বাণী

(আমার) 	আনন্দিনী উমা আজো এলো না তার মায়ের কাছে।
		হে গিরিরাজ! দেখে এসো কৈলাসে মা কেমন আছে॥
			মোর মা যে প্রতি আশ্বিন মাসে
			মা মা ব’লে ছুটে আসে,
		‘মা আসেনি’ ব’লে আজও ফুল ফোটেনি লতায় গাছে ॥
		তত্ত্ব-তলাশ নিইনি মায়ের তাই বুঝি মা অভিমানে,
		না এসে তার মায়ের কোলে ফিরিছে শ্মশান মশানে।
			ক্ষীর নবনী ল’য়ে থালায়
			কেদে ডাকি, ‘আয় উমা আয়’।
		যে কন্যারে চায় ত্রিভুবন তাকে ছেড়ে মা কি বাঁচে॥

বাণী

সন্ধ্যা নেমেছে আমার বিজন ঘরে, তব গৃহে জ্বলে বাতি।
ফুরায় তোমারি উৎসব নিশি সুখে, পোহায় না মোর রাতি।।
	আমার আশার ঝরা ফুলদল দিয়া,
	তোমার বাসর শয্যা রচিছ প্রিয়া
তোমার ভবনে আলোর দীপালি জ্বলে, আঁধার আমার সাথী।
					পোহায় না মোর রাতি।।
ঘুমায়ে পড়েছে আমার কাননে কুহু, নীরব হয়েছে গান;
তোমার কুঞ্জে গানের পাখিরা তুলিয়াছে কলতান।
	পৃথিবীর আলো মোর চোখে নিভে আসে,
	বাজিছে বাঁশরি তোমার মিলন-রাসে;
ওপারের বাঁশি আমায় ডাকিবে কবে, আছি তাই কান পাতি।
					পোহায় না মোর রাতি।।

বাণী

‘দেশপ্রিয় নাই’ শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে জাগি’।
আকাশে ললাট হানিয়া কাঁদিছে ভারত চির-অভাগী।।
বহুদিন পরে আপনার ঘরে মা’র কোলে মাথা রাখি’,
ঘুমাতে এসেছে শ্রান্ত সেননী, জাগায়ো না তারে ডাকি’।
দেশের লাগিয়া দিয়াছে সকলি, দেয়নি নিজেরে ফাঁকি —
তাহারি শুভ্র শান্ত হাসিটি অধরে রয়েছে লাগি’।।
স্বার্থ অর্থ বিলাস বিভব গৌরব সম্মান
মায়ের চরণে দিয়াছে সে-বীর অকাতরে বলিদান,
রাজ-ভিখারির ছিল সম্বল শুধু দেহ আর প্রাণ
তাই দিয়ে দিল শেষ অঞ্জলি দানবীর বৈরাগী।।

প্রথম খন্ড

বাণী

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥

বাণী

		আল্লা নামের শিরনি তোরা কে নিবি কে আয়।
মোরা 	শিরনি নিয়ে পথে হাঁকি (নিতে) কেহ নাহি চায়।।
			এই শিরনির গুণে ওরে শোন
			শিরিণ্ হবে তোর তিক্ত মন রে
		রাঙা হবে ভাঙা হৃদয় এই শিরনির মহিমায়।।
		ধররে প্রাণের তশ্‌তরি তোর আরশ পানে মেলে,
		খোদার খিদে মিটবে রে ভাই এই শিরনি খেলে।
			তোদের পেট পুরিলি ধূলামাটি খেয়ে
			করলি হেলা আল্লার নাম পেয়ে
তোরা 	কাবা পাবার দরজা পাবি আয় আল্লা নামের দরজায়।।

বাণী

		মালা গাঁথা শেষ না হ’তে তুমি এলে ঘরে।
		শূন্য হাতে তোমায় বরণ করব কেমন ক’রে।।
			লজ্জা পাবার অবসর মোর
			দিলে না হে চঞ্চল, চোর
		সজ্জা-বিহীন মলিন তনু দেখলে নয়ন ভ’রে।।
		বিফল মালার ফুলগুলি হায় কোথায় এখন রাখি,
		ক্ষণিক দাঁড়াও, ঐ কুসুমে (তোমার) চরণ দু’টি ঢাকি।
			আকুল কেশে পা মুছিয়ে
			করব বাতাস আঁচল দিয়ে,
(মোর) 	নয়ন হবে আরতি-দীপ তোমার পূজার তরে।।