কাহার্‌বা

  • কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে

    বাণী

    কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে মন উদাস করা দুপুরে (গো)।
    সখি কে কাহারে চায়
    আজো সুরে সুরে ঝুরে ঝুরে কাহারে ধেয়ায়
    মোর মন যেতে চায় বাঁশুরিয়ার সুরের দেশে উড়ে (গো)।।
    হেরি যেতে নদী পথে
    সে ভাঁট ফুলেরি মালা গেঁথে ভাসায় ভাটির স্রোতে (গো)
    আমার সাধ জাগে ঐ মালা যাহার দেখি সেই বঁধু রে (গো)।।
    
  • কার মঞ্জীর রিনিঝিনি বাজে

    বাণী

    কার মঞ্জির রিনিঝিনি বাজে — চিনি চিনি।
    প্রাণের মাঝে সদা বাজে তারি রাগিণী।।
    বন-শিরিষের জিরিজিরি পাতায়
    ধীরি ধীরি ঝিরি ঝিরি নূপুর বাজায়,
    তমাল-ছায়ায় বেড়ায় ঘুরে মায়া-হরিণী।।
    আমার গানে তারি চরণের অনুরণনে
    ছন্দ জাগে গন্ধে রসে রূপে বরণে। 
    কান পেতে রই দুয়ার পাশে —
    তারি আসার আভাস আসে,
    ঝঙ্কার তোলে মনের বীণায় বীণ-বাদিনী।।
    
  • কারো ভরসা করিসনে তুই

    বাণী

    		কারো ভরসা করিসনে তুই (ও মন) এক আল্লার ভরসা কর।
    		আল্লা যদি সহায় থাকেন (ও তোর) ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
    		রোগে শোকে দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে রে
    তুই		মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাস্‌নে খোদার নেক্‌-নজর।।
    		রাজার রাজা বাদশাহ্‌ যিনি গোলাম হ তুই সেই খোদার,
    		বড় লোকের দুয়ারে তুই বৃথাই হাত পাতিস্‌নে আর।
    		তোর দুখের বোঝা ভারি হ’লে ফেলে প্রিয়জনও যায় রে চ’লে
    সেদিন	ডাক্‌লে খোদায় তাঁহার রহম (ওরে) ঝরবে রে তোর মাথার ’পর।।
    
  • কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

    বাণী

    কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
    জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
    কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
    বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
    জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
    ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
    জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
    সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
    কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
    চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
    এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।
    
  • কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

    বাণী

    কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
    চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
    	কমলা গোলোকে
    	গোপিনী ভুলোকে,
    সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
    	শ্যাম ভুবন কালো
    	রাই অরুণ আলো,
    হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
    	ব্রজধাম বাসিনী
    	লীলা বিলাসিনী,
    শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
    	শ্যাম মেঘ গলে
    	রাই বিজলি দোলে,
    শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
    	লয়ে যাঁহার নাম
    	হরি হন রাধা শ্যাম,
    সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।
    
  • কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

    বাণী

    		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
    ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
    		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
    ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
    আমি		তারি লাগি রে
    		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
    		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
    ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
    ও সে		রয় না ঘরে রে
    ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
    তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
    ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।
    
  • কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন

    বাণী

    কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন শিকায় ঝুলে
    কাচের জারে বেচারা তুই মরিস কেন ফেঁপে ফু’লে।।
    কাঁচা তেঁতুল পেয়ারা আম
    ডাঁশা জামরুল আর গোলাপ জাম —
    যেমনি তোরে দেখিলাম অমনি সব গেলাম ভুলে।।
    

    নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

  • কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু

    বাণী

    কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু হে ফুল-দেবতা লহ প্রণাম।
    বিটপী লতায় চিকন পাতায় ছিটাও হাসি কিশোর শ্যাম।।
    পূজার থালা এ অর্ঘ্য-ডালা এনেছি দিতে তোমার পায়
    দেহ শুভ বর কুসুম-সুন্দর হোক নিখিল নয়নাভিরাম
    এ বিশ্ব বিপুল কুসুম-দেউল হোক তোমার ফুল কিশোর
    মুরলী করে এসো গোলক-বিহারী হোক ভূ-লোক আনন্দ-ধাম।।
    

    নাটকঃ‘সাবিত্রী’

  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা রাধা রাধা বল্,
    রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ বল্।।
    যোগে খোঁজেন শিব কৃষ্ণ-গোবিন্দে
    ব্রহ্মা পূজেন রাধা-চরণারবিন্দে,
    অধরা যুগল চাঁদে ধরিল প্রেমের ফাঁদে গোপ গোপীদল।।
    (মোর) শ্রীকৃষ্ণে থাকে যেন অটল মতি
    সেই মতি দেন্ মোর রাধা শ্রীমতী,
    মন-বৃন্দাবনে ফোটে কৃষ্ণ নামের ফুল —
    ঝরায়ে সে-ফুল রাই দেন সবে প্রেম-ফল।।
    রাধাকৃষ্ণ বল্ ওরে নর-নারী
    সংসার বনে তোরা যেন শুক-শারি,
    তার, পরানে নিত্য রাস-রসের উল্লাস —
    যাহার হৃদয়ে দোলে মূরতি যুগল।।
    
  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল
    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, প্রেমের লহর তোল
    	রে মন মায়ার বন্ধন খোল।।
    নিরালা হৃদয়-যমুনাতে কে বাজায় বাঁশি আধেক রাতে
    তুই কুল ভুলে চল তাহারি সাথে প্রেম-আনন্দে দোল।
    	ও তুই প্রেম-আনন্দে দোল।।
    সে গোলক হাতে ভালবাসে গোকুল বৃন্দাবন
    মধুর প্রেমের-ভিখারি সে মদন মোহন।
    প্রেম দিয়ে যে বাঁধতে পারে, সাধ কবে তার কাছে হারে
    মুনি-ঋষি পায় না তারে গোপীরা পায় কোল।
    	ও তার গোপীরা পায় কোল।।
    
  • কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

    বাণী

    কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
    রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
    আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
    আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
    মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
    ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
    তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
    তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
    	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
    তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
    	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
    	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।
    
  • কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন

    বাণী

    কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন-লোকের বন্ধু গোপন
    নাইতে আমার গানের ধারায় এলে সুরের মানসী কোন।।
    	গান গেয়ে যাই আপন মনে
    	সুরের পাখি গহন-বনে
    সে সুর বেঁধে কার নয়নে জানে শুধু তারি নয়ন।।
    	সুরের গোপন বাসর-ঘরে
    	গানের মালা বদল ক'রে
    সকল আঁখির অগোচরে না দেখাতেই মোদের মিলন।।
    

  • কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল

    বাণী

    		কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল —
    		টগর যূথী, বেলা মালতী
    		চাঁপা, গোলাপ, বকুল, নার্গিস ইরানি-গুল।।
    		আমার যৌবন-বাগানে
    		হাওয়া লেগেছে ফুল-জাগানে,
    		চ'লে যেতে ঢ'লে পড়ি, খুলে পড়ে এলো চুল;
    		তনু-মন আকুল আঁখি ঢুলুঢুল্‌।।
    (ওগো) 	ফুটেছে এত ফুল, ফুলমালী কই?
    		গাঁথিবে মালা কবে? সেই আশে রই;
    		এ মালা দেব কা'রে ভেবে সারা হই,
    		সহিতে পারি না এ ফুল-ঝামেলা, চামেলি-পারুল।।
    
  • কে বলে গো তুমি আমার নাই

    বাণী

    কে বলে গো তুমি আমার নাই?
    তোমার গানে পরশ তব পাই।।
    তোমায়-আমায় এই নীরবে
    জানাজানি অনুভবে,
    তোমার সুরের গভীর রবে আমারি কথাই।।
    হে বিরহী আমায় বারে বারে
    স্মারণ করো সুরের সিন্ধু পারে
    ওগো গুণী পেয়ে মায়
    যদি তোমার গান থেমে যায়,
    উঠবে কাঁদন সুরের সভায় চাই না কাছে তাই।।
    
  • কে বিদেশি বন-উদাসী

    বাণী

    কে বিদেশি		বন-উদাসী'
    বাঁশের বাঁশি		বাজাও বনে।
    সুর-সোহাগে	তন্দ্রা লাগে
    কুসুম-বাগের	গুল-বদনে।।
    ঝিমিয়ে আসে	ভোমরা-পাখা
    যুথীর চোখে		আবেশ মাখা
    কাতর ঘুমে		চাঁদিমা রাকা
    ভোর গগনের	দর-দালানে
    দর-দালানে		ভোর গগনে।।
    লজ্জাবতীর		লুলিত লতায়
    শিহর লাগে		পুলক-ব্যথায়
    মালিকা সম		বঁধুরে জড়ায়
    বালিকা-বঁধু		সুখ-স্বপনে।।
    বৃথাই গাঁথি		কথার মালা
    লুকাস কবি		বুকের জ্বালা,
    কাঁদে নিরালা	বনশিওয়ালা
    তোরি উতলা	বিরহী মনে।।
    
  • কে সাজালো মাকে আমার

    বাণী

    	কে সাজালো মাকে আমার বিসর্জনের বিদায় সাজে
    	আজ সারাদিন কেন এমন করুণ সুরে বাঁশি বাজে॥
    	আনন্দেরি প্রতিমাকে হায়, বিদায় দিতে পরান নাহি চায়
    	মা-কে ভাসিয়ে জলে কেমন করে রইব আঁধার ভবন মাঝে॥
    মা’র	আগমনে বেজেছিল প্রাণে নূতন আশার বাঁশি
    	দুঃখ শোক ভয় ভুলেছিলাম দেখে মা অভয়ার মুখের হাসি।
    	মা দশ হাতে আনন্দ এনেছিল, বিশ হাতে আজ দুঃখ ব্যথা দিল
    মা	মৃন্ময়ীকে ভাসিয়ে জলে, পাব চিন্ময়ীকে বুকের মাঝে॥
    
  • কেউ ভোলে না কেউ ভোলে

    বাণী

    কেউ		ভোলে না কেউ ভোলে অতীত দিনের স্মৃতি
    কেউ		দুঃখ ল’য়ে কাঁদে কেউ ভুলিতে গায় গীতি।।
    কেউ		শীতল জলদে হেরে অশনির জ্বালা
    কেউ		মুঞ্জরিয়া তোলে তার শুষ্ক কুঞ্জ–বীথি।।
    হেরে		কমল–মৃণালে কেউ কাঁটা কেহ কমল।
    কেউ		ফুল দলি’ চলে কেউ মালা গাঁথে নিতি।।
    কেউ		জ্বালে না আর আলো তার চির–দুখের রাতে,
    কেউ		দ্বার খুলি’ জাগে চায় নব চাঁদের তিথি।।
    
  • কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া

    বাণী

    কেঁদে যায় দখিন-হাওয়া ফিরে ফুল-বনের গলি।
    ‘ফিরে যাও চপল পথিক’, দু’লে কয় কুসুম-কলি।
    		দু’লে কয় কুসুম-কলি॥
    ফেলিছে সমীর দীরঘ শ্বাস —  
    আসিবে না আর এ মধুমাস,
    কহে ফুল, ‘জনম জনম এমনি গিয়াছ ছলি’।
    		জনম জনম গিয়াছ ছলি’॥
    কাঁদে বায়, ‘নিদাঘ আসে
    আমি যাই সুদূর বাসে’,
    ফুটে ফুল হাসিয়া ভাসে, ‘প্রিয়তম যেয়োনা চলি’।
    		ওগো প্রিয়তম যেয়োনা চলি’॥
    

  • কেন আসিলে ভালোবাসিলে

    বাণী

    কেন আসিলে ভালোবাসিলে দিলে না ধরা জীবনে যদি।
    বিশাল চোখে মিশায়ে মরু চাহিলে কেন গো বে–দরদী।।
    		ছিনু অচেতন আপনা নিয়ে
    		কেন জাগালে আঘাত দিয়ে
    তব আঁখিজল সে কি শুধু ছল একি মরু হায় নহে জলধি।।
    ওগো কত জনমের কত সে কাঁদন করে হাহাকার বুকেরি তলায়
    ওগো কত নিরাশায় কত অভিমান ফেনায়ে ওঠে গভীর ব্যথায়।
    মিলন হবে কোথায় সে কবে কাঁদিছে সাগর স্মরিয়া নদী।।
    
  • কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে

    বাণী

    কেন চাঁদিনী রাতে মেঘ আসে ছায়া ক’রে।
    সুখের বাসরে কেন, প্রাণ ওঠে বিষাদে ভ’রে।।
    কেন মিলন রাতে, সলিল আঁখি পাতে,
    কেন ফাগুন প্রাতে, সহসা বারি ঝরে।।
    ডাকিয়া ফুলবনে, থাকে সে আনমনে,
    কাঁদায় নিরজনে, কাঁদে কে কিসের তরে।।