কাহার্‌বা

  • কবে সে মদিনার পথে

    বাণী

    কবে সে মদিনার পথে, গিয়াছে সুজন।
    বহায়ে নয়ন বারি, ভিজিল বসন।।
    	রমজানের ঐ চাঁদ নবী,
    	পাঠাইলেন নূরের খুবী,
    পাগল করে আমার হিয়া করেছে হরণ।।
    	পশুপাখি তরুলতা,
    	তারা শুধায় পারের কথা,
    আমি একলা বসে ভাবছি হেথা নবীজীর কারণ।।
    	বেড়াই আমি পথে পথে,
    	খুঁজে না পাই মদিনাতে,
    কোথায় গেলেন পাক মোস্তফা অমূল্য রতন।।
    [দুখুমিয়ার লেটোগান, সংগ্রহ ও সম্পাদনা : মুহম্মদ আয়ুব হোসেন, বিশ্বকোষ পরিষদ, কলকাতা, ২০০৩]
    

    রেকর্ড

    কবে সে মদিনা পথে গিয়াছে সুজন।
    বহায়ে নয়ন-বারি (আমার) ভিজায়ে বদন।।
    	রমজানের চাঁদে নবী, 
    	পাঠায় সদা নূরের ছবি, 
    পাগল করে আমার মন করেছে হরণ।।
    	পশুপাখি তরুলতা, 
    	তাদের শুধাই পথের কথা, 
    কেমনে পাবো সে চাঁদে জীবন-শরণ।।
    	খুঁজে সে মদিনা-নাথে, 
    	কেঁদে ফিরি পথে পথে, 
    কোথা গেলে পাবো আমি ও রাঙা চরণ।।
    
  • করুণ কেন অরুণ আঁখি

    বাণী

    করুণ কেন অরুণ আঁখি দাও গো সাকি দাও শারাব
    হায় সাকি এ আঙ্গুরী খুন নয় ও হিয়ার খুন–খারাব।।
    আর সহে না দিল্‌ নিয়ে এই দিল–দরদির দিল্‌লাগী,
    তাইতে চালাই নীল পিয়ালায় লাল শিরাজি বে–হিসাব।।
    হারাম কি এই রঙিন পানি আর হালাল এই জল চোখের?
    নরক আমার হউক মঞ্জুর বিদায় বন্ধু!লও আদাব।।
    দেখ্‌ রে কবি, প্রিয়ার ছবি এই শারাবের আর্শিতে,
    লাল গেলাসের কাঁচ্‌–মহলার পার হ’তে তার শোন্‌ জবাব্‌।।
    

  • কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি

    বাণী

    	কলমা শাহাদতে আছে খোদার জ্যোতি
    	ঝিনুকের বুকে লুকিয়ে থাকে যেমন মোতি।।
    	ঐ কলমা জপে যে ঘুমের আগে
    	ঐ কলমা জপিয়া যে প্রভাতে জাগে,
    	দুখের সংসার যার সুখময় হয়, তা’র —
    তার	মুসিবত আসে নাকো, হয় না ক্ষতি।।
    	হরদম জপে মনে কলমা যে জন
    	খোদায়ী তত্ত্ব তা’র রহে না গোপন
    	দিলের আয়না তার হয়ে যায় পাক সাফ
    	আল্লার রাহে তার রহে মতি।
    সদা	আল্লার রাহে তার রহে মতি।।
    	এসমে আজম হতে কদর ইহার
    	পায় ঘরে ব’সে খোদা রসুলের দিদার
    	তাহারি হৃদয়াকাশে সাত বেহেশত নাচে
    	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
    তার	আল্লার আরশে হয় আখেরে গতি।
    

  • কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়

    বাণী

    কা’বার জিয়ারতে তুমি কে যাও মদিনায়।
    আমার সালাম পৌঁছে দিও নবীজীর রওজায়।।
    হাজীদের ঐ যাত্রা–পথে
    দাঁড়িয়ে আছি সকাল হ’তে,
    কেঁদে’ বলি, কেউ যদি মোর সালাম নিয়ে যায়।।
    পঙ্গু আমি, আরব সাগর লঙ্ঘি কেমন ক’রে,
    তাই নিশিদিন কাবা যাওয়ার পথে থাকি প’ড়ে।
    বলি, ওরে দরিয়ার ঢেউ
    মোর সালাম নিয়ে গেল না কেউ,
    তুই দিস্‌ মোর সালামখানি মরুর ‘লু’–হাওয়ায়।।
    
  • কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী

    বাণী

    কাছে আমার নাইবা এলে হে বিরহী দূর ভালো।
    নাই কহিলে কথা তুমি ব'লো গানে সুর ভালো।।
    	নাই দাঁড়ালে কাছে আসি'
    	দূরে থেকেই বাজিয়ো বাঁশি।
    চরণ তোমার নাই বা পেলাম চরণের নূপুর ভালো।।
    ওগো পথে পাওয়ার চেয়ে আমায় চাওয়ায় যেন পথ-বঁধু
    দুই কূলেতে রইব দুজন বইবে মাঝে স্রোত-বঁধূ।
    	পরশ তোমার চাই না প্রিয়
    	তোমার হাতের আঘাত দিও
    মিলন তোমার সইতে নারি বেদনা-বিধুর ভালো।।
    
  • কার ঝর ঝর বর্ষণ বাণী

    বাণী

    (কার)	ঝর ঝর বর্ষণ বাণী
    	যায় দিক দিগন্তে বেদনা হানি’।।
    	করুণ সুরে দূর অলকায়
    	যেন অবিরল বীণা বাজায়
    		বিরহের বীণাপাণি।।
    	গীত পিপাসিত বসুন্ধরা
    	শোনে সেই সুর প্রাণ উদাস করা।
    	তারি ভাষায় বেদনা আভাস
    	কাঁদায় ভুবন আকাশ বাতাস
    		পথ প্রান্তর বনানী।।
    
  • কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর

    বাণী

    কার নিকুঞ্জে রাত কাটায়ে আস্‌লে প্রাতে পুষ্প-চোর।
    ডাকছে পাখি, ‘বৌ গো জাগো’ আর ঘুমায়ো না, রাত্রি ভোর।।
    যুঁই-কুঁড়িরা চোখ মেলে চায় চুম্‌কুড়ি দেয় মৌমাছি
    শাপলা-বনে চাঁদ ডুবে যায় ম্লান চোখে হায় চায় চকোর।।
    ঘোম্‌টা ঠেলি’ কয় চামেলি গোল ক’রো না গুল্‌-ডাকাত,
    ঢুলছে নয়ন, দুলছে গলায় বেল-টগরের ছিন্ন ডোর।।
    গুন্‌গুনিয়ে মোর আঙিনায় কোন্‌ সতীনের গাইছ গুন্‌
    কার মালঞ্চে ফুল ফোটায়ে হুল ফোটালে বক্ষে মোর।।
    
  • কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে

    বাণী

    কার বাঁশরি বাজিল মেঠো সুরে মন উদাস করা দুপুরে (গো)।
    সখি কে কাহারে চায়
    আজো সুরে সুরে ঝুরে ঝুরে কাহারে ধেয়ায়
    মোর মন যেতে চায় বাঁশুরিয়ার সুরের দেশে উড়ে (গো)।।
    হেরি যেতে নদী পথে
    সে ভাঁট ফুলেরি মালা গেঁথে ভাসায় ভাটির স্রোতে (গো)
    আমার সাধ জাগে ঐ মালা যাহার দেখি সেই বঁধু রে (গো)।।
    
  • কার মঞ্জীর রিনিঝিনি বাজে

    বাণী

    কার মঞ্জির রিনিঝিনি বাজে — চিনি চিনি।
    প্রাণের মাঝে সদা বাজে তারি রাগিণী।।
    বন-শিরিষের জিরিজিরি পাতায়
    ধীরি ধীরি ঝিরি ঝিরি নূপুর বাজায়,
    তমাল-ছায়ায় বেড়ায় ঘুরে মায়া-হরিণী।।
    আমার গানে তারি চরণের অনুরণনে
    ছন্দ জাগে গন্ধে রসে রূপে বরণে। 
    কান পেতে রই দুয়ার পাশে —
    তারি আসার আভাস আসে,
    ঝঙ্কার তোলে মনের বীণায় বীণ-বাদিনী।।
    
  • কারো ভরসা করিসনে তুই

    বাণী

    		কারো ভরসা করিসনে তুই (ও মন) এক আল্লার ভরসা কর।
    		আল্লা যদি সহায় থাকেন (ও তোর) ভাবনা কিসের, কিসের ডর।।
    		রোগে শোকে দুঃখে ঋণে নাই ভরসা আল্লা বিনে রে
    তুই		মানুষের সহায় মাগিস (তাই) পাস্‌নে খোদার নেক্‌-নজর।।
    		রাজার রাজা বাদশাহ্‌ যিনি গোলাম হ তুই সেই খোদার,
    		বড় লোকের দুয়ারে তুই বৃথাই হাত পাতিস্‌নে আর।
    		তোর দুখের বোঝা ভারি হ’লে ফেলে প্রিয়জনও যায় রে চ’লে
    সেদিন	ডাক্‌লে খোদায় তাঁহার রহম (ওরে) ঝরবে রে তোর মাথার ’পর।।
    
  • কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ

    বাণী

    কাহার তরে হায় নিশিদিন কাঁদে মন-প্রাণ।
    জানে শুধু সেই, জানে মোর হৃদি ব্যথা-ম্লান।।
    কমল-পাতে যেন জল, — প্রণয় তার সই
    বুলবুলি চপল দ'লে যায় লতিকা বিতান।।
    জানে শুধু সে নিতে মন, দিতে জানে না
    ছলিয়া চলে সে-মুকুল, বারণ মানে না।
    জীবন ল'য়ে সে খেলে মরণ-খেলা,
    সকালে যারে চাহে তাহে বিকালে হেলা।
    কুসুম-সমাধি রচে সে নিঠুর পাষাণ।।
    চাহি শুধু এই, — যেন সে বাসিয়া ভালো
    এমনি ব্যথা পায় সে ওগো ভগবান।।
    
  • কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী

    বাণী

    কিশোরী সাধিকা রাধিকা শ্রীমতী।
    চির-কিশোর আরাধিকা শ্রীমতী।।
    	কমলা গোলোকে
    	গোপিনী ভুলোকে,
    সেবিকা প্রকৃতি পরমা তপতী।।
    	শ্যাম ভুবন কালো
    	রাই অরুণ আলো,
    হরি পূজারিণী প্রেম মূর্তিমতী।।
    	ব্রজধাম বাসিনী
    	লীলা বিলাসিনী,
    শ্যাম নাম ভাষিণী বিরহ ভারতী।।
    	শ্যাম মেঘ গলে
    	রাই বিজলি দোলে,
    শ্যাম পত্র কোলে রাই ফুল আরতি।।
    	লয়ে যাঁহার নাম
    	হরি হন রাধা শ্যাম,
    সুর নর অবিরাম করে যাঁর প্রণতি।।
    
  • কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ

    বাণী

    		কুঁচবরণ কন্যা রে তার মেঘ-বরণ কেশ।
    ওরে		আমায় নিয়ে যাও রে নদী সেই সে কন্যার দেশ রে।।
    		পরনে তার মেঘ-ডম্বুর উদয়-তারার শাড়ি
    ওরে		রূপ নিয়ে তার চাঁদ-সুরুজে করে কাড়াকাড়ি রে
    আমি		তারি লাগি রে
    		আমি তারি লাগি বিবাগী ভাই আমার চির-পথিক বেশ।।
    		পিছ্‌লে পড়ে চাঁদের কিরণ নিটোল তারি গায়ে
    ওরে		সন্ধ্যা-সকাল আসে তারি’ আল্‌তা হতে পায়ে রে।
    ও সে		রয় না ঘরে রে
    ও সে		রয় না ঘরে ঘুরে’ বেড়ায় ময়নামতীর চরে
    তা’রে		দেখ্‌লে মরা বেঁচে ওঠে জ্যান্ত মানুষ মরে রে
    ও সে		জল-তরঙ্গে বাজে রে তার সোনার চুড়ির রেশ।।
    
  • কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন

    বাণী

    কুলের আচার নাচার হয়ে আছিস কেন শিকায় ঝুলে
    কাচের জারে বেচারা তুই মরিস কেন ফেঁপে ফু’লে।।
    কাঁচা তেঁতুল পেয়ারা আম
    ডাঁশা জামরুল আর গোলাপ জাম —
    যেমনি তোরে দেখিলাম অমনি সব গেলাম ভুলে।।
    

    নাটিকাঃ ‘পুতুলের বিয়ে’

  • কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু

    বাণী

    কুসুম-সুকুমার শ্যামল তনু হে ফুল-দেবতা লহ প্রণাম।
    বিটপী লতায় চিকন পাতায় ছিটাও হাসি কিশোর শ্যাম।।
    পূজার থালা এ অর্ঘ্য-ডালা এনেছি দিতে তোমার পায়
    দেহ শুভ বর কুসুম-সুন্দর হোক নিখিল নয়নাভিরাম
    এ বিশ্ব বিপুল কুসুম-দেউল হোক তোমার ফুল কিশোর
    মুরলী করে এসো গোলক-বিহারী হোক ভূ-লোক আনন্দ-ধাম।।
    

    নাটকঃ‘সাবিত্রী’

  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বল্ রসনা রাধা রাধা বল্,
    রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ রাধাকৃষ্ণ বল্।।
    যোগে খোঁজেন শিব কৃষ্ণ-গোবিন্দে
    ব্রহ্মা পূজেন রাধা-চরণারবিন্দে,
    অধরা যুগল চাঁদে ধরিল প্রেমের ফাঁদে গোপ গোপীদল।।
    (মোর) শ্রীকৃষ্ণে থাকে যেন অটল মতি
    সেই মতি দেন্ মোর রাধা শ্রীমতী,
    মন-বৃন্দাবনে ফোটে কৃষ্ণ নামের ফুল —
    ঝরায়ে সে-ফুল রাই দেন সবে প্রেম-ফল।।
    রাধাকৃষ্ণ বল্ ওরে নর-নারী
    সংসার বনে তোরা যেন শুক-শারি,
    তার, পরানে নিত্য রাস-রসের উল্লাস —
    যাহার হৃদয়ে দোলে মূরতি যুগল।।
    
  • কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল

    বাণী

    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল
    কৃষ্ণ কৃষ্ণ বোল রে মন, প্রেমের লহর তোল
    	রে মন মায়ার বন্ধন খোল।।
    নিরালা হৃদয়-যমুনাতে কে বাজায় বাঁশি আধেক রাতে
    তুই কুল ভুলে চল তাহারি সাথে প্রেম-আনন্দে দোল।
    	ও তুই প্রেম-আনন্দে দোল।।
    সে গোলক হাতে ভালবাসে গোকুল বৃন্দাবন
    মধুর প্রেমের-ভিখারি সে মদন মোহন।
    প্রেম দিয়ে যে বাঁধতে পারে, সাধ কবে তার কাছে হারে
    মুনি-ঋষি পায় না তারে গোপীরা পায় কোল।
    	ও তার গোপীরা পায় কোল।।
    
  • কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর

    বাণী

    কৃষ্ণা নিশীথ নাচে ঝিল্লির নূপুর বাজে।
    রিমিঝিমি রিমিঝিমি মৃদু আওয়াজে।।
    আঁধারের চাঁচর চিকুর খুলিয়া
    আপন মনে নাচে হেলিয়া দুলিয়া,
    মুঠি মুঠি হিম-কণা তারা-ফুল তুলিয়া
    ছুঁড়ে ফেলে ধরণী মাঝে।।
    তার	মণি-হার খুলে পড়ে উল্কা-মানিক,
    তার	নাচের নেশায় ঝিমায় দশ্‌দিক।
    	আধো-রাতে আমি শুনি স্বপনে
    তার	গুঞ্জন-গীত কানে-কথা গোপনে,
    	কালো-রূপের শিখা, ওকি শ্যামা বালিকা
    	নাচে নাচে জাগাইতে নটরাজে।।
    
  • কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন

    বাণী

    কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন-লোকের বন্ধু গোপন
    নাইতে আমার গানের ধারায় এলে সুরের মানসী কোন।।
    	গান গেয়ে যাই আপন মনে
    	সুরের পাখি গহন-বনে
    সে সুর বেঁধে কার নয়নে জানে শুধু তারি নয়ন।।
    	সুরের গোপন বাসর-ঘরে
    	গানের মালা বদল ক'রে
    সকল আঁখির অগোচরে না দেখাতেই মোদের মিলন।।
    

  • কে নিবি ফুল কে নিবি ফুল

    বাণী

    		কে নিবি ফুল, কে নিবি ফুল —
    		টগর যূথী, বেলা মালতী
    		চাঁপা, গোলাপ, বকুল, নার্গিস ইরানি-গুল।।
    		আমার যৌবন-বাগানে
    		হাওয়া লেগেছে ফুল-জাগানে,
    		চ'লে যেতে ঢ'লে পড়ি, খুলে পড়ে এলো চুল;
    		তনু-মন আকুল আঁখি ঢুলুঢুল্‌।।
    (ওগো) 	ফুটেছে এত ফুল, ফুলমালী কই?
    		গাঁথিবে মালা কবে? সেই আশে রই;
    		এ মালা দেব কা'রে ভেবে সারা হই,
    		সহিতে পারি না এ ফুল-ঝামেলা, চামেলি-পারুল।।