ভজন

  • স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ

    বাণী

    স্নিগ্ধ শ্যাম কল্যাণ রূপে রয়েছ মোদেরে ঘেরি
    তব অনন্ত করুণা ও স্নেহ নিশিদিন নাথ হেরি।।
    	তব চন্দন-শীতল কান্তি
    	সৌম্য-মধুর তব১ প্রশান্তি
    জড়ায়ে রয়েছে ছড়ায়ে রয়েছে অঙ্গে ত্রিভুবনেরই।।
    বাহিরে তুমি বন্ধু স্বজন আত্মীয় রূপী মম
    অন্তরে তুমি পরমানন্দ প্রিয় অন্তরতম।
    	নিবেদন করে তোমাতে যে প্রাণ
    	সেই জানে তুমি কত মহান
    যেমনি সে ডাকে সড়া দাও তাকে তিলেক কর না দেরি।।
    

    ১. চির

  • হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে

    বাণী

    হরি হে তুমি তাই দূরে থাক স’রে
    হরি প্রভু বলে মোরা দূরে রাখি
    পাষাণ দেউলে রাখিয়াছি হায় তোমারে পাষাণ করে॥
    তোমায় চেয়েছিল গোপিনীরা
    সেদিনও চেয়েছি মীরা ডেকে প্রিয়তম বলে
    তোমায় গোপাল বলিয়া ডাকিয়া পাইল যশোদা মা শচী কোলে
    অন্তরতম হতে নিশিদিন থাক তুমি অন্তরে॥
    দেবতা ভাবিয়া পূজা দিই মোরা তুমি তাহা নাহি খাও
    তুমি লুকায়ে ভিখারি সাজিয়া মোদের পাতের অন্ন চাও।
    রাখাল ছেলের আধ খাওয়া ফল
    কেড়ে খাও তুমি হে চির সজল
    মোরা ভয় করি তাই লুকাইয়া থাক তুমি অভিমান ভরে॥
    
  • হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

    বাণী

    হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
    বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
    	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
    	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
    ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
    এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
    কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
    	সন্তান তব বিপথগামী,
    	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
    পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।
    
  • হে পার্থসারথি বাজাও বাজাও

    বাণী

    হে পার্থসারথি! বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ
    চিত্তের অবসাদ দূর কর কর দূর
    	ভয়–ভীত জনে কর হে নিঃশঙ্ক।।
    ধনুকে টঙ্কার হানো হানো,
    গীতার মন্ত্রে জীবন দানো;
    	ভোলাও ভোলাও মৃত্যু–আতঙ্ক।।
    মৃত্যু জীবনের শেষ নহে নহে —
    শোনাও শোনাও — অনন্ত কাল ধরি’
    অনন্ত জীবন প্রবাহ বহে।
    দুর্মদ দুরন্ত যৌবন–চঞ্চল
    ছাড়িয়া আসুক মা’র স্নেহ–অঞ্চল;
    বীর সন্তানদল করুক সুশোভিত মাতৃ–অঙ্ক।।
    
  • হে পাষাণ দেবতা

    বাণী

    হে পাষাণ দেবতা!
    মন্দির দুয়ার খোল কও কথা।।
    দুয়ারে দাঁড়ায়ে শ্রান্তি-হীন দীর্ঘ দিন,
    অঞ্চলের পূষ্পাঞ্জলি শুকায়ে যায় উষ্ণ বায়;
    আঁখি দীপ নিভিছে হায়, কাঁপিছে তনুলতা।
    শুভ্রবাসে পূজারিণী, দিন শেষে —
    গোধুলির গেরুয়া রঙ হের প্রিয় লাগে এসে;
    খোল দ্বার শরণ দাও, সহে না আর নীরবতা।।
    
  • হে বিধাতা হে বিধাতা হে বিধাতা

    বাণী

    হে বিধাতা! হে বিধাতা! হে বিধাতা!
    দুঃখ-শোক-মাঝে, তোমারি পরশ রাজে,
    কাঁদায়ে জননী-প্রায়, কোলে কর পুনরায়, শান্তি-দাতা।।
    ভুলিয়া যাই হে যবে সুখ-দিনে তোমারে
    স্মরণ করায়ে দাও আঘাতের মাঝারে।
    দুঃখের মাঝে তাই, হরি হে, তোমারে পাই দুঃখ-ত্রাতা।।
    দারা-সুত-পরিজন-রূপে হরি, অনুখন
    তোমার আমার মাঝে আড়াল করে সৃজন।
    তুমি যবে চাহ মোরে, লও হে তোদের হ’রে
    ছিঁড়ে দিয়ে মায়া-ডোর, ক্রোড়ে ধর আপন।
    ভক্ত সে প্রহ্লাদ ডাকে যবে ‘নারায়ণ’,
    নির্মম হয়ে তার পিতারও হর জীবন।
    সব যবে ছেড়ে যায় দেখি তব বুকে হায় আসন পাতা।।
    
  • হে মহামৌনী তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী

    বাণী

    হে মহামৌনী, তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী শোনাবে কবে
    যুগ যুগ ধরি’ প্রতীক্ষারত আছে জাগি’ ধরণী নীরবে॥
    যে-বাণী শোনার অনুরাগে উদার অম্বর জাগে
    অনাহত যে-বাণীর ঝঙ্কার বাজে ওঙ্কার প্রণবে॥
    চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারায় জ্বলে যে-বাণীর শিখা
    পুষ্পে-পর্ণে শত বর্ণে যে-বাণী-ইঙ্গিত লিখা।
    যে অনাদি বাণী সদা শোনে যোগী-ঋষি মুনি জনে
    যে-বাণী শুনি না শ্রবণে বুঝি অনুভবে॥
    
  • হে মোর স্বামী অন্তর্যামী

    বাণী

    হে মোর স্বামী, অন্তর্যামী, লহ সকলি আমার।
    লহ প্রীতি-প্রেম-পূজা লহ পায়ে গলার হার।।
    	হে প্রিয়তম, সকলি লহ;
    	মান-অভিমান ব্যথা-বিরহ।
    দুঃখের দাহ, সুখের মোহ লহ হে অশ্রু-ধার।।
    	যাহা কিছু আপন, দিতে যা বাকি
    	যাহা কিছু গোপন, লুকায়ে রাখি
    যাহা কিছু প্রিয় অঞ্চলে ঢাকি; লহ হে বঁধূ এবার।।
    	তোমায় চাওয়ার পাওয়ার আশা,
    	তোমায় না-পাওয়ার ব্যথা-নিরাশা,
    তোমারে দিলাম মোর ভালোবাসা বিফলতা হাহাকার।।