


কোন্ মরমীর মরম-ব্যথা আমার বুকে বেদ্না হানে জানি গো, সেও জানেই জানে। আমি কাঁদি তাইতে যে তার ডাগর চোখে অশ্রু আনে, বুঝেছি তা প্রাণের টানে।। বাইরে বাঁধি মনকে যত ততই বাড়ে মর্ম-ক্ষত, মোর সে ক্ষত ব্যথার মতো বাজে গিয়ে তারও প্রাণে, কে কয়ে যায় কানে কানে।। উদাস বায়ু ধানের ক্ষেতে ঘনায় যখন সাঁঝের মায়া, দুই জনারই নয়ন-পাতায় অম্নি নামে কাজল ছায়া।। দুইটি হিয়াই কেমন কেমন — বদ্ধ ভ্রমর পদ্মে যেমন, হায়,অসহায় মূকের বেদন, বাজ্লো শুধু সাঁঝের গানে, পূবের বায়ুর হুতাশ তানে।।
রাগঃ দেশ-সুরট
তালঃ ত্রিতাল
মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা তুমি বাদ্শারও বাদ্শাহ্ কম্লিওয়ালা।। পাপে-তাপে পূর্ণ আঁধার দুনিয়া হ’ল পুণ্য বেহেশ্তী নূরে উজালা।। গুনাহ্গার উম্মত লাগি’ তব আজো চয়ন্ নাহি, কাঁদিছ নিরালা।। কিয়ামতে পিয়াসি উম্মত লাগি’ দাঁড়ায়ে রবে ল’য়ে তহুরার পিয়ালা।। জ্বলিবে রোজ হাশরে দ্বাদশ রবি কাঁদিবে নফ্সি ব’লে সকল নবী য়্যা উম্মতী য়্যা উম্মতী, একেলা তুমি কাঁদিবে খোদার পাক আরশ চুমি’ — পাপী উম্মত ত্রাণ তব জপমালা ধ্যান তব গুণ গাহিল খোদ্ আল্লাহতা’লা।।
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত কাঁদে নয়ান। অভিমান পরিহর হরি-হৃদি বিহারিণী প্রেম দিয়া জুড়াও এ প্রাণ। তুয়া বিনা নয়নে অন্যে না হেরি একই রাধা আছে ত্রিভুবন ঘেরি’ (আমি রাধা ছাড়া জানি’ না অনন্ত বিশ্বে রাধারই রূপধারা, রাধা ছাড়া দেখি না) ভৃঙ্গার ভরি’ তুমি শৃঙ্গার রস করাও পান, তাই হই যে অবশ।। তুমি রাধা হয়ে মধু দিলে মাধব হই, তুমি ধারা হয়ে নামিলে সৃষ্টিতে রই রাধা, সকলি তোমার খেলা তবে কেন কর অভিমান, কেন কর হেলা। প্রতি দেহ-বিম্বে তোরি পদতলে হর হয়ে রহি তাই ছবি। হরিরত হর-জ্ঞান মহামায়া হরিলী (এ যে) তোমারই ইচ্ছা, আমি নিজে নিজে রূপ ধরিণী। ভোল মানের খেলা দূরে থেকোনা, দাও চরণ ভেলা আমি তরে’ যাই, তরে’ যাই রাধা-প্রেম যমুনায় ডুবিয়া মরে’ যাই।।
পাঠান্তর : রেকর্ডের জন্য কবি এই গানটির বহু অংশ বর্জন করেন।বর্জিত অংশগুলো এই:
গলে দিয়া পীতধড়া গো, পদতলে দিয়া শিখী-চূড়া গো
পদযুগ ধরিয়া চাহি ক্ষমা, ক্ষম অপরাধ প্রিয়তমা!
হরি-মনোরমা ক্ষমা কর গো।।
তব প্রেমে অবগাহন করি সব দাহন চিরতরে জুড়াব
কল্প-কদম-তরু-তলে চিরদিন তোমার প্রেম-কণা কেশর কুড়াব।।
রাগঃ
তালঃ ফের্তা (ছোট দশকোশী ও কাহার্বা)

ওরে নীল যমুনার জল! বল রে মোরে বল কোথায় ঘনশ্যাম — আমার কৃষ্ণ ঘনশ্যাম। আমি বহু আশায় বুক বেঁধে যে এলাম — এলাম ব্রজধাম।। তোর কোন্ কূলে কোন্ বনের মাঝে আমার কানুর বেণু বাজে, আমি কোথায় গেলে শুনতে পাব ‘রাধা রাধা’ নাম।। আমি শুধাই ব্রজের ঘরে ঘরে — কৃষ্ণ কোথায় বল্; কেন কেউ কহে না কথা, হেরি সবার চোখে জল। বল্ রে আমার শ্যামল কোথায় কোন্ মথুরায় কোন দ্বারকায় — বল্ যমুনা বল। বাজে বৃন্দাবনের কোন্ পথে তাঁর নূপুর অভিরাম।।
রাগঃ
তালঃ দাদ্রা

নিরন্ধ্র মেঘে মেঘে অন্ধ গগন। অশান্ত-ধারে জল ঝরে অবিরল, ধরণী ভীত-মগন॥ ঝঞ্ঝার ঝল্লরী বাজে ঝনন্ননন দীর্ঘশ্বসি’ কাঁদে অরণ্য শনশন, প্রলয় বিষাণ বাজে বজ্রে ঘনঘন — মূর্ছিত মহাকাল-চরণে মরণ॥ শুধিবে না কেহ কি গো এই পীড়নের ঋণ, দুঃখ-নিশি-শেষে আসিবে না শুভদিন। দুষ্কৃতি বিনাশায় যুগ-যুগ-সম্ভব অধর্ম নিধনে এসো অবতার নব, ‘আবিরাবির্ম এধি’ ঐ ওঠে রব — জাগৃহি ভগবন্, জাগৃহি ভগবন্॥
রাগঃ মল্লার
তালঃ কাওয়ালি
বাজিছে দামামা, বাঁধ রে আমামা শির উঁচু করি মুসলমান। দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার ভাঙা কিল্লায় ওড়ে নিশান।। মুখেতে কল্মা হাতে তলোয়ার বুকে ইসলামী জোশ্ দুর্বার, হৃদয়ে লইয়া এশ্ক্ আল্লার — চল্ আগে চল বাজে বিষাণ। ভয় নাই তোর গলায় তাবিজ বাঁধা যে রে তোর পাক কোরান।। নহি মোরা জীব ভোগ বিলাসের শাহাদত ছিল কাম্য মোদের, ভিখারির সাজে খলিফা যাদের — শাসন করিল আধা জাহান। তা’রা আজ প’ড়ে ঘুমায় বেহোঁশ্ বাহিরে বহিছে ঝড় তুফান।। ঘুমাইয়া কাজা করেছি ফজর তখনো জাগিনি যখন জোহর, হেলা ও খেলায় কেটেছে আসর — মাগরিবের আজ শুনি আজান। জমাত-শামিল হও রে এশাতে এখনো জামাতে আছে স্থান।। শুকনো রুটিরে সম্বল ক’রে যে ঈমান আর যে প্রাণের জোরে, ফিরেছি জগৎ মন্থন ক’রে — সে-শক্তি আজ ফিরিয়ে আন। আল্লাহু আকবর রবে পুন কাঁপুক বিশ্ব দূর বিমান।।
রাগঃ ইমন মিশ্র
তালঃ একতাল
Nazrulgeeti.org is the largest portal in the world about Nazrulgeeti. Anything and everything about Nazrulgeeti will be found in this portal. All lyrics, used raag and taal, audio/video, swaralipi and unknown stories behind the song, everything will be available here. The collection is growing every day. Be with us and help spread Nazrulgeeti worldwide.
Developed, Owned and Maintained by Mamunur Rahman Khan