বাণী

বাঁশিতে সুর শুনিয়ে নূপুর রুনঝনিয়ে
	এলে আজি বাদলপ্রাতে।
কদম কেশর ঝুরে পুলকে তোমার পায়ে,
তমাল বিছায়ে ছায়া শ্যামল আদুল গায়ে।
অলকা পথ বাহি আসিলে মেঘের নায়ে,
নাচের তালে বাজিয়া ওঠে চুড়ি কাঁকন হাতে।।
ধানি রঙের শাড়ি ফিরোজা রঙ উত্তরীয়
প'রেছি এ শ্রাবণ দোলাতে দুলিতে প্রিয়।
কেশের কমল-কলি, বনমালী, তুলিয়া আদরে
চাঁচর চিকুরে আপনি পরিও
তোমার রূপের কাজল পরায়ো আমার আঁখি পাতে।।

বাণী

ব্রজগোপাল শ্যাম সুন্দর
যশোদা দুলাল শিশু নটবর॥
নন্দ নন্দন নয়নানন্দ
চরণে মধুর সৃজন ছন্দ
ভুবন মোহন কৃষ্ণচন্দ্র
অপরূপ রূপ হেরে চরাচর॥
কোটি গ্রহতারা চরণে নূপুর
ওঙ্কার ধ্বনি বাঁশরির সুর।
বঙ্কিম আঁখি বাঁকা শিখীপাখা
বাঁকা শ্রীচরণ ভঙ্গিমা বাঁকা
কৃষ্ণময় শ্রীঅঙ্গ ডাকা
করাল মধুর প্রভু গিরিধর॥

বাণী

বঁধু		মিটিলনা সাধ ভালোবাসিয়া তোমায়।
তাই		আবার বাসিতে ভালো আসিব ধরায়।।
		আবার বিরহে তব কাঁদিব
		আবার প্রণয়–ডোরে বাঁধিব,
শুধু		নিমেষেরি তরে আঁখি দুটি ভ’রে —
		তোমারে হেরিয়া ঝ’রে যাব অবেলায়।।
যে		গোধূলি–লগ্নে নববধূ হয় নারী,
সেই		গোধূলি–লগ্নে বঁধু দিল আমারে গেরুয়া শাড়ি।
বঁধু		আমার বিরহ তব গানে
		‌‌সুর হয়ে কাঁদে প্রাণে প্রাণে,
		আমি নিজে নাহি ধরা দিয়ে —
		সকলের প্রেম নিয়ে দিনু তব পায়।।

বাণী

বেদনা-বিহ্বল পাগল পূবালী পবনে
হায় নিদ-হারা তার আঁখি-তারা জাগে আনমনা একা বাতায়নে।।
	ঝরিছে অঝোর নভে বাদল,
	হিয়া দুরু দুরু মন উতল,
কাজলের বাঁধ নাহি মানে হায় — অশ্রুর নদী দু' নয়নে।।
	মন চলে গেছে দূর সুদূর —
	একা প্রিয় যথা ব্যথা-বিধুর,
এ বাদল-রাতি কাটে বিনা সাথী, তারি কথা শুধু পড়ে মনে।।

বাণী

	বল দেখি মা নন্দরানী ওগো গোকুলবালা
(ওমা)	কেমন করে তোদের ঘরে (মা) এলো নন্দলালা।
	(মা তুই) কোন সাধনায় দধি মথন করে
	তুললি ননী হৃদয় পাত্র ভরে;
	তুই সেই নবনি দিয়ে যতন করে
	(মা তুই) গড়লি কি এই ননীর পুতুল আঁধার চিকনকালা।।
	অমন রসবিগ্রহ মা গড়তে পারে কে?
	গোপঝিয়ারি গড়তে পারে কে?
	গোকুল মেয়ে নস্ তুই মা তুই কুমারের ঝি।
	(মাগো) তুই নস্ যোগিনী তবু স্বগুণ বলে
	(মা তুই) শ্রীকৃষ্ণে বাঁধলি উদূখলে
	(আমায়) সেই যোগ তুই শিখিয়ে দে মা বসেই জপমালা।।

বাণী

বসিয়া নদী-কূলে,এলোচুলে			কে উদাসিনী
কে এলে, পথ ভুলে, এ অকূলে		বন-হরিণী।।
কলসে জল ভরিয়া চায় করুণায়		কুল-বধূরা,
কেঁদে যায় ফুলে, ফুলে, পদমূলে,		সাঁঝ-তটিনী।।
দলিয়া কত ভাঙা-মন, ও চরণ,		করেছ রাঙা
কাঁদায়ে কত না দিল, এলে নিখিল		মন-মোহিনী।।
হারালি গোধূলি-লগন কবি,			কোন নদী কিনারে,
একি সেই স্বপন-চাঁদ, পেতেছে ফাঁদ		প্রিয়ার সতিনী।।