বাণী

এলো শ্যামল কিশোর তমাল-ডালে বাঁধে ঝুলনা।
সুনীল শাড়ি পরো ব্রজনারী পরো নব নীপ-মালা অতুলনা।।
	ডাগর চোখে কাজল দিও,
	আকাশী রং প'রো উত্তরীয়,
নব-ঘন-শ্যামের বসিয়া বামে দুলে দুলে ব'রলা, 'বঁধু, ভুলো না'।।
	নৃত্য-মুখর আজি মেঘলা দুপুর,
	বৃষ্ট্রির নূপুর বাজে টুপুর টুপুর।
	বাদল-মেঘের তালে বাজিছে বেণু,
	পান্ডুর হ'ল শ্যাম মাখি' কেয়া-রেণু,
বাহুতে দোলনায় বাঁধিবে শ্যামরায় ব'লো, 'হে শ্যাম, এ বাঁধন খুলো না'।।

বাণী

	পরদেশী মেঘ যাও রে ফিরে।
	বলিও আমার পরদেশী রে।।
	সে দেশে যবে বাদল ঝরে
	কাঁদে নাকি প্রাণ একেলা ঘরে,
বিরহ-ব্যথা নাহি কি সেথা বাজে না বাঁশি নদীর তীরে।।
বাদল-রাতে ডাকিলে ‘পিয়া পিয়া পাপিয়া’,
বেদনায় ভ’রে ওঠে নাকি রে কাহারো হিয়া।
	ফোটে যবে ফুল, ওঠে যবে চাঁদ
	জাগে না সেথা কি প্রাণে কোন সাধ,
দেয় না কেহ গুরু গঞ্জনা সে দেশে বুঝি কুলবতী রে।।

বাণী

তোমার সজল চোখে লেখা মধুর গজল গান।
চেয়ে চেয়ে তাই দেখে গো আমার দু’নয়ান।।
	আমার পুঁথির আখর যত
	তোমার মালার মোতির মত,
তাই দেখি আর পাঠ ভুলে যাই, আকুল করে প্রাণ।।
যেমন	বুলবুলি আর রঙিন গোলাব
	লায়লী-মজনু দুইজনে ভাব,
ওদের প্রেমে ধূলির ধরা হল গুলিস্তান।।

নাটিকা: ‘লায়লী-মজনু’

বাণী

নীলাম্বরী–শাড়ি পরি’ নীল যমুনায় কে যায়?
যেন জলে চলে থল–কমলিনী ভ্রমর নূপুর হয়ে বোলে পায় পায়।।
		কলসে কঙ্কনে রিনিঠিনি ঝনকে,
		চমকায় উন্মন চম্পা বনকে,
দলিত অঞ্জন নয়নে ঝলকে, পলকে খঞ্জন হরিণী লুকায়।।
অঙ্গের ছন্দে পলাশ–মাধবী অশোক ফোটে,
নূপুর শুনি’ বনতুলসীর মঞ্জরী উলসিয়া ওঠে।
		মেঘ–বিজড়িত রাঙা গোধূলি
		নামিয়া এলো বুঝি পথ ভুলি,
তাহার অঙ্গ তরঙ্গ–বিভঙ্গে কুলে কুলে নদী জল উথলায়।।

বাণী

(মাগো)	তোর কালো রূপ দেখতে মাগো, কাল্ হ’ল মোর আঁখি,
		চোখের ফাঁকে যাস পালিয়ে মা তুই কালো পাখি॥
আমার		নয়ন দুয়ার বন্ধ ক’রে এই দেহ পিঞ্জরে,
		চঞ্চলা গো বুকের মাঝে রাখি তোরে ধ’রে;
		চোখ্ চেয়ে তাই খুঁজে বেড়াই পাই না ভুবন ভ’রে
		সাধ যায় মা জন্ম জন্ম অন্ধ হ’য়ে থাকি॥
		কালো রূপের বিজলি চমক কোটি লোকের জ্যোতি,
		অনন্ত তোর কালোতে মা সকল আলোর গতি।
		তোর কালো রূপ কে বলে মা ‘তমঃ’,
		ঐ রূপে তুই মহাকালি মাগো নমঃ নমঃ
তুই		আলোর আড়াল টেনে মাগো দিস্ না মোরে ফাঁকি॥

বাণী

উতল হ'ল শান্ত আকাশ তোমার কলগীতে
বাদল ধারা ঝরে বুঝি তাই আজ নিশীথে।।
সুর যে তোমার নেশার মত, মনকে দোলায় অবিরত,
ফুলকে শেখায় ফুটতে গো, পাখিকে শিস দিতে।।
কেন তুমি গানের ছলে বঁধু, বেড়াও কেঁদে?
তীরের চেয়েও সুর যে তোমার প্রাণে অধিক বেঁধে।
তোমার সুরে কোন সে ব্যথা, দিলো এতো বিহ্বলতা
আমি জানি (ওগো) সে বারতা তাই কাদিঁ নিভৃতে।।