ত্রিতাল

  • এসো প্রিয় আরো কাছে

    বাণী

    এস প্রিয় আরো কাছে
    পাইতে হৃদয়ে এ বিরহী মন যাচে।।
    দেখাও প্রিয় ঘন
    ও রূপ মোহন
    যে রূপে প্রেমাবেশে পরান নাচে।।
    
  • জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী

    বাণী

    জয় ব্রহ্ম বিদ্যা শিব-সরস্বতী।
    জয় ধ্রুব জ্যোতি, জয় বেদবতী।।
    জয় আদি কবি, জয় আদি বাণী
    জয় চন্দ্রচূড়, জয় বীণাপাণি,
    জয় শুদ্ধজ্ঞান শ্রীমূর্তিমতী।।
    শিব! সঙ্গীত সুর দাও, তেজ আশা,
    দেবী! জ্ঞান শক্তি দাও, অমর ভাষা।
    শিব! যোগধ্যান দাও, অনাশক্তি
    দেবী! মোক্ষলক্ষ্মী! দাও পরাভক্তি,
    দাও রস অমৃত, দাও কৃপা মহতী।।
    
  • ধুলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

    বাণী

    	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
    	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
    	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
    	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
    	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
    	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
    	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
    		তোমারে পরাব,
    মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
    		সুরধুনী ঝরাব।
    	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
    	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
    	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
    	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥
    
  • নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে

    বাণী

    নিশি নিঝুম ঘুম নাহি আসে,
    হে প্রিয়, কোথা তুমি দূর প্রবাসে।।
    বিহগী ঘুমায় বিহগ–কোলে,
    ঘুমায়েছে ফুলমালা শ্রান্ত আঁচলে;
    ঢুলিছে রাতের তারা চাঁদের পাশে।।
    ফুরায় দিনের কাজ, ফুরায় না রাতি,
    শিয়রের দীপ হায় অভিমানে নিভে যায়
    নিভিতে চাহে না নয়নের বাতি।
    কহিতে নারি কথা তুলিয়া আঁখি
    বিষাদ–মাখা মুখ গুন্ঠনে ঢাকি’
    দিন যায় দিন গুণে, নিশি যায় নিরাশে।।
    

  • পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে

    বাণী

    পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে;
    কৃষ্ণচূড়া বনে ফাগুন সমীরণে
    ঝুরে ফুল বন পথতলে॥
    নিশি পোহায়ে যায় কাহার লাগি
    নয়নে নাহি ঘুম বসিয়া জাগি
    আমারই মত হায় চাহিয়া আশা পথ
    নিশীথের চাঁদ পড়ে গগনে ঢলে॥
    
  • বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে

    বাণী

    বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
    বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
    	চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
    	বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
    তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
    যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
    ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
    	কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
    	আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির —
    ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে —
    	গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।
    
  • মোর প্রথম মনের মুকুল

    বাণী

    মোর	প্রথম মনের মুকুল
    	ঝরে গেল হায় মনে মিলনের ক্ষণে।
    	কপোতীর মিনতি কপোত শুনিল না,
    			উড়ে গেল গহন-বনে।।
    	দক্ষিণ সমীরণ কুসুম ফোটায় গো
    	আমারি কাননে ফুল কেন ঝরে যায় গো
    	জ্বলিল প্রদীপ সকলেরি ঘরে হায়
    	নিভে গেল মোর দীপ গোধূলি লগনে।।
    	বিফল অভিমানে কাঁদে ফুলমালা কণ্ঠ জড়ায়ে
    	কাঁদি ধূলি-পথে একা ছিন্ন-লতার প্রায় লুটায়ে লুটায়ে।
    	দারুণ তিয়াসে এসে সাগর-মুখে
    	ঢলিয়া পড়িনু হায় বালুকারি বুকে
    	ধোঁয়ারে মেঘ ভাবি’ ভুলিনু চাতকী
    			জ্বলিয়া মরি গো বিরহ-দহনে।।
    
  • শান্ত হও শিব বিরহ-বিহ্বল

    বাণী

    শান্ত হও, শিব, বিরহ-বিহ্বল
    চন্দ্রলেখায় বাঁধো জটাজুট পিঙ্গল।।
    ত্রি-বেদ যাহার দিব্য ত্রিনয়ন
    শুদ্ধ-জ্ঞান যা’র অঙ্গ-ভূষণ,
    সেই ধ্যানী শম্ভু — কেন শোক-উতল।।
    হে লীলা-সুন্দর, কোন্ লীলা লাগি’,
    কাঁদিয়া বেড়াও হ’য়ে বিরহী-বিবাগী।
    হে তরুণ যোগী, মরি ভয়ে ভয়ে
    কেন এ মায়ার খেলা মায়াতীত হ’য়ে,
    লয় হবে সৃষ্টি — তুমি হলে চঞ্চল।।
    
  • শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির–নির্মল

    বাণী

    শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির–নির্মল শান্ত অচঞ্চল ধ্রুব–জ্যোতি
    অশান্ত এ চিত কর হে সমাহিত সদা আনন্দিত রাখো মতি।।
    দুঃখ–শোক সহি অসীম সাহসে
    অটল রহি যেন সম্মানে যশে
    তোমার ধ্যানের আনন্দ–রসে
    	নিমগ্ন রহি হে বিশ্বপতি।।
    মন যেন না টলে খল কোলাহলে, হে রাজ–রাজ!
    অন্তরে তুমি নাথ সতত বিরাজ, হে রাজ–রাজ!
    বহে তব ত্রিলোক ব্যাপিয়া, হে গুণী,
    ওঙ্কার–সংগীত–সুর–সুরধুনী,
    হে মহামৌনী, যেন সদা শুনি
    	সে সুরে তোমার নীরব আরতি।।