বাণী

ভাঙা মন (আর) জোড়া নাহি যায়
ওগো ঝরা ফুল আর ফেরে না শাখায়।।
	শীতের হাওয়ায় তুষার হয়ে
	গলি' খরতাপে বারি যায় ব'য়ে
গলে নাক' আর হৃদয়-তুষার এ উষ্ণ ছোঁওয়ায় ।।
	গাঁথি' ফুলমালা নাহি দিয়া গলে
	শুকালে নিঠুর তব মুঠি-তলে,
হাসিবে না সে ফুল শত আঁখি-জলে আর সে শোভায়।
	স্রোতের সলিলে
	যে বাঁধ বাঁধিলে
ভাঙিয়ে সে বাঁধ তোমারে ভাসায়।।

বাণী

আমি যেদিন রইব না গো লইব চির-বিদায়।
চিরতরে স্মৃতি আমার জানি মুছে যাবে হায়।।
এই ধরণীর খেলা-ঘরে, মনে রাখে কে কারে
দুলে সাগর চাঁদ-সোহাগে, মরু মরে পিপাসায়।।
রবি যবে ওঠে নভে, চাঁদে কে মনে রাখে
এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে, মানুষের মন নদীর প্রায়।
মোর সমাধির বুকে প্রিয়, উঠবে তোমার বাসর ঘর,
হায়, অসহায় ভিখারি মন, কাঁদে তবু সেই ব্যথায়।।

বাণী

কুহু কুহু কুহু ব’লে মহুয়া-বনে।
মাধবী চাঁদ এলে পূব-গগনে।।
দুলে ওঠে বনান্ত আসিলে কে পান্থ,
তব পদধ্বনি অশান্ত — হে শুনি মম মনে।।
বাতায়নে প্রদীপ জ্বালি’
আসা-পথ চাহি’, প্রহর গণি, গান গাহি’।
এলে আজি নিশীথে দেখা দিতে তৃষিতে,
শুনি দশ-দিশিতে — বাঁশি তব ক্ষণে ক্ষণে।।

বাণী

সকাল হ'ল শোন রে আজান
	ওঠ রে শয্যা ছাড়ি'
তুই মসজিদে চল দ্বীনের কাজে
	ভোল দুনিয়াদারি।।
ওজু করে ফেল রে ধুয়ে
	নিশীথ রাতের গ্লানি
সিজদা করে জায়নামাজে
	ফেল রে চোখের পানি;
খোদার নামে সারাদিনের
	কাজ হবে না ভারী।।
নামাজ প'ড়ে দু'হাত তুলে
	প্রার্থনা কর তুই -
ফুল-ফসলে ভ'রে উঠুক
	সকল চাষির ভূঁই
সকল লোকের মুখে হোক
	আল্লার নাম জারী।।
ছেলে-মেয়ে সংসার-ভার
	সঁপে দে আল্লারে
নবীজীর দোয়া ভিক্ষা কর
	কর রে বারে বারে;
তোর হেসে নিশি প্রভাত হবে
	সুখে দিবি পাড়ি।।

বাণী

মদন	:	আহা! সুনীল নীরদে ঢাকিল অরুণ, নীহারে ঢাকিল শশী।
মধু	:	চন্দন মেখে শুকতারা হাসে মোর বাতায়নে বসি।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (মদনকুমার ও মধুমালার গান)

বাণী

স্বপনে দেখেছি ভারত-জননী
			তুই যেন রাজরাজেশ্বরী।
নবীন ভারত! নবীন ভারত!
			স্তব-গান ওঠে ভুবন ভরি’।।
শস্যে ফসলে ডেকেছে মা বান
মাঠে ও খামারে ধরে নাকো ধান
মুখভরা হাসি, হসিভরা প্রাণ
			নদী ভরা যেন পণ্যতরী।।
পড়ুয়ারা পড়ে বকুল-ছায়ে
সুস্থ সবল আদুল গায়ে
মেয়েরা ফিরিছে মুক্ত বায়ে
			কল-গীতে দিক মুখর করি’।
ভুলিয়া ঈর্ষা ভোগ আসক্তি
ধরার ক্লান্ত অসুর-শক্তি
এসেছে শিখিতে প্রেম ও ভক্তি
			নব-ভারতের চরণ ধরি’।।