বাণী

[শোন গিন্নী শুন্‌ছ —]
আজকে হোরি ও নাগরী, ওগো গিন্নী ও ললিতে।
ফাগের রাঙা জল ভ’রে দাও, ফর্‌সি হুঁকোর পিচ্‌কিরিতে॥
গাজর বিট আর লাল বেগুনে, রাঁধবে শালগম তেলে নুনে,
রাঙা দেখে লঙ্কা দিও, লাল নটে আর ফুলকারিতে॥
গাইব গান দোল পূর্ণিমাতে, মালোয়ারী জ্বর আসলে রাতে,
তুমি দোহার ধ’রবে সাথে, গিঁটে বাতের গিঁটকিরিতে॥
(আর) আমি লাল গামছা প’রে যাবো, লাল বাজারে পায়চারিতে,
তুমি যাবে চিড়িয়াখানায়, এই মুখেতে গন্ডার মারিতে॥
(না হয়) তুমি যাও বাপের বাড়ি, পাছুপাছু যাবো আমি ওগো শ্বশুর বাড়িতে
পাছু পাছু যাবো তোমার, না হয় শ্বশুর বাড়িতে॥

বাণী

আজ	শ্রাবনের লঘু মেঘের সাথে মন চলে মোর ভেসে',
	রেবা নদীর বিজন তীরে মালবিকার দেশে।।
		মন ভেসে যায় অলস হাওয়ায়
		হালকা-পাখা মরালী-প্রায়
	বিরহিনী কাদেঁ যথা একলা এলাকেশে।।
	কভু মেঘের পানে কভু নদীর পানে চেয়ে,'
	লুকিয়ে যথা নয়ন মোছে গায়েঁর কালো মেয়ে,
	একলা বধূ বসে থাকে যথায় বাতায়নে
				বাদল দিনের শেষে।।

বাণী

আয় মরু পারের হাওয়া নিয়ে যা রে মদিনায় —
জাত-পাক মুস্তাফার রওজা মুবারক যেথায়।।
মরিয়া আছি দুখে মাশরেকী এই মুল্লুকে,
পড়ব মাগরিবের নামাজ কবে খানা-এ কা'বায়।।
হজরতের নাম তসবি করে যাব রে মিসকিন বেশে
ইসলামের ঐ দ্বীনী ডঙ্কা বাজল প্রথম যে দেশে।
কাঁদব ধরে মাজার শরীফ ধরে শুনব সেথায় কান পাতি, —
নবীর মুখে তেমনি কি রে রব ওঠে 'এ্যায় উম্মতি'!
পাক কোরানের কালাম হয়ত সেথা শোনা যায়।।

বাণী

আজি এ শ্রাবণ-নিশি		কাটে কেমনে।
গুরু দেয়া গরজন			কাঁপে হিয়া ঘনঘন
শনশন কাঁদে বায়ু			নীপ-কাননে।।
অন্ধ নিশীথ, মন			খোঁজে কারে আঁধারে,
অন্ধ নয়ন ঝরে			শাওন-বারিধারে।
ভাঙিয়া দুয়ার মম			এসো এসো প্রিয়তম,
শ্বসিছে বাহির ঘর			ভেজা পবনে।।
কার চোখে এত জল		ঝরে দিক্‌ প্লাবিয়া,
সহিতে না পারি’ কাঁদে		‘চোখ গেল’ পাপিয়া।
কাহার কাজল-আঁখি		চাহি’ মোর নয়নে
ঝুরেছিল একা রাতে		কবে কোন্‌ শাওনে,
আজি এ বাদল ঝড়ে		সেই আঁখি মনে পড়ে,
বিজলি খুঁজিছে তারে		নভ-আঙনে।।

বাণী

আমার	শ্যামা মায়ের কোলে চ’ড়ে জপি আমি শ্যামের নাম
		মা হলেন মোর মন্ত্র-গুরু ঠাকুর হলেন রাধা-শ্যাম।।
			ডুবে শ্যামা-যমুনাতে
		মা 	খেলবো খেলা শ্যামের সাথে
		শ্যাম যবে মোরে হানবে হেলা মা পুরাবেন মনস্কাম।।
		আমার মনের দোতারাতে শ্যাম ও শ্যামা দুটি তার,
		সেই দোতারায় ঝঙ্কার দেয় ওঙ্কার রব অনিবার।
			মহামায়া মায়ার ডোরে
			আনবে বেঁধে শ্যাম-কিশোরে
আমি		কৈলাসে তাই মাকে ডাকি দেখবো সেথা ব্রজধাম।।

বাণী

	আল্লাহ্‌ রসুল জপের গুণে কি হ'ল দেখ চেয়ে —
সদা	ঈদের দিনের খুশিতে তোর পরাণ আছে ছেয়ে।।
		আল্লাহ্‌র রহমত ঝরে
		ঘরে বাইরে তোর উপরে,
	আল্লাহ্‌ রসুল হয়েছেন তোর জীবন-তরীর নেয়ে।।
	দুখে সুখে সমান খুশি নাই ভাবনা ভয়,
তুই	দুনিয়াদারী করিস তবু আল্লাহ্‌তে মন রয়।
		মরণকে আর ভয় নাই তোর,
		খোদার প্রেমে পরাণ বিভোর,
	তিনি দেখেন তোর সংসার, তোরই ছেলেমেয়ে।।