বাণী

ফিরে এসো ফিরে এসো প্রিয়তম
তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজো বন-বুলবুলি।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়েছিলে সেদিন আমার পাশে
সাজানো সে গৃহ তব, ঢেকেছে পথের ধূলি।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিনী গিয়াছে চলি' চাঁদ কাঁদে একা-একা
কোন দূর তারালোকে কেমনে রয়েছ ভুলি'।।

বাণী

		ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)		পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
			তুই যে বলিদান চেয়েছিস
			কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
		মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো		দিলাম হৃদয়-কমন্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
		মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
			ষড় রিপুর উপচারে
			যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
		সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥

বাণী

ঐ নন্দন নন্দিনী দয়িতা, চির-আনন্দিতা।
যেন প্রথম কবির প্রথম লেখা কবিতা ॥
	তব চরণের নূপুরধ্বনি
	মধুকর গুঞ্জর তোলে যে রণি,
মন মোর ভোলে হেরি তোমারে যে গো ঐ যে যৌবন-গর্বিতা ॥
	দোলায় দোদুল দুল তব নৃত্য
	আবেশে আকুল হয় মোর চিত্ত,
	নৃত্যশেষে তব পায়ের নূপুর
	গ্রহ তারকায় রয় আকাশের সুদূর,
সুরলোক উর্বশী তুমি যে আমার রও চির-অনিন্দিতা ॥

বাণী

শ্যামলা বরণ বাংলা মায়ের রূপ দেখে যা, আয় রে আয়
গিরি–দরি, বনে–মাঠে, প্রান্তরে রূপ ছাপিয়ে যায়।।
ধানের ক্ষেতে, বনের ফাঁকে, দেখে যা মোর কালো মা–কে
ধূলি–রাঙা পথের বাঁকে বৈরাগিনী বীণ বাজায়।।
ভীরু মেয়ে পালিয়ে বেড়ায় পল্লীগ্রামে এক্‌লাটি
বিজনমাঠে গ্রাম সে বসায় নিয়ে কাদা, খড়, মাটি
কালো মেঘের ঝারি নিয়ে করুণা–বারি ছিটায়।।
কাজলা–দীঘির পদ্মফুলে যায় দেখা তার পদ্ম–মুখ
খেলে বেড়ায় ডাকাত–মেয়ে বনে লয়ে বাঘ–ভালুক
ঝড়ের সাথে নৃত্যে মাতে বেদের সাথে সাপ নাচায়।।
নদীর স্রোতে পাথর নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে তার
সাঁঝের বারান্দাতে দাঁড়ায় টীপ প’রে সন্ধ্যা–তারার।
ঊষার গাঙে ঘট ভরিতে যায় সে মেয়ে ভোর বেলায়।
হরিত শস্যে লুটায় আঁচল ঝিল্লিতে নূপুর বাজে
ভাটিয়ালি গায় ভাটির স্রোতে গায় বাউল মাঠের মাঝে (মা)।
গঙ্গা–তীরে শ্মশান–ঘাটে কেঁদে কভু বুক ভাসায়।।

বাণী

হে প্রবল দর্পহারী কৃষ্ণ-মুরারি।
শরণাগত আর্ত-পরিত্রাণ-পরায়ণ —
		যুগ যুগ সম্ভব নারায়ণ দানবারি।।
ভূ-ভার হরণে এসো জনার্দন হৃষিকেশ,
কল্কীরূপে অধর্ম নিধনে এসো দনুজারি —
		কংসারি গিরিধারী ডাকে ভয়ার্ত নরনারী।।
দুর্বল দীনের বন্ধু, জন-গণ ত্রাতা
নিঃস্বের সহায় পরমেশ বিশ্ব-বিধাতা,
		তিমির-বিদারি এসো মহা-ভারত-বিহারী।।
এসো উৎপীড়িতের নীরব রোদনে এসো
এসো বীরের আত্মদানে প্রাণ-উদ্বোধনে এসো,
দেশ-দ্রৌপদীর লজ্জাহারী, দৈত্য-গর্ব-খর্ব-কারী —
		শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী।।

বাণী

রোজ হাশরে আল্লা আমার ক'রো না বিচার (আল্লা)
বিচার চাহি না তোমার দয়া চাহে এ গুনাহ্‌গার।।
	আমি জেনে শুনে জীবন ভ'রে
	দোষ করেছি ঘরে পরে
আশা নাই যে যাব ত'রে বিচারে তোমার।।
বিচার যদি করবে কেন রহমান নাম নিলে।
ঐ নামের গুণেই ত'রে যাব, কেন এ জ্ঞান দিলে।
	দীন ভিখারি ব'লে আমি
	ভিক্ষা যখন চাইব স্বামী
শূন্য হাতে ফিরিয়ে দিতে পারবে নাকো আর।।