বাণী

বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম।
কিশোরী পাশে কিশোর হাসে ভাসে আনন্দ সাগরে আজ ব্রজধাম।।
	তড়িত লতায় যেন জড়িত জলধরে
	ওগো যুগল রূপ হেরি মুনির মনোহরে
পুলকে গগন ছাপিয়া বারি করে বাজে যমুনা তরঙ্গে শ্যাম শ্যাম নাম।।
	বন ময়ুর নাচে ঘন দেয়ার তালে
	দোলা লাগে কেতকী কদম ডালে।
আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে হেরে ত্রিলোক থির হয়ে রূপ অভিরাম।।

বাণী

বসন্ত এলো এলো এলো রে
পঞ্চম স্বরে কোকিল কুহরে
মুহু মুহু কুহু কুহু তানে।
মাধবী নিকুঞ্জে পুঞ্জে পুঞ্জে
ভ্রমর গুঞ্জে গুনগুন গানে।।
পিয়া পিয়া ডেকে ওঠে পাপিয়া
মহুল, পলাশ বন-ব্যাপিয়া
সুরভিত সমীরণ চঞ্চল উন্মন
আনে নব-যৌবন প্রাণে।।
বেণুকার বনে বাঁশি বাজে
বনমালী এলো বন-মাঝে
নাচে তরু-লতিকা যেন গোপ-গোপিকা
রাঙা হয়ে রঙের বানে।।

বাণী

	এলো আবার ঈদ ফিরে এলো আবার ঈদ, চলো ঈদগাহে।
	যাহার আশায় চোখে মোদের ছিল না রে নিদ, চলো ঈদ্গাহে।।
	শিয়া সুন্নী, লা-মজহাবী একই জামাতে
	এই ঈদ মোবারকে মিলিবে এক সাথে,
	ভাই পাবে ভাইকে বুকে, হাত মিলাবে হাতে;
আজ	এক আকাশের নীচে মোদের একই সে মসজিদ, চলো ঈদগাহে।।
	ঈদ এনেছে দুনিয়াতে শিরণী বেহেশ্‌তী,
	দুশ্‌মনে আজ গলায় ধ'রে পাতাব ভাই দোস্তী,
	জাকাত দেব ভোগ-বিলাস আজ গোস্‌সা ও বদ্‌মস্তি;
	প্রাণের তশ্‌তরীতে ভ'রে বিলাব তৌহীদ — চলো ঈদ্গাহে।।
	আজিকার এই ঈদের খুশি বিলাব সকলে,
	আজের মত সবার সাথে মিল্‌ব গলে গলে,
	আজের মত জীবন-পথে চলব দলে দলে
	প্রীতি দিয়ে বিশ্ব-নিখিল ক'রব রে মুরীদ্ — চলো ঈদগাহে।।

বাণী

তুমি আনন্দ ঘনশ্যাম আমি প্রেম-পাগলিনী রাধা।
তব ডাক শুনে ছুটে যাই বনে আমি না মানি কুলের বাধা।।
	শূন্য প্রাণের গাগরি ঘিরে
	নিতি আসি রস-যমুনার তীরে
অঙ্গ ভাসায়ে তরঙ্গ-নীরে শুনি তব বাঁশি সাধা।।
যুগ-যুগান্ত অনন্ত কাল হৃদয়-বৃন্দাবনে
তোমাতে আমাতে এই লীলা, নাথ! চলেছে, সঙ্গোপনে।
	মোর সাথে কাঁদে প্রেম-বিগলিতা
	ভক্তি ও প্রীতি বিশাখা-ললিতা।
তোমারে যে চায়, মোর মতো, হায়! সার শুধু তার কাঁদা।।

বাণী

নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।

বাণী

গুণে গরিমায় আমাদের নারী আদর্শ দুনিয়ায়
রূপে লাবেন্য মাধুরী ও শ্রীতে হুরী-পরী লাজ পায়।।
নর নহে,নারী ইসলাম 'পরে প্রথম আনে ঈমান
আম্মা খাদিজা জগতে সর্ব প্রথম মুসলমান।
পুরুষের  সব গৌরব ম্লান এক এই মহিমায়।।
নবী-নন্দিনী ফাতেমা মোদের সতী-নারীদের রানী
যাঁর গুণ-গাথা ঘরে ঘরে প্রতি নর-নারী আজো গায়।।
রহিমার মত মহিমা কাহার তাঁর সম সতী কেবা
নারী নয় যেন মূর্তি ধরিয়া এসেছিল পতি-সেবা
মোদের খাওয়ালা জতের আলা বীরত্বে গরিমায়।।
রাজ্য শাসনে রিজিয়ার নাম ইতিহাসে অক্ষয়
শৌর্যে সাহসে চাঁদ-সুলতানা বিশ্বের বিস্ময়
জেবুন্নেসার তুলনা কোথায়,জ্ঞানের তপস্যায়।।
আঁধার হেরেমে বন্দিনী হল সহসা আলোর মেয়ে
সেইদিন হতে ইসলাম গেল গ্লানির কালিতে ছেয়ে।
লক্ষ খালেদ আসিবে যদি এ নারীরা মুক্তি পায়।।