বাণী

হিন্দোলি’ হিন্দোলি’ 
		ওঠে নীল সিন্ধু
গগনে উঠিল তার
		কোন্ পূর্ণ ইন্দু।।
শত শুক্তি-আঁখি দিয়া
পিইছে চাঁদ-অমিয়া,
শিশির রূপে ঝরিয়া
		পড়ে জোছনা-বিন্দু।।

বাণী

হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
	আমি গুনাহগার বে-খবর,
	নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
	যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
	খোদায় ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।

বাণী

হেমন্তিকা এসো এসো হিমেল শীতল বন-তলে
শুভ্র পূজারিণী বেশে কুন্দ-করবী-মালা গলে।।
	প্রভাত শিশির নীরে নাহি'
	এসো বলাকার তরণী বাহি'
সারস মরাল সাথে গাহি' চরণ রাখি' শতদলে।।
ভরা নদীর কূলে কূলে চাহিছে সচকিতা চখি —
মানস-সরোবর হ'তে-অলক -লক্ষ্মী এলো কি?
	আমন ধানের ক্ষেতে জাগে
	হিল্লোল তব অনুরাগে,
তব চরণের রঙ লাগে কুমুদে রাঙা কমলে।।

বাণী

হেরা হতে হেলে দুলে নূরানী তনু ও কে আসে হায়,
সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
তার ভাবে বিভোল রাঙা পায়ের তলে
পর্বত জঙ্গম টলমল টলে,
খোরমা খেজুর বাদাম জাফরানি ফুল ঝ’রে ঝ’রে যায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।
আসমানে মেঘ চলে ছায়া দিতে,
পাহাড়ের আঁসু গলে ঝরনার পানিতে,
বিজলি চায় মালা হতে,
পূর্ণিমার চাঁদ তার মুকুট হতে চায় —
সে যে আমার কমলিওয়ালা — কমলিওয়ালা।।

বাণী

হায় হায় উঠিল মাতম আকাশ পবন ভুবন ভরি’।
আখেরি নবী দ্বীনের রবি বিদায় নিল বিশ্ব-নিখিল আঁধার করি’।।
অসীম তিমিরে পুণ্যের আলো
আনিল যে চাঁদ, সে কোথায় লুকালো
আকাশে ললাট হানি’ কাঁদিছে মরুভূমি
শোকে গ্রহ-তারকা পড়িছে ঝরি’।।
তৃণ নাহি খায় উট, মেষ নাহি মাঠে যায়;
বিহগ-শাবক কাঁদে জননীরে ভুলি হায়!
বন্ধুর বিরহ কি সহিল না আল্লার,
তাই তারে ডাকিয়া নিল কাছে আপনার’;
হায় কান্ডারি গেল চ’লে রাখিয়া পারের তরী।।

বৈতালিক

বাণী

হোরি খেলে নন্দলালা
প্রেমের রঙে মাতোয়ালা॥
বিশ্বরাধা সে সাথে রঙে খেলায় মাতে
রঙে ত্রিভুবন ছায় রাঙা আলোক আবির ছড়ায়
	হোরি রবি-শশী থালা॥
আজি বনে বনে মনে মনে হোরি
মনের মরুতে লতায় তরুতে রাঙা ফুল ফোটে মরি মরি।
আজি প্রাণে প্রাণে ফুল দোল
দোল পূর্ণিমা রাতি রাঙা ফুল তারা বাতি
	ধরণীতে আকাশে জ্বালা॥