বাণী

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে।
নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে।।
		রিম্‌ঝিম্‌ বৃষ্টির নূপুর বোলে
		মৃদঙ্গ বাজে গুরু গম্ভীর রোলে;
হেরি’ সেই নৃত্য ধরার চিত্ত ডুবু ডুবু বরিষার প্রেম-প্লাবনে।।
		উদাসী বেণু তার অশান্ত বায়ে
		বাজে রহি’ রহি’ দূর বনছায়ে;
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে ভাবের বন্যা বহে বৃন্দাবনে।।

বাণী

চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
	বনের পথে রঙের ডালা
তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু১,
	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।

১. ফুলেল হাওয়া

বাণী

	চিকন কালো বেদের কুমার কোন্‌ পাহাড়ে যাও?
কোন্‌	বন-হরিণীর পরান নিতে বাঁশরি বাজাও?
	তুমি শিস্‌ দিয়ে গান গাও
	তুমি কুটিল চোখে চাও।।
	তীর-ধনুক নিয়ে সারাবেলা
	ও শিকারি, এ কি খেলা?
শাল গাছেরই ডাল ভাঙিয়া একটু বাতাস খাও।।
কাঁকর-ভরা কাঁটার পথে (আজ) নাই শিকারে গেলে,
অশথ্‌-তলে বাজাও বাঁশি (তোমার) হাতের ধনুক ফেলে’।
	তোমার কালো চোখের কাজল নিয়ে
	ঝিল উঠেছে ঝিল্‌মিলিয়ে, ঝিল্‌মিলিয়ে।
ঐ কমল ঝিলের শাপলা নিয়ে বাঁশিখানি দাও।।

বাণী

চাঁদের মত নীরবে এসো প্রিয় নিশীথ রাতে।
ঘুম হয়ে পরশ দিও হে প্রিয়, নয়ন-পাতে।।
	তব তবে বাহির-দুয়ার মম
	খুলিবে না এ-জনমে প্রিয়তম,
মনের দুয়ার খুলি’ গোপনে এসো বিজড়িত রহিও স্মৃতির সাথে।।
কুসুম-সুরভি হ’য়ে এসো নিশি-পবনে,
রাতের পাপিয়া হয়ে পিয়া পিয়া ডাকিও বব-ভবনে।
	আঁখি-জল হয়ে আঁখিতে আসিও
	বেণুকার সুর হয়ে শ্রবণে ভাসিও,
বিরহ হ’য়ে এসো হে চির-বিরহী আমার অন্তর-বেদনাতে।।

গীতিচিত্রঃ ‘অতনুর দেশ’

বাণী

চাঁদ হেরিছে চাঁদ–মুখ তার সরসীর আরশিতে।
ছুটে তরঙ্গ বাসনা–ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।।
হেরিছে রজনী – রজনী জাগিয়া
চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,
কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
		কুমুদীরে কাঁদাইতে।।
না জানি সজনী কত সে রজনী কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,
হেরেছে শশীরে সরসী–মুকুরে ভীরু ছায়া–তরু কাঁপিয়া।
কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
চির–বিরহিণী রোহিণী ভরণী
অবশ আকাশ বিবশা ধরণী
		কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।

বাণী

চপল আঁখির ভাষায়, হে মীনাক্ষী ক’য়ে যাও।
না-বলা কোন্ বাণী বলিতে চাও॥
	আড়ি পাতে নিঝ্‌ঝুম বন
	আঁখি তুলি’ চাহিবে কখন,
আঁখির তিরস্কারে ঐ বন-কান্তারে ফুল ফোটাও॥
নিটোল আকাশ টোল খায় তোমারি চাওয়ায়, হে মীনাক্ষী,
নদী-জলে চঞ্চল সফরী লুকায়, হে মীনাক্ষী!
	ওই আঁখির করুণা
	ঢালো রাগ অরুণা,
আঁখিতে আঁখিতে ফুল-রাখি বেঁধে দাও॥