বাণী

ভুলে যাও ব’লে জানাও মনে রাখার আবেদন
অনুরোধে ভুলব যদি মনে রাখা সে কেমন॥
		মনে যে রাখতে জানে
		সে কি মুখের মানা মানে
ভুলে দিয়ে যার মন ভরা তারে ভুলতে বলা অকারণ॥
চাঁদ চ’লে যায় আবার আসে ফিরে আসে ফাগুন হাওয়া
কোয়েল এসে যায় ক’য়ে তার মনে রাখার দাবি দাওয়া।
		ভালোবাসায় ফুলের বাগে
		ঝরে কুসুম আবার জাগে
বন্ধ দুয়ার মন দেউলের খোলো হাজার বাতায়ন॥

বাণী

এলো শোকের সেই মোহর্‌রম কারবালার স্মৃতি ল’য়ে।
কাঁদিছে বিশ্বের মুসলিম সেই ব্যথায় বেতাব হয়ে।।
মনে পড়ে আসগরে আজি পিয়াসা দুধের বাচ্চায়
পানি চাহিয়া পেল শাহাদৎ হোসেনের বুকে র’য়ে।।
একহাতে বিবাহের কাঙন একহাতে কাশেমের লাশ,
বেহোঁশ্ খিমাতে সকিনা অসহ বেদনা স’য়ে।।
পাশে শহীদ কাঁদে বীর জব্বার পানির মশক মুখে
হল শহীদ কাঁদে জয়নব কুলসুম আকুল হয়ে।।
শূন্য পিঠে কাঁদে দুলদুল্ হজরত হোসেন শহীদ্,
ঝরিতেছে শোকের বারিষ্ আসমান জমিন ছেয়ে।।

বাণী

		উত্তরীয় লুটায় আমার
		ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
		ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
		আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥

হৈমন্তী

বাণী

আজি	আল কোরায়শী প্রিয় নবী এলেন ধরাধাম
তাঁর	কদম মোবারকে লাখো হাজারো সালাম।
	তওরত ইঞ্জিলে মুসা ঈসা পয়গম্বর
	বলেছিলেন আগাম যাঁহার আসারি খবর
	রব্বুলে দায়ের যাঁহার দিয়েছিলেন নাম
	সেই আহমদ মোর্তজা আজি এলেন আরব ধাম।।
	আদমেরি পেশানিতে জ‍্যোতি ছিল যাঁর
	যাঁর গুণে নূহ তরে গেল তুফান পাথার
	যাঁর নূরে নমরুদের আগুন হলো ফুলহার
	সেই মোহাম্মদ মুস্তাফা এলেন নিয়ে দীন-ইসলাম।।
	এলেন কাবার মুক্তিদাতা মসজিদের প্রাণ,
	শাফায়াতের তরী এলে পাপী তাপীর ত্রাণ
	দিকে দিকে শুনি খোদার নামের আজান
	নবীর রূপে এলো খোদার রহমতেরি জাম।।

বাণী

আজি প্রথম মাধবী ফুটিল কুঞ্জে মাধব এলো না সই।
এই যৌবন-বরমালা কারে দিব মোর বনমালী বই।।
	সারা নিশি জেগে বৃথাই নিরালা
	গাঁথিলাম নব মালতীর মালা,
অনাদরে হায় সে মালা শুকায় দেখিয়া কেমনে রই।।
	মম অনুরাগ-চন্দন ঘ’ষে,
	লাজ ভু’লে সাঁঝ হ’তে আছি ব’সে,
শুকাইয়া যায় চন্দন হায় রাধিকারমণ কই।।
	চলিলাম আমি যথা মন চায়,
	প্রভাতে আসিলে মোর শ্যামরায়
বলিস্ আঁধারে হারাইয়া হায় গেছে রাধা রসময়ী।।

বাণী

বকুল ছায়ে ছিনু ঘুমায়ে গোপন পায়ে আসিলে তুমি।
রাতের শেষে ভোরের মতন ভাঙিলে স্বপন নয়ন চুমি’॥
ফুলের বুকে মধুর সম আসিলে তুমি আামার প্রাণে
মরুর বুকে উঠিল ফুটে রঙিন কুসুম বেদন ভুলি’॥
জাগিয়া হেরি পরান ভরি উঠিতেছে ঢেউ এ কি এ ব্যথার
বেদনা যত মধুও তত হিয়াতে শরম নয়নে আশার।
অকালে ফাগুন আগুন শিখায় রাঙিল মনের কানন-ভূমি॥