বাণী

বিরহী বেণুকা যেন বাজে সখি ছায়ানটে।
উথলি’ উঠিল বারি শীর্ণা যমুনাতটে।।
	নীরব কুঞ্জে কুহু
	গেয়ে ওঠে মুহু মুহু,
আঁধার মধু বনে বকুল চম্পা ফোটে।।
সহসা সরস হল বিরস বৃন্দাবন,
চন্দ্রা যামিনী হাসে খুলি মেঘ-গুণ্ঠন।
	সে এলো, তারে নিরখি’
	পরান কি রবে সখি,
আবেশে অঙ্গ মম থরথর কেঁপে ওঠে।।

বাণী

বন্ধু তোমার দুয়ার বন্ধ।
তবু তোমার গৃহের পথে ছুটে কমল-গন্ধ॥
বন্ধু তোমার অলক-উড়া মনে পড়ে মনে পড়ে,
বন্ধু তোমার পুলক ঝরা আজও আছে বক্ষে ঝ’রে।
প্রথম যেদিন দুয়ার খোলা
দেখি তোমায় আপন ভোলা;
রাজপথেতে লোকের মেলা
	তুমি আপন সুরে অন্ধ॥
বন্ধু তুমি ভুলে যাওয়া গানের বুঝি সুর
হারিয়ে পাওয়া আলোকপুরের স্বপ্ন সুমধুর,
বন্ধু তোমার হাতের বীণা
তোমার মতই লজ্জাহীনা
তোমার মতই ছিন্ন ভিনা
	তোমার মতই হত-ছন্দ॥

[অগ্রন্থিত নজরুল, সংকলন ও সম্পাদনাঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুর, ডি. এম. লাইব্রেরি, কলকাতা, ২০০৩]

বাণী

ব্যথার উপরে বঁধু ব্যথা দিও না
দলিত এ হৃদি মম দ’লে যেয়ো না ॥
		ল’য়ে কত সাধ আশা
		তোমার দুয়ারে আসা
(বঁধু) দিলে যদি আলোবাসা ফিরে নিয়ো না॥
স্রোতের কুসুম প্রায় ভাসিতাম অসহায়
তুলে নিয়ে বুকে তারে ফেলে দিলে পুনরায়।
		নিরদয় এ কি খেলা
		প্রাণ নিয়ে হেলাফেলা
খেলার লাগিয়া ভালবাসিও না॥

বাণী

ব্রজ–গোপী খেলে হোরী
খেলে আনন্দ নবঘন শ্যাম সাথে।
রাঙা অধরে ঝরে হাসির কুম্‌কুম্‌
অনুরাগ–আবীর নয়ন–পাতে।।
পিরীতি–ফাগ মাখা গোরীর সঙ্গে
হোরি খেলে হরি উন্মাদ রঙ্গে।
বসন্তে এ কোন্ কিশোর দুরন্ত
রাধারে জিনিতে এলো পিচ্‌কারী হাতে।।
গোপীনীরা হানে অপাঙ্গ খর শর ভ্রুকুটি ভঙ্গ
অনঙ্গ আবেশে জর জর থর থর শ্যামের অঙ্গ।
শ্যামল তনুতে হরিত কুঞ্জে
অশোক ফুটেছে যেন পুঞ্জে পুঞ্জে
রঙ–পিয়াসি মন ভ্রমর গুঞ্জে
ঢালো আরো ঢালো রঙ প্রেম–যমুনাতে।।

বাণী

বৃথা তুই কাহার পরে করিস অভিমান
পাষাণ-প্রতিমা সে যে হৃদয় পাষাণ।।
রূপসীর নয়নে জল নয়ন-শোভার তরে
ও শুধু মেঘের লীলা নভে যে বাদল ঝরে।
চাতকেরই তরে তাহার কাঁদে না পরান।।
প্রণয়ের স্বপন-মায়া,ধরিতে মিলায় কায়া
গো-ধূলির রঙের খেলা ক্ষণে অবসান।।

বাণী

	বরষা ঋতু এলো এলো বিজয়ীর সাজে
বাজে	গুরু গুরু আনন্দ ডম্বরু অম্বর মাঝে।।
বাঁকা	বিদ্যুৎ তরবারি ঘন ঘন চমকায়
	হানে তীর বৃষ্টি অবিরল ধারায়
শুনি’	রথ-চক্রের ধ্বনি অশনির রোলে
			সিন্ধু তরঙ্গে মঞ্জির বাজে।।
	ভীত বন-উপবন লুটায়ে লুটায়ে
	প্রণতি জানায় সেই বিজয়ীর পায়ে।
তার	অশান্ত গতিবেগ শুনি’ পুব হাওয়াতে
	চলে মেঘ-কুঞ্জর-সেনা তারি সাথে
	তূণীর কেতকীর জল-ধনু হাতে
	চঞ্চল দুরন্ত গগনে বিরাজে।।