গজল

  • অরুণ-রাঙা গোলাপ-কলি

    বাণী

    অরুণ-রাঙা গোলাপ-কলি
    	কে নিবি সহেলি আয়।
    গালে যার গোলাপী আভা
    	এ ফুল-কলি তারে চায়।।
    ডালির ফুল যে শুকায়ে যায়
    কোথায় লায়লী, শিরী কোথায়
    কোথায় প্রেমিক বিরহী মজনু
    	এ ফুল দেব কাহার পায়।।
    পূর্ণ চাঁদের এমন তিথি
    ফুল-বিলাসী কই অতিথি
    বুলবুলি বিনে এ গুল্‌ যে
    	অভিমানে মুরছায়।।
    
  • আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি

    বাণী

    আগুন জ্বালাতে আসিনি গো আমি এসেছি দেয়ালি জ্বালাতে
    শুধু ক্রন্দন হয়ে আসিনি এসেছি চন্দন হতে থালাতে॥
    	ধরায় আবার আসিয়াছি প্রিয়া
    	তব মুখখানি দেখিব বলিয়া
    তাই	প্রদীপ হইয়া নীরবে পুড়ি তোমারই বরণ ডালাতে॥
    তব	মিলন বাসরে ঘুম ভাঙাইতে আসিনি
    	তুমি কেন লাজে ওঠো আকুলি
    তব	রাঙা মুখখানি রাঙাইয়া যাব চলে গো
    	আমি সাঁঝের ক্ষণিক গোধূলি।
    তব কাজল নয়ন-পল্লব ছায়ে, অশ্রুর মত রহিব লুকায়ে
    ঝরিতে এসেছি ফুল হয়ে আমি তোমার বুকের মালাতে॥
    
  • আজ নিশীথে অভিসার তোমারি পথে প্রিয়তম

    বাণী

    		আজ নিশীথে অভিসার তোমারি পথে প্রিয়তম।
    		বনের পারে নিরালায় দিও হে দেখা নিরুপম।।
    		সুদূর নদীর ধারে নিরালাতে বালুচরে
    		চখার তরে যথা একা চখি কেঁদে মরে
    		সেথা সহসা আসিও গোপন প্রিয় স্বপন সম।।
    		তোমারি আশায় ঘুরি শত গ্রহে শত লোকে,
    (ওগো) 	আমারি বিরহ জাগে বিরহী চাঁদের চোখে,
    		আকুল পাথার নিরাশার পারায়ে এসো প্রাণে মম।।
    
  • আজ বাদল ঝরে মোর একেলা ঘরে

    বাণী

    আজ		বাদল ঝরে		মোর		একেলা ঘরে।
    হায়		কী মনে পড়ে	মন		এমন করে।।
    আজ		এমন দিনে		কোন্ 		নীড়হারা পাখি
    যাও		কাঁদিয়া কোথায়	কোন্ 		সাথীরে ডাকি’।
    তোর		ভেঙেছে পাখা	কোন্ 		আকুল ঝড়ে।।
    আয়		ঝড়ের পাখি		আয়		আমার এ বুকে
    আয়		দিব রে আশয়	মোর		গহন-দুখে।
    আয়		বাঁধিব বাসা		আজ		নূতন ক’রে।।
    
  • আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে

    বাণী

    আজি অলি ব‍্যাকুল ওই বকুলের ফুলে
    কত আদরে টানি, চুমে বদনখানি
    ফুলকলি লাজে পড়ে বুকে ঢুলে ঢুলে।।
    আসে ফুল-বধূ, বুকে ভরা মধু
    হাসে ভ্রমর-বঁধু কলি সনে দুলে দুলে।।
    সোহাগে গুনগুনিয়ে সব কথা তার কইতে বাকি
    সলাজ ফুল-কুমারীর ঘোমটাখানি খুলতে বাকি,
    গোপনে গোপন বুকের সুধাটুকু লুটতে বাকি,
    না কওয়া যত কথা কানে কানে বলে খুলে।।
    

  • আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর

    বাণী

    আজি আকাশ মধুর বাতাস মধুর, মধুর গানের সুর
    			আজি ভুবন লাগে মধুর।
    পরানের কাছে যেন আসিয়াছে হারানো প্রিয়া সুদূর।।
    	একি মাধুরী জড়িত লতায় পাতায়,
    	যাহা হেরি তাই পরান মাতায়,
    অবনি ভরিয়া ঝরিছে লাবনি মাধুরীতে ভরপুর।।
    আগেও ফুটেছে এ গাঁয়ের মাঠে পথপাশে ভাঁটফুল,
    এই পথ বেয়ে জলে যেত বধূ পিঠভরা এলোচুল।
    	আজ মনে হয় নতুন সকলি
    	মধুময় লাগে বিহগ কাকলি
    আজি অকারণ নেচে ফেরে মন যেন বনের ময়ূর।।
    
  • আধো-আধো বোল লাজে-বাধো-বাধো বোল

    বাণী

    আধো আধো বোল্ লাজে-বাধো-বাধো বোল
    				ব’লো কানে কানে।
    যে কথাটি আধো রাতে মনে লাগায় দোল
    				ব’লো কানে কানে।।
    যে কথার কলি সখি আজও ফুটিল না, হায়
    শরমে মরম-পাতে দোলে আন্‌মনা, হায়
    যে কথাটি ঢেকে রাখে বুকের আঁচল
    				ব’লো কানে কানে।।
    যে কথা লুকায়ে থাকে লাজ-নত চোখে
    না বলিতে যে কথাটি জানাজানি লোকে
    যে কথাটি ধ’রে রাখে অধরের কোল
    লুকিয়ে ব’লো নিরালায় থামিলে কলরোল।
    যে কথাটি বলিতে চাও বেশভূষার ছলে
    যে কথা দেয় ব’লে তব তনু পলে পলে
    যে কথাটি বলিতে সই গালে পড়ে টোল্ —
    				ব’লো কানে কানে।।
    

  • আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

    বাণী

    আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
    অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
    পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
    শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
    মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
    			বিষাদিত নিরালায়।।
    তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
    আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
    জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
    ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
    তোমার হাতে ঢালা —
    দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
    			ভুলাইয়া বেদনায়।।
    

  • আমার যাবার সময় হলো

    বাণী

    আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়।
    মোছ আঁখি, দুয়ার খোলো, দাও বিদায়।।
    ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
    ঝরে ধূলায় ভোর বেলাতে
    আমায় তারা ডাকে সাথে - আয় রে আয়।
    সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়।।
    অন্ধকারে এসেছিলাম থাকতে আঁধার যাই চ’লে;
    ক্ষণিক ভালোবেসেছিলেম চিরকালের না-ই হ’লে।
    হ’লো চেনা হ’লো দেখা
    নয়ন-জলে রইলো লেখা
    দূর বিরহের ডাকে কেকা বরষায়
    ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো,দাও বিদায়।।
    
  • আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায়

    বাণী

    আমারে চোখ ইশারায় ডাক দিলে হায় কে গো দরদি।
    খুলে দাও রং মহলার তিমির-দুয়ার ডাকিলে যদি।।
    গোপনে চৈতী হাওয়ায় গুল্‌-বাগিচায় পাঠালে লিপি,
    দেখে তাই ডাক্‌ছে ডালে কু কু ব’লে কোয়েলা ননদী।।
    পাঠালে ঘূর্ণি-দূতী ঝড়-কপোতী বৈশাখে সখি
    বরষায় সেই ভরসায় মোর পানে চায় জল-ভরা নদী।।
    তোমারি অশ্রু ঝলে শিউলি তলে সিক্ত শরতে,
    হিমানীর পরশ বুলাও ঘুম ভেঙে দাও দ্বার যদি রোধি।।
    পউষের শূন্য মাঠে একলা বাটে চাও বিরহিণী,
    দুঁহু হায় চাই বিষাদে, মধ্যে কাঁদে তৃষ্ণা-জলধি।।
    ভিড়ে যা ভোর-বাতাসে ফুল-সুবাসে রে ভোমর কবি
    ঊষসীর শিশ্‌-মহলে আস্‌তে যদি চাস্‌ নিরবধি।।
    
  • আমি যেদিন রইব না গো

    বাণী

    আমি যেদিন রইব না গো লইব চির-বিদায়।
    চিরতরে স্মৃতি আমার জানি মুছে যাবে হায়।।
    এই ধরণীর খেলা-ঘরে, মনে রাখে কে কারে
    দুলে সাগর চাঁদ-সোহাগে, মরু মরে পিপাসায়।।
    রবি যবে ওঠে নভে, চাঁদে কে মনে রাখে
    এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে, মানুষের মন নদীর প্রায়।
    মোর সমাধির বুকে প্রিয়, উঠবে তোমার বাসর ঘর,
    হায়, অসহায় ভিখারি মন, কাঁদে তবু সেই ব্যথায়।।
    
  • আয় মরু পারের হাওয়া নিয়ে যা রে

    বাণী

    আয় মরু পারের হাওয়া নিয়ে যা রে মদিনায় —
    জাত-পাক মুস্তাফার রওজা মুবারক যেথায়।।
    মরিয়া আছি দুখে মাশরেকী এই মুল্লুকে,
    পড়ব মাগরিবের নামাজ কবে খানা-এ কা'বায়।।
    হজরতের নাম তসবি করে যাব রে মিসকিন বেশে
    ইসলামের ঐ দ্বীনী ডঙ্কা বাজল প্রথম যে দেশে।
    কাঁদব ধরে মাজার শরীফ ধরে শুনব সেথায় কান পাতি, —
    নবীর মুখে তেমনি কি রে রব ওঠে 'এ্যায় উম্মতি'!
    পাক কোরানের কালাম হয়ত সেথা শোনা যায়।।
    
  • আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন

    বাণী

    আলগা কর গো খোঁপার বাঁধন দিল ওহি মেরা ফঁস্‌ গয়ি।
    বিনোদ বেণীর জরীন ফিতায় আন্ধা এশ্‌ক্‌ মেরা কস্‌ গয়ি।।
    	তোমার কেশের গন্ধ কখন,
    	লুকায়ে আসিল লোভী আমার মন
    বেহুঁশ হো কর্‌ গির্‌ পড়ি হাথ মে বাজু বন্দ মে বস্‌ গয়ি।।
    	কানের দুলে প্রাণ রাখিলে বিঁধিয়া,
    	আঁখ্‌, ফিরা দিয়া চোরী কর্‌ নিদিয়া,
    দেহের দেউড়িতে বেড়াতে আসিয়া আউর নেহিঁ উয়ো ওয়াপস্‌ গয়ি।।
    
  • আসল যখন ফুলের ফাগুন

    বাণী

    আসল যখন ফুলের ফাগুন, গুল্-বাগে ফুল চায় বিদায়।
    এমন দিনে বন্ধু কেন বন্ধুজনে ছেড়ে যায়॥
    মালঞ্চে আজ ভোর না হতে বিরহী বুলবুল কাঁদে,
    না ফুটিতে দলগুলি তার ঝর্‌ল গোলাব হিম-হাওয়ায়॥
    পুরানো গুল-বাগ এ ধরা, মানুষ তাহে তাজা ফুল,
    ছিঁড়ে নিঠুর ফুল-মালী আয়ুর শাখা হতে তায়॥
    এই ধূলিতে হল ধূলি সোনার অঙ্গ বে-শুমার,
    বাদশা অনেক নূতন বধূ ঝরল জীবন-ভোরবেলায়॥
    এ দুনিয়ার রাঙা কুসুম সাঁজ না হতেই যায় ঝ’রে,
    হাজার আফ্‌সোস, নূতন দেহের দেউল ছেড়ে প্রাণ পালায়॥
    সামলে চরণ ফেলো পথিক, পায়ের নিচে মরা ফুল
    আছে মিশে এই সে ধরার গোরস্থানে এই ধূলায়॥
    হল সময় — লোভের ক্ষুধা মোহন মায়া ছাড় হাফিজ,
    বিদায় নে তো ঘরের কাছে দূরের বঁধূ ডাকছে আয়॥
    
  • আসিলে কে গো বিদেশি

    বাণী

    আসিলে কে গো বিদেশি দাঁড়ালে মোর আঙিনাতে।
    আঁখিতে ল’য়ে আঁখি-জল লইয়া ফুল-মালা হাতে।।
    জানি না চিনি না তোমায় কেমনে ঘরে দিব ঠাঁই
    অমনি আসে তো সবাই হাতে ফুল, জল নয়ন-পাতে।।
    কত সে প্রেম-পিয়াসি প্রাণ চাহিছে তোমার হাতের দান
    কাঁদায়ে কত গুলিস্তান আমারে এলে কাঁদাতে।।
    ফুলে আর ভোলে না মোর মন, গলে না নয়ন-জলে,
    ভুলিয়া জীবনে একদিন আজিও জ্বলি জ্বালাতে।।
    
  • আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী

    বাণী

    আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী
    চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি (আহা)।।
    দুলে আলোছায়া বন-দুকূল
    ওড়ে প্রজাপতি কলকা ফুল
    কর্ণে অতসী স্বর্ণ-দুল
    	আলোক-লতার সাতনরি।।
    সোনার গোধূলি নামিয়া আয়
    আমার রূপালি ফুল-শোভায়
    আমার সজল আঁখি-পাতায়
    	আয় রামধনু রঙ ধরি'।
    কবি, তোর ফুলমালী কেমন
    ফাগুনে শুষ্ক পুষ্প-বন
    বরিবি বঁধুরে এলে চ্যমন (আহা)
    	রিক্ত হাতে কি ফুল ভরি'।।
    
  • আহ্‌মদের ঐ মিমের পর্দা উঠিয়ে দেখ্ মন

    বাণী

    আহ্‌মদের ঐ মিমের পর্দা উঠিয়ে দেখ্ মন।
    (আহা) আহাদ সেথা বিরাজ করেন হেরে গুণীজন।।
    যে চিন্‌তে পারে রয় না ঘরে হয় সে উদাসী,
    সে সকল ত্যজে ভজে শুধু নবীজীর চরণ।।
    ঐ রূপ দেখে পাগল হ’ল মনসুর হল্লাজ,
    সে ‌‘আনল্ হক্‌’ ‌‘আনল্ হক্‌’ ব’লে ত্যজিল জীবন।।
    তুই খোদ্‌কে যদি চিন্‌তে পারিস্‌ চিন্‌বি খোদাকে,
    তুই দেখ্‌রে তাই তোরই চোখে সেই নূরী রওশন।।
    

  • এ আঁখি জল মোছ পিয়া

    বাণী

    এ আঁখি জল মোছ পিয়া ভোলো ভোলো আমারে।
    মনে কে গো রাখে তারে (ওগো) ঝরে যে ফুল আঁধারে।।
    ফোটা ফুলে ভরি’ ডালা গাঁথ বালা মালিকা,
    দলিত এ ফুল লয়ে, (ওগো) দেবে গো বল কারে।।
    স্বপনের স্মৃতি প্রিয় জাগরণে ভুলিও,
    ভুলে যেয়ো দিবালোকে রাতের আলেয়ারে।
    ঘুমায়েছ সুখে তুমি সে কেঁদেছে জাগিয়া,
    তুমি জাগিলে গো যবে সে ঘুমায়ে ওপারে।।
    
  • এ নহে বিলাস বন্ধু ফুটেছি জলে কমল

    বাণী

    এ নহে বিলাস বন্ধু ফুটেছি জলে কমল
    এ যে ব্যথা রাঙা হৃদয় আঁখি জলে টলমল।।
    কমল মৃণাল দেহ ভরেছে কন্টক ঘায়
    শরণ লয়েছি গো তাই শীতল দীঘির জল।।
    ডুবেছি আজ কালো জলে কত যে জ্বালা স'য়ে
    শত ব্যথা ক্ষত লয়ে হইয়াছি শতদল।।
    কবি রে কোন ক্ষত মুখে ফোটে যে তোর গীত সুর
    সে ক্ষত দেখিল না কেউ দেখিল তোরে কেবল
    সে গীতি দেখিল না কেউ শুনিল গীতি কেবল।।
    
  • একি সুরে (কোন্‌ সুরে) তুমি গান শুনালে

    বাণী

    একি সুরে (কোন্ সুরে) তুমি গান শুনালে ভিনদেশি পাখি
    এ যে সুর নহে, মদির সুরা, রে সুরের সাকি।।
    		বসি’ মোর জানালা পাশে
    		কেন বুক-ভাঙা নিরাশে
    যাও ঘুম ভাঙায়ে নিতি সকরুণ সুরে ডাকি।।
    তোর ও সুরে কাঁদছে ঊষা অস্ত চাঁদের গলা ধ’রে
    ভোর-গগনের কপোল বেয়ে শিশির-অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
    		আমি রইতে নারি ঘরে
    		কেন প্রাণ কেমন করে
    আমার মন লাগে না কাজে, আর জলে ভরে আঁখি।।