বাণী

		বন্ধু রে, বন্ধু — পরান বন্ধু
আমার	দূরের বন্ধু আছে আমার ঐ গাঙের পারের গাঁয়ে।
		ঝরা-পাতর পত্র আমার যায় ভেসে তার পায়ে।।
			জানি জানি আমার দেশে
			আমার নেয়ে আসবে ভেসে,
ওরে		চির ঋণী আছে সে যে আমার প্রেমের দায়ে।।
		নূতন আশার পাল তু সে আসবে ফিরে ঘরে
		ফুটেছে তাই কাশ-কুসুমের হাসি শুকনো চরে।
			পিদমি জ্বেলে তারি আশায়
			গহীন গাঙের স্রোতে ভাসায়
ওরে		ঐ পিদিমের পথ ধ'রে সে আসবে সোনার নায়ে।।

বাণী

নিত্যানন্দ	:	কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি!
			তুই নাকি সেই নন্দদুলাল এলি নদীয়ায় ব্রজ পাশরি’।।
নিমাই		:	কি পুছসি আমারে ভাই
			এবার চূড়া বাঁশরি নাই,
			ব্রজের খেলা বাঁশির তান
			ন’দের খেলা হরি-গান।
			ব্রজের বেশ ধড়াচূড়া
			ন’দের বেশ কৌপীন পরা,	
			ব্রজের খেলা রাখাল হয়ে,
			ন’দের খেলা ধূলি ল’য়ে।
নিত্যানন্দ	:	নদীয়াতে বিষ্ণুপ্রিয়া, ব্রজের রাইকিশোরী।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দ ও নিমাইয়ের গান)

বাণী

[সংলাপঃ পুরুষ: ঘরে কে গো? (দরজায় টোকার শব্দ)
বলি ঘরে কে? (আবার টোকার শব্দ) শালাজ নাকি —
ও হো-হো-হো-হো ...]
পুরুষ	:	ঘরে কে গো? বলি ঘরে কে, শালাজ নাকি?
		এ যে মোর গোয়ালের গাই।
স্ত্রী	:	ও ছোট ঠাকুর ঝি, ওলো আয় আয়,
		দেখে যা এসেছে নন্দাই। এ যে মোর ননদের ভাই।
পুরুষ	:	দেখ, রাত্রি জেগে গুনব কত চালের কড়ি কাঠ
স্ত্রী	:	তাইতো, আগে হয়নি সারা আমার ঘর কন্নার পাট।
পুরুষ	:	তোমার কাজের মাথায় মারো লাঠি
স্ত্রী	:	আমি নিয়ে শীতল পাটি মাস-শাশুড়ির পা টিপিতে যাই।
পুরুষ	:	ওগো শুনছো! শোনো শোনো শোনো না — সত্যি সত্যি চললে,
		নতুনতর ঝুমকোর এক নমুনা এনেছি (আমি)।
স্ত্রী	:	অ্যা, তাই নাকি!
পুরুষ	:	হ্যা — গো — হ্যা।
স্ত্রী	:	কাল চাল ডাল বাছবো, চল এই আমি আসিতেছি
		ওগো এই আমি আসিতেছি
পুরুষ	:	না না, ও তোমায় পা টিপিতে বলেছিলেন কি ভাবিবেন মাসি
স্ত্রী	:	আমার গা করছে বমি বমি তাকে বলে আসি।
পুরুষ	:	এমন শ্যাকরার মত বিন্দে দূতি কলিকালের বৃন্দাবনে নাই॥
		বেঁচে থাক বাবা শ্যাকরার পো হুল্লোড় ঘটালে তবে ছাড়লে॥

বাণী

বিকাল বেলার ভুঁইচাঁপা গো সকাল বেলার যুঁই
কারে কোথায় দেব আসন তাই ভাবি নিতুই।।
ফুলদানিতে রাখব কারে,কারে গাঁথি কণ্ঠ -হারে
কারে যেন দেব তারে কারে বুকে থুই।।
সমান অভিমানী ওরা সমান সুকোমল
চাঁপা আমার চোখের আলো,যুঁই চোখের জল।
বর্ষা-মুখর শ্রাবণ-প্রাতে,কাঁদি আমি যুথীর সাথে
চাঁপায় চাহি চৈতী-রাতে,প্রিয় আমার দুই।।

বাণী

আল্লাতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান
কোথা সে আরিফ অভেদ যাহার জীবন মৃত্যু জ্ঞান।।
(যাঁর)	মুখে শুনি তৌহিদের কালাম —
	ভয়ে মৃত্যুও করিত সালাম।
যাঁর দীন দীন রবে কাঁপিত দুনিয়া জীন পরি ইনসান্‌।।
স্ত্রী পুত্রে আল্লারে সঁপি জেহাদে যে নির্ভীক।
হেসে কোরবানি দিত প্রাণ হায় আজ তারা মাগে ভিখ্‌।
	কোথা সে শিক্ষা আল্লাহ্‌ ছাড়া,
	ত্রিভুবনে ভয় করিত না যাঁরা।
আজাদ করিতে এসেছিল যাঁরা সাথে লয়ে কোর্‌আন্‌।।

বাণী

আজি এ শ্রাবণ-নিশি		কাটে কেমনে।
গুরু দেয়া গরজন			কাঁপে হিয়া ঘনঘন
শনশন কাঁদে বায়ু			নীপ-কাননে।।
অন্ধ নিশীথ, মন			খোঁজে কারে আঁধারে,
অন্ধ নয়ন ঝরে			শাওন-বারিধারে।
ভাঙিয়া দুয়ার মম			এসো এসো প্রিয়তম,
শ্বসিছে বাহির ঘর			ভেজা পবনে।।
কার চোখে এত জল		ঝরে দিক্‌ প্লাবিয়া,
সহিতে না পারি’ কাঁদে		‘চোখ গেল’ পাপিয়া।
কাহার কাজল-আঁখি		চাহি’ মোর নয়নে
ঝুরেছিল একা রাতে		কবে কোন্‌ শাওনে,
আজি এ বাদল ঝড়ে		সেই আঁখি মনে পড়ে,
বিজলি খুঁজিছে তারে		নভ-আঙনে।।