কিছু নাহি যার তোমারে দিবার

বাণী

কিছু নাহি যার তোমারে দিবার কি তার ভিক্ষা লবে!
তুমি কেঁদে গেলে আমারে শুধুই নীরবে কাঁদিতে হবে।।
	হেথা একদিন কিশোর বেলায়
	বেঁধেছিনু ঘর পুতুল-খেলায়,
সে সাথি আমার ফিরিবে না আর নব বসন্ত-উৎসবে।।
একদা হেথায় ফুটেছিল হেনা,
সে-ফুল আবার ফুটিবে হেথায় সে তো আর আসিবে না
	ওগো ভিখারি কি দিব তোমায়
	শূন্য দেউলে কুসুম শুকায়,
ক্ষমিও আমার শত অপরাধ, ভিখারিনী আমি ভবে।।

উদার ভারত! সকল মানবে

বাণী

উদার ভারত! সকল মানবে দিয়াছ তোমার কোলে স্থান।
পার্সি-জৈন-বৌদ্ধ-হিন্দু খ্রিস্টান-শিখ-মুসলমান।।
তুমি পারাবার, তোমাতে আসিয়া মিলেছে সকল ধর্ম জাতি;
আপনি সহিয়া ত্যাগের বেদনা সকল দেশের করেছ জ্ঞাতি;
নিজেরে নিঃস্ব করিয়া, হয়েছ বিশ্ব-মানব-পীঠস্থান।।
নিজ সন্তানে রাখি নিরন্ন, অন্য সবারে অন্ন দাও,
তোমার স্বর্ণ রৌপ্য মানিকে বিশ্বের ভান্ডার ভরাও;
আপনি মগ্ন ঘন তমসায় ভুবনে করিয়া আলোক দান।।
বক্ষে ধরিয়া কত সে যুগের কত বিজেতার গ্লানির স্মৃতি,
প্রভাত আশায় সর্বসহা মা যাইপছ দুখের কৃষ্ণাতিথি,
এমনি নিশীথে এসেছিলে বুকে আসিবে আবার সে ভগবান।।

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু হে মোহসীন

বাণী

সকল জাতির সব মানুষের বন্ধু, হে মোহসীন।
এ যুগে তুমিই শোধ করিয়াছ এক আল্লার ঋণ।।
ভোগ করনি ক’ বিপুল বিত্ত পেয়ে
ভিখারি হইলে শুধু আল্লারে চেয়ে,
মহাধনী হ’লে আল্লার কৃপা পেয়ে —
দুনিয়ায় তাই রহিলে কাঙাল দীন।।
মানুষের ভালোবাসায় দেখিলে আল্লার ভালোবাসা,
সৃষ্টির তরে কাঁদিয়া পুরালে তব স্রষ্টার আশা।
তব দান তাই ফুরায়ে নাহি ফুরায়
বিত্ত হইলে নিত্য এ দুনিয়ায়,
শিখাইয়া গেলে, মুসলিম তারে কয় —
অর্থ যাহারে কিনিতে পারে না যে নহে লোভ-মলিন।।

জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী

বাণী

জাগো যোগমায়া জাগো মৃন্ময়ী চিন্ময়ী রূপে জাগো,
তব কনিষ্ঠা কন্যা ধরণী কাঁদে আর ডাকে মা গো।।
	বরষ বরষ কৃথা কেঁদে যাই
	কৃথাই মা তোর আগমনী গাই
সেই কবে মা আসিলি ত্রেতায় আর আসিলি না গো।।
কোটী নয়নের নীল পদ্ম মা ছিঁড়িয়া দিলাম চরণে তোর,
জাগিলিনে তুই, এলিনে ধরায় মা কবে হয় হেন কঠোর।
	দশ ভুজে দশ গ্রহরণ ধরি’
	আয় মা দশ দিক আলো করি’
দশ হাতে আন্‌ কল্যাণ ভরি’ নিশীথ-শেষে ঊষা গো।।

স্যখিরী দেখেতো বাগমেঁ কামিনী

বাণী

স্যখিরী দেখেতো বাগমেঁ কামিনী
জুঁহি চাম্বেলী কি ক্যয়সী বাহার হ্যায়।।
আও আও হ্যর ডালি সে তোড়কে
ক্যচ্চি কলিও কো গুঁন্ধে হাম জোড়কে
প্রেমমালা পিন্‌হায়ে দিলদার ইয়ার কো
মাস্ত হোক্যর গলে মিলতী হ্যয় ডার হ্যায়।।
ম্যয় হুঁ সুন্দর নার নওয়েলী প্যরী
প্যহেনা ফুলোঁ কা গ্যহনা যো ম্যায়নে স্যখি
		দুলহান ব্যন গ্যই।
প্যয়ারে প্রীতমসে মিলনে কি আই ঘ্যড়ি
ইসী কারণ স্যখীরী ব্যনী সুন্দরী
আয় বাল্যম কে ম্যন কো লুভাউঙ্গী
ইসী আশা পে সারা ইয়ে সিঙ্গার হ্যয়।।

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি

বাণী

ক্ষীণ তনু যৌবন ভার বইতে নারি
ধীরে চল গোরী ধীরে ধীরে
টলে চিকন কাঁখে ভরা গাগরি
	ভরে তায় ঘাঘরি।
দেহ টুটে না যায় যেন নাগরি
	নীল চোলি ভিজিয়া না যায় নীরে।।
কঠিন ধরা হানে বেদনা কোমল পায়ে
মুছায়ে দিব ব্যথা ব’স এ বকুল ছায়ে
‘না’বলি মুচকিয়া হেসো না ফিরে ফিরে।।
দাঁড়ায়ে কত পথিক বহিতে সই ভার তব
যদি চাহ গো সখি ভার তব আমি লব
দাও আমারে ঠাঁই, তব ঐ তনুর তীরে।।