বাণী

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
বন্ধু, ওগো বন্ধু;
তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।

বাণী

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে।
কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি ললিতে।। 
নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে
			গোপন কথা বলিতে।।
দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন,
অন্ধ তিমির রাতি, নিভু নিভু নয়ন;
মরণ বেলায় প্রিয় আনিলে কি অমিয়,
এলে কি গো নিঠুর ঝরা ফুল দলিতে।।

বাণী

লহ সালাম সহ, দ্বীনের বাদশাহ, জয় আখেরি নবী।
পীড়িত জনগণে মুক্তি দিতে এলে হে নবীকুলের রবি।।
	তুমি আসার আগে ধরার মজলুম
	করিত ফরিয়াদ, চোখে ছিল না ঘুম,
ধরার জিন্দানে, বন্দী ইনসানে আজাদি দিতে এলে হে প্রিয় আল-আরবি।।
	তব দামন ধরি’ যত গোনাহগার,
	মাগিল আশ্রয়, তুমিই করিবে পার।
	মানুষ ছিল আগে বন্য পশু প্রায়
	কাঁদিত পাপে তাপে অভাব ও বেদনায়,
শান্তি-দাতা রূপে সহসা এলে তুমি ফুটিল দুনিয়াতে নব বেহেশ্‌তের ছবি।।

বাণী

সকাল হ'ল শোন রে আজান
	ওঠ রে শয্যা ছাড়ি'
তুই মসজিদে চল দ্বীনের কাজে
	ভোল দুনিয়াদারি।।

ওজু করে ফেল রে ধুয়ে
	নিশীথ রাতের গ্লানি
সিজদা করে জায়নামাজে
	ফেল রে চোখের পানি;
খোদার নামে সারাদিনের
	কাজ হবে না ভারী।।

নামাজ প'ড়ে দু'হাত তুলে
	প্রার্থনা কর তুই -
ফুল-ফসলে ভ'রে উঠুক
	সকল চাষির ভূঁই
সকল লোকের মুখে হোক
	আল্লার নাম জারী।।

ছেলে-মেয়ে সংসার-ভার
	সঁপে দে আল্লারে
নবীজীর দোয়া ভিক্ষা কর
	কর রে বারে বারে;
তোর হেসে নিশি প্রভাত হবে
	সুখে দিবি পাড়ি।।

বাণী

এলো রে শ্রী দুর্গা
শ্রী আদ্যাশক্তি মাতৃরূপে পৃথিবীতে এলো রে
গভীর স্নেহরস ধারায় কল্যাণ কৃপা করুণায় স্নিগ্ধ করিতে॥
উর্ধ্বে উড়ে যায় শান্তির পতাকা
শুভ্র শান্ত মেঘ আনন্দ বলাকা
মমতার অমৃত লয়ে শ্যামা, মা হয়ে এলো রে
সকলের দুঃখ দৈন্য হরিতে॥
প্রতি হৃদয়ের শতদলে শ্রীচরণ ফেলে
বন্ধন কারার দুয়ার ঠেলে।
এলো রে দশভুজা সর্বমঙ্গলা মা হয়ে
দুর্বলে দুর্জয় করিতে নিরন্নে অন্ন দিতে॥

বাণী

কেন দিলে এ কাঁটা যদি গো কুসুম দিলে
ফুটিত না কি কমল ও কাঁটা না বিঁধিলে।।
	কেন এ আঁখি-কূলে
	বিধুর অশ্রু দুলে
কেন দিলে এ হৃদি যদি না হৃদয় মিলে।।
	কেন কামনা-ফাঁদে
	রূপ-পিপাসা কাঁদে
শোভিত না কি কপোল ও কালো তিল নহিলে।।
	কাঁটা-নিকুঞ্জে কবি
	এঁকে যা সুখের ছবি
নিজে তুই গোপন রবি তোরি আঁখির সলিলে।।