দ্রুত-দাদ্‌রা

  • ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায়

    বাণী

    দ্বৈত	:	ঝুমুর নাচে ডুমুর গাছে ঘুঙুর বেঁধে গায় (লো)।
    		নাচন দুজন মাদল, বাঁশি, নূপুর নিয়ে আয় (লো)।।
    স্ত্রী	:	আর জনমে চোরকাঁটা তুই ছিলি (রে)
    		এই জনমে আঁচল ছিঁড়ে হৃদয়ে বিঁধিলি।
    পুরুষ	:	চোরকাঁটা নয় ছিলাম পানের খিলি লো
    		গয়না ছিলাম গায় (লো)।।
    স্ত্রী	:	ঝিলমিলয়ে ঝিলের জল নাচায় শালুক ফুল —
    পুরুষ	:	শালুক যেন মুখাখানি তোর লো ঝিলের ঢেউ যেন এলোচুল।
    স্ত্রী	:	কুহু কুহু ডেকে কোকিল কাহার কথা কহে
    পুরুষ	:	সেই কথা কয় কোয়েলা আর জনমে করেছি যা তোরই বিরহে।
    দ্বৈত	:	সে জনমের দু’টি হৃদয় এ জনমে হায়
    		এক হতে যে চায় লো এক হতে যে চায়।।
    
  • ডাল মেল পত্র মেল ওরে তরুলতা

    বাণী

    ডাল মেল, পত্র মেল, ওরে তরুলতা!
    কইতে পার, কইতে পার আমার প্রাণের বন্ধু গেল কোথা (রে)।।
    	ও তরু, তোর পাতার কোলে
    	ফোটা ফুলের হাসি দোলে (রে)।
    সে কি তোর কুসুমের মালা গলে বসেছিল হোথা (রে)।।
    	তোর ফুল ঝরে যে যথা
    	তোর ছায়া থাকে যথা।
    ঢেউ-এর মালা গলায় পরে নাচিস নদী জল,
    তরী বেয়ে বন্ধু আমার কোথায় গেল বল।
    	চাঁদের তিলক প’রে আকাশ
    	হেসে হেসে কেন তাকাস্?
    তোর চাঁদ কি জানে, মোর আকাশের চাঁদেরই বারতা।।
    
  • তুমি আমার চোখের বালি

    বাণী

    তুমি আমার চোখের বালি, ওগো বনমালী।
    আমার চোখে পড়ল কখন, তোমার রূপের কালি।।
    (চোখ)	চাইলে ও-রূপ সইতে নারি
    	নয়ন মুদেও রইতে নারি,
    তোমার লীলা, প্রিয়জনে কাঁদাও খালি।।
    কাঁদিয়ে আমায় করলে কানা, কানাই একি লীলা,
    এবার ম’রে আর জনমে যেন হই কুটিলা।
    	তোমার নয়ন-মণি রাইকে নিয়ে
    	রাখব ঘরে দুয়ার দিয়ে
    চোখে চোখে সেদিন যেন হয় মিতালি।।
    
  • তুমি নামো হে নামো শামো

    বাণী

    [কেডারে? কেডা? উ-কেলিকদম্ব গাছে এই ডাল ঐ ডাল কইরা লাফ দিয়া বেড়াইত্যাছ? ও — ঘোষ পাড়ার হেই বখাইট্রা পোলাটা না? 
    উ-হুঁ-হুঁ, আবার পিরুক কইরা বাঁশি বাজান হইত্যাছে ? নাম্যা, আসো। ভরদুপুর বেলা মাইয়াগো সান ঘাটের কাছে — অ্যাঁ-হ্যাঁ-হ্যাঁ আবার কিষ্ট সাজাছেন?
    বলি কেষ্ট সাজছো? নামো শিগগিরে নামো পোড়া কপাইল্যা নামো —]
    তুমি নামো হে নামো শামো হে শামো কদম্ব ডাল ছাইড়া নামো। দুপরি রৌদ্রে বৃথাই ঘামো ব্যস্ত রাধা কাজে, ওহে শামো হে শামো॥ আরে তোমার ললিতাদেবী কি করতেয়াছে জাননি? তোমার ললিতাদেবী? আরে ললিতাদেবী সলিতা পাকায়, বিশাখা ঝোলে হিজল শাখায়। আর বৃন্দাদুতী কি করছে জান? বৃন্দাদুতী? বৃন্দাদুতী পিন্দা ধুতি গোষ্টে গেছেন তোমার ‘পোস্টে’ সাজিয়া রাখাল সাজে আর চন্দ্রা গ্যাছেন অন্ধ্র দেশে মান্দ্রাজী জাহাজে॥ আবার ইতি উতি চাও ক্যা? ইতি উতি চাইবার লাগছ ক্যা? এ্যা? আমি কমুনা কোন্‌খানে তোমার যমুনা - তা আমি কমু না? আরে (তুমি) ইতি উতি চাও বৃথাই আমি কমু না কোথায় তোমার যমুনা কইলকাতা আর ঢাকা রমনার লেকে পাবে তার নমুনা। আরে তোমার যমুনা লেক হইয়া গ্যাছে গিয়া! বুঝ্‌লা? হালার যমুনা ল্যাক হইয়া গ্যাছে গিয়া। কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম শ্রীদাম সুদাম কলেজে যাইতেয়াছে, আর তুমি এখানে বাঁশি বাজাইতেয়াছ অ্যাঁ! পোড়া কপাইল্যা — কলেজে ফিরিছে শ্রীদাম সুদাম, মেরে মাল কোঁচা খুলিয়া বোতাম লাঙ্গল ছাড়িয়া বলরাম ডাম্বেল মুঘার ভাঁজে। ওহে শামো হে শামো আরে তুমি নামো, পোড়া কপাইল্যা নামো॥
  • তোমায় আমায় মিল খেয়েছে

    বাণী

    		তোমায় আমায় মিল খেয়েছে ও প্রেয়সী রাজ-যোটক।
    		আমি যেন গোদা চরণ তুমি তাহে বিষ্ফোটক।।
    		আমি কুম্‌ড়ো তুমি দা, আমি কাঁচকলা তুমি আদা,
    		তুমি তেজী, (আর) আমি ম্যাদা,
    আমি		সাপ, তুমি বেজি যেন, বাপ! তুমি হস্তিনী আমি ঘোটক।।
    		তুমি বঁটী আমি চিচিঙ্গে, আমি চিল, পিছে তুমি ফিঙে
    		আমি টিঙ্ টিঙে, (আর) তুমি ডিঙ্ ডিঙে
    প্রিয়ে		আমি ভেতো বাঙালিটি, তুমি যেন বর্গী-ঠগ্‌।।
    		আমি দাড়ি তুমি ক্ষুর, তুমি সাপ আমি ল্যাজুড়,
    		তুমি মাফ, আমি কসুর
    		আমি ভাঙা ভোঙা কলার ভেলা তুমি খিদিরপুরের ডক্।।
    		তুমি বঁড়্ শি আমি মাছ; আমি মোম্ তুমি আগুন-আঁচ,
    		তুমি আমার হাতের পাঁচ
    		তুমি আ জনমে স্বামী হয়ো আমায় দিও পদোদক।।
    
  • তোরা সব জয়ধ্বনি কর

    বাণী

    	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
    	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
    ঐনূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়
    	তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
    	আস্‌ল এবার অনাগত প্রলয়–নেশায় নৃত্য–পাগল,
    	সিন্ধু–পারের সিংহ–দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল!
    	মৃত্যু–গহন অন্ধকুপে, মহাকালের চন্ড–রূপে ধূম্র–ধূপে
    	বজ্র–শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর!
    				ওরে ওই হাসছে ভয়ংকর!
    				তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
    	দ্বাদশ রবির বহ্নি–জ্বালা ভয়াল তাহার নয়ন–কটায়,
    	দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়!
    		বিন্দু তাহার নয়ন –জলে
    		সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে
    			কপোল–তলে!
    	বিশ্ব –মায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর ‘পর –
    			হাঁকে ঐ “জয় প্রলয়ংকর!”
    			তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
    মাভৈঃ, ওরে মাভৈঃ, মাভৈঃ, মাভৈঃ জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে
    জরায়–মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ–লুকানো ঐ বিনাশে।
    		এবার মহা–নিশার শেষে
    		আসবে ঊষা অরুণ হেসে
    			করুণ্ বেশে!
    দিগম্বরের জটায় লুটায় শিশু–চাঁদের কর!
    			আলো তার ভরবে এবার ঘর!
    			তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
    
  • দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে

    বাণী

    দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে যায় কালের স্রোতে
    ওগো সুদূর ওগো বিধুর তোমার সাগর-তীর্থ -পথে।।
    	বিফল দিনের কমলগুলি
    	পড়লো ঝ'রে পাপড়ি খুলি'
    নিও প্রিয় তদের তুলি দিন শেষের ম্লান আলোতে।।
    সঞ্চিত মোর দিনগুলি হায় ছড়িয়ে গেল অযতনে;
    তোমার বরণ-মালা গাঁথা হলো না আর এ জীবনে।
    	অন্য মনে কখন বেভুল
    	ভাসিয়ে দিলাম দলি সে ফুল
    বঞ্চিত তাই হবে কি হায় তোমার চরণ-ছোওয়া হ'তে।।
    

  • দোহাই তোদের এবার তোরা

    বাণী

    দোহাই তোদের! এবার তোরা সত্যি করে সত্য বল্।
    ঢের দেখালি ঢাক ঢাক গুড় গুড় ঢের মিথ্যা ছল।।
    পেটে এক আর মুখে আরেক — এই যে তোদের ভন্ডামি,
    এতেই তোরা লোক হাসালি, বিশ্বে হলি কম্‌-দামি।
    নিজের কাছেও ক্ষুদ্র হলি আপন ফাঁকির আফসোসে,
    বাইরে ফাঁকা পাঁয়তারা তাই, নাই তলোয়ার খাপ-কোষে।
    তাই হলি সব সেরেফ আজ কাপুরুষ আর ফেরেব-বাজ
    সত্য কথা বলতে ডরাস তোরাই আবার করবি কাজ —
    				ফোঁপরা ঢেঁকির নেইক লাজ।
    ইলশেগুড়ি বৃষ্টি দেখেই ঘর ছুটিস্‌ সব রাম-ছাগল!
    যুক্তি তোদের খুব বুঝেছি, দুধকে দুধ আর জলকে জল।।
    
  • ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি

    বাণী

    ধর্মের পথে শহীদ যাহারা আমরা সেই সে জাতি
    সাম্য-মৈত্রী এনেছি আমরা বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি।।
    পাপ-বিদগ্ধ তৃষিত ধরার লাগিয়া আনিল যাঁরা
    মরুর তপ্ত বক্ষ নিঙাড়ি শীতল শান্তি-ধারা
    উচ্চ-নীচের ভেদ ভাঙি দিল সবারো বক্ষ পাতি’।।
    কেবল মুসলমানের লাগিয়া আসেনি’ক ইসলাম
    সত্যে যে চায় আল্লায় মানে মুসলিম তারি নাম
    আমির ফকিরে ভেদ নাই — সবে ভাই, সব এক সাথি।।
    নারীরে প্রথম দিয়াছি মুক্তি, নর্‌ সম অধিকার
    মানুষের গড়া প্রাচীর ভাঙিয়া করিয়াছি একাকার।
    আধার রাতির বোরখা উতারি এনেছি আশার-ভাতি।।
    
  • নন্দ দুলাল নাচে নাচে রে

    বাণী

    নন্দ দুলাল নাচে নাচে রে হাতে সরের নাড়ু নিয়ে নাচে
    ব্রজের গোপাল নাচে নাচে রে হাতে সরের নাড়ু নিয়ে নাচে
    ওসে হাতের নাড়ু মুখে ফেলে, আড় চোখে চায় হেলে দুলে
    যথায় গোপীর ক্ষীর নবনী দইয়ের হাঁড়ি আছে॥
    শূন্য দু হাত শূন্যে তুলে দেয় সে করতালি বলে তাই তাই তাই
    নন্দ পিতায় কয় ইশারায় নাই ননী নাই
    নন্দ ধরতে গেলে যায় পিছিয়ে
    মুচকি হেসে যায় এগিয়ে যশোমতীর কাছে রে॥
    কহে শিউরে উঠে শিমুল ফুল নাচ রে গোপাল নাচ নাচ রে
    	নাচ রে গোপাল নাচ
    সারা গায়ে ঘুঙুর বেঁধে নাচে ডুমুর গাছ রে
    	নাচ রে গোপাল নাচ
    শিমুল গায়ে নাচে সুখে কাঁটা দিয়ে ওঠে ফুল ফোটে মরা গাছে॥
    	নাচ ভুলে সে থমকে দাঁড়ায়
    	মার চোখে জল দেখতে সে পায় রে
    ননী মাখা দু হাত দিয়ে চোখ মুছিয়ে লুকায় বুকের কাছে॥
    
  • নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে

    বাণী

    নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে
    তালে তালে ভুঁড়ি নাড়ে (হাঁরে)।।
    নাচে কাবলিওয়ালা আগা হেলায় দাড়ি
    নাচে ইয়া গোঁফওয়ালা প’রে ঘাঘরি শাড়ি।
    নাচে পান্ডাজী ধপাস্ ধপাস্
    নাচে যুপী বুড়ি থপাস্  থপাস্
    ফোঁপরা ঢেঁকিতে যেন চাল কাঁড়ে।।
    নাচে তাড়তা হিড়িম্বে শূর্পণখা
    নাচে উচ্চিংড়ে আরশোলা গুবরে পোকা
    নাচে কিক্কড় কাল্লু গামা, নাচিছে ধুচুনি নাচিছে ধামা
    নাচিছে ডুয়েট ঘটোৎকচ গোপাল ভাঁড়ে।।
    নাচে নানা মিঞা হায় হায় ঘুরিয়ে লুঙ্গি
    নাচে মাদ্রাজি উড়িয়া মগ বার্মিজ ফুঙ্গি
    তাকিয়ার খোল পরে বল নাচে
    সায়েবের সাথে মেম পাছে পাছে
    ঘুরে ঘুরে যেন গরু ধান মাড়ে।।
    
  • নাচের নেশার ঘোর লেগেছে

    বাণী

    	নাচের নেশার ঘোর লেগেছে নয়ন পড়ে ঢু’লে (লো)।
    	বুনোফুল পড়লো ঝ’রে নাচের ঘোরে
    				দোলন-খোঁপা খুলে (লো)।।
    	শুনে এই মাদল-বাজা
    	নাচে চাঁদ রাতের রাজা নাচে লো নাচে —
    	শালুকের কাঁকাল ধ’রে
    	তাল-পুকুরের জলে হে’লে দু’লে (লো)।।
    	আঁউরে গেল ঝুম্‌কো জবা লেগে গরম গালের ছোঁওয়া
    	বাঁশি শুনে ঘুলায় মনে কয়লা-খাদের ধোঁওয়া (লো)।
    সই	নাচ ফুরালে ফিরে’ ঘরে,
    	রাত কাটাব কেমন ক’রে
    	পড়বে মনে বাঁশুরিয়ার চোখ দু’টি টুলটুলে (লো)।।
    

  • নিম ফুলের মউ পি’য়ে ঝিম হয়েছে ভোমরা

    বাণী

    নিম ফুলের মউ পি’য়ে ঝিম হয়েছে ভোমরা।
    মিঠে হাসির নূপুর বাজাও ঝুমুর নাচো তোমরা।।
    কভু কেয়া কাঁটায়, কভু বাব্‌লা-আঠায়
    বারে বারে ভোমরার পাখা জড়ায়ে গো — পাখা জড়ায়
    দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ে ফুলের দেশের বউরা।।
    
  • নিশি-পবন নিশি-পবন

    বাণী

    নিশি-পবন! নিশি-পবন! ফুলের দেশে যাও
    ফুলের বনে ঘুমায় কন্যা তাহারে জাগাও — যাও যাও যাও।।
    মৌ-টুস্‌টুস্‌ মুখখানি তার ঢেউ-খেলানো চুল
    (ওরে) ভোমরার ঝাঁক-ঘেরা যেন ভোরের পদ্ম-ফুল
    হাসিতে তার মাঠের সরল বাঁশির আভাস পাও
    				যাও যাও যাও।।
    চাঁপা ফুলের পুত্‌লি-ঘেরা চাঁপা রঙের শাড়ি
    তারেই দেখতে আকাশ-গাঙে (ওরে) চাঁদ দেয় রে পাড়ি।
    তার একটুখানি চোখের আদল বাদল-মেঘে পাও।
    				যাও যাও যাও।।
    	ধীরে ধীরে জাগাইয়ো তায়
    	ঝরা-কুসুম ফেলিয়া গায়
    জাগলে কন্যা যেন রে মোর পত্রখানি দাও —
    				যাও যাও যাও।।
    

  • নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো

    বাণী

    নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
    সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
    যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
    জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
    যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
    আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
    ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
    বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
    বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥
    
  • পুঁথির বিধান যাক পুড়ে

    বাণী

    পুঁথির বিধান যাক পুড়ে তোর, বিধির বিধান সত্য হোক!
    (এই) খোদার উপর খোদকারী তোর মানবে না আর সর্বলোক।।
    নানান মুনির নানান মত্‌ যে, মানবি বল্‌ সে কার শাসন?
    				কয়জনার বা রাখবি মন?
    একজনকে মানলে করবে আর এক সমাজ নির্বাসন, চারদিকে শৃঙ্খল বাঁধন!
    সকল পথে লক্ষ্য যিনি চোখ পুরে নে তাঁর আলোক।।
    জাতের চেয়ে মানুষ সত্য, অধিক সত্য প্রাণের টান
    				প্রাণ-ঘরে সব এক সমান।
    বিশ্ব-পিতার সিংহ-আসল প্রাণ বেদীতেই অধিষ্ঠান,
    				আত্মার আসন তাইত প্রাণ।
    জাত-সমাজের নাই সেথা ঠাই জগন্নাথের সাম্য লোক
    				জগন্নাথের তীর্থ লোক।।
    চিনেছিলেন খ্রিষ্ট, বুদ্ধ, কৃষ্ণ, মোহাম্মদ ও রাম
    				মানুষ কী আর কী তার দাম!
    (তাই) মানুষ যাদের করত ঘৃণা, তাদের বুকে দিলেন স্থান,
    				গান্ধী আবার গান সে-গান।
    (তোরা) মানব-শত্রু, তোদেরই হায় ফুটল না সেই জ্ঞানের চোখ।।
    
  • পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া

    বাণী

    		পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া
    		যাও রে বইয়া এই গরিবের সালামখানি লইয়া।।
    		কাবার জিয়ারতের আমার নাই সম্বল ভাই
    		সারা জনম সাধ ছিল যে মদিনাতে যাই (রে ভাই)
    		মিটল না সাধ, দিন গেল মোর দুনিয়ার বোঝা বইয়া।।
    (তোমার)	পানির সাথে লইয়া যাও রে আমার চোখের পানি
    		লইয়া যাও রে এই নিরাশের, দীর্ঘ নিশাসখানি।
    		নবীজীর রওজায় কাঁদিও ভাই রে আমার হইয়া।।
    		মা ফাতেমা হজরত আলীর মাজার যথায় আছে
    আমার	সালাম দিয়া আইস তাদের পায়ের কাছে (রে ভাই!)
    		কাবায় মোনাজাত করিও আমার কথা কইয়া।।
    
  • বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়

    বাণী

    বকুল তলে ব্যাকুল বাঁশি কে বাজায়
    যে বাঁশরি শুনে কিশোরী সহসা যেন গো যৌবন পায়॥
    রয় না মন ঘরে সেই বাঁশির সুরে
    	দূরে ভেসে যেতে চায়
    পরান ঘুরে মরে তাহার রাঙা পায়॥
    তারি নূপুর শুনি নিশিদিনই প্রাণে মোর
    নিশীথ রাতে আসে পাশে বসে মনোচোর।
    তারে কি মালা দিব অশ্রু-মুক্তা গাঁথা
    বিছাবো পথে কি তার মরা ফুল ঝরা পাতা
    	প্রাণের দীপালি জ্বালি তারি আশায়॥
    
  • বনে মোর ফুটেছে হেনা চামেলি যূথী বেলি

    বাণী

    বনে মোর ফুটেছে হেনা চামেলি যূথী বেলি।
    এসো এসো কুসুম সুকুমার শীতের মায়া-কুহেলি অবহেলি’॥
    পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দুল্ দোলায়
    (পরানে দেয় দোলা দেয় দোলা দেয় দোলন্)
    	উতলা দখিন হাওয়া
    কোকিল কুহরে কুহু কুহু স্বরে মদির স্বপন-ছাওয়া।
    হাসে গীত-চঞ্চল, জোছনা-উজল মাধবী রাতি
    	এসো এসো যৌবন সাথি
    ফুল-কিশোর, হে চিতচোর, দেবতা মোর।
    	মম লাজ অবগুণ্ঠন ঠেলি’॥
    
  • বল দেখি মা নন্দরানী

    বাণী

    	বল দেখি মা নন্দরানী ওগো গোকুলবালা
    (ওমা)	কেমন করে তোদের ঘরে (মা) এলো নন্দলালা।
    	(মা তুই) কোন সাধনায় দধি মথন করে
    	তুললি ননী হৃদয় পাত্র ভরে;
    	তুই সেই নবনি দিয়ে যতন করে
    	(মা তুই) গড়লি কি এই ননীর পুতুল আঁধার চিকনকালা।।
    	অমন রসবিগ্রহ মা গড়তে পারে কে?
    	গোপঝিয়ারি গড়তে পারে কে?
    	গোকুল মেয়ে নস্ তুই মা তুই কুমারের ঝি।
    	(মাগো) তুই নস্ যোগিনী তবু স্বগুণ বলে
    	(মা তুই) শ্রীকৃষ্ণে বাঁধলি উদূখলে
    	(আমায়) সেই যোগ তুই শিখিয়ে দে মা বসেই জপমালা।।