বাণী

আধো আধো বোল্ লাজে-বাধো-বাধো বোল
				ব’লো কানে কানে।
যে কথাটি আধো রাতে মনে লাগায় দোল
				ব’লো কানে কানে।।
যে কথার কলি সখি আজও ফুটিল না, হায়
শরমে মরম-পাতে দোলে আন্‌মনা, হায়
যে কথাটি ঢেকে রাখে বুকের আঁচল
				ব’লো কানে কানে।।
যে কথা লুকায়ে থাকে লাজ-নত চোখে
না বলিতে যে কথাটি জানাজানি লোকে
যে কথাটি ধ’রে রাখে অধরের কোল
লুকিয়ে ব’লো নিরালায় থামিলে কলরোল।
যে কথাটি বলিতে চাও বেশভূষার ছলে
যে কথা দেয় ব’লে তব তনু পলে পলে
যে কথাটি বলিতে সই গালে পড়ে টোল্ —
				ব’লো কানে কানে।।

বাণী

আমার মা ত্বং হি তারা
তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা
মা ত্বং হি তারা।
আমি জানি মা ও দীনদয়াময়ী
তুমি দুর্গমেতে দুঃখহরা,
মা ত্বং হি তারা।
তুমি জলে তুমি স্থলে তুমি আদ্যমূলে গো মা,
আছ সর্বঘটে অর্ঘ্যপুটে সাকার আকার নিরাকারা
মা ত্বং হি তারা।
তুমি সন্ধ্যা তুমি গায়ত্রী তুমি জগদ্ধাত্রী গো মা
অকুলের প্রাণকর্ত্রী সদা শিবের মনোহরা।
মা ত্বং হি তারা।।

বাণী

পুরুষ	:	আজি মিলন বাসর প্রিয়া হের মধুমাধবী নিশা।
স্ত্রী	:	কত জনম অভিসারে শেষে প্রিয় পেয়েছি তব দিশা।।
পুরুষ	:	সহকার-তরু হের দোলে মালতী লতায় লয়ে বুকে,
স্ত্রী	:	মাধবী কাঁকন পরি' দেওদার তরু দোলে সুখে।
পুরুষ	:	হায় প্রাণ কানায় কানায় আজি পুরে
স্ত্রী	:	প্রাণ কানায় কানায় আজি পুরে
পুরুষ	:	হিয়া আবেশে পুলক মিশা
স্ত্রী	:	হিয়া আবেশ পুলক মিশা।।
পুরুষ	:	শরাব রঙের শাড়ি পরেছে চাঁদনি রাতি
স্ত্রী	:	চাঁদে ও তারাতে আজি মিলনের মাতামাতি
পুরুষ	:	হের জোয়া উতলা সিন্ধু পূর্ণিমা চাঁদের পেয়ে'
স্ত্রী	:	কোন দূর অতীত স্মৃতি মম প্রাণে-মনে ওঠে ছেয়ে।
পুরুষ	:	আজি মিলন-ঘন মেঘলোকে
স্ত্রী	:	আজি মিলন-ঘন মেঘলোকে
পুরুষ	:	প্রিয়া মিটিবে মরু-তৃষা
স্ত্রী	:	প্রিয় মিটিবে মরু-তৃষা।।
দ্বৈত	:	প্রিয় মিটিবে মরু-তৃষা।।

বাণী

আর কত দুখ্ দেবে, বল মাধব বল বল মাধব বল।
দুখ্ দিয়ে যদি সুখ পাও তুমি কেন আঁখি ছলছল॥
	তব শ্রীচরণ তলে আমি চাহি ঠাঁই,
	তুমি কেন ঠেল বাহিরে সদাই;
আমি কি এতই ভার এ জগতে যে, পাষাণ তুমিও টল॥
ক্ষুদ্র মানুষ অপরাধ ভোলে তুমি নাকি ভগবান,
তোমার চেয়ে কি পাপ বেশি হ’ল (মোরে) দিলে না চরণে স্থান।
	হে নারায়ণ! আমি নারায়ণী সেনা,
	মোরে কুরুকুল দিতে ব্যথা কি বাজে না,
(যদি) চার হাতে মেরে সাধ নাহি মেটে দু’চরণ দিয়ে দ’ল॥

বাণী

আজিকে তনু মনে লেগেছে রঙ লেগেছে রঙ
বঁধূর বেশে ধরা সেজেছে অভিনব ঢঙ।।
	কাননে আলো-ছায়া
	নয়নে রঙের মায়া
দোলে দোদুল কায়া পরানে বাজিছে সারঙ।।
	সে-রঙে সাগর-কোলে
	কত চাঁদ, রবি দোলে
বাজে গগন তলে জলদ তালে মেঘ-মৃদঙ।।

বাণী

আজি নতুন এ চাঁদের তিথিতে
কোন্ অতিথি এলো ফুল-বীথিতে॥
যদি বেদনা পায় বঁধু পথ চলিতে
তাই চেয়েছি বনপথ ফুল কলিতে
জানি ভাল জান হে বঁধু ফুল দলিতে
এসো বঁধু সুমধুর প্রীতিতে॥
এসো মনের মন্দিরে দেবতা আমার
লহ প্রেমের চন্দন আঁখি জলহার
আজি সফল করো সাধ আমার পূজার
চির জনম রহ মোর স্মৃতিতে॥