বাণী

রুম্ ঝুম্ বাদল আজি বরষে
আকুল শিখি নাচে ঘন দরশে॥
বারির দরশনে আজি ক্ষণে ক্ষণে
নব নীরদ শ্যাম রূপে পড়ে মনে
না-জানি কোন্ দেশে কোন্ প্রিয়া সনে
রয়েছে ভুলিয়া নটবর সে॥

বাণী

দ্বৈত	:	রাধাকৃষ্ণ নামের মালা
		জপ দিবানিশি নিরালা॥
পুরুষ	:	অগতির গতি গোকুলের পতি
স্ত্রী	:	শ্রীকৃষ্ণে ভক্তি দেয় যে শ্রীমতী
পুরুষ	:	ভব-সাগরে কৃষ্ণ নাম ধ্রুবজ্যোতি
দ্বৈত	:	সেই কৃষ্ণের প্রিয়া ব্রজবালা॥
স্ত্রী	:	পাপ-তাপ হবে দুর হরির নামে
		শ্রীমতী রাধা যে হরির বামে
পুরুষ	:	ঐ নাম জপি’ যাবি গোলকধামে
দ্বৈত	:	সেই রাধা নাম হবে দুঃখ জ্বালা॥
স্ত্রী	:	সাধনে সিদ্ধ হবে রাধা ব’লে ডাকো
পুরুষ	:	কৃষ্ণ-মূরতি হৃদি-মন্দিরে রাখো
দ্বৈত	:	জপ রে যুগল নাম রাধাশ্যাম
		এই আঁধার জগৎ হবে আলো॥

বাণী

রেশ্‌মি চুড়ির শিঞ্জিনীতে রিমঝিমিয়ে মরম কথা
পথের মাঝে চম্‌কে’ কে গো থম্‌কে’ যায় ঐ শরম-নতা।।
	কাঁখ-চুমা তার কলসি-ঠোঁটে
	উল্লাসে জল উল্‌সি’ ওঠে,
	অঙ্গে নিলাজ পুলক ছোটে
			বায় যেন হায় নরম লতা।।
অ-চকিতে পথের মাঝে পথ-ভুলানো পরদেশিকে
হান্‌লে দিঠি পিয়াস-জাগা পথ্‌বালা এই উর্বশীকে!
	শূন্য তাহার কন্যা হিয়া
	ভর্‌ল বঁধুর বেদ্‌না নিয়া,
	জাগিয়ে গেল পর্‌দেশিয়া
			বিধুর বধূর মধুর ব্যথা।।

বাণী

রস-ঘনশ্যাম-কল্যাণ-সুন্দর।
প্রশান্ত সন্ধ্যার উদার শান্তি দাও —
শ্রান্ত মনের ভার হর, হে গিরিধর।।
যে নিবিড় সমাধির গভীর আনন্দে
হিমালয় লীলায়িত নীরব ছন্দে,
সেই মহাযোগে কর মোরে মগ্ন —
যে মহাভাবে ভোর মৌন নীলাম্বর।। 
অপগত-দুখশোক নিশীথ সুষুপ্তির মাঝে,
নিথর সিন্ধুর অতল তলে যে শান্ত বিরাজে।
যে সুধা লভিয়া ঋষি মধুছন্দা
আনিল বেদবাণী অলকানন্দা
অন্তরে বাহিরে সেই অমৃত দাও —
কর পুরুষোত্তম অজর অমর।।

বাণী

রবে না এ বৈকালি ঝড় সন্ধ্যায়।
বহিবে ঝিরিঝিরি চৈতালি বায়॥
দুপুরে যে ধরেছিল দীপক তান
বেলাশেষে গাহিবে সে মুলতানে গান,
কাঁদিবে সে পূরবীত গোধূলি-বেলায়॥
নৌবতে বাজিবে গো ভীম-পলাশী,
উদাস পিলুর সুরে ঝুরিবে বাঁশি,
বাজিবে নূপুর হয়ে তটিনী ও-পায়॥

বাণী

রংমহলের রংমশাল মোরা আমরা রূপের দীপালি।
রূপের কাননে আমরা ফুলদল কুন্দ মল্লিকা শেফালি।।
	রূপের দেউলে আমি পূজারিণী
	রূপের হাটে মোর নিতি বিকিকিনি,
	নৌবতে আমি প্রাতে আশাবরি,
			আমি সাঁঝে কাঁদি ভূপালী।।
	আমি শরম-রাঙা চোখের নেশা,
	লাল শারাব আমি আঙুর-পেষা,
	আঁখিজলে গাঁথা আমি মোতি-মালা,
			দীপাধারে মোরা প্রাণ জ্বালি।।