কাহার্‌বা

  • ওরে হুলো রে তুই রাত বিরেতে

    বাণী

    ওরে		হুলো রে তুই রাত বিরেতে ঢুকিস্‌নে হেঁসেল্।
    তুই		কবে বেঘোরে প্রাণ হারাবি বুঝিস্‌নে রাস্কেল্।।
    আমি		স্বীকার করি শিকারি তুই তোর গোঁফ দেখেই চিনি,
    		গাছে কাঁঠাল ঝুলতে দেখে দিস্ গোঁফে তুই তেল।।
    		ওরে ছোঁচা ওরে ওঁছা বাড়ি বাড়ি তুই হাঁড়ি খাস,
    		নাদ্‌নার বাড়ি খেয়ে কোন্‌দিন ধনে প্রাণে বা মারা যাস্‌,
    কেঁদে		মিয়াঁও মিয়াঁও ব’লে বিবি বেরালি করবে রে হার্টফেল।।
    		তানপুরারই সুরে যখন তখন গলা সাধিস্,
    শুনে		ভুলো তোরে তেড়ে আসে, ন্যাজ তুলে ছুটিস্,
    তোরে	বস্তা পু’রে কবে কে চালান দিবে ধাপা-মেল।।
    		বৌঝি যখন মাছ কোটে রে, তুমি খোঁজ দাঁও,
    		বিড়াল-তপস্বী আড়নয়নে থালার পানে চাও,
    তুই		উত্তম মধ্যম খা’স এত তবু হ’ল না আক্কেল।।
    
  • কত আর এ মন্দির দ্বার হে প্রিয় রাখিব খুলি

    বাণী

    	কত আর এ মন্দির দ্বার, হে প্রিয়, রাখিব খুলি'
    	বয়ে যায় যে লগ্নের ক্ষণ, জীবনে ঘনায় গোধূলি।।
    	নিয়ে যাও বিদায়-আরতি, হ'ল ম্লান আঁখির জ্যোতি;
    	ঝরে যায় শুষ্ক স্মৃতির মালিকা-কুসুমগুলি।।
    	কত চন্দন ক্ষয় হ'ল হায়, কত ধূপ পুড়িল বৃথায়;
    	নিরাশায় সে পুষ্প কত ও পায়ে হইল ধূলি।।
    ও	বেদী-তলে কত প্রাণ — হে পাষাণ নিলে বলিদান;
    	তবু হায় দিলে না দেখা — দেবতা, রহিলে ভুলি'।।
    
  • কত কথা ছিল তোমায় বলিতে

    বাণী

    কত কথা ছিল তোমায় বলিতে
    ভুলে যাই হয় না বলা পথ চলিতে।।
    ভ্রমরা আসে যবে বনেরই পথে
    না-বলা সেই কথা কয় ফুল-কলিতে।।
    পুড়ে মরে পতঙ্গ, দীপ তবু
    পারে না বলিতে, থাকে জ্বলিতে।।
    সে কথা কইতে গিয়ে গুণীর বীণা
    কাঁদে কভু সারঙ কভু ললিতে।।
    যত বলিতে চাই লুকাই তত
    গেল মোর এ জনম হায় মন ছলিতে।।
    
  • কত কথা ছিল বলিবার

    বাণী

    কত কথা ছিল বলিবার, বলা হ’ল না।
    বুকে পাষাণ সম রহিল তারি বেদনা।।
    	মনে রহিল মনের আশা
    	মিটিল না প্রাণের পিপাসা,
    বুকে শুকালো বুকের ভাষা — মুখে এলো না।।
    	এত চোখের জল, এত গান
    	এত আদর সোহাগ অভিমান,
    কখন সে হ’ল অবসান — বোঝা গেল না।।
    	ঝরিল কুসুম যদি হায়!
    কেন স্মৃতির কাঁটাও নাহি যায়,
    বুঝিল না কেহ কাহারো মন বিধির ছলনা।।
    
  • কত নিদ্রা যাও রে কন্যা

    বাণী

    কত নিদ্রা যাও রে কন্যা		জাগো একটু খানি
    যাবার বেলায় শুনিয়া যাই		তোমার মুখের বাণী।।
    নিশীথিনীর ঘুম ভেঙে যায়	চন্দ্র যখন হেসে তাকায় গো
    চাতাকিনী ঘুমায় কি গো		দেখলে মেঘের পানি।।
    ফুলের কুঁড়ি চোখ মেলে চায়	যেই না ভ্রমর বোলে (রে কন্যা)
    বসন্ত আসিলে রে কন্যা		বনের লতা দোলে (রে কন্যা)
    যারা আছে প্রাণে প্রাণে		জাগে তারা ঘুম না জানে
    আমি যখন রইব না গো		(তখন) জাগবে তুমি জানি।।
    
  • কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও

    বাণী

    কত ফুল তুমি পথে ফেলে দাও (প্রিয়) মালা গাঁথ অকারনে
    আমি চয়েছিনু একটি কুসুম সেই কথা পড়ে মনে।।
    	তব ফুলবনে কত ছায়া দোলে
    	জুড়াইতে চেয়েছিনু তারি তলে
    চাহিলে না ফিরে চলে গেলে ধীরে ছায়া-ঢাকা অঙ্গনে।।
    অঞ্জলি পাতি' চেয়েছিনু, তব ভরা ঘটে ছিল বারি
    শুষ্ক-কন্ঠে ফিরিয়া আসিনু পিপাসিত পথচারী।
    	বহুদিন পরে দাঁড়াইনু এসে
    	তোমারি দুয়ারে উদাসীন বেশে
    শুকানো মালিকা কেন দিলে তুমি তব ভিক্ষার সনে।।
    
  • কথা কইবে না বউ

    বাণী

    কথা কইবে না বউ, তোর সাথে তার আড়ি,
    বউ মান করেছে, আজি চলে যাবে বাপের বাড়ি।।
    বউ কসনে কথা কসনে,
    এত অল্পে অধীর হ'সনে
    ও নতুন ফুলের খবর পেলে
    পালিয়ে যাবে তোকে ফেলে,
    ওর মন্দ স্বভাব ভারি।।
    

    ছায়াছবিঃ ‌‘সাপুড়ে’

  • কবি সবার কথা কইলে এবার

    বাণী

    কবি,		সবার কথা কইলে, এবার নিজের কথা কহ।১
    (কেন)	নিখিল ভুবন অভিমানের আগুন দিয়ে দহ।।
    		কে তোমারে হান্‌ল হেলা, কবি!
    (হায়!)	সুরে সুরে আঁক কি গো সেই বেদনার ছবি?
    		কা’র বিরহ রক্ত ঝরায় বক্ষে অহরহ।।
    		কোন্‌ ছন্দময়ীর ছন্দ দোলে আমার গানে গানে,
    		তোমার সুরের স্রোত ব’য়ে যায় কাহার প্রেমের টানে গো —
    		কাহার চরণ পানে?
    		কাহার গলায় ঠাঁই পেল না ব’লে
    (তব)		কথার মালা ব্যথার মত প্রতি হিয়ায় দোলে,
    (তোমার)	হাসিতে যে বাঁশি বাজে, সে ত’ তুমি নহ।।
    

    ১. সবার কথা কইলে কবি নিজের কথা কহ।

  • কবে সে মদিনার পথে

    বাণী

    কবে সে মদিনার পথে, গিয়াছে সুজন।
    বহায়ে নয়ন বারি, ভিজিল বসন।।
    	রমজানের ঐ চাঁদ নবী,
    	পাঠাইলেন নূরের খুবী,
    পাগল করে আমার হিয়া করেছে হরণ।।
    	পশুপাখি তরুলতা,
    	তারা শুধায় পারের কথা,
    আমি একলা বসে ভাবছি হেথা নবীজীর কারণ।।
    	বেড়াই আমি পথে পথে,
    	খুঁজে না পাই মদিনাতে,
    কোথায় গেলেন পাক মোস্তফা অমূল্য রতন।।
    [দুখুমিয়ার লেটোগান, সংগ্রহ ও সম্পাদনা : মুহম্মদ আয়ুব হোসেন, বিশ্বকোষ পরিষদ, কলকাতা, ২০০৩]
    

    রেকর্ড

    কবে সে মদিনা পথে গিয়াছে সুজন।
    বহায়ে নয়ন-বারি (আমার) ভিজায়ে বদন।।
    	রমজানের চাঁদে নবী, 
    	পাঠায় সদা নূরের ছবি, 
    পাগল করে আমার মন করেছে হরণ।।
    	পশুপাখি তরুলতা, 
    	তাদের শুধাই পথের কথা, 
    কেমনে পাবো সে চাঁদে জীবন-শরণ।।
    	খুঁজে সে মদিনা-নাথে, 
    	কেঁদে ফিরি পথে পথে, 
    কোথা গেলে পাবো আমি ও রাঙা চরণ।।
    
  • করুণ কেন অরুণ আঁখি

    বাণী

    করুণ কেন অরুণ আঁখি দাও গো সাকি দাও শারাব
    হায় সাকি এ আঙ্গুরী খুন নয় ও হিয়ার খুন–খারাব।।
    আর সহে না দিল্‌ নিয়ে এই দিল–দরদির দিল্‌লাগী,
    তাইতে চালাই নীল পিয়ালায় লাল শিরাজি বে–হিসাব।।
    হারাম কি এই রঙিন পানি আর হালাল এই জল চোখের?
    নরক আমার হউক মঞ্জুর বিদায় বন্ধু!লও আদাব।।
    দেখ্‌ রে কবি, প্রিয়ার ছবি এই শারাবের আর্শিতে,
    লাল গেলাসের কাঁচ্‌–মহলার পার হ’তে তার শোন্‌ জবাব্‌।।
    

  • কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি

    বাণী

    	কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি
    	ঝিনুকের বুকে লুকিয়ে থাকে যেমন মোতি।।
    	ঐ কলমা জপে যে ঘুমের আগে
    	ঐ কলমা জপিয়া যে প্রভাতে জাগে,
    	দুখের সংসার যার সুখময় হয়, তা’র —
    তার	মুসিবত আসে নাকো, হয় না ক্ষতি।।
    	হরদম জপে মনে কলমা যে জন
    	খোদায়ী তত্ত্ব তা’র রহে না গোপন
    	দিলের আয়না তার হয়ে যায় পাক সাফ
    	আল্লার রাহে তার রহে মতি।
    সদা	আল্লার রাহে তার রহে মতি।।
    	এসমে আজম হতে কদর ইহার
    	পায় ঘরে ব’সে খোদা রসুলের দিদার
    	তাহারি হৃদয়াকাশে সাত বেহেশত নাচে
    	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
    তার	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
    

  • কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়

    বাণী

    কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
    আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
    হাজীদের ঐ যাত্রা–পথে
    দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
    কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
    পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
    তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
    বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
    মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
    তুই দিস্‌ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’–হাওয়ায়।।
    
  • কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী

    বাণী

    কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী দূর ভালো।
    নাই কহিলে কথা তুমি ব'লো গানে সুর ভালো।।
    	নাই দাঁড়ালে কাছে আসি'
    	দূরে থেকেই বাজিয়ো বাঁশি।
    চরণ তোমার নাই বা পেলাম চরণের নূপুর ভালো।।
    ওগো পথে পাওয়ার চেয়ে আমায় চাওয়ায় যেন পথ-বঁধু
    দুই কূলেতে রইব দুজন বইবে মাঝে স্রোত-বঁধূ।
    	পরশ তোমার চাই না প্রিয়
    	তোমার হাতের আঘাত দিও
    মিলন তোমার সইতে নারি বেদনা-বিধুর ভালো।।
    
  • কার ঝর ঝর বর্ষণ বাণী

    বাণী

    (কার)	ঝর ঝর বর্ষণ বাণী
    	যায় দিক দিগন্তে বেদনা হানি’।।
    	করুণ সুরে দূর অলকায়
    	যেন অবিরল বীণা বাজায়
    		বিরহের বীণাপাণি।।
    	গীত পিপাসিত বসুন্ধরা
    	শোনে সেই সুর প্রাণ উদাস করা।
    	তারি ভাষায় বেদনা আভাস
    	কাঁদায় ভুবন আকাশ বাতাস
    		পথ প্রান্তর বনানী।।
    
  • কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর

    বাণী

    কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
    ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
    যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
    শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
    ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
    ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
    গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
    কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।
    
  • কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে

    বাণী

    কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে মন উদাস করা দুপুরে (গো)।
    সখি কে কাহারে চায়
    আজো সুরে সুরে ঝুরে ঝুরে কাহারে ধেয়ায়
    মোর মন যেতে চায় বাঁশুরিয়ার সুরের দেশে উড়ে (গো)।।
    হেরি যেতে নদী পথে
    সে ভাঁট ফুলেরি মালা গেঁথে ভাসায় ভাটির স্রোতে (গো)
    আমার সাধ জাগে ঐ মালা যাহার দেখি সেই বঁধু রে (গো)।।
    
  • কার মঞ্জীর রিনিঝিনি বাজে

    বাণী

    কার মঞ্জির রিনিঝিনি বাজে — চিনি চিনি।
    প্রাণের মাঝে সদা বাজে তারি রাগিণী।।
    বন-শিরিষের জিরিজিরি পাতায়
    ধীরি ধীরি ঝিরি ঝিরি নূপুর বাজায়,
    তমাল-ছায়ায় বেড়ায় ঘুরে মায়া-হরিণী।।
    আমার গানে তারি চরণের অনুরণনে
    ছন্দ জাগে গন্ধে রসে রূপে বরণে। 
    কান পেতে রই দুয়ার পাশে —
    তারি আসার আভাস আসে,
    ঝঙ্কার তোলে মনের বীণায় বীণ-বাদিনী।।
    
  • কারো ভরসা করিসনে তুই

    বাণী

    		কারো ভরসা করিসনে তুই (ও মন) এক আল্লার ভরসা কর।
    		আল্লা যদি সহায় থাকেন (ও তোর) ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
    		রোগে শোকে দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে রে
    তুই		মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাস্‌নে খোদার নেক্‌-নজর।।
    		রাজার রাজা বাদশাহ্‌ যিনি গোলাম হ তুই সেই খোদার,
    		বড় লোকের দুয়ারে তুই বৃথাই হাত পাতিস্‌নে আর।
    		তোর দুখের বোঝা ভারি হ’লে ফেলে প্রিয়জনও যায় রে চ’লে
    সেদিন	ডাক্‌লে খোদায় তাঁহার রহম (ওরে) ঝরবে রে তোর মাথার ’পর।।
    
  • কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

    বাণী

    কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
    জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
    কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
    বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
    জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
    ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
    জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
    সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
    কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
    চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
    এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।
    
  • কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

    বাণী

    কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
    চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
    	কমলা গোলোকে
    	গোপিনী ভুলোকে,
    সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
    	শ্যাম ভুবন কালো
    	রাই অরুণ আলো,
    হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
    	ব্রজধাম বাসিনী
    	লীলা বিলাসিনী,
    শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
    	শ্যাম মেঘ গলে
    	রাই বিজলি দোলে,
    শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
    	লয়ে যাঁহার নাম
    	হরি হন রাধা শ্যাম,
    সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।