বাণী

ও কে উদাসী বেণু বাজায়
ডাকে করুণ সুরে আয় আয়।।
ও সে বাঁধন হারা বাহির বিলাসী
	গৃহীরে করে সে পরবাসী
	রস যমুনায় উজান বহায়।।
মম মনের ব্রজে ওসে কিশোর রাখাল
যেন বাজায় বাঁশি শুনি অনাদিকাল
তার সরল বাঁশি তার তরল তাল
	অন্তরে গরল-সুধা মেশায়।।

বাণী

মেয়েঃ	ও শাপ্‌লা ফুল নেবো না বাবলা ফুল এনে দে
		নইলে দেবো না বাঁশি ফিরিয়ে।
ছেলেঃ	খুলে বেণীর বিনুনী, খোঁপার চিরুনি
		হাতে দে, যাব খানিক জিরিয়ে।
মেয়েঃ	বন-পায়রার পালক দে কুড়িয়ে,
ছেলেঃ	তোর চোখের চাওয়া পায়রা দিল উড়িয়ে,
দুজনেঃ	মোদের ঝগড়া দেখে হালকা হাওয়া বহে ঝিরঝিরিয়ে।
ছেলেঃ	তোর জোড়া ভুরু-ধনুক মোর নাসিকা বাঁশি লো
মেয়েঃ	চাঁদের চেয়ে ভালো লাগে
		কালো রূপের হাসি রে তোর কালো রূপের হাসি
ছেলেঃ	ওই কালো চোখের হাসি।
মেয়েঃ	তুই যাদু করে মন দিলি দুলিয়ে
দুজনেঃ	মোদের কথা শুনে শিরিষ পাতা ওঠে শিরশিরিয়ে॥

সিনেমাঃ ‘অভিনয় নয়’

বাণী

ওরে	শুভ্রবসনা রজনীগন্ধ্যা বনের বিধবা মেয়ে,
	হারানো কাহারে খুঁজিস নিশীথ-আকাশের পানে চেয়ে।।
	ক্ষীণ তনুলতা বেদনা-মলিন,
	উদাস মূরতি ভূষণবিহীন,
	তোরে হেরি ঝরে কুসুম-অশ্রু বনের কপোল বেয়ে।।
	তুইলুকায়ে কাঁদিস রজনী জাগিস সবাই ঘুমায় যবে,
	বিধাতারে যেন বলিস — দেবতা আমারে লইবে কবে।
	করুণ শুভ্র ভালোবাসা তোর
	সুরভি ছড়ায় সারা নিশি ভোর,
	প্রভাত বেলায় লুটাস ধূলায় যেন-কারে নাহি পেয়ে।।

বাণী

ওরে দেখে যা তোরা নদীয়ায়
গোরার রূপে এলো ব্রজের শ্যামরায়॥
	মুখে হরি হরি বলে
	হেলে দুলে নেচে চলে
নরনারী প্রেমে গলে ঢলে পড়ে রাঙা পায়॥
ব্রজে নূপুর পরি নাচিত এমনি হরি
কূল ভুলিয়া সবে ছুটিত এমন করি
শচীমাতার রূপে কাঁদিছে মা যশোদা
বিষ্ণু প্রিয়ার চোখে কাঁদে কিশোরী রাধা
নহে নিমাই নিতাই ও যে কানাই বলাই
শ্রীদাম সুদাম এলো জগাই মাধাই-এ হায়॥
আজ এসেছে ভূবন ভুলাতে অসি নাই বাঁশি নাই
ও ভাই এবারে শূন্য হাতে এসেছে ভুবন ভুলাতে।
ও ভাই লীলা পাগল এলো প্রেমে মাতাতে
ডুবু ডুবু নদীয়া বিশ্ব ভাসিয়া যায়॥

বাণী

ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।

বাণী

ওকে ট'লে ট'লে চলে একলা গোরী
নব-যৌবনা নীল-বাসনা কাঁখে গাগরি।।
মদির মন্দ বায় অঞ্চল দোলে
খোঁপা খুলে দোলে আকুল কবরী।
তারে ছল ছল দূরে ডাকে নদী
তা'রিনাম যপে পাপিয়া নিরবধি
ডাকে বনের কিশোর বাজায়ে বাঁশরি।।