হাতে হাত দিয়ে আগে চল হাতে নাই থাক হাতিয়ার

বাণী

হাতে হাত দিয়ে আগে চল হাতে নাই থাক হাতিয়ার।
জমায়েত হও, আপনি আসিবে শক্তি জুলফিকার।।
আন আলীর শৌর্য, হোসেনের ত্যাগ ওমরের মত কর্মানুরাগ;
খালেদের মত সব অশান্ত ভেঙে কর একাকার।।
ইসলামে নাই ছোট বড় আর আশরাফ আতরাফ
নিষ্ঠুর হাতে এই ভেদ জ্ঞান কর মিসমার সাফ।
চাকর সৃজিতে , চাকরি করিতে, ইসলাম আসে নাই পৃথিবীতে।
মরিবে ক্ষুধায় কেহ নিরন্ন, কারো ঘরে রবে অঢেল অন্ন
এ জুলুম সহেনি, ইসলাম, সহিবে না আজো আর।।

মন লহ নিতি নাম রাধা শ্যাম গাহো

বাণী

মন লহ নিতি নাম রাধা শ্যাম গাহো হরি গুণ গান।
তব ধন জন প্রাণ, যাহার কৃপার দান
জপ তারি নাম জয় ভগবান জয় ভগবান।।
জনক-জননীর স্নেহে তাঁহার হেরিস্‌ তুই স্নেহময়,
ভাই ভগিনীর প্রীতিতে যাঁর, শান্ত মধুর পরিচয়।
প্রণয়ী বন্ধুর মাঝে, যাঁর প্রেম রূপ বিরাজে;
পুত্র কন্যা-রূপে সেই জুড়ায় তাপিত পরান।।
তৃষ্ণা ক্ষুধায় সেই কৃষ্ণেরি লীলা,
হাসে শ্যাম শস্যে কুসুমে রঙিলা;
তরঙ্গে ছলছল আঁখি জল-নীলা,
	কল-ভাষা নদী-কলতান।
দেয় দুখ্‌ শোক সেই, পুন সেই করে ত্রাণ।
জয় ভগবান, জয় ভগবান, জয় ভগবান।।

সই ভালো করে বিনোদ বেণী

বাণী

সই		ভালো ক’রে বিনোদ–বেণী বাঁধিয়া দে
মোর		বঁধু যেন বাঁধা থাকে বিননী–ফাঁদে।।
সই		বাঁধিতে সে বাঁধন–হারা বনের হরিণ
সই		জড়ায়ে দে জরীণ ফিতা মোহন ছাঁদে।।
সই		চপল পুরুষ সে তাই কুরুশ কাঁটায়
		রাখিব খোঁপারি সাথে বিঁধিয়া লো তায়।
তাহে		রেশমি জাল বিছায়ে দে ধরিতে চাঁদে।।
		প্রথম প্রণয়–রাগের মত আলতা রঙে
		রাঙায়ে দে চরণ মোর এমনি ঢঙে।
সই		পায়ে ধ’রে সে যেন লো আমারে সাধে।।

নিশি কাজল শ্যামা আয় মা

বাণী

	নিশি কাজল শ্যামা আয় মা নিশীথ রাতে।
	যেমন কালো বাদল নামে নীল আকাশের নয়নপাতে।।
	কুল-কুণ্ডলিনী রূপে ওঠ মা জেগে চুপে চুপে,
	মা ছেলেতে যাব মা চল্‌ ভোলানাথের ঘুম ভাঙাতে।।
	তোর বরাভয় রূপ দেখায়ে দূর কর মা আঁধার ভীতি,
	কৃষ্ণা চতুর্দশীতে মা দেখা পূর্ণ চাঁদের জ্যোতি।
	পাতার কোলে কুঁড়ি সম মাগো হৃদয় কমল মম
তোর	চরণ অরুণ দেখার আশায় রাত্রি জাগে রাতের সাথে।।

আমি গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা

বাণী

আমি	গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা
	কনক গাঁদার ফুল গো।
	গোধূলির শেষে হেসে উঠি আমি
	এক নিমেষের ভুল গো।
আমি	কণিকা,
আমি	সাঁঝের অধরে ম্লান আনন্দ-কণিকা
আমি	অভিমানিনীর খুলে ফেলে দেওয়া মণিকা
আমি	দেব-কুমারীর দুল গো।।
	আলতা রাখার পাত্র আমার আধখানা চাঁদ ভাঙা
	তাহারি রং গড়িয়ে পরে (ঐ) অস্ত-আকাশ রাঙা।
আমি	একমুঠো আলো কৃষ্ণা-সাঁঝের হাতে
আমি	নিবেদিত ফুল আকাশ-নদীতে রাতে
	ভাসিয়া বেড়াই যাঁর উদ্দেশে গো
	তার পাই না চরণ-মূল।।