ভীমপলশ্রী মিশ্র

  • আজি কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে

    বাণী

    আজি		কুসুম-দীপালি জ্বলিছে বনে।
    জ্বলে		দীপ-শিখা আম্র-মুকুলে
    রাঙা		পলাশ অশোকে বকুলে,
    আসে		সে আলোর টানে বন-তল
    		মৌমাছি প্রজাপতি দলে দল
    পুড়ে		মরিতে সে রূপ-শিখাতে
    প্রাণ		সঁপিতে বাসন্তিকাতে;
    		পরিমল অঞ্জন মাখিয়া নয়নে
    হের		ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
    জ্বলে		গগনে তারার দীপালি
    আজি		ধরাতে আকাশে মিতালি
    ধরা		চাঁপার গেলাস ভরিয়া
    মধু		উর্ধ্বে তুলে গো ধরিয়া
    পান		করিতে সে মধু পরীরা
    আসে		নেমে কাননে স-শরীরা;
    		বাজে উৎসব বাঁশি গগনে পবনে
    		হের ঝিমায় আকাশ চাঁদের স্বপনে।।
    
  • এলো ঐ পূর্ণ শশী ফুল-জাগানো

    বাণী

    এলো ঐ		পূর্ণ শশী		ফুল-জাগানো
    বহে বায়		বকুল-বনে	ঘুম-ভাঙানো।।
    লাগিল		জাফরানি-রঙ	শিউলি-ফুলে
    ফুটিল		প্রেমের কুঁড়ি	পাপড়ি খুলে,
    খুশির আজ	আমেজ জাগে	মন-রাঙানো।।
    চাঁদিনী		ঝিলমিলায়	ঝিলের জলে,
    আবেশে		শাপলা ফুলের	মৃণাল টলে,
    জাগে ঢেউ	দীঘির বুকে	দোল-লাগানো।।
    এসো আজ	স্বপন-কুমার	নিরিবিলি
    খুলিয়া		গোপন প্রাণের	ঝিলিমিলি,
    এসো মোর	হতাশ প্রাণে	ভুল-ভাঙানো।।
    
  • কেন আন ফুল-ডোর আজি বিদায় বেলা

    বাণী

    কেন	আন ফুল-ডোর আজি বিদয়-বেলা,
    মোছ	মোছ আঁখি-লোর যদি ভাঙিল মেলা॥
    কেন	মেঘের স্বপন আন মরুর চোখে,
    ভু’লে	দিয়ো না কুসুম যারে দিয়েছ হেলা॥
    যবে	শুকাল কানন এলে বিধুর পাখি,
    ল’য়ে	কাঁটা-ভরা প্রাণ এ কি নিঠুর খেলা।
    যদি	আকাশ-কুসুম পেলি চকিতে কবি,
    চল	চল মুসাফির, ডাকে পারের ভেলা॥
    
  • ডেকো না আর দূরের প্রিয়া

    বাণী

    ডেকো না আর দূরের প্রিয়া থাকিতে দাও নিরালা।
    কি হবে হায় বিদায়-বেলায় এনে সুধার পিয়ালা।।
    সুখের দেশের পাখি তুমি কেন এলে এ বনে,
    আজ এ বনে জাগে শুদু কণ্টকের স্মৃতির জ্বালা।।
    মরুর বুকে কি ঘোর তৃষ্ণা বুঝিবে কি মেঘ-পরী,
    মিটিবে না আমার তৃষ্ণা ঐ আঁখি-জলে বালা।।
    আঁধার ঘরের আলো তুমি আমি রাতের আলেয়া,
    ভোলো আমায় চিরতরে, ফিরিয়ে নাও এ ফুল-মালা।।
    
  • বিদায় সন্ধ্যা আসিল ওই

    বাণী

    বিদায়–সন্ধ্যা আসিল ওই ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
    হে প্রিয়, আমার, যাত্রা–পথ অশ্রু–পিছল ক’রোনা আর।।
    		এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
    		তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
    তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার।।
    		হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
    		যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
    যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাই হৃদি ভালোবাসার।
    		তুমি বুঝিবেনা কি অভিমান
    		মিলনের মালা করিল ম্লান
    উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার।।
    
  • বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার

    বাণী

    বিদায়-সন্ধা আসিল ঐ ঘনায় নয়নে অন্ধকার।
    হে প্রিয়, আমার, যাত্রা-পথ অশ্রু-পিছল ক’রো না আর॥
    	এসেছিনু ভেসে স্রোতের, ফুল
    	তুমি কেন প্রিয় করিলে ভুল
    তুলিয়া খোঁপায় পরিয়া তা’য় ফেলে দিলে হায় স্রোতে আবার॥
    	হেথা কেহ কারো বোঝে না মন
    	যারে চাই হেলা হানে সে’ জন
    যারে পাই সে না হয় আপন হেথা নাহি হৃদি ভালোবাসার।
    	তুমি বুঝিবে না কি অভিমান
    	মিলনের মালা করিল ম্লান
    উড়ে যাই মোর, দূর বিমান সেথা গা’ব গান আশে তোমার॥
    
  • শ্যামা নামের লাগলো আগুন

    বাণী

    শ্যামা নামের লাগলো আগুন আমার দেহ ধূপ–কাঠিতে।
    যত জ্বলি সুবাস তত ছড়িয়ে পড়ে চারিভিতে।।
    		ভক্তি আমার ধূমের মত
    		উর্দ্ধে ওঠে অবিরত,
    শিব–লোকের দেব–দেউলে মা’র শ্রীচরণ পরশিতে।।
    ওগো অন্তর–লোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধূপ–সুবাসে,
    মা’র হাসিমুখ চিত্তে ভাসে চন্দ্রসম নীল আকাশে।
    		যা কিছু মোর পুড়ে কবে
    		চিরতরে ভস্ম হবে
    মা’র ললাটে আঁকব তিলক সেই ভস্ম–বিভূতিতে।।