বাণী

ত্রিংশ কোটি তব সন্তান ডাকে তোরে
ভুলে আছিস দেশ জননী কেমন ক’রে॥
ব্যথিত বুকে মাগো তোমার মন্দির গড়ি
করি পূজা আরতি মাগো যুগ যুগ ধরি’
ধূপ পুড়িয়া মাগো চন্দন শুকায়ে যায়
এসো মা এসো পুন রানীর মুকুট প’রে॥
দুঃখের পসরা মা আর যে বহিতে নারি
কাঁদিয়া কাঁদিয়া শুকায়েছে আঁখি-বারি
এ গ্লানি লাজ মাগো সহিতে নাহি পারি
বিশ্ব বন্দিতা এসো দুখ-নিশি-ভোরে॥
অতীত মহিমা ল’য়ে এসো মহিমাময়ী
হীনবল সন্তানে কর মা ভুবনজয়ী
দুখ তপস্যা মা কবে তব হবে শেষ
আয় মা নব আশা রবির প্রদীপ ধ’রে॥

বাণী

বল্‌	নাহি ভয় নাহি ভয়!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!
তুই	নির্ভর কর্‌ আপনার ‘পর আপন পতাকা কাঁধে তুলে ধর্‌
ওরে	যে যায় যাক্ সে, তুই শুধু বল্ ‘আমার হয়নি লয়’!
বল্‌	‘আমি আছি’, আমি পুরুষোত্তম, আমি চির-দুর্জয়!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
যে	গেল সে নিজেরে নিঃশেষ করি’ তোদের পাত্র দিয়ে গেল ভরি’!
ঐ	বন্ধ মৃত্যু পারেনি ক’ তাঁরে পারেনি করিতে লয়!
তাই	আমাদের মাঝে নিজেরে বিলায়ে সে আজি শান্তিময়
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে	রুদ্র তখনি ক্ষুদ্রেরে গ্রাসে আগেই যবে সে ম’রে থাকে ত্রাসে
ওরে	আপনার মাঝে বিধাতা জাগিলে বিশ্বে সে নির্ভয়
এই	ক্ষুদ্র কারায় কভু কি ভয়াল ভৈরব বাঁধা রয়?
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!
ওরে	আত্ম-অবিশ্বাসী, ভয়ে-ভীত! কেন হেন ঘন অবসাদ চিত
বল্‌	পর-বিশ্বাসে পর-মুখপানে চেয়ে কি স্বাধীন হয়?
তুই	আত্মাকে চিন্, বল আমি আছি,’ ‘সত্য আমার জয়’!
বল্‌	মাভৈঃ মাভৈঃ, জয় সত্যের জয়!!

বাণী

	মোরা ছিনু একেলা, হইনু দু’জন।
	সুন্দরতর হ’ল নিখিল ভুবন।।
আজি	কপোত-কপোতী শ্রবণে কুহরে,
	বীণা বেণু বাজে বন-মর্মরে।
	নির্ঝর-ধারে সুধা চোখে মুখে ঝরে,
	নূতন জগৎ মোরা করেছি সৃজন।।
	মরিতে চাহি না, পেয়ে জীবন-অমিয়া!
	আসিব এ কুটিরে আবার জনমিয়া।
	আরো চাই আরো চাই অশেষ জীবন।।
আজি	প্রদীপ-বন্দিনী আলোক-কন্যা,
	লক্ষ্মীর শ্রী লয়ে আসিল অরণ্যা,
	মঙ্গল-ঘটে এলো নদীজল-বন্যা,
	পার্বতী পরিয়াছে গৌরী-ভূষণ।।

বাণী

নতুন ক’রে রেজওয়ান জিন্নত সাজায়
আজ রোজায় আজ রোজায় আজ রোজায়।
লাগল চাবি দোজখেরি দরওয়াজায়।।
	মসজিদেরি মিনার-চুড়ে
	আজ বেহেশতী নিশান উড়ে
গাফলতি নাই আর কারো নামাজ কাজায়।।
	রোজার শবেকদর রাতে
	কোরান এলো দুনিয়াতে
ফেরেশতা সব সালাম জানায় মোর্তজায়।।

বাণী

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা, তোমারি জয় তোমারি জয়।
ভালোবাস যারে কাঁদাও তাহারে ছলানাময়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তুমি কাঁদায়েছ বসুদেব দেবকীরে,
নন্দ যশোদা ব্রজের গোপীরে,
কাঁদাইলে তুমি শত শ্রীমতীরে হে নিরদয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তোমারে চাহিয়া কোটি নয়নে বিরহ অশ্রু ঝুরে,
ধরণী যে আজ ডুবু ডুবু শ্যাম সাগর সলিলে পুরে।
ভক্তে কাঁদাতে হে ব্যথা বিলাসী
যুগে যুগে আসি’ বাজাইলে বাঁশি
তবুও এ-প্রাণ তোমারি পিয়াসি মানে না ভয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়।

বৈতালিক

বাণী

পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
শীতল হিমেল বায়ে ফুল ঝ’রে যায়।।
	সেদিনও সকাল বেলা
	খেলেছি কুসুম–খেলা,
আজি যে কাঁদি একেলা ভাঙ্গা এ মেলায়।।

বাণী

বাঁশিতে সুর শুনিয়ে নূপুর রুনঝনিয়ে
	এলে আজি বাদলপ্রাতে।
কদম কেশর ঝুরে পুলকে তোমার পায়ে,
তমাল বিছায়ে ছায়া শ্যামল আদুল গায়ে।
অলকা পথ বাহি আসিলে মেঘের নায়ে,
নাচের তালে বাজিয়া ওঠে চুড়ি কাঁকন হাতে।।
ধানি রঙের শাড়ি ফিরোজা রঙ উত্তরীয়
প'রেছি এ শ্রাবণ দোলাতে দুলিতে প্রিয়।
কেশের কমল-কলি, বনমালী, তুলিয়া আদরে
চাঁচর চিকুরে আপনি পরিও
তোমার রূপের কাজল পরায়ো আমার আঁখি পাতে।।