বাণী

এ কোথায় আসিলে হায়, তৃষিত ভিখারি।
হায়, পথ-ভোলা পথিক, হায়, মৃগ মরুচারী।।
	মোর ব্যথায় চরণ ফেলে
	চির-দেবতা কি এলে,
হায়, শুকায়েছে যবে মোর নয়নে নয়ন-বারি।।
তোমার আসার পথে প্রিয় ছিলাম যবে পরান পাতি’,
সেদিন যদি আসিতে নাথ হইতে ব্যথার ব্যথী।
ধোওয়ায়ে নয়ন-জলে পা মুছাতাম আকুল কেশে
আজ কেন দিন-শেষে এলে নাথ মলিন বেশে!
হায়, বুকে ল’য়ে ব্যথা আসিলে ব্যথা-হারী।।
স্মৃতির যে শুকানো মালা যতনে রেখেছি তুলি’
ছুঁয়ে সে হার ঝরায়ো না ম্লান তার কুসুমগুলি,
হায়, জ্বলুক বুকে চিতা, তা’য় ঢেলো না আর বারি।।

বাণী

এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
বহে বায়		বকুল-বনে	ঘুম-ভাঙানো।।
লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
ফুটিল		প্রেমের কুঁড়ি	পাপড়ি খুলে,
খুশির আজ	আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
চাঁদিনী		ঝিলমিলায়	ঝিলের জলে,
আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
জাগে ঢেউ	দীঘির বুকে	দোল-লাগানো।।
এসো আজ	স্বপন-কুমার	নিরিবিলি
খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
এসো মোর	হতাশ প্রাণে	ভুল-ভাঙানো।।

বাণী

একি অসীম পিয়াসা
শত জনম গেল তবু মিটিল না
	তোমারে পাওয়ার আশা।।
সাগর চাহিয়া চাঁদে চির জনম কাঁদে
তেমনি যত নাহি পায় তোমা পানে ধায়
		অসীম ভালোবাসা।।
তোমারে যে চাহিয়াছে ভুলে একদিন
সেই জানে তোমারে ভোলা কি কঠিন
তোমার স্মৃতি তার মরণের সাথি হয়
	মেটে না প্রেমের পিয়াসা।।

বাণী

এ দেবদাসীর পূজা লহ হে ঠাকুর।
দয়া কর, কথা কও, হ’য়ো না নিঠুর।।
লহ মান অভিমান, দেহ প্রাণ মন
মম প্রেম-ধূপ নাও রূপচন্দন,
এই লহ আভরণ, চুড়ি-কঙ্কন –
চোখের দৃষ্টি নাও কণ্ঠের সুর।।
আজ, শেষ ক’রে আপনারে দিব তব পায়,
চাও চাও মোর কাছে যাহা সাধ যায়।
কহিবে না কথা কি গো তুমি কিছুতেই?
আরতির থালা তবে ফেলে দিনু এই,
নাচিব না, বাজুক না মৃদঙ্গ তাল –
খুলিয়া রাখিনু এই পায়ের নূপুর।।

বাণী

পুরুষ	:	এলে তুমি কে, কে ওগো
		তরুণা অরুণা করুণা সল চোখে।
স্ত্রী	:	আমি তব মনের বনের পথে
		ঝিরি ঝিরি গিরি-নির্ঝরিণী
		আমি যৌবন-উন্মনা হরিণী মানসলোকে।।
পুরুষ	:	ভেসে যাওয়া মেঘের সজল ছায়া
		ক্ষণিক মায়া তুমি প্রিয়া
		স্বপনে আসি' বাজায়ে বাঁশি স্বপনে যাও মিশাইয়া।
স্ত্রী	:	বাহুর বাঁধনে দিই না ধরা —
		আমি স্বপন-স্বয়ম্বরা
		সঙ্গীতে জাগাই ইঙ্গিতে ফোটাই
		তোমার প্রেমের যুঁই-কোরকে।
পুরুষ	:	আধেক প্রকাশ 
স্ত্রী	:	আধেক গোপন
পুরুষ	:	আধো জাগরণ 
স্ত্রী	:	আধেক স্বপন
উভয়ে	:	খেলিব খেলা ছায়া-আলোকে।।

বাণী

এতো ঘুম নয় সই নয়ন ভরা রঙিন স্বপনে
আমি যেন হারিয়ে গেছি কোন ফুলবনে
	ওগো রঙিন স্বপনে।।
আমি যেন চাঁদনি রাতে
মিশিয়ে গিয়ে হাওয়ার সাথে
গোপন প্রিয়ার গোপন কথা শুনছি গোপনে।।
আমি যেন মৌমাছিদের হালকা পাখায় বসি
কোন প্রেয়সী মন টানে মোর কোন সে রুপসী।
আমি যেন কেমন করে
মেতেছি মোর রূপের তরে
অশান্ত যৌবনের একি বাহুর বাঁধনে।।