বাণী

বঁধু	আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাধিকার আঁখি-জলে।
	বাদল সাঁঝের যুঁই ফুল হয়ে আসিয়াছি ধরাতলে।।
তাই	যেমনি মিলন সাধ ওঠে জেগে
তুমি	লুকাও হে চাঁদ বিরহের মেঘে,
আমি	পূবালী পবনে ঝরে যাই বনে দলগুলি যেই খোলে।।
বঁধু	এই বুঝি হায় নিয়তির লেখা মিলন আমার নহে —
	ক্ষনিকের শুভ-দৃষ্টি লভিয়া কাঁদিব পরম বিরহে।
			বুঝি মিলন আমার নহে —
		আসিব না আমি মাধবী নিশীথে
		বরষায় শুধু আসিব ঝুরিতে,
	অসহায় ধারা-স্রোতে ভেসে যাব, মালা হব নাকো গলে।।

বাণী

বনে মোর ফুটেছে হেনা চামেলি যূথী বেলি।
এসো এসো কুসুম সুকুমার শীতের মায়া-কুহেলি অবহেলি’॥
পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দুল্ দোলায়
(পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দেয় দোলন্)
	উতলা দখিন হাওয়া
কোকিল কুহরে কুহু কুহু স্বরে মদির স্বপন-ছাওয়া।
হাসে গীত-চঞ্চল, জোছনা-উজল মাধবী রাতি
	এসো এসো যৌবন সাথি
ফুল-কিশোর, হে চিতচোর, দেবতা মোর।
	মম লাজ অবগুণ্ঠন ঠেলি’॥

বাণী

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ।
তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥
বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে,
বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে।
প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা
দেখি তোমায় আপন ভোলা;
রাজপথেতে লোকের মেলা
	তুমি আপন সুরে অন্ধ॥
বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর
হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর,
বন্ধু তোমার হাতের বীণা
তোমার মতই লজ্জাহীনা
তোমার মতই ছিন্ন ভিনা
	তোমার মতই হত-ছন্দ॥

[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

বাণী

বহে বনে সমীরণ ফুল জাগানো
এসো গোপন সাথি মোর ঘুম ভাঙানো
এসো আঁধার রাতেরি চাঁদ পাতি মায়ারি ফাঁদ
এসো এসো মম স্বপন সাধ॥
হৃদয় তিমিরে এসো হৃদ-সায়র দোল লাগানো
	সাথি মোর ঘুম ভাঙানো॥
বনে মোর ফুলগুলি আছে তব পথ চেয়ে
পরান পাপিয়া পিউ পিউ ওঠে গেয়ে
তরুণ অরুণ এসো আলোকেরি পথ বেয়ে
এসো আমার তনু মন প্রাণ হৃদয় রাঙানো
	এসো ভুবন ভোলানো
কোথা গোপন সাথি মোর ঘুম ভাঙানো॥

বাণী

পুরুষ	:	(বেয়ান, বলি ও বেয়ান ঠাকরুন)
		বেয়ান তোমার আলু চেরা চোখে আমি মরে আছি
স্ত্রী	:	বেয়াই আমি তাইতো তোমার গোদা পায়ে শরণ যাচি।
		ও তোমার গোদা পায়ে শরণ যাচি।
পুরুষ	:	(বলি ও বয়ান তোমার)
		দাঁতে ছাতা গালে ছুলি গলায় পেটে কোলাকুলি
		আমি দেখেই ছুটি কাছা খুলি
		(আমি) দেখেই ছুটি ও আমার কাছা খুলে গো
		দেখেই ছুটি হরিবোল বোলে রে
		দেখেই ছুটি ও হরিবোল বোলে রে
		আমি কাছা খুলে বাহু তুলে দেখেই ছুটি।
স্ত্রী	:	(বলি ও বেয়াই, ও কাছা তো নয়) এ যে লেজুড়েরি কাছাকাছি।
পুরুষ	:	(বলি ও বেয়ান ঠাকরুন তোমার)
		ফোকলা দাঁতে প্রেমের বুলি শুনেই কাঁধে নিলেম ঝুলি।
স্ত্রী	:	(বুঝি গৌর নামের ঝুলি, বলি ও বেয়াই উঁ)
		বেয়াই নিয়ে এবার যাবে রাঁচি
		যাবে রাঁচি গৌর হে ওহে গৌর (যাবে রাঁচি)
		কাছা খুলে বাহু তুলে যাবে রাঁচি (তুমি)।
পুরুষ	:	(বলি ও বেয়ান)
		ভাগলপুরি বিবির মতন নাদুস নুদুস কি সে গঠন
স্ত্রী	:	(বলি ও হামদো বুড়ো) তুমি মাম্‌দো ভূত যে চামড়া খেকো
		ও আমায় করতে এলে আমড়া গাছি।

বাণী

বনের হরিণ বনের হরিণ ওরে কপট চোর।
কেমন ক’রে করলি চুরি প্রিয়ার আঁখি মোর।।
	লায়লীরে তুই দেখ্‌লি কখন
	কর্‌লি বদল তোদের নয়ন,
ওরে বন হয়েছে স্বর্গ আমার হেরি নয়ন তোর।।

নাটকঃ ‘লায়লী-মজনু’