দাদ্‌রা

  • দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়

    বাণী

    দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়।
    কুসুম দোলে পাতার কোলে পুবালি হাওয়ায়।।
    অলকা-পরী অলক খু’লে
    কাজরি নাচে গগন-কূলে,
    বলাকা-মালার ঝুলন ঝুলায়।।
    দাদুরি বোলে, ডাহুকী ডাকে
    ময়ূরী নাচে তমাল শাখে,
    ময়ূর দোলে কদম-তলায়।।
    তটিনী দুলে ঢেউয়ের তালে,
    নিবিড় আঁধার ঝাউয়ের ডালে,
    বেণুর ছায়া ঘনায় মায়া পরান ভোলায়।।
    
  • নদীর স্রোতে মালার কুসুম ভাসিয়ে দিলাম প্রিয়

    বাণী

    নদীর স্রোতে মালার কুসুম ভাসিয়ে দিলাম, প্রিয়!
    আমায় তুমি নিলে না, মোর ফুলের পূঁজা নিও।।
    	পথ-চাওয়া মোর দিনগুলিরে
    	রেখে গেলাম নদীর তীরে
    আবার যদি আস ফিরে- তুলে গলায় দিও।।
    নিভে এলো পরান -প্রদীপ পাষাণ-বেদীর তলে,
    জ্বালিয়ে তা'রে রাখব কত শুধু চোখের জলে।
    	তারা হয়ে দুর আকাশে
    	রইব জেগে' তোমার আশে
    চাঁদের পানে চেয়ে চেয়ে' আমারে স্মরিও।।
    

  • নন্দলোক হতে আমি এনেছি

    বাণী

    নন্দলোক হতে (আনন্দলোক হতে) আমি এনেছি রে মহামায়ায়।
    				এনেছি মা মহামায়ায়।
    বন্ধ যথায় বন্দী যত কংসরাজার অন্ধকারায়।।
    	বন্দী জাগো! ভাঙো আগল,
    	ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল;
    বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়।।
    আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম ‘নন্দালয়ে’
    সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দ-গোপ-দুলাল হয়ে।
    	মা’র আদেশে বাজাবে সে
    	অভয় শঙ্খ দেশে দেশে,
    (তোরা) নারায়ণী সেনা হবি, এবার নারায়ণীর কৃপায়।।
    
  • নীল যমুনা সলিল কান্তি

    বাণী

    নীল যমুনা সলিল কান্তি চিকন ঘনশ্যাম।
    তব শ্যামরূপে শ্যামল হল সংসার ব্রজধাম।।
    রৌদ্রে পুড়িয়া তপিতা অবনি
    চেয়েছিল শ্যাম-স্নিগ্ধা লাবনি,
    আসিলে অমনি নবনীত তনু
    ঢলঢল অভিরাম চিকন ঘনশ্যাম।।
    আধেক বিন্দু রূপ তব দুলে ধরায় সিন্ধুজল
    তব বেণু শুনি’, ওগো বাঁশুরিয়া,
    প্রথম গাহিল কোকিল পাপিয়া,
    হেরি কান্তার-বন-ভুবন ব্যাপিয়া
    বিজড়িত তব নাম; চিকন ঘনশ্যাম।।
    
  • পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি

    বাণী

    পাপিয়া আজ কেন ডাকে সখি, পিয়া পিয়া।
    শুনি’, পিয়া পিয়া বোল্‌ ঝুরিছে আমার হিয়া।।
    এমনি মধুরাতি, ছিল সে মোর সাথি,
    সেদিন পাপিয়া এমনি উঠিত ডাকিয়া
    সে কি আজ এলো তবে, চাঁদের মত নীরবে
    হাসির জোছনাতে তার দশদিশি রাঙাইয়া।।
    

    নাটকঃ ‘সর্বহারা’

  • পাষাণের ভাঙালে ঘুম

    বাণী

    	পাষাণের ভাঙালে ঘুম			কে তুমি সোনার ছোঁয়ায়,
    	গলিয়া সুরের তুষার			গীতি –নির্ঝর ব’য়ে যায়।।
    	উদাসী বিবাগী মন			যাচে আজ বাহুর বাঁধন,
    	কত জনমের কাঁদন			ও –পায়ে লুটাতে চায়।।
    ওগো	তোমার চরণ ছন্দে মোর		মুঞ্জরিল গানের মুকুল
    	তোমার বেণীর বন্ধে গো		মরিতে চায় সুরের বকুল
    	চম্‌কে ওঠে মোর গগন		ঐ হরিণ–চোখের চাওয়ায়।।
    
  • প্রিয় যাই যাই ব’লো না

    বাণী

    প্রিয় যাই যাই ব’লো না, না না না
    আর ক’রো না ছলনা, না না না॥
    আজো মুকুলিকা মোর হিয়া মাঝে
    না-বলা কত কথা বাজে,
    অভিমানে লাজে বলা যে হ’ল না॥
    কেন শরমে বাধিল কে জানে
    আঁখি তুলিতে নারিনু আঁখি পানে।
    প্রথম প্রণয়-ভীরু কিশোরী
    যত অনুরাগ তত লাজে মরি,
    এত আশা সাধ চরণে দ’লো না॥
    
  • ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে

    বাণী

    (সখি) ব'লো বঁধুয়ারে নিরজনে
    দেখা হ'লে রাতে ফুল-বনে।।
    কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
    কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
    জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
    ও-পথে চোর-কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
    বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
    এ বনফুল লাগি' না আসে কাঁটা' দলি'
    আপনি যাব চলি' বঁধুয়ার কুঞ্জ-গলি
    বিনা মূলে বিকাইব ও-চরণে।।
    
  • বনের তাপস কুমারী আমি গো

    বাণী

    বনের তাপস কুমারী আমি গো, সখি মোর বনলতা।
    নীরবে গোপনে দুইজনে কই আপন মনের কথা।।
    যবে 	গিরিপথে ফিরি সিনান করিয়া,
    	লতা টানে মোর আঁচল ধরিয়া,
    হেসে বলি, ওরে ছেড়ে দে, আসিছে তোদের বন-দেবতা।।
    ডাকি যদি তারে আদর করিয়া — ওরে বন বল্লরি,
    আনন্দে তার ফোটা ফুলগুলি অঞ্চলে পড়ে ঝরি'।
    	লুকায়ে যখন মোর দেবতায়
    	আবরিয়া রাখে কুসুমে পাতায়,
    চরণে আমার (ও সে) আসিয়া জড়ায় যবে হই ধ্যানরতা।।
    
  • বৃথা তুই কাহার 'পরে করিস অভিমান

    বাণী

    বৃথা তুই কাহার পরে করিস অভিমান
    পাষাণ-প্রতিমা সে যে হৃদয় পাষাণ।।
    রূপসীর নয়নে জল নয়ন-শোভার তরে
    ও শুধু মেঘের লীলা নভে যে বাদল ঝরে।
    চাতকেরই তরে তাহার কাঁদে না পরান।।
    প্রণয়ের স্বপন-মায়া,ধরিতে মিলায় কায়া
    গো-ধূলির রঙের খেলা ক্ষণে অবসান।।
    

  • ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান

    বাণী

    ভেঙো না ভেঙো না ধ্যান হে আমার ধ্যানের দেবতা।
    পূজা লহ, অর্ঘ্য লহ ক’য়ো না ক’য়ো না কথা।।
    পাষাণ মূরতি তুমি পাষাণ হইয়া থাকো,
    মন্দির-বেদী হতে ধরার ধূলায় নেমো নাকো।
    তুমিও মাটির মানুষ বুঝায়ে দিও না ব্যথা।।
    সহিবে সকলি স্বামী হেনো হেলা ব্যথা দিও,
    সহিবে না অপমান ভালোবাসার আমার হে প্রিয়,
    থাক তুমি হিয়ার মাঝে তোমার মন্দির যথা।।
    
  • মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা

    বাণী

    মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা আমার খেলাঘরে।
    আমি মা হয়ে মা শিখিয়ে দেব পুতুল খেলে কেমন করে।।
    কাঙাল অবোধ করবি যারে বুকের কাছে রাখিস্ তারে (মা)
    [নইলে কে তার দুখ ভোলাবে
    যারে রত্ন মানিক দিবি না মা, উচিত সে তার মাকে পাবে]
    আবার কেউ বা ভীষণ দামাল হবে কেউ থাকবে গৃহ কোণে প’ড়ে।।
    মৃত্যু সেথায় থাকবে না মা থাকবে লুকোচুরি খেলা
    রাত্রি বেলায় কাঁদিয়ে যাবে আসবে ফিরে সকাল বেলা।
    কাঁদিয়ে খোকায়, ভয় দেখিয়ে, ভয় ভোলাবি আদর দিয়ে (মা)
    [বেশি তারে কাঁদাস না মা, মা ছেড়ে সে পালিয়ে যাবে]
    সে খেলে যখন শ্রান্ত হবে ঘুম পাড়াবি বক্ষে ধ’রে।।
    
  • মৃত্যু-আহত দয়িতের তব শোনো

    বাণী

    মৃত্যু-আহত দয়িতের তব শোনো করুণ মিনতি।
    অমৃতময়ী মৃত্যুঞ্জয়ী হে সাবিত্রী সতী।।
    	ঘন অরণ্যে বাজে মোর স্বর
    	মোরি রোদনে উঠিয়াছে ঝড়,
    সাঁঝের চিতায় ঐ নিভে যায়, মম নয়নের জ্যোতি
    			হে সাবিত্রী সতী!
    যুগে যুগে তুমি বাঁচায়েছ মোরে মৃত্যুর হাত হতে
    			দেবী সাবিত্রী সতী!
    মোরি হাত ধ’রে রাজপুরী ছেড়ে চলেছ বনের পথে
    			বিধবা অশ্রুমতী!
    	জীবনের তৃষা মেটেনি আমার
    	তুমি এসে মোরে বাঁচাও আবার,
    মৃত্যু তোমারে করিবে প্রণাম, ধরার অরুন্ধতি
    			হে সাবিত্রী সতী!
    
  • মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর

    বাণী

    মোর		ঘুমঘোরে এলে মনোহর নমো নম, নমো নম, নমো নম।
    		শ্রাবণ-মেঘে নাচে নটবর রমঝম, রমঝম, ঝমরম
    			(ঝমঝম, রমঝম, রমঝম)।।
    শিয়রে		বসি চুপি চুপি চুমিলে নয়ন
    মোর		বিকশিল আবেশে তনু নীপ-সম, নিরুপম, মনোরম।।
    মোর		ফুলবনে ছিল যত ফুল
    			ভরি ডালি দিনু ঢালি’ দেবতা মোর
    হায়		নিলে না সে ফুল, ছি ছি বেভুল,
    			নিলে তুলি’ খোঁপা খুলি’ কুসুম-ডোর।
    স্বপনে		কী যে কয়েছি তাই গিয়াছ চলি’
    জাগিয়া	কেঁদে ডাকি দেবতায় প্রিয়তম, প্রিয়তম, প্রিয়তম।।
    
  • মোর প্রিয়া হবে এসো রানী

    বাণী

    মোর প্রিয়া 	হবে এসো রানী দেব খোঁপায় তারার ফুল
    	কর্ণে দোলাব তৃতীয়া তিথির চৈতী চাঁদের দুল।।
    		কণ্ঠে তোমার পরাবো বালিকা
    		হংস –সারির দুলানো মালিকা
    	বিজলী জরীণ ফিতায় বাঁধিব মেঘ রঙ এলো চুল।।
    	জোছনার সাথে চন্দন দিয়ে মাখাব তোমার গায়
    	রামধনু হতে লাল রঙ ছানি’ আলতা পরাবো পায়।
    		আমার গানের সাত সুর দিয়া
    		তোমার বাসর রচিব প্রিয়া।
    	তোমারে ঘিরিয়া গাহিবে আমার কবিতার বুলবুল।।
    
  • মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি

    বাণী

    মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি।
    তুমি ব্রজের বালারে রাই কিশোরীরে
    ভুলাইলে যেই রূপ ধরি’।।
    হরি বাজায়ো বাঁশরি সেই সাথে,
    যে বাঁশি শুনিয়া ধেনু গোঠে যেত উজান বহিত যমুনাতে।
    যে নূপুর শুনে ময়ূর নাচিত এসো হে সেই নূপুর পরি।।
    নন্দ যশোদা কোলে গোপাল
    যে রূপে খেলিতে, ক্ষীর ননী খেতে এসো সেই রূপে ব্রজ দুলাল।
    যে পীত বসনে কদম তলায় নাচিতে এসো সে বেশ পরি।।
    কংসে বধিলে যে রূপে শ্যাম,
    কুরুক্ষেত্রে হলে সারথি এসো সেইরূপে এ ধরাধাম।
    যে রূপে গাহিলে গীতা নারায়ণ, এসো সে বিরাট রূপ ধরি।।
    
  • রব না কৈলাশপুরে আই য়্যাম

    বাণী

    রব না কৈলাশপুরে আই য়্যাম ক্যালকাটা গোয়িং।
    যত সব ইংলিশ ফ্যাশান আহা মরি কি লাইটনিং।।
    	ইংলিশ ফ্যাশান সবই তার
    	মরি কি সুন্দর বাহার,
    	দেখলে বন্ধু দেয় চেয়ার —
    		কাম-অন ডিয়ার গুড মর্নিং।।
    	বন্ধু আসিলে পরে
    	হাসিয়া হান্ডসেক করে,
    	বসায় তারে রেসপেক্ট করে —
    		হোল্ডিং আউট এ মিটিং।।
    	তারপর বন্ধু মিলে
    	ড্রিংকিং হয় কৌতুহলে,
    	খেয়েছ সব জাতিকুলে —
    		নজরুল এসলাম ইজ টেলিং।।
    

    ‘লেটো গান’

  • রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়

    বাণী

    রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়
    ফুটিল শাখে মুকুল ও রাঙা চরণ-ঘায়।।
    সে নাচে তটিনী-জল টলমল টলমল,
    বনের বেণী উতল ফুলদল মুরছায়।।
    বিজরি-জরীর আঁচল ঝলমল ঝলমল
    নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
    তালীবন থৈ তাথৈ করতালি হানে ঐ, (হায় রে হায়)
    ‌‌‘কবি, তোর তমালী কই’ — শ্বসিছে পুবালি-বায়।।
    
  • লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্ গো আবার

    বাণী

    লক্ষ্মী মা তুই ওঠ্ গো আবার সাগর জলে সিনান করি’।
    হাতে ল’য়ে সোনার ঝাঁপি, সুধার পাত্রে সুধা ভরি’।।
    আন্ মা আবার আঁচলে তোর নবীন ধানের মঞ্জরি সে,
    টুনটুনিতে ধান খেয়েছে, খাজনা মাগো দিব কিসে।
    ডুবে গেছে সপ্ত-ডিঙা, রত্ন বোঝাই সোনার তরী।।
    ক্ষীরোদ-সাগর-কন্যা যে তুই, খেতে দে ক্ষীর সর মা আবার,
    পান্তা লবণ পায় না ছেলে, জননী তোর এ কোন বিচার?
    কার কাছে মা নালিশ করি, অনন্ত শয়নে হরি।।
    তোরও কি মা ধর্‌ল ঘুমে নারায়ণের ছোঁয়াচ লেগে,
    বর্গী এল দেশে মাগো, খোকারা তোর কাঁদে জেগে।
    এসে এবার ঘুম পাড়া মা, মাগো ভয়ে ক্ষিদেয় মরি।।
    কোন্‌ দুখে তুই রইলি ভুলে বাপের বাড়ি অতল-তুলে,
    ব্যথার সিন্ধু মন্থন শেষ, ভ’রল যে দেশ হলাহলে।
    অমৃত এনে সন্তানে তোর, বাঁচা মা, তোর পায়ে ধরি।।
    
  • ললাটে মোর তিলক একো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

    বাণী

    ললাটে মোর তিলক একো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
    আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
    	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
    	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
    বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
    তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
    হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
    	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
    	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
    তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।