বাণী

বসন্ত এলো এলো এলো রে
পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে
মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে
ভ্রমর গুঞ্জে গুনগুন গানে।।
পিয়া পিয়া ডেকে ওঠে পাপিয়া
মহুল, পলাশ বন-ব্যাপিয়া
সুরভিত সমীরণ চঞ্চল উন্মন
আনে নব-যৌবন প্রাণে।।
বেণুকার বনে বাঁশি বাজে
বনমালী এলো বন-মাঝে
নাচে তরু-লতিকা যেন গোপ-গোপিকা
রাঙা হয়ে রঙের বানে।।

বাণী

[শোন গিন্নী শুন্‌ছ —]
আজকে হোরি ও নাগরী, ওগো গিন্নী ও ললিতে।
ফাগের রাঙা জল ভ’রে দাও, ফর্‌সি হুঁকোর পিচ্‌কিরিতে॥
গাজর বিট আর লাল বেগুনে, রাঁধবে শালগম তেলে নুনে,
রাঙা দেখে লঙ্কা দিও, লাল নটে আর ফুলকারিতে॥
গাইব গান দোল পূর্ণিমাতে, মালোয়ারী জ্বর আসলে রাতে,
তুমি দোহার ধ’রবে সাথে, গিঁটে বাতের গিঁটকিরিতে॥
(আর) আমি লাল গামছা প’রে যাবো, লাল বাজারে পায়চারিতে,
তুমি যাবে চিড়িয়াখানায়, এই মুখেতে গন্ডার মারিতে॥
(না হয়) তুমি যাও বাপের বাড়ি, পাছুপাছু যাবো আমি ওগো শ্বশুর বাড়িতে
পাছু পাছু যাবো তোমার, না হয় শ্বশুর বাড়িতে॥

বাণী

আজি	আল কোরায়শী প্রিয় নবী এলেন ধরাধাম
তাঁর	কদম মোবারকে লাখো হাজারো সালাম।
	তওরত ইঞ্জিলে মুসা ঈসা পয়গম্বর
	বলেছিলেন আগাম যাঁহার আসারি খবর
	রব্বুলে দায়ের যাঁহার দিয়েছিলেন নাম
	সেই আহমদ মোর্তজা আজি এলেন আরব ধাম।।
	আদমেরি পেশানিতে জ‍্যোতি ছিল যাঁর
	যাঁর গুণে নূহ তরে গেল তুফান পাথার
	যাঁর নূরে নমরুদের আগুন হলো ফুলহার
	সেই মোহাম্মদ মুস্তাফা এলেন নিয়ে দীন-ইসলাম।।
	এলেন কাবার মুক্তিদাতা মসজিদের প্রাণ,
	শাফায়াতের তরী এলে পাপী তাপীর ত্রাণ
	দিকে দিকে শুনি খোদার নামের আজান
	নবীর রূপে এলো খোদার রহমতেরি জাম।।

বাণী

দীপ নিভিয়াছে ঝড়ে জেগে আছে মোর আঁখি।
কে যেন কহিছে কেঁদে মোর বুকে মুখ রাখি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
হারায়ে গিয়াছে চাঁদ জল-ভরা কালো মেঘে
আঁচলে লুকায়ে ফুল বাতায়নে আছি জেগে’
শূন্য গগনে দেয়া কহিতেছে যেন ডাকি’
	‘পথিক এসেছ না কি’।।
ভাঙিয়া দুয়ার মম কাড়িয়া লইতে মোরে
এলে কি ভিখারি ওগো প্রলয়ের রূপ ধ’রে?
ফুরাইয়া যায় বঁধু শুভ-লগনের বেলা
আনো আনো ত্বরা করি’ ওপারে যাবার ভেলা
‘পিয়া পিয়া’ ব’লে বনে ঝুরিছে পাপিয়া পাখি
	‘পথিক এসেছ না কি’।।

বাণী

		ওরে আমার চটি
		আমার ঠনঠনিয়ার চটি
		যাত্রা শুনতে কাহার সাথে গেলি তুই পালটি।।
মোর		শ্রীচরণ ভরসা গেলি কাহার পায়ে গ'লে
তুই		দু'বছর পায়ে ছিলি তোরে জানতাম সতী ব'লে
তুই		কাহার গোদা চরণ দেখে গেলি শেষে পটি'।
তোরে		নিয়ে গেছেন যিনি তার চটিখানি ফেলে
		এ চটি তো নয় রামচটিতং আছেন বদন মেলে'
				সদা আছেন বদন মেলে',
যেন		অষ্টাবক্র বেঁকে হয়ে গিয়েছেন ঠিক আঁশবঁটি
				বেঁকে হয়েছেন আঁশবঁটি।।
		চটি কেন তোরে রাখিনিকো বগল-দাবা ক'রে
বুঝি		এতক্ষণ সে ফাটিয়ে তোরে ফেলেছে পা' ভ'রে
		শেষে আস্তাকুড়েঁ দেছে ফেলে সে যে হয়তো চটিমটি'।।
আমি		ভাবি, এ তার পায়ের জুতো না তার গায়ের  নিমা
		আমারচটির পাশে ইনি ঠিক যেন দিদি মা
ওরে		চটি রে তোর দিদি হলেও চলতো মোটামুটি
তুই		চটপটিয়ে আয় চ'লে নয় সত্যি যা'ব চটি'।।

বাণী

ভ্রমর-নূপুর পরিহিতা কৃষ্ণ-কুন্তলা।
বলয়-কাঁকন ঝনকিতা ছন্দ-চঞ্চলা।।
মলয়-সমীর ঝিরি ঝিরি অঙ্গে গুঞ্জরে
কদম-কেশর১ ঝুরুঝুরু চম্পা মুঞ্জরে,
চটুল নয়ন চমকিত জোছনা-অঞ্চলা।।
বিধুর কোকিল-কুহরিত আম্রকুঞ্জে২ গো
রূপের পরাগ ঝরে তব পুঞ্জে পুঞ্জে গো,
নিখিল-ভুবন তব রাস-নৃত্য হিন্দোলা।।

১. আমের মুকুল, ২. কদম কুঞ্জে