বাণী

নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম।।
রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনি
চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
আসিলে অমনি নবনীত তনু
ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম।।
আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
তব বেণু শুনি’, ওগো বাঁশুরিয়া,
প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম।।

বাণী

খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল।
রাঙা চরণে মধুর সুরে বাজে নূপুর-তাল॥
	নবীন নাটুয়া বেশে
	নাচে কভু হেসে হেসে,
যাশোমতীর কোলে এসে দোলে কভু গোপাল॥
‘ননী দে’ বলিয়া কাঁদে কভু রোহিণী-কোলে,
জড়ায়ে ধ’রে কদম তরু তমাল-ডালে দোলে।
	দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গ হ’য়ে
	বাজায় মুরলী ল’য়ে,
কভু সে চরায় ধেনু বনের রাখাল॥

বাণী

সেই মিঠে সুরে মাঠের বাঁশরি বাজে।
নিঝুম নিশীথে ব্যথিত বুকের মাঝে॥
	মনে প’ড়ে যায় সহসা কখন
	জল ভরা দু’টি ডাগর নয়ন,
পিঠ-ভরা চুল সেই চাঁপা ফুল ফেলে ছু’টে যাওয়া লাজে॥
হারানো সে-দিন পাব না গো আর ফিরে,
দেখিতে পাব না আর সেই কিশোরীরে।
	তবু মাঝে মাঝে আশা জাগে কেন
	আমি ভুলিয়াছি ভোলেনি সে যেন,
গোমতীর তীরে পাতার কুটীরে (সে) আজও পথ চাহে সাঁঝে।

বাণী

		ইয়া আল্লাহ, তুমি রক্ষা কর দুনিয়া ও দ্বীন।
		শান-শওকতে হোক পূর্ণ আবার নিখিল মুসলেমিন।
			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
(খোদা)	মুষ্টিমেয় আরববাসী যে ঈমানের জোরে
তোমার	নামের ডঙ্কা বাজিয়েছিল দুনিয়াকে জয় ক’রে
(খোদা)	দাও সে ঈমান, সেই তরক্কী, দাও সে একিন।
			খোদা দাও সে একিন।
			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
হায়!		যে-জাতির খলিফা ওমর শাহানশাহ হয়ে
		ছেঁড়া কাপড় প’রে গেলেন উপবাসী র’য়ে
		আবার মোদের সেই ত্যাগ দাও, খোদা
		ভোগ-বিলাসে মোদের জীবন ক’রো না মলিন।
			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।
(খোদা)	তুমি ছাড়া বিশ্বে কারো করতাম না ভয়
		তাই বিশ্বে হয়নি মোদের কভু পরাজয়
		দাও সেই দিক্ষা শক্তি সেই ভক্তি দ্বিধাহীন।
			আমিন আল্লাহুম্মা আমিন।।

বাণী

	আমি মূলতানী গাই
শ্রোতারা বাছুর সম মুখপানে চেয়ে মম
	ঘন ঘন তোলে হাই।।
জাপটে সুরের দাড়ি
শ্বশুরের দাড়ি, ভাসুরের দাড়ি
	সাপটে তান মারি-আ-আ-আ
	জাপটে সুরের দাড়ি
পমকে ধমক দেই, মীরে মাড় চটকাই।।
হায় হায় রে হায়-
বোলতানে আবোল-তাবোল তানে খেলি হা-ডু-ডু
কিত-কিত - হা-ডু-ডু- হা-ডু-ডু-কিত-কিত-কিত-কিত-কিত
	মোড়-মোড়-মোড়
আমি	বাটের চাট মেরে সুরে করি চিত
আমি	তালের সিঙ দিয়ে বেদম গুতাই।।
মোর	মুখের হা দেখে হিপোপটেমাস
	আফ্রিকার জঙ্গলে ভয়ে করে বাস
আমি	যত নাহি গাই তার অধিক রাগাই।।

বাণী

কুহু কুহু কুহু কুহু কোয়েলিয়া
কুহরিল মহুয়া-বনে
চমকি জাগিনু নিশীথ শয়নে।।
শূন্য ভবনে মৃদুল সমীরে
প্রদীপের শিখা কাঁপে ধীরে ধীরে
চরণ-চিহ্ন রাখি দলিত কুসুমে
	চলিয়া গেছ তুমি দূর-বিজনে।।
বাহিরে ঝরে ফুল আমি ঝুরি ঘরে
বেণু-বনে সমীরণ হাহাকার করে
ব’লে যাও কেন গেলে এমন ক’রে
	কিছু নাহি ব’লে সহসা গোপনে।।