বাণী

নিখিল ঘুমে অচেতন সহসা শুনিনু আজান
শুনি’ সে তকবিরের ধ্বনি আকুল হল মন-প্রাণ
বাহিরে হেরিনু আসি বেহেশতী রৌশনীতে রে
ছেয়েছে জমিন ও আসমান
আনন্দে গাহিয়া ফেরে ফেরেশ্‌তা হুর গেলেমান —
এলো কে, কে এলো ভুলোকে! দুনিয়া দুলিয়া উঠিল পুলকে।।
তাপীর বন্ধু, পাপীর ত্রাতা, ভয়-ভীত পীড়িতের শরণ-দাতা
মুকের ভাষা নিরাশার আশা, ব্যথার শান্তি, সান্ত্বনা শোকে
এলো কে ভোরের আলোকে।।
দরুদ পড় সবে : সাল্লে আলা, মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
কেহ বলে, এলো মোর কম্‌লিওয়ালা — খোদার হাবীব কেহ কয় নিরালা
মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
কেহ বলে, আহমদ নাম মধু ঢালা — মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
মজনুঁরও চেয়ে হল দীওয়ানা সবে, নাচে গায় নামের নেশায় ঝোঁকে।।

বাণী

টলমল্ টলমল্ টলে সরসী
জল নিতে এলে কি গো ষোড়শী।।
হেরিয়া তোমার রাঙা পদতল
ফুটিল প্রেমের কুমুদ কমল
খেলিছে চঞ্চল তরঙ্গ-দল ল’য়ে তব কলসি।।
হেরি’তোমার নীলাম্বরী কাজল-আঁখি
হলোকাজ্‌লা দীঘির জল সুনীল না-কি!
হাতেশাপলা মৃণাল দিয়ে বাঁধে রাখি
নাচেলীলায়িত ঢেউ তব তনু পরশি’।।

বাণী

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।

বাণী

ওরে ও মদিনা বলতে পারিস কোন সে পথে তোর
খেলত ধূলা-মাটি নিয়ে মা ফাতেমা মোর।।
হাসান হোসেন খেলত কোথায় কোন সে খেজুর বনে
পাথর-কুচি কাঁকর ল'য়ে দুম্বা শিশুর সনে
সেই মুখকে চাঁদ ভেবে রে উড়িত চকোর।।
মা আয়েশা মোর নবীজীর পা ধোয়াতেন যথা
দেখিয়ে দে সে বেহেশত আমায় রাখ রে আমার কথা;
তোর প্রথম কোথায় আজান-ধ্বনি ভাঙলো ঘুমের ঘোর।।
কোন পাহাড়ের ঝর্ণা-তীরে মেষ চরাতেন নবী
কোন পথ দিয়ে রে যেতেন হেরায় আমার আল-আরবি'
তুই কাঁদিস কোথায় বুকে ধরে সেই নবীজীর গোর।।