ভজন

  • থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ

    বাণী

    থাক্ এ গৃহ ঘিরিয়া সদা মঙ্গল কল্যাণ হে ভগবান।
    দাও পুত পবিত্রতা প্রশান্তি অফুরান, হে ভগবান॥
    অন্তরে দেহে দাও বিমল্-জ্যোতি
    কর্মে প্রেরণা দাও ধর্মে মতি;
    এ গৃহের নারী হোক পুণ্যবতী
    বীরত্বে ত্যাগে হোক পুরুষ মহান; হে ভগবান॥
    এ গৃহের বারি হোক নির্মল সুশীতল হে ভগবান,
    এ গৃহের আলো হোক পুণ্যে সমুজ্জ্বল হে ভগবান।
    সকলের সাথে হেথা প্রীতি যেন রয়
    যেন নাহি থাকে হেথা রোগ শোক ভয়;
    দূর কর হিংসা পাপ সংশয়
    সার তব পায়ে নিবেদিত সকলের মনপ্রাণ, হে ভগবান॥
    
  • দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ

    বাণী

    দুঃখ অভাব শোক দিয়েছ হে নাথ তাহে দুঃখ নাই
    তুমি যেন অন্তরে মোর বিরাজ করো সর্বদাই॥
    	রোগের মাঝে অশান্তিতে
    	তুমি থেকো আমার চিতে
    তোমার নামের ভজন গীতে প্রাণে যেন শান্তি পাই॥
    দুর্দিনেরি বিপদ এলে তোমায় যেন না ভুলি
    তোমার ধ্যানে পর্বত প্রায় অটল থাকি, না দুলি।
    	সুখের দিনে বিলাস ঘোরে
    	ভুলতে নাহি দিও মোরে
    আপনি ডেকে নিও কোলে দূরে যদি সরে যাই॥
    
  • দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত

    বাণী

    দুঃখ-ক্লেশ-শোক-পাপ-তাপ শত
    শ্রান্তি মাঝে হরি শান্তি দাও দাও॥
    কান্ডারি হে আমার, পার কর কর পার,
    উত্তাল তরঙ্গ অশান্তি পারাবার,
    অভাব দৈন্য শত হৃদি-ব্যথা-ক্ষত,
    যাতনা সহিব কত প্রভু কোলে তুলে নাও।।
    হে দীনবন্ধু করুণাসিন্ধু,
    অম্বর ব্যাপি’ ঝরে তব কৃপা-বিন্দু,
    মরুর্‌ মতন চেয়ে আছি নব ঘনশ্যাম —
    আকুল তৃষ্ণা ল’য়ে প্রভু পিপাসা মিটাও॥
    
  • দোলে ঝুলন দোলায় দোলে নওল কিশোর

    বাণী

    দোলে ঝুলন দোলায় দোলে নওল কিশোর গিরিধারী হরষে।।
    মৃদঙ্গ বাজে নভোচারী মেঘে বারিধারা রুমু ঝুমু বরষে।।
    	নাচে ময়ুর নাচে কুরঙ্গ
    	কাজরি গাহে বন বিহঙ্গ
    যমুনা-জলে বাজে জলতরঙ্গ শ্যামসুন্দর রূপ দরশে।।
    
  • দোলে নিতি নব রূপের টেউ-পাথার

    বাণী

    দোলে নিতি নব রূপের টেউ-পাথার ঘনশ্যাম তোমারি নয়নে।
    আমি হেরি যে নিখিল বিশ্বরূপ-সম্ভার তোমারি নয়নে॥
    		তুমি পলকে ধর নাথ সংহার-বেশ
    		হও পলকে করুণা-নিধান পরমেশ।
    নাথ ভরা যেন বিষ অমৃতের ভান্ডার তোমার দুই নয়নে॥
    		ওগো মহা-শিশু, তব খেলা-ঘরে
    		একি বিরাট সৃষ্টি বিহার করে,
    সংসার চক্ষে তুমিই হে নাথ, সংসার তোমারি নয়নে॥
    		তুমি নিমেষে রচি নব বিশ্বছবি
    		ফেল নিমেষে মুছিয়া হে মহাকবি,
    করে কোটি কোটি ব্রহ্মান্ড ভুবন-সঞ্চার তোমারি নয়নে॥
    		তুমি ব্যাপক ব্রহ্ম চরাচরে
    		জড় জীবজন্তু নারী-নরে,
    কর কমল-লোচন, তোমার রূপ বিস্তার হে আমারি নয়নে॥
    
  • দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা

    বাণী

    দোলে প্রাণের কোলে প্রভূর নামের মালা।
    সকাল সাঁঝে সকল কাজে জপি সে নাম নিরালা।।
    সেই নাম বসন-ভূষণ আমারি
    সেই নামে ক্ষুধা-তৃষ্ণা নিবারি,
    সেই নাম লয়ে বেড়াই কেঁদে
    	সেই নামে আবার জুড়াই জ্বালা।।
    সেই নামরেই নামাবলী গ্রহ তারা রবি শশী দোলে গগন কোলে।
    	মধুর সেই নাম প্রাণে সদা বাজে,
    	মন লাগে না সংসার কাজে
    		সে নামে সদা মন মাতোয়ালা।।
    আদর-সোহাগ মান -অভিমান আপন মনে তার সাথে;
    	কাঁদায়ে কাঁদি, পায়ে ধ'রে সাধি,
    	কভু করি পূজা, কভু বুকে বাঁধি,
    	আমার স্বামী সে ভুবন-উজালা।।
    
  • নন্দলোক হতে আমি এনেছি

    বাণী

    নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
    				এনেছি মা মহামায়ায়।
    বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়।।
    	বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
    	ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল;
    বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়।।
    আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
    সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
    	মা’র আদেশে বাজাবে সে
    	অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
    (তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীর কৃপায়।।
    
  • নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল

    বাণী

    নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল,
    মোর প্রাণে মোর মনে, এসো ব্রজগোপাল॥
    এসো নূপুর রুনুঝুনু পায়ে, এসো প্রেম যমুনা নাচায়ে
    এসো বেণু বাজায়ে, এসো ধেনু চরায়ে এসো কানাই রাখাল॥
    ঝুলনে হোরিতে রাসে, এসো কুরুক্ষেত্র রণে এসো প্রভাসে,
    (এসো) শিশু রূপে, এসো কিশোর বেশে
    এসো কংস, অরি, এসো মৃত্যুকরাল॥
    
  • নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা

    বাণী

    নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা।
    নাচে দীপ্তিমতী নাচে উমা তপতী নাচে রে চির-আনন্দিতা।।
    তার কিরণ-আচল দোলে ঝলমল
    গিরি-পাষাণ অটল করে টলমল
    গলিয়া তুষার ঝরে নির্ঝর জল
    তার চরণ-ছন্দ-চকিতা।।
    তার নাচের মায়ায় প্রাণ পায় জড় জীব
    ভুলি’ বিরহ সতীর জাগে যোগীন্দ্র শিব,
    জাগে কুসুম-কলি গাহে বিহগ-অলি,
    তার রূপে ত্রিদিব হ’ল দীপন্বিতা।।
    
  • নাচে শ্যাম সুন্দর গোপাল নটবর

    বাণী

    নাচে শ্যাম সুন্দর গোপাল নটবর
    সুঠাম মনোহর মধুর ভঙ্গে
    ঘিরি' সে চরণ ঘুরিছে অগণন
    গ্রহ-তারা গোপী সম রঙ্গে।।
    হেরিয়া তাহারি নৃত্যের হিল্লোল
    পবন উন্মন সাগরে জাগে দোল
    সে নাচে বিবশ নিশীথ দিবস
    জাগে হিন্দোল আলো-আঁধার তরঙ্গে।।
    সে নাচে বৃষ্টি হয় কোটি সৃষ্টি নির্ঝর সম ঝরে ছন্দ
    সে নাচ হেরিয়া বন্ধন টুটে গো জাগে অনন্ত আনন্দ।
    ষড় ঋতু ঘুরে' ঘুরে' হেরে সেই নৃত্য
    প্রেমাবেশে মাতোয়ারা নিখিলের চিত্ত
    তাই এ ত্রিভুবন হলো না রে পুরাতন
    পেল চির-যৌবন নাচি' তারি' সঙ্গে।।
    

  • নাচো শ্যাম-নটবর কিশোর-মুরলীধর

    বাণী

    নাচো শ্যাম-নটবর কিশোর-মুরলীধর অঙ্গ মিশায়ে মম অঙ্গে।
    তোমার নাচের শ্রী ফুটুক আমার এই নৃত্য-বিভঙ্গে।।
    মম রক্তে বাজুক তব পায়ের নূপুর
    আমার কণ্ঠে দাও বাঁশরির সুর,
    	তব বাঁশরির সুর।
    লীলায়িত হয়ে উঠুক এ তনু তোমার প্রেম-আনন্দ-তরঙ্গে।।
    আমার মাঝে হরি, নাচো যবে তুমি আমি নাচি আপনা ভুলি’
    			হরি আমি নাচি আপনা ভুলি’
    শরম ভরম যায় এই দেহ যমুনায় ছন্দের হিল্লোল তুলি’।
    মনে হয় আমি যেন রাসের রাধা জনম জনম আমি নাচি তব সঙ্গে।।
    
  • নীল যমুনা সলিল কান্তি

    বাণী

    নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
    তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম।।
    রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনি
    চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
    আসিলে অমনি নবনীত তনু
    ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম।।
    আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
    তব বেণু শুনি’, ওগো বাঁশুরিয়া,
    প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
    হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
    বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম।।
    
  • নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে

    বাণী

    নূপুর মধুর রুনুঝুনু বোলে।
    মন-গোকুলে রুনুঝুনু বোলে।।
    	কূলের বাঁধন টুটে,
    	যমুনা উথলি' ওঠে,
    পুলকে কদম ফোটে পেখম খোলে
    	শিখী পেখম খোলে।।
    ব্রজনারী কুল ভুলে'
    	লুটায় সে পদমুলে
    চোখে জল, বুকে প্রেম- তরঙ্গ দোলে।।
    	শ্রীমতি রাধারই সাথে
    	বিশ্ব ছুটেছে পথে,
    হরি হরি ব'লে মাতে ত্রিভুবন ভোলে।
    	নামে ত্রিভুবন ভোলে।।
    

  • পথে কি দেখলে যেতে আমার

    বাণী

    পথে কি দেখলে যেতে আমার গৌর দেবতারে।
    যা’রে কোল যায় না দেওয়া, কোল দেয় সে ডেকে তারে।।
    নবীন সন্ন্যাসী সে রূপে তার পাগল করে
    আঁখির ঝিনুকে তা’র অবিরল মুক্তা ঝরে।
    কেঁদে সে কৃষ্ণের প্রেম ভিক্ষা মাগে দ্বারে দ্বারে।।
    জগতের জগাই-মাধাই মগ্ন যারা পাপের পাঁকে
    সকলের পাপ নিয়ে সে সোনার গৌর-অঙ্গে মাখে।
    উদার বক্ষে তাহার ঠাঁই দেয় সকল জাতে
    দেখেছ প্রেমের ঠাকুর সচল জগন্নাথে?
    একবার বললে হরি যায় নিয়ে সে ভবপারে।।
    
  • পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি

    বাণী

    পথে পথে কে বাজিয়ে চলে বাঁশি
    হ’ল বিশ্ব-রাধা ঐ সুরে উদাসী।।
    শুনে ঐ রাখালের বেণু
    আসে ছুটে আলোক-ধেনু,
    ঐ নীল গগনে রাঙা মেঘে ওড়ে গো-খুর রেণু,
    ওসে শ্যাম-পিয়ারী গোপ-ঝিয়ারি গ্রহ তারার রাশি।।
    	সেই বাঁশির অন্বেষণে
    	যত মন-বধু যায় বনে,
    তাদের প্রেম যমুনায় বান ডেকে যায় কুল খোয়ায় গোপনে।
    তারা রাস দেউলে রসের বাউল আনন্দ-ব্রজবাসী।।
    
  • প্রভু রাখ এ মিনতি ত্রিভুবন-পতি

    বাণী

    (প্রভু)		রাখ এ মিনতি ত্রিভুবন-পতি তব পদে মতি।
    		আঁখির আগে যেন সদা জাগে তব ধ্রুব-জ্যোতি।।
    			সংসার মরুমাঝে তুমি মেঘ-মায়া,
    			বিষাদ-শোক তাপে তুমি তরু-ছায়া,
    		সান্ত্বনা দাতা তুমি দুঃখ ত্রাতা অগতির গতি।।
    		জননীর মত আছ ঊর্ধ্বে জাগি
    		জলে স্থলে শূন্যে অগণিত তব দান মোদের লাগি১।
    			ঝঞ্ঝার মাঝে তব বিষাণ বাজে,
    			সহসা ঢলি পড় বনে ফুল-সাজে,
    		কোমলে কঠোরে হে প্রভু বিরাজে তব মহাশক্তি।।
    

    ১. দোলে কালো নিশার কোলে / আলো-উষসী / তিমির তলে তব তিলক জ্বলে / ঐ পূর্ণ শশী।

  • প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল

    বাণী

    প্রভু সংসারেরি সোনার শিকল বেঁধো না আর পায়
    তোমার প্রেম ডোরে ত্রিভুবন স্বামী বাঁধ হে আমায়॥
    সারা জীবন বোঝা বয়ে, এসেছি আজ ক্লান্ত হয়ে
    জুড়াতে হে শান্তি দাতা তোমার শীতল ছায়॥
    হে নাথ যতদিন শক্তি ছিল বোঝা বহিবার
    হাসি মুখে বয়েছি নাথ তোমার দেওয়া ভার।
    শেষ হল আজ ভবের খেলা, কি দান দেব যাবার বেলা
    তোমার নামের ভেলায় যেন এ দীন তরে যায়॥
    
  • প্রিয়তম হে আমি যে তোমারি

    বাণী

    প্রিয়তম হে, আমি যে তোমারি চির-আরাধিকা।
    তব নাম গেয়ে প্রেম-বৃন্দাবনে ফিরি ব্রজ-বালিকা।।
    	মম নয়ন দুটি তব দেবালয়ে
    	জ্বলে নিশিদিন আরতি-প্রদীপ হয়ে
    নাম-কলঙ্ক তব হরি-চন্দন মোর গলার মালিকা।।
    মোরে শরণ দাও তব চরণে কর অবনমিতা,
    জনমে জনমে হয়ো প্রভু তুমি, আমি হব দয়িতা।
    	শুধু নাম শুনি, নাথ মনে মনে
    	আমি স্বয়ম্বরা হয়েছি গোপনে,
    বড় সাধ প্রাণে র’ব তোমারি ধ্যানে হব শ্যাম-সাধিকা।।
    
  • ফিরে আয় ঘরে ফিরে আয়

    বাণী

    ফিরে আয়, ঘরে ফিরে আয়
    পথহারা, ওরে ঘর-ছাড়া,
    	ঘরে আয় ফিরে আয়।।
    ফেলে যাওয়া তোর বাঁশরি, রে কানাই —
    কাঁদে লুটায়ে ধুলায়,
    	ফিরে আয় ঘরে আয়।।
    ব্রজে আয় ফিরে ওরে ও কিশোর
    কাঁদে বৃন্দাবন কায়দে রাখা তোর
    বাঁধিব না আর ওরে ননী-চোর
    	অভিমানী ফিরে আয়।।
    

  • বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন

    বাণী

    বন তমালের শ্যামল ডালে দোলে ঝুলন দোলায় যুগল রাধা শ্যাম।
    কিশোরী পাশে কিশোর হাসে ভাসে আনন্দ সাগরে আজ ব্রজধাম।।
    	তড়িত লতায় যেন জড়িত জলধরে
    	ওগো যুগল রূপ হেরি মুনির মনোহরে
    পুলকে গগন ছাপিয়া বারি করে বাজে যমুনা তরঙ্গে শ্যাম শ্যাম নাম।।
    	বন ময়ুর নাচে ঘন দেয়ার তালে
    	দোলা লাগে কেতকী কদম ডালে।
    আকাশে অনুরাগে ইন্দ্রধনু জাগে হেরে ত্রিলোক থির হয়ে রূপ অভিরাম।।