বাণী

ভোরের হাওয়া এলে ঘুম ভাঙাতে কি
		চুম হেনে নয়ন-পাতে।
ঝিরি ঝিরি ধীরি ধীরি কুণ্ঠিত ভাষা
		গুণ্ঠিতারে শুনাতে॥
হিম-শিশিরে মাজি’ তনুখানি
ফুল-অঞ্জলি আন ভরি’ দুই পাণি,
ফুলে ফুলে ধরা যেন ভরা ফুলদানি
		বিশ্ব-সুষমা সভাতে॥

বাণী

ভারত আজিও ভোলেনি বিরাট মহাভারতের ধ্যান।
দেশ হারায়েছে — হারায়নি তা’র আত্মা ও ভগবান।।
তাহার ক্ষাত্রশক্তি গিয়াছে
প্রেম ও ভক্তি আজও বেঁচে আছে,
আজিও পরম ধৈর্য ও বিশ্বাসে —
তার আশা-দীপ জ্বালিয়া রেখেছে সেই ভাগবত জ্ঞান।।
দেহের জীর্ণ পিঞ্জরে তার প্রাণ কাঁদে নিরাশায়,
‘সম্ভবামি যুগে যুগে’ বাণী ভুলিতে পারে না হায়!
সেই আশ্বাসে আজ নব অনুরাগে
পাষাণ ভারতে বিরাট চেতনা জাগে,
জেগেছে সুপ্ত-সিংহ, এসেছে দিব্য অসি-কৃপাণ।।

বাণী

		ভুল করেছি ওমা শ্যামা বনের পশু বলি দিয়ে।
(তাই)		পূজিতে তোর রাঙা চরণ এলাম মনের পশু নিয়ে॥
			তুই যে বলিদান চেয়েছিস
			কাম-ছাগ, ক্রোধ-রূপী মহিষ,
		মা তোর পায়ে দিলাম লোভের জবা মোহ-রিপুর ধূপ জ্বালিয়ে॥
মাগো		দিলাম হৃদয়-কমন্ডলুর মদ-সলিল তোর চরণে,
		মাৎসর্য্যের পূর্ণাহুতি দিলাম পায়ে পূর্ণ মনে।
			ষড় রিপুর উপচারে
			যে পূজা চাস্ মা বারে বারে
		সেই পূজারই মন্ত্র মাগো ভক্তরে তোর দে শিখিয়ে॥

বাণী

	ভোরে স্বপনে কে তুমি দিয়ে দেখা, লুকালে সহসা
মোর	তপনের রাঙা কিরণ যেন ঘিরিল তমসা।।
	না ফুটিতে মোর কথার কুড়িঁ
	চপল বুলবুলি গেলে উড়ি'
গেলে	ভাসিয়া ভোরের সুর যেন বিষাদ অলসা।।
	জেগে দেখি হায়, ঝরা ফুলে আছে ছেয়ে তোমার পথতল,
	ওগো অতিথি, কাদিছেঁ বনভূমি ছড়ায়ে ফুল দল!
	মুখর আমার গানের পাখি
	নীরব হলো হায় বারেক ডাকি'
যেন	ফাগুনের জোছনা-বর্ষিত রাতে নামিল বরষা।।

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

বাণী

ভবনে ভুবনে আজি ছড়িয়ে গেছে রঙ।
রাঙিল, মাতিল ধরা অভিনব ঢং।।
রাঙা বসন্ত হাসে নন্দন-আনন্দে
চিত্ত-শিখী নাচে মদালস-ছন্দে,
নাচিছে পরানে আজি তরুণ দূরন্ত বাজায়ে মৃদঙ।।
কামোদে নটে আমোদে ওঠে গান,
মাতিয়া ওঠে প্রাণ।
উতল যমুনা-জল-তরঙ্গ,
অঙ্গে অপাঙ্গে আজি খেলিছে অনঙ্গ,
পরানে বাজে সারং সুর কাফির সঙ্গ।।