বাণী

ব্রজগোপাল শ্যাম সুন্দর
যশোদা দুলাল শিশু নটবর॥
নন্দ নন্দন নয়নানন্দ
চরণে মধুর সৃজন ছন্দ
ভুবন মোহন কৃষ্ণচন্দ্র
অপরূপ রূপ হেরে চরাচর॥
কোটি গ্রহতারা চরণে নূপুর
ওঙ্কার ধ্বনি বাঁশরির সুর।
বঙ্কিম আঁখি বাঁকা শিখীপাখা
বাঁকা শ্রীচরণ ভঙ্গিমা বাঁকা
কৃষ্ণময় শ্রীঅঙ্গ ডাকা
করাল মধুর প্রভু গিরিধর॥

বাণী

কঠিন ধরায় ফোটাতে ফসল-ফুল।
কে জানে মহা-সিন্ধু কেন গো হইয়া ওঠে ব্যাকুল।।
	মেঘ হ’য়ে কেন আকাশ ভরিয়া
	বারিধারা রূপে পড়ে গো ঝরিয়া,
কত লোক ভাবে উৎপাত এলো, কত লোক ভাবে ভুল।।
কার বাঁধা-ঘর ভেঙে গেল হায় বোঝে না’ক তাহা মেঘ,
কুলে কুলে আনে ফুলের বন্যা তাহার প্রেমের বেগ।
	জানে না কাহার করিল সে ক্ষতি
	সে জানে স্নিগ্ধ হ’ল বসুমতী,
যে অকূলের পথে টানে, সে বোঝে না ভাসিল কাহার কুল।।

বাণী

কে পরালো মুণ্ডমালা আমার শ্যামা-মায়ের গলে।
সহস্র দল জীবন কমল দোলে রে যার চরণ-তলে।।
	কে বলে মোর মা-কে কালো,
	মায়ের হাসি দিনের আলো
মায়ের আমার গায়ের জ্যোতি গগন পবন জলে স্থলে।।
শিবের বুকে চরণ যাঁহার কেশব যাঁরে পায় না ধ্যানে,
শব নিয়ে সে রয় শ্মশানে কে জানে কোন অভিমানে।
	সৃষ্টিরে মা রয় আবরি'
	সেই মা নাকি দিগম্বরী?
তাঁরে অসুরে কয় ভয়ঙ্করী ভক্ত তাঁয় অভয়া বলে।।

বাণী

জানি আমার সাধনা নাই আছে তবু সাধ।
তুমি আপনি এসে দেবে ধরা দূর-আকাশের চাঁদ।।
	চকোর নহি মেঘও নহি
	আপন ঘরে বন্দী রহি’
আমি শুধু মনকে কহি কাঁদ নিশি দিন কাঁদ।।
কূল-ডুবানো জোয়ার কোথা পাব হে সুন্দর?
হে চাঁদ আমি সাগর নহি পল্লী-সরোবর।
	নিশীথ রাতে আমার নীরে,
	প্রেমের কুমুদ ফোটে ধীরে,
মোর ভীরু প্রেম যেতে নারে ছাপিয়ে লাজের বাঁধ।।

বাণী

	যাও যাও তুমি ফিরে এই মুছিনু আঁখি
	কে বাঁধিবে তোমারে হায় গানের পাখি॥
মোর	আজ এত প্রেম আশা এত ভালোবাসা
	সকলি দুরাশা আজ কি দিয়া রাখি॥
	তোমার বেঁধেছিল নয়ন শুধু এ রূপের জালে
	তাই দুদিন কাঁদিয়া হায় এ বাঁধন ছাড়ালে।
	আমার বাঁধিয়াছে হিয়া আমি ছাড়াব কি দিয়া
	আমার হিয়া তো নয়ন নহে ও সে ছাড়ে না কাঁদিয়া,
	ওগো দুদিন কাঁদিয়া।
	এই অভিমান জ্বালা মোর একেলারি কালা
	ম্লান মিলনেরি মালা দাও ধূলাতে ঢাকি॥

বাণী

(প্রিয়া) স্বপনে এসো নিরজনে।
(প্রিয়া) আধো রাতে চাঁদের সনে।।
	রহিব যখন মগন ঘুমে
	যেয়ো নীরবে নয়ন চুমে’,
মধুকর আসে যেমন গোপনে মল্লিকা চামেলি বনে।।
	বাতায়নে চাঁপার ডালে
	এসো কুসুম হয়ে নিশীথ কালে,
ভীরু কপোতী সম এসো হৃদয়ে মম বাহুর মালা হয়ে বাসর শয়নে।।