বাণী

খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে।
তরঙ্গ - লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
ছল-ছল উর্মি-নূপুর
স্রোত-নীরে বাজে সুমধুর,
চল-চঞ্চল বাজে কাঁকন কেয়ূর
ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
আনমনে খেলে জল-বালিকা
খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
হরষিত পারাবারে উর্মি জাগে
লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।

বাণী

কালো জাম রে ভাই! আম কি তোমার ভায়রা ভাই?
লাউ বুঝি তোর দিদি মা, আর কুমড়ো তোর দাদা মশাই।।
তরমুজ তোমার ঠাকুমা বুঝি কাঁঠাল তোমার ঠাকুরদা
গোলাপজাম তোর মাসতুতো ভাই জামরুল কি ভাই তোর বোনাই।।
পেয়ারা কি তোর লাটিম রে ভাই চিচিঙ্গে তোর লাঠি
জাম্বুরা তোর ফুটবল আর লংকা চুষি কাঠি।
টোপা কুল তোর বৌ বুঝি আর বৈচি লেবু তোর বেহাই।
নোনা আতা সোনা ভাই তোর রাঙা দি তোর লাল মাকাল,
ডাব বুঝি তোর পানি-পাঁড়ে ঢিল বুঝি ভাদুরে তাল।
গেছো দাদা আয় না নেমে গালে রেখে চুমু খাই।।

বাণী

এসো মা দশভুজা
দশহাতে কল্যাণ আন দশভুজা
মৃত্যুঞ্জয় ঘরনী! মৃতজনে অমৃত দান।
নিরাশ প্রাণে দাও আশা
মূকজনে দাও ভাষা
আঁধার মহিষাসুর বুকে আলোর ত্রিশূল হান॥
দেও জয় বরাভয়, শক্তি, তেজ, প্রেম, প্রীতি
দনুজদলনী! শাপ মুক্ত কর ক্ষিতি,
এলে যদি আর বার মাগো
ভক্তের হৃদি মাঝে জাগো
দুঃখ শোক আর দিও না গো 
		তারিণী সন্তানে ত্রাণ॥

বাণী

ফুলে ফুলে বন ফুলেলা।
ফুলের দোলা ফুলের মেলা
ফুল-তরঙ্গে ফুলের ভেলা।।
ফুলের ভাষা ভ্রমর কুঞ্জে
দোলন চাঁপার ঝুলন কুঞ্জে,
মুহু মুহু কুহরে কুহু
সহিতে না পারি ফুল-ঝামেলা।।

নাটক: ‘সাবিত্রী’

বাণী

মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
(কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
			সত্যি কালো নয় রে।।
(আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
(রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
(ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
(সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
(সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।

বাণী

পাকা ধানের গন্ধ-বিধুর হেমন্তের এই দিন-শেষে,
সুরের দুলাল, আসলে ফিরে দিগ্‌বিজয়ীর বর-বেশে।
আজো মালা হয়নি গাঁথা হয়নি আজো গান রচন,
কুহেলিকার পর্দা-ঢাকা আজো ফুলের সিংহাসন।
অলস বেলায় হেলাফেলায় ঝিমায় রূপের রংমহল,
হয়নি ক’ সাজ রূপ-কুমারীর, নিদ্ টুটেছে এই কেবল।
আয়োজনের অনেক বাকি - শুন্‌নু হঠাৎ খোশ্‌খবর,
ওরে অলস, রাখ্ আয়োজন, সুর-শা’জাদা আস্‌ল ঘর।
ওঠ্ রে সাকি থাক্ না বাকি ভরতে রে তোর লাল গেলাস,
শূন্য গেলাস ভরব - দিয়ে চোখের পানি মুখের হাস।
দম্ভ ভরে আস্‌লো না যে ধ্বজায় বেঁধে ঝড়-তুফান,
যাহার আসার খবর শুনে গর্জাল না তোপ-কামান।
কুসুম দলি’ উড়িয়ে ধূলি আস্‌লো না যে রাজপথে,
আয়োজনের আড়াল তারে করব গো আজ কোন্ মতে।
সে এলো গো যে-পথ দিয়ে স্বর্গে বহে সুর্‌ধুনী,
যে পথ দিয়ে ফেরে ধেনু মাঠের বেণুর রব শুনি’।
যেমন সহজ পথ দিয়ে গো ফসল আসে আঙ্গিনায়,
যেমন বিনা সমারোহে সাঁঝের পাখি যায় কুলায়।
সে এলো যে আমন-ধানের নবান্ন উৎসব-দিনে,
হিমেল হাওয়ায় অঘ্রাণের এই সুঘ্রাণেরি পথ চিনে।
আনে নি সে হরণ ক’রে রত্ন-মানিক সাত-রাজার,
সে এনেছে রূপকুমারীর আঁখির প্রসা কণ্ঠহার।
সুরের সেতু বাঁধ্ল সে গো, উর্দ্ধে তাহার শুনি স্তব,
আস্‌ছে ভারত-তীর্থ লাগি’ শ্বেত-দ্বীপের ময়-দানব।
পশ্চিমে আজ ডঙ্কা বাজে পুবের দেশের বন্দীদের,
বীণার গানে আমরা জয়ী, লাজ মুছেছি অদৃষ্টের।
কণ্ঠ তোমার যাদু জানে, বন্ধু ওগো দোসর মোর!
আস্‌লে ভেসে গানের ভেলায় বৃন্দাবনের বংশী-চোর।
তোমার গলার বিজয়-মালা বন্ধু একা নয় তোমার,
ঐ মালাতে রইল গাঁথা মোদের সবার পুরস্কার।
কখন আঁখির আগোচরে বস্‌লে জুড়ে হৃদয়-মন,
সেই হৃদয়ের লহ প্রীতি, সজল আঁখির জল্-লিখন।

‘সুরের দুলাল’