বাগেশ্রী

  • আর লুকাবি কোথা মা কালী

    বাণী

    আর লুকাবি কোথা মা কালী
    বিশ্ব-ভুবন আঁধার ক’রে তোর রূপে মা সব ডুবালি।।
    সুখের গৃহ শ্মশান ক’রে বেড়াস্ মা তায় আগুন জ্বালি’
    দুঃখ দেবার রূপে মা তোর ভুবন-ভরা রূপ দেখালি।।
    পূজা ক’রে, পাইনি তোরে মা গো এবার চোখের জলে এলি
    বুকের ব্যথায় আসন পাতা ব’স্ মা সেথা দুখ্‌-দুলালী।।
    
  • চাঁদ হেরিছে চাঁদমুখ তার সরসীর আরশিতে

    বাণী

    চাঁদ হেরিছে চাঁদ–মুখ তার সরসীর আরশিতে।
    ছুটে তরঙ্গ বাসনা–ভঙ্গ সে অঙ্গ পরশিতে।।
    হেরিছে রজনী – রজনী জাগিয়া
    চকোর উতলা চাঁদের লাগিয়া,
    কাঁহা পিউ কাঁহা ডাকিছে পাপিয়া
    		কুমুদীরে কাঁদাইতে।।
    না জানি সজনী কত সে রজনী কেঁদেছে চকোরী পাপিয়া,
    হেরেছে শশীরে সরসী–মুকুরে ভীরু ছায়া–তরু কাঁপিয়া।
    কেঁদেছে আকাশে চাঁদের ঘরণী
    চির–বিরহিণী রোহিণী ভরণী
    অবশ আকাশ বিবশা ধরণী
    		কাঁদানীয়া চাঁদিনীতে।।
    
  • চাঁদের পিয়ালাতে আজি

    বাণী

    চাঁদের পিয়ালাতে আজি জোছনা-শিরাজি ঝরে।
    ঝিমায় নেশায় নিশীথিনী সে-শরাব পান ক’রে।।
    	সবুজ বনের জল্‌সাতে
    	তৃণের গালিচা পাতে,
    উতল হাওয়া বিলায় আতর চাঁপার আতরদানি ভ’রে।।
    সাদা মেঘের গোলাব-পাশে ঝরিছে গোলাব-পানি,
    রজনীগন্ধার গেলাসে রজনী দেয় সুরা আনি’।
    	কোয়েলিয়া কুহু কুহু
    	গাহে গজল মুহু মুহু,
    সুরের নেশা সুরার নেশা লাগে আজি চরাচরে।।
    
  • ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না

    বাণী

    ছলছল নয়নে মোর পানে চেয়ো না
    যাবে যাও, নয়নে জল নিয়ে যেয়ো না।।
    থাকে ব্যথা থাক বুকে, যাও তুমি হাসি মুখে
    আমার চাঁদিনী রাত ঘন মেঘে ছেয়ো না।।
    রঙিন পিয়ালাতে মম লোনা অশ্রু-জল ঢালি’
    পানসে ক’রো না নেশা, জীবন ভরা ব্যথা খালি।
    ভুলিতে চাহি যে ব্যথা, মনে এনো না সে কথা,
    করুণ সুরে আর বিদায়-গীতি গেয়ো না।।
    
  • জনম জনম গেল আশা পথ চাহি

    বাণী

    জনম জনম গেল আশা–পথ চাহি’।
    মরু–মুসাফির চলি, পার নাহি নাহি।।
    বরষ পরে বরষ আসে যায় ফিরে,
    পিপাসা মিটায়ে চলি নয়নের নীরে।
    জ্বালিয়া আলেয়া–শিখা, নিরাশার মরীচিকা
    ডাকে মরু–কাননিকা শত গীত গাহি’।।
    এ মরু ছিল গো কবে সাগরের বারি
    স্বপন হেরি গো তারি আজো মরুচারী।
    সেই সে সাগর–তলে, যে তরী ডুবিল জলে
    সে তরী–সাথীরে খুঁজি মরু–পথ বাহি’।।
    
  • মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয়

    বাণী

    মাগো চিন্ময়ী রূপ ধ’রে আয়।
    মৃন্ময়ী রূপ তোর পূজি শ্রী দুর্গা তাই দুর্গতি কাটিল না হায়।।
    	যে মহা-শক্তির হয় না বিসর্জন
    	অন্তরে বাহিরে প্রকাশ যার অনুখন
    মন্দিরে দুর্গে রহে না যে বন্দী সেই দুর্গারে দেশ চায়।।
    আমাদের দ্বিভুজে দশভুজা-শক্তি দে পরম ব্রহ্মময়ী।
    শক্তিপূজার ফল ভক্তি কি পাব শুধু হব না কি বিশ্বজয়ী?
    এই পূজা-বিলাস সংহার কর্‌ যদি, পুত্র শক্তি নাহি পায়।।
    
  • যে অবহেলা দিয়ে মোরে

    বাণী

    যে	অবহেলা দিয়ে মোরে করিল পাষাণ।
    সখি	কেন কেঁদে ওঠে তারি তরে মোর প্রাণ।।
    	যে ফুল ফুটায়ে তার মধু নিল না
    মোরে	ধরার ধূলিতে এনে ধরা দিল না,
    কেন	তার তরে বুকে এত জাগে অভিমান।।
    মোর	প্রেম-অঞ্জলি সে যত যায় দলি’
    তারে	তত জড়াতে চাই, শ্যাম-সুন্দর বলি’,
    	চাঁদ সে যে আকাশের সে ধরা দেয় না
    তবু	চকোরীর ভুল হয় নাকো অবসান।।
    
  • শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ

    বাণী

    শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ
    হবে নিমেষে সংসার-কালীয় দমন।।
    	নব-জলধর শ্যাম
    	রূপ যাঁর অভিরাম
    (যাঁর)	আনন্দ ব্রজধাম লীলা নিকেতন।।
    বিদ্যুৎ - বর্ণ পীতান্বরধারী,
    বনমালা-বিভূষিত মধুবনারী;
    গোপ-সখা গোপী-বঁধু মনোহারী
    নওল-কিশোর তনু মদনমোহন।।
    
  • হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে

    বাণী

    হারানো হিয়ার নিকুঞ্জপথে কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি।
    তুমি কেন হায় আসিলে হেথায় সুখের স্বরগ হইতে নামি।।
    	চারিপাশে মোর উড়িছে কেবল
    	শুকনো পাতা মলিন ফুল–দল,
    বৃথাই কেন হায় তব আঁখিজল ছিটাও অবিরল দিবস–যামী।।
    	এলে অবেলায় পথিক বেভুল
    	বিঁধিছে কাঁটা নাহি যবে ফুল,
    কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ নিভিছে জীবন, জীবন–স্বামী।।