বাণী

ভবনে ভুবনে আজি ছড়িয়ে গেছে রঙ।
রাঙিল, মাতিল ধরা অভিনব ঢং।।
রাঙা বসন্ত হাসে নন্দন-আনন্দে
চিত্ত-শিখী নাচে মদালস-ছন্দে,
নাচিছে পরানে আজি তরুণ দূরন্ত বাজায়ে মৃদঙ।।
কামোদে নটে আমোদে ওঠে গান,
মাতিয়া ওঠে প্রাণ।
উতল যমুনা-জল-তরঙ্গ,
অঙ্গে অপাঙ্গে আজি খেলিছে অনঙ্গ,
পরানে বাজে সারং সুর কাফির সঙ্গ।।

বাণী

ভুল ক'রে যদি ভালোবেসে থাকি ক্ষমিও সে অপরাধ।
অসহায় মনে কেন জেগেছিল ভালবাসিবার সাধ।।
	কত জন আসে তব ফুলবন
	মলয়, ভ্রমর, চাঁদের কিরণ, —
তেমনি আমিও আসি অকারণ অপরূপ উন্মাদ।।
তোমার হৃদয়-শূন্যে জ্বলিছে কত রবি শশী তারা,
তারি মাঝে আমি ধূমকেতু সম এসেছিনু পথহারা।
	তবু জানি প্রিয় একদা নিশীথে
	মনে পড়ে যাবে আমারে চকিতে,
সহসা জাগিবে উৎসব-গীতে সকরুণ অবসাদ।।

বাণী

ভোলো ভোলো ভোলো মান, ভোল আমারে।
আঁধারে যে ফুল ফোটে, ভোলো তাহারে॥
ভুলিতে যদি গো লাগে বুকেতে ব্যথা’
নিঠুর মরম-বাণে না ক’য়ো কথা,
দরদি গো সে-ব্যথারে রাখিবি কাহারে॥

বাণী

	ভুলে যেয়ো, ভুলে যেয়ো সেদিন যদি পড়ে আমায় মনে
যবে	চৈতী বাতাস উদাস হয়ে ফিরবে বকুল বনে।।
		তোমার মুখের জোছনা নিয়ে
		উঠবে যে চাঁদ ঝিলমিলিয়ে,
	হেনার সুবাস ফেলবে নিশাস তোমার বাতায়নে।।
		শুনবে যেন অনেক দূরে
		ক্লান্ত বাঁশির করুন সুরে —
	বিদায় নেওয়া কোন বিরহীর কানে কাঁদে নিরজনে।।

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

বাণী

ভারতলক্ষ্মী মা আয় ফিরে এ ভারতে
ব্যথায় মোদের চরণ ফেলে অরুণ আশার সোনার রথে॥
অশ্রু গঙ্গার জলে ধুই মা তোর চরণ নিতি
ত্রিশ কোটি কণ্ঠে বাজে রোদনে তোর বোধনগীতি
আয় মা দলিত রাঙা হৃদয় বিছানো পথে॥
বিজয়া তোর হ’ল কবে শতাব্দী চলিয়া যায়
ভারত-বিজয়-লক্ষ্মী ভারতে ফিরিয়া আয়
বিসর্জনের কান্না মা এবার তুই এসে থামা
সফল কর এ তপস্যা মা স্থান দে স্বাধীন জগতে॥