দে জাকাত দে জাকাত তোরা

বাণী

	দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দে রে জাকাত।
	তোর দিল্‌ খুলবে পরে ওরে আগে খুলুক হাত।।
	দেখ পাক্‌ কোরআন শোন্‌ নবীজীর ফরমান
	ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান।
তোর	একার তরে দেননি খোদা দৌলতের খেলাত।।
তোর	দর্‌ দালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম
আছে	দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ, বলেছেন রহিম।
	বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসুলে করিম।
	সঞ্চয়ে তোর সফল হবে পাবি রে নাজাত।।
	এই দৌলত বিভব রতন যাবে না তোর সাথে
	হয়তো চেরাগ জ্বলবে না তোর গোরে শবেরাতে।
	এই জাকাতের বদলাতে পাবি বেহেশ্‌তী সওগাত।।

হের গোধূলি-বেলা সই ঘনিয়ে এলো

বাণী

হের	গোধূলি-বেলা সই ঘনিয়ে এলো ওই
	(ঐ হের গোধূলি)
	কি ভয়ে কি জানি উঠ্ল অঙ্গ ছ’ম্‌কে।
	কেন জল নিতে এলাম সই অবেলা
	একে অল্প বয়স তাহে একেলা,
	কাঁধে কাঁখে ঘড়া দেহে ডালি-ভরা
		যৌবন-পসরা উঠি চ’ম্‌কে।।
	পিছে পিছে আসিছে যেন কে হাসে চটুল চোখে।
	আর চল্‌তে নারি সখি ধর ধর
	কাঁপে দেহলতা কেন থর থর,
	ঐ কলঙ্কী কালারে বল্ যেতে বল্
	দেশ ভরিবে মোদের কলঙ্কে।
	বল্ তারে, জল নিতে কাল হ’তে —
		আস্‌ব না আর এ পথে।।

কী দশা হয়েছে মোদের দেখ্ মা উমা আনন্দিনী

বাণী

কী দশা হয়েছে মোদের দেখ্ মা উমা আনন্দিনী।
তোর বাপ হয়েছে পাষাণ গিরি, মা হয়েছে পাগলিনী।।
	(মা)	এ দেশে আর ফুল ফোটে না
		গঙ্গাতে আর ঢেউ ওঠে না
তোর হাসি-মুখ দেখলে যে মা পোহায় না মোর নিশীথিনী।।
আর যাবি না ছেড়ে মোদের বল্ মা আমায় কন্ঠ ধরি
সুর যেন তার না থামে আর বাজালি তুই যে বাঁশরি।।
	(মা)	না পেলে তুই শিবের দেখা
		রইতে যদি নারিস্ একা,
আমি শিবকে বেঁধে রাখব মা গো হয়ে শিব-পূজারিণী।।

হিন্দু আর মুসলিম মোরা দুই সহোদর

বাণী

হিন্দু আর মুসলিম মোরা দুই সহোদর ভাই।
এক বৃন্তে দু’টি কুসুম এক ভারতে ঠাঁই॥
সৃষ্টি যাঁর মুসলিম রে ভাই হিন্দু সৃষ্টি তাঁরি
মোরা বিবাদ ক’রে খোদার উপর করি যে খোদকারি।
শাস্তি এত আজ আমাদের হীন-দশা এই তাই॥
দুই জাতি ভাই সমান মরে মড়ক এলে দেশে
বন্যাতে দুই ভাইয়ের কুটির সমানে যায় ভেসে।
দুই জনারই মাঠেরে ভাই সমান বৃষ্টি ঝরে —
সব জাতিরই সকলকে তাঁর দান যে সমান করে
চাঁদ সুরুযের আলো কেহ কম-বেশি কি পাই
বাইরে শুধু রঙের তফাৎ ভিতরে ভেদ নাই॥

কেন আজ নতুন ক’রে পরান

বাণী

কেন আজ নতুন ক’রে পরান তোমারে পাইতে চায়।
এত কাছে আছো তবু কেন বুকে অসহ বিরহ হায়।।
রূপ-সরসীতে ফুটালে পদ্মিনী বঁধু
দিলে সুরভি রসঘন মধু,
তবু শীর্ণা তনু কেন চায় গোধুলি রাঙা-শাড়ি -
		আল্‌তা পরিতে কেন সাধ যায়।।
বনশ্রী কাঁদে প্রেম কণ্ঠ জড়ায়ে ওলো নিরাভরণা
অথই জলে কাঁদে প্রেম ঘন কমল খোঁপায় কেন পর না,
কেন তব সুরের কপোতী মুক্তামালা চুড়ি কাঁকন পরায়।।

 

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি

বাণী

ঝরা ফুল দ’লে কে অতিথি
সাঝেঁর বেলা এলে কানন-বীথি।।
চোখে কি মায়া ফেলেছে ছায়া
যৌবন মদির দোদুল কায়া
তোমার ছোঁয়ায় নাচন লাগে দখিন হাওয়ায়
লাগে চাদেঁর স্বপন বকুল চাঁপায়,
কোয়েলিয়া কুহরে কু কু গীতি।।