বাণী

নাচিছে নটনাথ, শঙ্কর মহাকাল।
লুটাইয়া পড়ে দিবা-রাত্রির বাঘছাল
আলো-ছায়ার বাঘ ছাল।।
ফেনাইয়া ওঠে নীল-কণ্ঠের হলাহল,
ছিঁড়ে পড়ে দামিনী অগ্নি-নাগিনী দল।
দোলে ঈশান-মেঘে ধূর্জটি-জটাজাল।।
বিষম ছন্দে বোলে ডমরু নৃত্য-বেগে,
ললাট-বহ্নি দোলে প্রলয়ানন্দে জেগে।
চরণ-আঘাত লেগে শ্মশানে কঙ্কাল।।
সে নৃত্য-ভঙ্গে গঙ্গা-তরঙ্গে
সঙ্গীত দুলে ওঠে অপরূপ রঙ্গে,
নৃত্য-উছল জলে বাজে জলদ তাল।।
সে নৃত্য-ঘোরে ধ্যান-নিমীলিত ত্রিনয়ন
প্রলয়ের মাঝে হেরে নব সৃজন-স্বপন,
জোছনা-আশিস্ ঝরে উছলিয়া শশী-থাল।।

নাটকঃ ‘আলেয়া’

বাণী

ওগো	দেবতা তোমার পায়ে গিয়াছিনু ফুল দিতে
মোর	মন চুরি ক’রে নিলে কেন তুমি অলখিতে।।
আজি	ফুল দিতে শ্রীচরণে
মম	হাত কাঁপে ক্ষণে;
কেন	প্রণাম করিতে গিয়া- প্রিয় সাধ জাগে পরশিতে।।
তুমি	দেবতা যে মন্দিরে- কাছে এলে যাই ভুলে
বঁধু	আমি দীন দেবদাসী কেন তুমি মোরে ছুঁলে।
		তুমি কাছে এলে যাই ভুলে।
আমি	হাতে আনি হেমঝারি’,
তুমি	কেন চাহ আঁখি-বারি;
আমি	পূজা-অঞ্জলি আনি, তুমি কেন চাহ মালা নিতে।।

বাণী

রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়
ফুটিল শাখে মুকুল ও রাঙা চরণ-ঘায়।।
সে নাচে তটিনী-জল টলমল টলমল,
বনের বেণী উতল ফুলদল মুরছায়।।
বিজরি-জরীর আঁচল ঝলমল ঝলমল
নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
তালীবন থৈ তাথৈ করতালি হানে ঐ, (হায় রে হায়)
‌‌‘কবি, তোর তমালী কই’ — শ্বসিছে পুবালি-বায়।।

বাণী

মা, মা গো —
আমার অহঙ্কারের মূল কেটে দে কাঠুরিয়ার মেয়ে,
কত নিরস তরু হ'ল মঞ্জুরিত তোর চরণ-পরশ পেয়ে।।
রোদে পুড়ে জলে ভিজে মা দিয়েছি ফুল ফল
শাখায় আমার, নীড় বেঁধেছে বিহঙ্গের দল।
বটের মত সারা দেহ মাগো মায়ার জটে আছে ছেয়ে।।
ও মা মূল আছে তাই বৈতরণীর কূলে আছি পড়ি
নইলে হ'তাম খেয়াঘাটের পারাপারের তরী।
	তুই খড়গের ভয় দেখাস মিছে
	মুক্তি আছে এরি পিছে মাগো
তোর হাসির বাঁশি শুনতে পাবো অসির আঘাত খেয়ে।।

বাণী

কেন তুমি কাঁদাও মোরে, হে মদিনাওয়ালা!
অবরোধবাসিনী আমি কুলের কুলবালা।।
ঈদের চাঁদের ইশারাতে কেন ডাক নিঝুম রাতে,
হাসিন ইউসুফ! জুলেখারে কত দিবে জ্বালা।।
একি লিপি পাঠালে নাথ কোরানের আয়াতে —
পড়তে গিয়ে অশ্রু-বাদল নামে আঁখি-পাতে।
বাজিয়ে শাহাদতের বাঁশি কেন ডাক নিত্য আসি';
হাজার বছর আগে তোমায় দিয়েছি তো মালা।।

বাণী

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
	তোর চরণের আলতা লেগে
	পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
	উড়ে এলি’ দেশান্তরী
	তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।