বাণী

দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে যায় কালের স্রোতে
ওগো সুদূর ওগো বিধুর তোমার সাগর-তীর্থ -পথে।।
	বিফল দিনের কমলগুলি
	পড়লো ঝ'রে পাপড়ি খুলি'
নিও প্রিয় তদের তুলি দিন শেষের ম্লান আলোতে।।
সঞ্চিত মোর দিনগুলি হায় ছড়িয়ে গেল অযতনে;
তোমার বরণ-মালা গাঁথা হলো না আর এ জীবনে।
	অন্য মনে কখন বেভুল
	ভাসিয়ে দিলাম দলি সে ফুল
বঞ্চিত তাই হবে কি হায় তোমার চরণ-ছোওয়া হ'তে।।

বাণী

দিনের সকল কাজের মাঝে
		তোমায় মনে পড়ে।
কাজ ভুলে যাই (আমি), মন চ’লে যায়
		সুদূর দেশান্তরে।।
	তুলসী তলায় দীপ জ্বালিয়ে
	দূর আকাশে রই তাকিয়ে,
সাঁঝের ঝরা ফুলের মতো অশ্রু বারি ঝরে।।
আঁধার রাতে বাতায়নে একলা ব’সে থাকি,
চাঁদকে শুধায় তোমার কথা ঘুমহারা মোর আঁখি।
	প্রভাত বেলায় গভীর ব‍্যথায়
	মন কেঁদে কয় তুমি কোথায়,
শূন্য লাগে এ তিন ভুবন প্রিয় তোমার তরে।।

বাণী

	দিল দোলা ওগো দিল দোলা
কোন	দখিন হাওয়া গজল-গাওয়া
		কুসুম-ছাওয়া বনে।
ওঠে	চমকি চমকি পরান ক্ষণে ক্ষণে।।
	ফুল-বঁধুদের মধু যেচে' বেড়ায় হিয়া নেচে' নেচে'
	দেখেছিলাম স্বপনে যায় পেয়েছি তায় আজকে জাগরণে।।
	কুল ছাপিয়ে মন-তটিনী নটিনীর বেশে, দুলে' দুলে' যায় ভেসে'।
	বস-ভুষণ আজি শাসন নাহি মানে খুশির তুফানে।
চাই	কুঞ্জপথে ঝ'রে যেতে ঝরা ফুলের সনে।।

বাণী

দীনের হতে দীন দুঃখী অধম যেথা থাকে
ভিখারিনী বেশে সেথা দেখেছি মোর মাকে
		মোর অন্নপূর্ণা মাকে॥
অহংকারের প্রদীপ নিয়ে স্বর্গে মাকে খুঁজি
মা ফেরেন ধূলি পথে যখন ঘটা করে পূজি
ঘুরে ঘুরে দূর আকাশে প্রণাম আমার ফিরে আসে
যথায় আতুর সন্তানে মা কোল বাড়ায়ে ডাকে॥
নামতে নারি তাদের কাছে সবার নীচে যারা
তাদের তরে আমার জগন্মাতা সর্বহারা।
অপমানের পাতাল তলে লুকিয়ে যারা আছে
তোর শ্রীচরণ রাজে সেথা নে মা তাদের কাছে
আনন্দময় তোর ভুবনে আনব কবে বিশ্বজনে
আমি দেখব জ্যোতির্ময়ী রূপে সেদিন তমসাকে
		আমার অন্নপূর্ণা মাকে॥

বাণী

দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি।
কে যেন কহিছে কেঁদে মোর বুকে মুখ রাখি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
হারায়ে গিয়াছে চাঁদ জল-ভরা কালো মেঘে
আঁচলে লুকায়ে ফুল বাতায়নে আছি জেগে’
শূন্য গগনে দেয়া কহিতেছে যেন ডাকি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
ভাঙিয়া দুয়ার মম কাড়িয়া লইতে মোরে
এলে কি ভিখারি ওগো প্রলয়ের রূপ ধ’রে?
ফুরাইয়া যায় বঁধু শুভ-লগনের বেলা
আনো আনো ত্বরা করি’ ওপারে যাবার ভেলা
‘পিয়া পিয়া’ ব’লে বনে ঝুরিছে পাপিয়া পাখি
	‘পথিক এসেছ না কি’।।

বাণী

দীপক-মালা গাঁথ গাঁথ সই।
মাধব আসে পারিজাত কই।।
আনত আঁখি তোলো তোলো গো!
বেদন-জ্বালা ভোলো ভোলো গো!
মান-ভুলানো এলো রাত সই।।
কাজল আঁকো নীল আঁখিতে
চেয়ো না লাজে আঁখি ঢাকিতে,
আসন প্রাণে পাত পাত সই।।

বাণী

দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই
তুমি যেন অন্তরে মোর বিরাজ করো সর্বদাই॥
	রোগের মাঝে অশান্তিতে
	তুমি থেকো আমার চিতে
তোমার নামের ভজন গীতে প্রাণে যেন শান্তি পাই॥
দুর্দিনেরি বিপদ এলে তোমায় যেন না ভুলি
তোমার ধ্যানে পর্বত প্রায় অটল থাকি, না দুলি।
	সুখের দিনে বিলাস ঘোরে
	ভুলতে নাহি দিও মোরে
আপনি ডেকে নিও কোলে দূরে যদি সরে যাই॥

বাণী

দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
	শিব নাই পান কে করে গরল
অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥