শারদ-সন্ধ্যা সমীরে দোলা লাগে

বাণী

শারদ-সন্ধ্যা সমীরে দোলা লাগে ধরণীর বিহ্বল-চিত্তে।
এসো পুরবাসী করি’ সজ্জা, ভরাও ভুবনে গীত-নৃত্যে।।
	পুঞ্জিত মেঘ হ’ল রিক্ত
	অবিরল ধারে ধরা সিক্ত,
মেহেদী ফুলের মঞ্জরি ল’য়ে, সাজাও ভবনে অনুপম বিত্তে।।

আনারকলি! আনারকলি!

বাণী

আনারকলি! আনারকলি!
স্বপ্নে দেখে’ কোন্ ডালিম-কুমারে
এসেছিলে রেবা ঝিলামের’ পারে,
দিতে তব রাঙা হৃদয়ের অঞ্জলি।।
মরুর মণিকা বাদশাহী নওরোজে
এসেছিলে কোন্ হারানো হিয়ার খোঁজে,
তব রূপ হেরি’ হেরেমের দীপ-মালা উঠেছিল চঞ্চলি’।।
পতঙ্গ সম পাপড়ির পাখা মেলি’ আনারকলি গো — 
সেলিমের অনুরাগ-মোমের প্রদীপে পড়িলে ঢলি’ গো — 
মিলায়েছে মাটিতে মোগলের মসনদ, আনারকলি।
তুমি আজো দুলিতেছ ফুলের হাসিতে
বিরহীর বাঁশিতে, আনারকলি;
তব জীবন্ত সমাধির বিগলিত পাষাণে
আজও প্রেম-যমুনার ঢেউ ওঠে উথলি’।।

সঙ্গীতালেখ্য: ‘পঞ্চাঙ্গনা’

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।

আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার

বাণী

(মা)		আয় মা উমা! রাখ্‌ব এবার ছেলের সাজে সাজিয়ে তোরে।
(ওমা)		মা’র কাছে তুই রইবি নিতুই, যাবি না আর শ্বশুর ঘরে।।
				মা হওয়ার মা কী যে জ্বালা
				বুঝবি না তুই গিরি-বালা
		তোরে না দেখলে শূন্য এ বুক কী যে হাহাকার করে।।
		তোরে টানে মা শঙ্কর-শিব আসবে নেমে জীব-জগতে,
		আনন্দেরই হাট বসাব নিরানন্দ ভূ-ভারতে।
				না দেখে যে মা, তোর লীলা
				হ’য়ে আছি পাষাণ-শীলা
		আয় কৈলাসে তুই ফির্‌বি নেচে বৃন্দাবনের নূপুর প’রে।।

মাগো আমি মন্দমতি

বাণী

	মাগো আমি মন্দমতি তবু যে সন্তান তোরই
(হায়)	পুত্র বেড়ায় কাঙাল বেশে মা যার ভূবনেশ্বরী।।
		তুই যে এত হানিস হেলা
	(তবু)	তোকেই ডাকি সারা বেলা
	মার খেলে মা’র শিশুর মত মাগো তোকেই জড়িয়ে ধরি।।
	মা হয়ে তুই কেমন করে কোল থেকে তোর দিলি ফেলে
	(মাগো)	কেন দিলি ধুলায় ফেলে?
	(আমি)	মন্দ এত হতাম না মা মায়ের স্নেহ-সুধা পেলে।
	(মা)	তোর উপরে অভিমানে দু’চোখ যায় যেদিক পানে
	সেই দিকে তাই ধাই মা এখন মরণ-বাঁচন ভয় না করি।।

রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী

বাণী

রঘুকুলপতি রামচন্দ্র আওধকে অধিকারী।
সুর-নর-জন পূজে চরণ, মুনি-জন ভয়হারী।।
	ঝলকে অরুণ বদন-কমল,
	নীল-পদ্ম নয়ন যুগল
দশরথ-সুত সীতাপতি তপবন বনচারী।।
সত্য ধর্ম পালক-প্রভু, রাজমুকট-ত্যাগী
রত্নাকর শাসক অরু, অনুজকে অনুরাগী।
	শিলা সতী অহল্যা ত্রাতা,
	জগৎ-পূজ্য, জগৎ-পাতা।
লঙ্কা-পতি মোক্ষদাতা অসুর-নিধনকারী।।