বাণী

আর্শিতে তোর নিজের রূপই দেখিস চেয়ে' চেয়ে'
আমায় চেয়ে দেখিস না তাই রূপ-গরবী মেয়ে।
		ওলো রূপ-গরবী মেয়ে।।
	নাইতে গিয়ে নদীর জলে
	দেরি করিস নানান ছলে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখতে কখন আসবে জোয়ার ধেয়ে।।
	চাদেঁর সাথে মিলিয়ে দেখিস চাঁদপানা মুখ তোর
	ভাবিস তুই-ই আসল শশী চাঁদ যেন চকোর
		ওলো চাঁদ যেন চকোর।
	বনের পথে আনমনে
	দাঁড়িয়ে থাকিস অকারণে
ওরে	ভাবিস তোরে দেখেই বুঝি বিহগ ওঠে গেয়ে'।

বাণী

(মা)		আয় মুক্তকেশী আয়
(মা)		বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
		প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
		মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
		ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
		তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
		দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
		খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
		ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে)	দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
		মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥

বাণী

আজও মা তোর পাইনি প্রসাদ আজও মুক্ত নহি।
আজও অন্যে আঘাত দিলে কঠোর ভাষা কহি।।১
	মোর আচরণ, আমার কথা
	আজও অন্যে দেয় মা ব্যথা
আজও আমার দাহন দিয়ে শত জনে দহি।।
শত্রুমিত্র মন্দভালোর যায়নি আজও ভেদ
কেহ ব্যথা দিলে, প্রাণে আজও জাগে খেদ।
	আজও মাগো দুঃখে শোকে
	অশ্রু ঝরে আমার চোখে,
আমার আমার ভাব ওগো মা আজও জাগে রহি’ রহি’।।

১. আজও অন্যে কষ্ট দিলে / কষ্ট ভাষা কহি।।

বাণী

আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।

বাণী

আজো ফোটেনি কুঞ্জে মম কুসুম ভোমরাকে যেতে বল।
সখি	গুঞ্জরি ফেরে কেন কুঞ্জে বৃথাই এত ছল।।
	কত কি শুনিয়ে যায়, গুনগুনিয়ে হায়-
	পাতার ঝরকায়, ঘোরে সে অবিরল।।
আমার প্রাণের ভেতর কেন উঠায় সে ঝড়
তারে	ফেরালে ফেরে না হাসে কেবল,
সে	ফিরিয়া গেলে চোখে আসে জল।
	একি হল দায়, আঁখি নাহি চায়
	না দেখিলে তায়, প্রাণ পাগল।।

বাণী

আমার আছে এই ক’খানি গান
তা’ দিয়ে কি ভর’বে তোমার প্রাণ।।
		অনেক বেশি তোমার দাবি
		শূন্য হাতে তাইতো ভাবি,
কি দান দিয়ে ভাঙবো তোমার গভীর অভিমান।।
	তুমি চাহ গভীর ব্যাকুলতা
	আমার কাছে বলার দুটি কথা।
		যে বাঁশরি গায় অবিরাম
		প্রিয়তম তোমারি নাম
যাবার বেলায় তোমায় দিলাম সেই বাঁশরি খান।।