বাণী

নৃত্যময়ী নৃত্যকালী নিত্য নাচে হেলে দুলে।
তার রূপের ছটায়, নাচের ঘটায় শম্ভু লুটায় চরণ-মূলে।।
	সেই নাচেরি ছন্দ-ধারা,
	চন্দ্র, রবি, গ্রহ, তারা,
সেই, নাচনের ঢেউ খেলে যায় সিন্ধু জলে পত্রে ফুলে।।
	সে মুখ ফিরায়ে নাচে যখন
	ধরায় দিবা হয় রে তখন,
এ বিশ্ব হয় তিমির-মগন মুক্তকেশীর এলোচুলে।।
	শক্তি যথায়, যথায় গতি;
	মা সেথাই নাচে মূর্তিমতী
কবে দেখব সে নাচ অগ্নি-শিখায় আমার শবে চিতার কূলে।।

বাণী

আকুল ব্যাকুল ঢুঁড়ত ফিঁরু শ্যাম তুম বিনা রহন না জায়।
তুম হারে কারণ সব কুছ ছোড়ি প্রীতি ছোড়ন না যায়॥
	ক্যিউ তরসাও অন্তরযামী
	আওয়ো মিলো কির্‌পা কর স্বামী
নিঁদ নাহি র‍্যয় না দিন নাহি চ্যয় না, বিরহ কী আগ জ্বালায়॥

বাণী

(যখন)		প্রেমের জ্বালায় অঙ্গ জ্বলে, জুড়াই জ্বালা গজলে।
		ছাতা দিয়ে মারি খোঁচা যেন সুরের বগলে॥
		সিঁড়ির ধারে পিঁড়ি পেতে বিড়ি বাঁধি হায় কলকাতায়,
		মিলন আশার তামাক ঠাসি হায় বিরহের শাল পাতায়,
		[‘‘আরে লুল্লু আট পয়সার বিড়ি কিনে লিস্‌রে হাঁ হাঁ”]
		জালিম বিবির দিলের ছিপি (দাদা) খুলি সুরের ফজলে॥
		কার্ফা তালে চার পা তুলে (হায়) ছুটাই তালের লাল ঘোড়া,
		ভজুয়া নাত্‌নি ছুটে আসে হায় ফেলে দিয়ে হায় ঝালবড়া;
		সুরে-তালে লাগে লড়াই যেন পাঠান মোগলে॥

বাণী

কী দশা হয়েছে মোদের দেখ্ মা উমা আনন্দিনী।
তোর বাপ হয়েছে পাষাণ গিরি, মা হয়েছে পাগলিনী।।
	(মা)	এ দেশে আর ফুল ফোটে না
		গঙ্গাতে আর ঢেউ ওঠে না
তোর হাসি-মুখ দেখলে যে মা পোহায় না মোর নিশীথিনী।।
আর যাবি না ছেড়ে মোদের বল্ মা আমায় কন্ঠ ধরি
সুর যেন তার না থামে আর বাজালি তুই যে বাঁশরি।।
	(মা)	না পেলে তুই শিবের দেখা
		রইতে যদি নারিস্ একা,
আমি শিবকে বেঁধে রাখব মা গো হয়ে শিব-পূজারিণী।।

বাণী

আঁধার ভীত এ চিত যাচে মা গো১ আলো আলো।
বিশ্ববিধাত্রী আলোকদাত্রী নিরাশ পরানে আশার সবিতা জ্বালো
				জ্বালো, আলো, আলো।।
	হারায়েছি পথ গভীর তিমিরে
	লহ হাতে ধ’রে প্রভাতের তীরে
পাপ তাপ মুছি’ কর মা গো২ শুচি, আশিস-অমৃত ঢালো।।
দশ৩ প্রহরণধারিণী দুর্গতিহারিণী দুর্গে মা অগতির গতি
সিদ্ধি-বিধায়িনী দনুজ-দলনী বাহুতে দাও মা শকতি।
	তন্দ্রা ভুলিয়া যেন মোরা জাগি —
	এবার প্রবল মৃত্যুর লাগি’,
রুদ্র-দাহনে ক্ষুদ্রতা দহ’ বিনাশ গ্লানির কালো।।
১. প্রভু, ২. নাথ, ৩, পান্ডুলিপিতে এখানে দুটি পঙ্ক্তি বেশি আাছে
		অচেতন প্রাণে জাগরণ তৃষ্ণা আনো আনো
		জড়তার বুকে জীবন-পিপাসা দানো দানো।

বাণী

ওরে	কে বলে আরবে নদী নাই
যথা	রহমতের ঢল বহে অবিরল
দেখি	প্রেমে-দরিয়ার পানি
		যেদিকে চাই।।
যাঁর	ক্বাবা ঘরের পাশে আব-এ-জমজম
যথা	আল্লা-নামের বাদল ঝরে হরদম,
		যথা ঝরে হরদম-
যার	জোয়ার এসে দুনিয়ার দেশে দেশে
(ওরে)	পুণ্যের গুলিস্তান রচিল দেখিতে পাই।।
যার	ফোরাতের পানি আজো ধরার ‘পরে
	নিখিল নর-নারীর চোখে ঝরে
(ওরে)	শুকায় না যে নদী দুনিয়ায়,
যার	শক্তি বন্যার তরঙ্গ-বেগে
যত	বিষণ্ন-প্রাণ ওরে আনন্দে উঠল জেগে
যাঁর	প্রেম-নদীতে,যাঁর পুণ্য-তরীতে
		মোরা ত'রে যাই।।