বাউল

  • আমার প্রাণের দ্বারে ডাক দিয়ে

    বাণী

    আমার	প্রাণের দ্বারে ডাক দিয়ে কে যায় বারে বারে।
    তাঁর		নূপুর-ধ্বনি রিনি ঝিনি বাজে বন-পারে।।
    			নিঝুম রাতে ঘুমাই যবে
    			সে ডাকে আমায় বেণুর রবে,
    		স্বপন কুমার আসে স্বপন-অভিসারে।।
    আমি		জল নিতে যাই নদী তটে এক্‌লা নাম ধ’রে সে ডাকে
    		ধরতে গেলে পালিয়ে সে যায় বন-পথের বাঁকে।
    			বিশ্ব-বধূর মনোচোরা
    			ধরতে সে চায়, দেয় না ধরা,
    আমি		তা’রি স্বয়ম্বরা, আমি সঁপেছি প্রাণ তারে।।
    
  • আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে

    বাণী

    আমি বাউল হ’লাম ধূলির পথে ল’য়ে তোমার নাম।
    আমার একতারাতে বাজে শুধু তোমারই গান, শ্যাম।।
    	নিভিয়ে এলাম ঘরের বাতি
    	এখন তুমিই সাথের সাথি,
    আমি যেখানে যাই সেই সে এখন আমার ব্রজধাম।।
    আমি আনন্দ-লহরি বাজাই নূপুর বেঁধে পায়ে,
    শ্রান্ত হ’লে জুড়াই তনু বন-বীথি বটের ছায়ে।১
    	ভাবনা আমার তুমি নিলে
    	আমায় ভিক্ষা-পাত্র দিলে
    কখন তুমি আমার হবে পূরবে মনস্কাম।।
    

    ১. শ্রান্ত হলে জুড়াই তবু বংশী-বটের ছায়ে।

  • আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল

    বাণী

    আমি ভাই ক্ষ্যাপা বাউল, আমার দেউল আমারি এই আপন দেহ।
    আমার এ প্রাণের ঠাকুর নহে সুদূর অন্তরে মন্দির-গেহ।।
    সে থাকে সকল সুখে সকল দুখে আমার বুকে অহরহ,
    কভু তায় প্রণাম করি, বক্ষে ধরি, কভু তা’রে বিলাই স্নেহ।।
    ভুলায়নি আমারি কুল, ভুলেছে নিজেও সে কুল,
    ভুলে বৃন্দাবন গোকুল মোর সাথে মিলন বিরহ।
    সে আমার ভিক্ষা-ঝুলি কাঁধে তুলি’, চলে ধূলি-মলিন পথে,
    নাচে গায় আমার সাথে একতারাতে, কেউ বোঝে, বোঝে না কেহ।।
    
  • তুমি দুখের বেশে এলে বলে

    বাণী

    তুমি দুখের বেশে এলে বলে ভয় করি কি হরি।
    দাও ব্যথা যতই তোমায় ততই নিবিড় করে ধরি।
    			আমি ভয় করি কি হরি।।
    	আমি শূন্য করে তোমার ঝুলি
    	দুঃখ নেব বক্ষে তুলি,
    আমি করব দুঃখের অবসান আজ সকল দুঃখ বরি।।
    	কত সে মন কত কিছুই
    	হজম করে ফেলি নিতুই,
    এক মনই তো দুঃখ দেবে তারে নাহি ডরি।।
    	তুমি তুলে দিয়ে সুখের দেয়াল,
    	ছিলে আমার প্রাণের আড়াল,
    আজ আড়াল ভেঙে দাঁড়ালে মোর সকল শূন্য হরি।।
    
  • হায় গো ভালোবেসে অবশেষে

    বাণী

    (হায় গো) 	ভালোবেসে অবশেষে কেঁদে দিন গেল।
    		ফুল-শয্যা বাসি হল, বঁধূ না এলো।।
    		শুকাইল পানের খিলি বাঁটাতে ভরা,
    		এ পান আমি কারে দিব সে বঁধূ ছাড়া।
    (হায় গো) 	নীলাম্বরী শাড়ি ছি ছি পরলেম মিছে লো।।
    		এবার ধ’রে দিস্ যদি তায়
    		রাখ্‌ব বেঁধে বিনোদ খোঁপায়,
    		কাঙালে পাইলে রতন রাখে যেমন লো।।
    		সোঁদা-মাখা নিস্‌নে কেশে, গন্ধে যে লো তার
    		মনে আনে চন্দন-গন্ধ সোনার বঁধূয়ার।
    		এত দুঃখ ছিল আমার এই বয়সে লো।।
    

    বাউল