজের পরী
ইরানি কিশোরী হেসে’ হেসে’।।
চপল চটুল রঙ্গে রঙ্গিলা নৃত্য বিভঙ্গে
চলিছে সহেলি এলোকেশে।।
পাপিয়া পিয়া পিয়া ডকে শাখে — পিয়া পিয়া পিয়া পিয়া
কাহারে ভালোবেসে।।
মনে সে শিরাজির নেশা লাগায়
আঁখি-ইঙ্গিতে গোলাপ ফোটায়।
তারি সুরে রহি’ রহি’ বিরহীর রবাব ঝুরে
বুলবুলি পথ ভুলি’ ইহারি লাগি’ এলো এ দেশে।।

বাণী

		প্রিয়ে ... বলি ও-প্রিয়ে ... তুমি দেখ ...।
		[কাঁপা-কন্ঠে আবৃত্তির ঢঙে বলা হয়েছে]

পুরুষ	:	প্রিয়ে! বলি, ও প্রিয়ে! তুমি দেখ!
		দেখ বিরহের দাবানল জ্বলে গোঁফ-দাড়িতে।
স্ত্রী	:	ও-স’রে যা, সে আগুন লেগে যাবে শাড়িতে॥
পুরুষ	:	একে ভীষণ ফাগুন মাস
স্ত্রী	:	ওগো তাই বুছি হাঁসফাঁস ?
পুরুষ	:	কাপাস ফলের মত ফেটে পড়ে হিয়া গো,
স্ত্রী	:	প্রেম-তুলো বের হয়ে পড়ে ছড়াইয়া গো,
উভয়ে:	রব্ ওঠে ভোঁস্-ভাঁস্ হৃদি-রেলগাড়িতে॥
পুরুষ	:	আজি এ বিরহের কাঠ-ঠোক্রা, ঠোক্রায় প্রেমের টাকে,
স্ত্রী	:	ওগো এ হেন বেয়াধি হলে টাকে, মধ্যম-নারায়ণ তেল মাখে।
পুরুষ	:	হায়-হায়-হায়-হায়-হায়
		আমাদের মাঝে কে রচিবে মিলনের সাঁকো।
স্ত্রী	:	থাক্ থাক্, পুরুতঠাকুর ইঞ্জিনিয়ার
		তারে তাড়াতাড়ি ডাকো, ডাকো, একবার ডাকো না ?
উভয়ে:	আগুন লাগিল ওরে দাড়ি আর শাড়িতে
		যুগল মিলন হ’ল ধেড়ে আর ধাড়িতে॥