কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর

বাণী

		কেহ বলে তুমি রূপ সুন্দর, কেহ বলে তুমি জ্যোতি!
		আমি জানি প্রভু তুমি যে আমার চির-জনমের পতি।।
			কেহ বলে তুমি চিরদিন দূরে রহ
			কেহ বলে, আছে অন্তরে অহরহ,
যার		যাহা সাধ ডাকে সেই নামে (প্রভু) তোমার নাহিক ক্ষতি।।
		অন্ধ দেখে না চন্দ্র-সূর্য তবু জানে আলো আছে,
(আমি) 	দেখিনি, তবুও তোমার প্রকাশ সহজ-আমার কাছে
			রূপ কি অরূপ কাহারেও নাহি দুষি,
			নাই দেখি ফুল সুরভি পেয়েই খুশি,
(আমি)		অঞ্জলি ভরি’ অমৃত চাই, পাত্রে নাহিক মতি।।

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে

বাণী

সন্ধ্যা হল ওগো রাখাল এবার ডাক মোরে
বেণুর রবে ধেনুগণে ডাক যেমন করে।।
	সংসারেরি গহন বনে
	ঘুরে ফিরি শূন্য মনে
ডাকবে কখন বাঁশির সনে আমায় আপন ঘরে।।
ভেঙেছে মোর প্রাণের মেলা ভাঙলো মায়ার খেলা
মোরে ডাক এবার তোমার পায়ে, আর করো না হেলা।
	মোর জীবনের কিশোর রাখাল,
	বাঁশি শুনে কাটলো সকাল
তন্দ্রা আন ক্লান্ত চোখে, তোমার সুরের ঘোরে।।

পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি

বাণী

পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি
হ’ল বিশ্ব-রাধা ঐ সুরে উদাসী।।
শুনে ঐ রাখালের বেণু
আসে ছুটে আলোক-ধেনু,
ঐ নীল গগনে রাঙা মেঘে ওড়ে গো-খুর রেণু,
ওসে শ্যাম-পিয়ারী গোপ-ঝিয়ারি গ্রহ তারার রাশি।।
	সেই বাঁশির অন্বেষণে
	যত মন-বধু যায় বনে,
তাদের প্রেম যমুনায় বান ডেকে যায় কুল খোয়ায় গোপনে।
তারা রাস দেউলে রসের বাউল আনন্দ-ব্রজবাসী।।

বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না

বাণী

বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না পোহাতে ওগো প্রিয়।
জাগরণে দেখা দিলে না নাথ স্বপনে আসিয়া দেখা দিও।।
	হেরিব কবে সে-মোহন রূপ
	শুকায়েছে মালা, পুড়েছে ধূপ,
নিভে যদি যায় জীবন-দীপ তুমি এসে নাথ জ্বালাইও।।
	তব আশা-পথ চাহি’ বৃথায়
	দিবস মাস বরষ যায়,
এ জনমে যদি ভুলিলে হায় — পর জনমে না ভুলিও।।

১. নিভাইও

নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা

বাণী

নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা।
দু'ধারে চরণ-পাতে ফুটায়ে ফুলের মেলা।।
তোমার ওই কেশের সুবাস ফুলবন করিছে উদাস
কুসুম ভুলিয়া মলয় ও কেশে করিছে খেলা।।
লুটায়ে পড়ে ফুল-দল পরিবে বলিয়া খোঁপায়
ওগো চলিবে বলি' বনতল ফুলেরা পরাগে রাঙায়,
ও-পায়ে আলতা হ'তে চায় রঙিন গোধূলি-বেলা।।
'চলিয়া যেয়ো না, যেয়ো না' বলি' লতারা চরণে জড়ায়,
রোধিতে কন্টক-তরু, আঁচল ছাড়িতে না চায়;
আকাশে ইশারায় ডাকে দ্বিতীয়া চাঁদের ভেলা।।

আমার নয়নে নয়ন রাখি

বাণী

আমার নয়নে নয়ন রাখি' পান করিতে চাও কোন অমিয়।
আছে এ আঁখিতে উষ্ণ আঁখি-জল মধুর সুধা নাই পরান-প্রিয়।।
	ওগো ও শিল্পী, গলাইয়া মোরে
	গড়িতে চাহ কোন মানস-প্রতিমারে,
ওগো ও পূজারি, কেন এ আরতি জাগাতে পাষাণ- প্রণয়-দেবতারে।
এ দেহ-ভৃঙ্গারে থাকে যদি মদ ওগো প্রেমাষ্পদ, পিও গো পিও।।
	আমারে কর গুণী, তোমার বীণা
	কাঁদিব সুরে সুরে, কণ্ঠ-লীনা
	আমার মুখের মুকুরে কবি
হেরিতে চাহ মোরে কর গো চন্দন তপ্ত তনু তব শীতল করিও ।। 

১. এই অনুচ্ছেদটি গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।