বাণী

বনের তাপস কুমারী আমি গো, সখি মোর বনলতা।
নীরবে গোপনে দুইজনে কই আপন মনের কথা।।
যবে 	গিরিপথে ফিরি সিনান করিয়া,
	লতা টানে মোর আঁচল ধরিয়া,
হেসে বলি, ওরে ছেড়ে দে, আসিছে তোদের বন-দেবতা।।
ডাকি যদি তারে আদর করিয়া — ওরে বন বল্লরি,
আনন্দে তার ফোটা ফুলগুলি অঞ্চলে পড়ে ঝরি'।
	লুকায়ে যখন মোর দেবতায়
	আবরিয়া রাখে কুসুমে পাতায়,
চরণে আমার (ও সে) আসিয়া জড়ায় যবে হই ধ্যানরতা।।

বাণী

দেশে দেশে গেয়ে বেড়াই তোমার নামের গান
হে খোদা, এ যে তোমারই হুকুম, তোমারই ফরমান।।
এমনি তোমার নামের আছর –
নামাজ রোজার নাই অবসর,
তোমার নামের নেশায় সদা মশগুল মোর প্রাণ।।
তকদিরে মোর এই লিখেছ হাজার গানের সুরে
নিত্য দিব তোমার আজান আঁধার মিনার-চূড়ে।
কাজের মাঝে হাটের পথে
রণ-ভূমে এবাদতে
আমি তোমার নাম শোনাব, করব শক্তি দান।।

বাণী

কে দিল খোঁপাতে ধুঁতুরা ফুল লো
খোঁপা খুলে কেশ হলো বাউল লো।।
পথে সে বাজালো মোহন–বাঁশি
তোর ঘরে ফিরে যেতে হলো এ ভুল লো।।
কে নিল কেড়ে তোর পৈঁচী চুড়ি
বৈঁচি মালায় ছি ছি খোয়ালি কুল লো।।
ও সে বুনা পাগল পথে বাজায় মাদল
পায়ে ঝড়ের নাচন শিরে চাঁচর চুল লো।।
দিল নাকেতে নাকছাবি বাবলা ফুলি
কুঁচের চুড়ি আর ঝুঁমকো ফুল দুল লো।।
সে নিয়ে লাজ দু’কূল দিল ঘাঘরি
সে আমার গাগরি ভাসালো জলে বাতুল লো।।

নাটকঃ মহুয়া

বাণী

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি।
হরষে বরিষে বারি শাওন-গগন তিতি'।।
বকুল-বনের সাকি নটীন পুবালি হাওয়া
বিলায় সুরভি-সুরা মাতায় কানন-বীথি।।
তিতির শিখীর সাথে নোটন-কপোতী নাচে;
ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে ঝুমুর কাজরি-গীতি।
হিঙুল হিজল-তলে ডাহুক পিছল-আঁখি,
বধূর তমাল-চোখে ঘনায় নিশীথ-ভীতি।
তিমির-ময়ুর আজি তারার পেখম খোলে
জড়ায় গগন-গলে চাঁদের ষোড়শী তিথি।।

বাণী

তুমি দুখের বেশে এলে বলে ভয় করি কি হরি।
দাও ব্যথা যতই তোমায় ততই নিবিড় করে ধরি।
			আমি ভয় করি কি হরি।।
	আমি শূন্য করে তোমার ঝুলি
	দুঃখ নেব বক্ষে তুলি,
আমি করব দুঃখের অবসান আজ সকল দুঃখ বরি।।
	কত সে মন কত কিছুই
	হজম করে ফেলি নিতুই,
এক মনই তো দুঃখ দেবে তারে নাহি ডরি।।
	তুমি তুলে দিয়ে সুখের দেয়াল,
	ছিলে আমার প্রাণের আড়াল,
আজ আড়াল ভেঙে দাঁড়ালে মোর সকল শূন্য হরি।।

বাণী

জাগো	দুস্তর পথের নব যাত্রী
		জাগো জাগো!
ঐ	পোহাল তিমির রাত্রি।।
	দ্রীম দ্রীম দ্রীম রণ-ডঙ্কা
	শোন বোলে নাহি শঙ্কা!
	আমাদের সঙ্গে নাচে রণ-রঙ্গে
	দনুজ-দলনী বরাভয়-দাত্রী।।
	অসম্ভবের পথে আমাদের অভিযান
	যুগে যুগে করি মোরা মানুষেরে মহীয়ান।
	আমরা সৃজিয়া যাই নতুন যুগভাই
	মোরা নবতম ভারত-বিধাত্রী।।
	সাগরের শঙ্খ ঘন ঘন বাজে,
	রণ-অঙ্গনে চল কুচকাওয়াজে।
	বজ্রের আলোকে মৃত্যুর মুখে
	দাঁড়াব নির্ভীক উগ্র সুখে
	ভারত-রক্ষী মোরা নব শাস্ত্রী।।