গজল

  • গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়

    বাণী

    গোলাপ ফুলের কাঁটা আছে সে গোলাব শাখায়,
    এনছি ছিঁড়ে তায় রাতুল পরাতে তোমায় খোঁপায়।
    কি হবে জানিয়া গোলাব কাঁদিল কি না;
    হৃদয় ছিঁড়েছি যাহার, বুঝিবে না গো সে বিনা।
    ভুল ভাঙায়ো না আর সাকি, ঢালো শারাব-পিয়ালা।
    মতলব কহিব পিছে, নেশা ধরুক চোখে বালা।।
    জানি আমি জানে বুলবুল কেন দলিয়া চলি ফুল,
    ভালোবাসি যারে যতই, তারে ততই হানি জ্বালা।।
    তিক্ত নহে এ শারাব বিফল মোর জীবনের চেয়ে,
    শোনায়ো না নীতি-কথা, শোনাও খুশির গজল গেয়ে;
    টুটিয়া আসিবে নেশা, ঢালো শারাব-পিয়ালা।।
    
  • চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না

    বাণী

    চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না এ নয়ন পানে।
    জানিতে নাইকো বাকি, সই ও আঁখি কি যাদু জানে।।
    একে ঐ চাউনি বাঁকা সুর্মা আঁকা তা’য় ডাগর আঁখি রে
    বধিতে তা’য় কেন সাধ? যে মরেছে ঐ নয়ন বাণে।
    			মরেছে ঐ আঁখির বাণে।।
    চকোর কি প’ড়ল ধরা পীযূষ ভরা ঐ মুখ-চাঁদে (রে),
    কাঁদিছে নার্গিসের ফুল লাল কপোলের কমল-বাগানে।
    জ্বলিছে দিবস রাতি মোমের বাতি রূপের দেওয়ালি (রে),
    নিশিদিন তাই কি জ্বলি’ পড়ছ গলি’ অঝোর নয়ানে।
    মিছে তুই কথার কাঁটায় সুর বিঁধে হায় হার গাঁথিস কবি (রে)।
    বিকিয়ে যায় রে মালা এই নিরালা আঁখির দোকানে।।
    
  • চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে

    বাণী

    চোখের জলে মন ভিজিয়ে যায় চলে ঐ কোন্ উদাসী।
    বুকে কেন নীরব বীণা মুখে কেন নেইকো হাসি।।
    	আকাশে চাঁদ তারার মেলা
    	বনের পথে রঙের ডালা
    তবু কেন আঁখিতে ওর উথলে পড়ে অশ্রুরাশি।।
    	বনের হাওয়ায় বাজিয়ে বেণু১,
    	ছড়িয়ে চলে ফুলের রেণু
    বিদেশিকে আন্‌না ডেকে সাধ হয়েছে ভালবাসি।।
    

    ১. ফুলেল হাওয়া

  • চোখের নেশার ভালোবাসা

    বাণী

    চোখের নেশার ভালোবাসা সে কি কভু থাকে গো
    জাগিয়া স্বপনের স্মৃতি স্মরণে কে রাখে গো।।
    তোমরা ভোল গো যা’রে চিরতরে ভোল তা’রে
    মেঘ গেলে আবছায়া থাকে কি আকাশে গো।।
    পুতুল লইয়া খেলা খেলেছ বালিকা বেলা
    খেলিছ পরাণ ল’য়ে তেমনি পুতুল খেলা।
    ভাঙ্গিছ গড়িছ নিতি হৃদয়–দেবতাকে গো।
    চোখের ভালোবাসা গ’লে
    শেষ হ’য়ে যায় চোখের জলে
    বুকের ছলনা সেকি নয়ন জলে ঢাকে গো।।
    
  • ঝর্‌ল যে-ফুল ফোটার আগেই

    বাণী

    ঝর্‌ল যে-ফুল ফোটার আগেই তারি তরে কাঁদি, হায়!
    মুকুলে যার মুখের হাসি চোখের জলে নিভে যায়।।
    হায় যে-বুলবুল গুল্‌বাগিচায় গোলাপ কুঁড়ির গাইত গান,
    আকুল ঝড়ে আজ সে প'ড়ে পথের ধূলায় মূরছায়।।
    সুখ-নদীর উপকূলে বাঁধিল যে সোনার ঘর,
    আজ কাঁদে সে গৃহ-হারা বালুচরে নিরাশায়।।
    যাবার যারা, যায় না তারা — থাকে কাঁটা, ঝরে ফুল।
    শুকায় নদী মরুর বুকে, প্রভাত আলো মেঘে ছায়।।
    
  • ঝুমকো-লতার চিকন পাতায়

    বাণী

    ঝুমকো-লতার চিকন পাতায়
    হেরেছি তোমার লাবনি প্রিয়া।
    মহুয়া-ফুলের মদির গন্ধে
    তোমারই মুখ-মদের অমিয়া।।
    শুকতারায় তব নয়নের মায়া,
    তমাল-বনে তারি স্নিগ্ধ-ঘন-ছায়া।
    তাল পিয়ালে হেরি দীঘল তনু তব,
    ইহুদী দুল্ দুলে শশী-লেখায় নব।।
    ডালিম-দানাতে তব গালের লালী,
    তোমারি সুরে গাহে পিয়া-পাপিয়া।।
    
  • ডেকে ডেকে কেন তারে ভাঙালি ঘুমের ঘোর

    বাণী

    ডেকে ডেকে কেন তারে ভাঙালি ঘুমের ঘোর
    	কেন ভাঙালি
    স্বপনে মোর এসেছিল, সখি, স্বপন কুমার মনচোর
    	কেন ভাঙালি ঘুমের ঘোর।।
    সে যেন লো পাশে ব'সে কহিল হেসে হেসে
    ‌‘যাব না আর পরদেশে’, সখি, মোছ মোছ আঁখিলোর’।।
    দেখালো তার হৃদয় খুলি’, কহিল : ‌‘হের প্রিয়ে
    তোমার অধিক ব্যথা হেথায় তোমারে ব্যথা দিয়ে।’
    জানি না মোর হিয়ার চেয়েও অধিক ক্ষত তার হৃদয়
    সে হৃদয়ে আমার ছবি, সকল হিয়া আমি-ময়।
    তাহার জীবন-মালারি মাঝে, সখি, আমি যেন সোনার ডোর।।
    আমি কহিনু, বুঝেছি সখা তোমার এ দুখ দেওয়ার ছল,
    ভালোবাসার ফুল না শুকায় তুমি তাই চাহ মোর চোখেরই জল’।
    জেগে দেখি কেঁদে কেঁদে, সখি, ভিজেছে বুকের আঁচল।।
    
  • তুমি এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে

    বাণী

    তুমি	এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে
    যবে	ঝুরিছে সন্ধ্যামণি আঙিনাতে।
    ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
    	রোদের দাহে এলে স্নিগ্ধ-বাস ফুল-রেণু
    	নিঝুম প্রাণে এলে বাজায়ে ব্যাকুল বেণু
    ওগো	চাঁদের তিলক এলে আঁধার রাতে।
    ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
    	ফুল ঝরার বেলা এলে মোর শেষ অতিথি
    	কাঁদে হা হা স্বরে রিক্ত কানন-বীথি।
    	এলে রে মরুভূমে পিয়াসি চকোর মোর
    	শুক্লাতিথির শেষে কাঁদিতে এলে চকোর।
    (তুমি)	আসিলে জীবন-সাঁঝে ঘুম ভাঙাতে।
    ওগো	কে এলে গো চির সাথী অবেলাতে।।
    

  • তুমি নন্দন-পথ ভোলা

    বাণী

    তুমি নন্দন-পথ ভোলা।।
    তুমি মন্দাকিনী-ধারা উতরোলা।।
    তোমার প্রাণের পরশ লেগে
    কুঁড়ির বুকে মধু উঠ্‌ল জেগে,
    দোলন-চাঁপায় লাগে দোলা।।
    তোমারে হেরিয়া পুলকে ওঠে ডাকি’
    বকুল বনের ঘুমহারা পাখি,
    ধরার চাঁদ তুমি চির-উতলা।।
    
  • তোমার কুসুম বনে আমি আসিয়াছি ভুলে

    বাণী

    তোমার কুসুম বনে আমি আসিয়াছি ভুলে।
    তবু মুখপানে প্রিয় চাহ মুখ তুলে।।
    দেখি সে-দিনের সম, ওগো ভুলে-যাওয়া স্মৃতি মম
    তব ও-নয়নে আজো ওঠে কি-না দুলে।।
    ওগো ভুল ক’রে আসিয়াছি, জানি ভুলেছ, তুমিও
    তবু ক্ষণেকের তরে সে-ভুল ভেঙো না প্রিয়।
    তীর্থে এসেছি মম দেবীর দেউলে।।
    তোমার মাধবী-রাতে, আসিনি আমি কাঁদাতে
    কাঁদিতে এসেছি একা বিদায়-নদীর কূলে।।

  • তোমারি প্রকাশ মহান

    বাণী

    তোমারি প্রকাশ মহান, রে নিখিল দুনিয়া জাহান্!
    তোমারি জ্যোতিতে রওশন্ নিশিদিন জমিন ও আস্‌মান্‌।।
    নিভিল কোটি তপন চাঁদ তোমারে খুঁজিয়া প্রভু,
    কত দাউদ ঈশা মুসা করিল তব জয়গান।।
    তোমারে কত নামে হায় ডাকিছে বিশ্ব শিশুর প্রায়,
    কত নামে পূজে তোমায় ফেরেশতা হুর পরী ইনসান্।।
    
  • দাঁড়ালে দুয়ারে মোর

    বাণী

    		দাঁড়ালে দুয়ারে মোর		কে তুমি ভিখারিনী।
    		গাহিয়া সজল চোখে		বেলা-শেষের রাগিণী॥
    		মিনতি-ভরা আঁখি			ওগো কে তুমি ঝড়ের পাখি
    (ওগো)	কি দিয়ে জুড়াই ব্যথা		কেমনে কোথায় রাখি
    		কোন্ প্রিয় নামে ডাকি’		মান ভাঙাব মানিনী॥
    		বুকে তোমায় রাখতে প্রিয়	চোখে আমার বারি ঝরে,
    (ওগো)	চোখে যদি রাখিতে চাই		বুকে উঠে ব্যথা ভ’রে।
    		যত দেখি তত হায়,		ওগো পিপাসা বাড়িয়া যায়
    		কে তুমি যাদুকরী			স্বপন-মরু-চারিণী॥
    
  • দিতে এলে ফুল হে প্রিয়

    বাণী

    দিতে এলে ফুল,হে প্রিয়,কে আজি সমাধিতে মোর?
    এতদিনে কি আমারে পড়িল মনে মনচোর।।
    জীবনে যারে চাহনি তাহারে ঘুমাইতে দাও।
    মরণ-পারে ভেঙো না,ভেঙো না তাহার ঘুম-ঘোর।।
    দিতে এসে ফুল কেঁদো না প্রিয় মোর,সমাধি-পাশে
    ঝরিল যে ফুল অনাদরে হায়,নয়ন-জলে বাঁচিবে না সে!
    সামাধি-পাষাণ নহে গো তোমার সমান কঠোর।।
    কত আশা,সাধ মিশে যায় মাটির সনে
    মুকুলে ঝরে কত ফুল কীটেরি দহনে।
    কেন অসময়ে আসিলে,ফিরে যাও,মোছ আঁখি -লোর।।
    

  • নতুন নেশার আমার এ মদ

    বাণী

    নতুন নেশার আমার এ মদ বল কি নাম দেবো এরে বঁধুয়া।
    গোপী চন্দন গন্ধ মুখে এর বরণ সোনার চাঁদ চুঁয়া।।
    	মধু হ'তে মিঠে পিয়ে আমার মদ
    	গোধূলি রং ধরে কাজল নীরদ,
    প্রিয়েরে প্রিয়তম করে এ মদ মম, চোখে লাগায় নভোনীল ছোঁওয়া।।
    	ঝিম্ হয়ে আসে সুখে জীবন ছেয়ে,
    	পান্‌সে জোছনাতে পান্‌সি চলে বেয়ে,
    মধুর এ মদ নববধূর চেয়ে আমার মিতালী এ মহুয়া।। 
    
  • নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা

    বাণী

    নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা।
    দু'ধারে চরণ-পাতে ফুটায়ে ফুলের মেলা।।
    তোমার ওই কেশের সুবাস ফুলবন করিছে উদাস
    কুসুম ভুলিয়া মলয় ও কেশে করিছে খেলা।।
    লুটায়ে পড়ে ফুল-দল পরিবে বলিয়া খোঁপায়
    ওগো চলিবে বলি' বনতল ফুলেরা পরাগে রাঙায়,
    ও-পায়ে আলতা হ'তে চায় রঙিন গোধূলি-বেলা।।
    'চলিয়া যেয়ো না, যেয়ো না' বলি' লতারা চরণে জড়ায়,
    রোধিতে কন্টক-তরু, আঁচল ছাড়িতে না চায়;
    আকাশে ইশারায় ডাকে দ্বিতীয়া চাঁদের ভেলা।।
    
  • নিশি ভোর হলো জাগিয়া পরান-পিয়া

    বাণী

    নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
    কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
    	কত গুল্‌বদনী জাগে
    রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	জেগে রয়, জাগার সাথী
    	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
    কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
    	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
    	জেগে র’স কবি এপারে
    দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।
    
  • পথ চলিতে যদি চকিতে

    বাণী

    পথ চলিতে যদি চকিতে কভু দেখা হয়, পরান-প্রিয়!
    চাহিতে যেমন আগের দিনে তেমনি মদির চোখে চাহিও।।
    		যদি গো সেদিন চোখে আসে জল,
    		লুকাতে সে জল করিও না ছল,
    যে-প্রিয় নামে ডাকিতে মোরে সে-নাম ধরে বারেক ডাকিও।।
    		তোমার বঁধু পাশে (হায়) যদি রয়,
    		মোরও প্রিয় সে, করিও না ভয়,
    কহিব তা’রে, ‘আমার প্রিয়ারে আমারো অধিক ভালোবাসিও’।।‌
    		বিরহ-বিধুর মোরে হেরিয়া,
    		ব্যথা যদি পাও যাব সরিয়া,
    রব না হ’য়ে পথের কাঁটা, মাগিব এ বর মোরে ভুলিও।।
    

  • পরদেশি বঁধুয়া এলে কি এতদিনে

    বাণী

    পরদেশি বঁধুয়া, এলে কি এতদিনে
    আসিলে এতদিন কেমনে পথ চিনে।।
    তোমারে খুঁজিয়া কত রবি-শশী
    অন্ধ হইল প্রিয় নিভিল তিমিরে
    তব আশে আকাশ-তারা দ্বীপ জ্বালি'
    জাগিয়াছে নিশি ঝুরিয়া শিশিরে।
    শুকায়েছে স্বরগ দেবতা তোমা বিনে।।
    কত জনম ধরি' ছিলে বল পাসরি'
    এতদিনে বাঁশরি বাজিল কি বিপিনে।।
    
  • পরদেশী বঁধু ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি

    বাণী

    পরদেশী বঁধু! ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি
    যদি গো নিশীথে গো ঘুমাইয়া থাকি।
    	আমি ঘুমাইয়া থাকি
    	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।
    যদি দীপ নেভে গো কুটিরে
    বাতায়ন-পানে চাহি' যেয়ো না গো ফিরে',
    নিভেছে আঁখি শিখা প্রাণ আছে বাকি
    	আজো প্রাণ আছে বাকি
    	ঘুম ভাঙায়ো চুমি' আঁখি।।
    
  • পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে চল গো

    বাণী

    পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে			চল গো পানসি বেয়ে’।
    ঢেউ-এর তালে তালে			বাঁশিতে গজল গেয়ে’।।
    মেঘের ফাঁকে ফোটে			বাঁকা শশীর চিকন হাসি,
    উজান বেয়ে চল			তুমি কি তার চোখে চেয়ে।।
    ও-পারে লুকায়ে আঁধার		গভীর ঘন বন-ছায়,
    আকাশে হেলান দিয়ে			আলসে পাহাড় ঘুমায়।
    ঘুমায়ে দূরে সে কোন গ্রাম		বাসরে পল্লী-বধূর প্রায়
    এ-পারে ধূ-ধূ বালুচর			যেন নদীর আঁচল লুটায়।
    ছাড়ি’ এ সুখ-বাস			চলেছ কোথায় গো নেয়ে।।
    নদীর দু’তীরে টানে			বেতস-লতা উত্তরীয়,
    চমকি’ উঠি’ চখি			ডাকে মুহু মুহু ‘কিও!’
    চকোরী চাঁদে ভুলি’			চাহে তব মুখপানে,
    কেঁদে পাপিয়া শুধায়,			‘পিউ কাঁহা, কাঁহা পিও।’
    তুমি যাও আপন-বিভোল		স্বপনে নয়ন ছেয়ে’।।