কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়

বাণী

কেন মরিতে আসিলাম যমুনায়, ললিতা কেন বিপরীত হেরিলাম।
কৃষ্ণ-যমুনা-জলে কারে ল’য়ে কুতুহলে জল-খেলা করে ঘনশ্যাম।।
কালো মেঘের যেন খেলে বিজলি
সোনার-প্রতিমার প্রতিবিম্ব কালো জলে
কালো মেঘে যেন খেলে বিজলি।
হিরন্ময়ী জ্যোতির্ময়ী সতিনীর রূপ আমি যত দেখি গো তত মজি সখি গো!
অতি জ্যোতি গর্বিতা যেন পতি সোহাগিনী সতীসম কে এ সতিনী, ললিতে,
মোর শ্যাম অঙ্গে অপরূপ ভঙ্গে আমারই সমুখে করে খেলা, মোরে ছলিতে।
ও কি কায়া না ছায়া!
ও কি কৃষ্ণ রূপের চঞ্চল জল-তরঙ্গ মায়া?
সখি মান ভাঙাতে মোর এসেছিল গোপনে শ্যাম আজি প্রভাতে (সখি),
শ্যাম-তনুমুকুরে হেরিলাম বিরাজে গৌর-বর্ণা নারী অপরূপ শোভাতে।
এলো অভিমান মনে, তাই
মনে হলে যমুনায় ডুবিয়া ললিতা শান্তি যদি পাই।
এখানেও দেখি সেই গৌরী কিশোরী আছে শ্যামে জড়ায়ে।
(ও কি কায়া না মায়া ও কি কৃষ্ণেরই রঙ্গ না আমারই ছায়া কায়া না মায়া।)
কোন্ দেশে যাব সখি কোন্ খানে পাব শ্যামে একাকী।
আন-নারীরে ছেড়ে কেবল রাধার হয়ে দেবে না দেখা কি (সখী গো)।।

গীতিচিত্র : ‘অভিমানিনী’

কোন্ মাটিতে আমার কায়া

বাণী

কোন্ মাটিতে আমার কায়া
	সৃজিলে হায় প্রভৃ মোর।
মস্‌জিদে মোর ঠাঁই নাহি পাই,
	সকল দেউল বন্ধ-দোর।।
ফিরি নগর-নারীর মতো
	কাফের দরবেশ বদ্-নসীব,
নাই বেহেশ্‌তের আশা আমার,
	দীন ও দুনিয়া শত্রু ঘোর।।
বেড়াই শ্রীহীন, দেয় অভিশাপ
	যে হেরে সেই আমারে,
রূপ-পূজারি ভুলতে নারি
	মোর প্রতিমার মুখ কিশোর।।
চাইব শারাব, প্রিয়ার অধর
	মরব যেদিন পানশালায়,
কোথায় নরক, কোথায় স্বরগ,
	শারাব-নেশায় রইব ভোর।।

তোমার বিবাহে আপনার হাতে

বাণী

তোমার বিবাহে আপনার হাতে (প্রিয়)
	আমি দেব হার পরায়ে।
মোর চোখে যদি জল করে টলমল
	আমি দু’হাতে দেব গো সরায়ে।।

নাটিকা : ‘লায়লী-মজনু’

ওরে অবোধ আঁখি!

বাণী

	ওরে অবোধ আঁখি! আর কতদিন রইবি রূপে ভুলে।
	অরূপ সাগর দেখলি না তুই দাঁড়িয়ে রূপের কুলে।।
		যে সুন্দর চুপে চুপে
		লীলা করেন রূপে রূপে,
তুই	দেখলি না সেই অপরূপে রূপের দুয়ার খুলে।।

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে

বাণী

শিউলি-মালা গেঁথেছিলাম তোমায় দেব ব’লে।
না নিয়ে সে-মালা নিঠুর তুমি গেলে চ’লে।।
	প্রণাম ক’রে উদ্দেশে তাই
	সেই মালিকা জলে ভাসাই,
তোমার ঘাটে লাগে যদি নিও চরণ-তলে।।
এলো শুভদিন যবে মোর দুখের রাতির শেষে,
তোমার তরী গেল ভেসে সুদূর নিরুদ্দেশে।
	দিন ফুরাবে শিউলি ফোটার
	মোর শুভদিন আসবে না আর,
ভরলো বিফল পূজার থালা নীরব চোখের জলে।।

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে

বাণী

বন-মল্লিকা ফুটিবে যখন গিরি-ঝর্নার তীরে।
সেই চৈতালি গোধূলি-লগনে এসো তুমি ধীরে ধীরে — 
				গিরি-ঝর্নার তীরে।।
বনের কিশোর এসো সেথা হেসে হেসে
সাজায়ো আমায় বন-লক্ষ্মীর বেশে,
ধোওয়াব তোমার চরণ-কমল বিরহ-অশ্রু নীরে।।
ঘনায়ে গহন সন্ধ্যার মায়া আসিও সোনার রথে,
অতি সুকোমল শিঁরিশ, কুসুম বিছায়ে রাখিব পথে।
মালতী-কুঞ্জে ডাকিবে পাপিয়া পাখি
তুমি এসে বেঁধো আলোক-লতার রাখি,
ভ্রমরের সম পিপাসিত মোর আঁখি কাঁদিবে তোমারে ঘিরে।।