বাণী

মোরে পূজারি কর তোমার ঠাকুর ঘরে হে ত্রিজগতের নাথ।
মোর সকল দেহ লুটাক তোমার পায়ে (হয়ে) একটি প্রণিপাত।।
	নিত্য যেন তোমারি মন্দিরে
	চিত্ত আমার ব্যাকুল হয়ে ফিরে
গ্রহ যেমন সূর্যলোক ঘিরে ঘুরে দিবস রাত।।
মোর নয়ন যেন তোমারি রূপ হেরে সকল দেখার মাঝে
যেন এ রসনা জপে তোমারি নাম হে নাথ সকল কাজে।
	তোমার চরণ রয় যে শতদলে
	তারি পানে মোর মন যেন চলে
নিত্য তোমায় নমস্কারের ছলে (যেন) যুক্ত থাকে হাত।।

বাণী

তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে
মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে
যেন ঊষার কোলে রাঙা-রবি দোলে।।
কূল মখ্‌লুকে আজি ধ্বনি ওঠে, কে এলো ঐ
কলেমা শাহাদাতের্‌ বাণী ঠোঁটে, কে এলা ঐ
খোদার জ্যোতি পেশানিতে ফোটে, কে এলো ঐ
আকাশ-গ্রহ-তারা পড়ে লুটে, কে এলা ঐ
পড়ে দরুদ ফেরেশ্‌তা, বেহেশ্‌তে সব দুয়ার খোলে।।
মানুষে মানুষের অধিকার দিল যে-জন
‘এক আল্লাহ্‌ ছাড়া প্রভু নাই’ কহিল যে-জন,
মানুষের লাগি’ চির-দীন্‌ বেশ ধরিল যে-জন
বাদশা ফকিরে এক শামিল করিল যে-জন
এলো ধরায় ধরা দিতে সেই সে নবী
ব্যথিত-মানবের ধ্যানের ছবি
আজি মাতিল বিশ্ব-নিখিল্‌ মুক্তি-কলোরোলে।।

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥

বাণী

প্রিয়	তুমি কোথায় আজি কত সে দূর।
প্রাণ	কাঁদে ব্যথায় বিরহ-বিধুর।।
	স্বপন-কুমারী, স্বপনে এসে
	মিশাইলে কোন্ ঘুমের দেশে
	তড়িত-শিখা ক্ষণিক হেসে
	লুকালে মেঘে আঁধারি’ হৃদি-পুর।।
	আপনা নিয়ে ছিনু একেলা
	কোন্ সে কূলে ভিড়ালে ভেলা
	জীবন নিয়ে মরণ-খেলা
	খেলিতে কেন আসিলে নিঠুর।।
	ঊষার গাঙে গাহন করি’
	দাঁড়ালে নভে রঙের পরী
	প্রেমের অরুণ উদিল যবে
	মিশালে নভে, হে লীল-চতুর।।

বাণী

জ্বালো দেয়ালি জ্বালো
অসীম তিমিরে শ‍্যামা মা যে অযুত কোটি আলো।।
	এলো শক্তি অশিব নাশিনী
	এলো অভয়া চির বিজয়িনী
কালো রূপের স্নিগ্ধ লাবনি নয়ন মন জুড়ালো।।
গ্রহ তারার দেওয়ালি জলিছে পবনে
জ্বালো দীপালি জীবনের সব ভবনে।
	এলো শিবানী প্রাণ দিতে সবে
রক্ষা করিতে পীড়িত মানবে ধরাবে বাসিতে ভালো।।

বাণী

দ্বৈত	:	আবার শ্রাবণ এলো ফিরে তেমনি ময়ুর ডাকে,
		দোলনা কেন বাঁধলে না গো এবার কদম-শাখে।।
স্ত্রী	:	সঙ্গে ল'য়ে গোপ-গোপীরে
পুরুষ	:	ব্রজের কিশোর যাবে ফিরে
দ্বৈত	:	লীলা-কিশোর শ্যাম যে লীলা-সাথীর সাথে থাকে।।
দ্বৈত	:	দোলনা বেঁধে রইবো চেয়ে আমরা মেঘের পানে
		আয় ওরে আয়, নির্জন বনকে জাগাই সেই কাজরি গানে গানে।
স্ত্রী	:	বৃষ্টি ধারায় টাপুর টুপুর
পুরুষ	:	শুনব তাহার পায়ের নূপুর
দ্বৈত	:	বিজলিতে তার চপল চাওয়া দেখব মেঘের ফাঁকে।।