বাণী

মহুয়া ফুলের মদির ঘন সুবাসে,
নয়ন ঝিমিয়ে আসে।।
মাতাল পাপিয়া ‘পিয়া পিয়া’ ডাকে
দোলন-চাঁপার ঝুলন শাখে,
ঝিরিঝিরি হাওয়ায় মন উদাসে।।
নিদাঁলি ছাওয়া চৈতালি হাওয়া,
স্বপনের ঘোর লাগে আকাশে
মৌমাছির পাখা জড়িয়ে আসে।।

বাণী

কত যুগ যেন দেখিনি তোমারে দেখি নাই কতদিন।
তুমি যে জীবন, তোমারে না হেরি’, হয়েছিনু প্রাণহীন।।
তুমি যেন বায়ু, বায়ু যবে নাহি বয়
আমি ঢুলে পড়ি আয়ু মোর নাহি রয়,
তুমি যেন জল, বাঁচিতে পারিনা জল বিনা আমি মীন।।
তুমি জানো নাগো তব আশ্রয় বিনা আমি কত অসহায়,
তুমি না ধরিলে আমার এ তনু বাতাসে মিশায়ে যায়।
তাই মোর দেহ পাগলের প্রায়
তোমার অঙ্গ জড়াইতে চায়,
তাই উপবাসী তনু মোর হের দিনে দিনে হয় ক্ষীণ।।

বাণী

জানি পাব না তোমায় হে প্রিয় আমার
			এ জীবনে আর॥
		এ আমার ললাট লেখা
		আমি রব চির একা
নিমেষের দিয়ে দেখা কাঁদাবে আবার॥
		তুব হে জীবন স্বামী
		তোমারি আশায় আমি
আসিব এ ধরণীতে যুগে যুগে অনিবার॥

বাণী

(মা)		আয় মুক্তকেশী আয়
(মা)		বিনোদ-বেণী বোঁধ দোব এলোচুলে।
		প্রভাত রবির রাঙা জবা (মা) দুলিয়ে দোব বেণী মূলে॥
		মেখে শ্মশান ভস্ম কালি,
		ঢাকিস্ কেন রূপের ডালি
		তোর অঙ্গ ধুতে গঙ্গাবারি আনব শিবের জটা খুলে॥
		দেব না আর শ্মশান যেতে, সহস্রারে রাখব ধ’রে।
		খেলে সেথায় বেড়াবি মা রামধনু রং শাড়ি প’রে।
		ক্ষয় হলো চাঁদ কেঁদে কেঁদে
(তারে)	দেব মা তোর খোঁপায় বেঁধে
		মোর জীবন মরণ বিল্ব জবা দিব মা তোর পায়ে তুলে॥

বাণী

এই দেশ কার? তোর নহে আর, রে মূঢ় সন্তান! ভারত-মাতার।
দেবতার দেশে আজ দৈত্য করে বিরাজ, মন্দির আজি বন্দীর কারাগার।।
লাজ নাহি তার, যার জননী দাসী
দাসের শিকল প’রে (কেমনে নিলাজ) বেড়াস্ হাসি’?
	অসম্মানের প্রাণ
	ক’রে দে রে অবসান,
মানুষের মত ম’রে বাঁচ রে আবার।।

বাণী

চঞ্চল শ্যামল এলো গগনে।
নয়ন-পলকে বিজলি ঝলকে চাঁচর অলক ওড়ে পবনে।।
		রিম্‌ঝিম্‌ বৃষ্টির নূপুর বোলে
		মৃদঙ্গ বাজে গুরু গম্ভীর রোলে;
হেরি’ সেই নৃত্য ধরার চিত্ত ডুবু ডুবু বরিষার প্রেম-প্লাবনে।।
		উদাসী বেণু তার অশান্ত বায়ে
		বাজে রহি’ রহি’ দূর বনছায়ে;
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে ভাবের বন্যা বহে বৃন্দাবনে।।