কাহার্‌বা

  • খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে

    বাণী

    খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে।
    প্রলয় সৃষ্টি তব পুতুল খেলা নিরজনে প্রভু নিরজনে।।
    	শূন্যে মহা আকাশে
    	মগ্ন লীলা বিলাসে,
    ভাঙিছ গড়িছ নিতি ক্ষণে ক্ষণে।।
    তারকা রবি শশী খেলনা তব, হে উদাসী,
    পড়িয়া আছে রাঙা পায়ের কাছে রাশি রাশি।
    	নিত্য তুমি, হে উদার
    	সুখে দুখে অবিকার,
    হাসিছ খেলিছ তুমি আপন মনে।।
    
  • খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে

    বাণী

    খেলিছে জলদেবী সুনীল সাগর জলে।
    তরঙ্গ - লহর তোলে লীলায়িত কুন্তলে।।
    ছল-ছল উর্মি-নূপুর
    স্রোত-নীরে বাজে সুমধুর,
    চল-চঞ্চল বাজে কাঁকন কেয়ূর
    ঝিনুকের মেখলা কটিতে দোলে।।
    আনমনে খেলে জল-বালিকা
    খুলে পড়ে মুকুতা মালিকা
    হরষিত পারাবারে উর্মি জাগে
    লাজে চাঁদ লুকালো গগন তলে।।
    

  • খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা

    বাণী

    খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা
    মেঘের এলোকেশে ওড়ে পুবালি বায়
    দোলে গলায় বলাকার মালিকা।।
    চপল বিদ্যুতে হেরি' সে চপলার
    ঝিলিক হানে কণ্ঠের মণিহার,
    নীল আঁচল হতে তৃষিত ধরার পথে
    ছুড়ে ফেলে মুঠি মুঠি বৃষ্টি শেফালিকা।।
    কেয়া পাতার তরী ভাসায় কমল-ঝিলে
    তরু-লতার শাখা সাজায় হরিৎ নীলে।
    ছিটিয়ে মেঠো জল খেলে সে অবিরল
    কাজলা দীঘির জলে ঢেউ তোলে
    আনমনে ভাসায় পদ্ম-পাতার থালিকা।।
    
  • খোদা এই গরীবের শোন শোন মোনাজাত

    বাণী

    খোদা এই গরীবের শোন শোন মোনাজাত।
    দিও তৃষ্ণা পেলে ঠান্ডা পানি ক্ষুধা পেলে লবণ-ভাত।।
    		মাঠে সোনার ফসল দিও,
    		দিও গৃহ ভরা বন্ধু প্রিয়, দিও
    হৃদয় ভরা শান্তি দিও – (খোদা) সেই তো আমার আবহায়াত।।
    আমায় দিয়ে কারুর ক্ষতি হয় না যেন দুনিয়ায়,
    আমি কারুর ভয় না করি, মোরেও কেহ ভয় না পায়, খোদা।
    (যবে)	মস্‌জিদে যাই তোমারি টানে
    (যেন)		মন নাহি ধায় দুনিয়া পানে
    আমি ঈদের চাঁদ দেখি যেন আস্‌লে দুখের আঁধার রাত।।
    
  • খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে

    বাণী

    খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হয়ে রই প’ড়ে
    ছেড়ে’ মস্‌জিদ আমার মুর্শিদ এল যে এই পথ ধ’রে।।
    দুনিয়াদারির শেষে আমার নামাজ রোজার বদ্‌লাতে
    চাইনে বেহেশ্‌ত্‌ খোদার কাছে নিত্য মোনাজাত ক’রে।।
    কায়েস যেমন লাইলী লাগি’ লভিল মজনু খেতাব
    যেমন ফরহাদ শিঁরির প্রেমে হ’ল দিওয়ানা বেতাব।
    বে–খুদীতে মশ্‌গুল্‌ আমি তেমনি মোর খোদার তরে।।
    

  • গগনে কৃষ্ণ মেঘ দোলে

    বাণী

    গগনে কৃষ্ণ মেঘ দোলে – কিশোর কৃষ্ণ দোলে বৃন্দাবনে।
    থির সৌদামিনী রাধিকা দোলে নবীন ঘনশ্যাম সনে;
    দোলে রাধা শ্যাম ঝুলন-দোলায় দোলে আজি শাওনে।।
    পরি’ ধানি রঙ ঘাঘরি, মেঘ রঙ ওড়না
    গাহে গান, দেয় দোল গোপীকা চল-চরণা,
    ময়ূর নাচে পেখম খুলি’ বন-ভবনে।।
    গুরু গম্ভীর মেঘ-মৃদঙ্গ বাজে আঁধার অশ্রুর তলে,
    হেরিছে ব্রজের রসলীলা অরুন লুকায়ে মেঘ-কোলে।
    মুঠি মুঠি বৃষ্টির ফুল ছুঁড়ে হাসে
    দেব-কুমারীরা হেরে অদূর আকাশে,
    জড়াজড়ি করি‌‘ নাচে, তরুলতা উতলা পবনে।।
    

  • গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী

    বাণী

    	গগনে খেলায় সাপ বরষা-বেদিনী।
    	দূরে দাঁড়ায়ে দেখে ভয়-ভীতা মেদিনী।।
    	দেখায় মেঘের ঝাপি তুলিয়া
    	ফনা তুলি’ বিদ্যুৎ-ফণি ওঠে দুলিয়া,
    	ঝড়ের তুব্‌ড়িতে বাজে তার অশান্ত রাগিণী।।
    	মহাসাগরে লুটায় তার সর্পিল অঞ্চল
    	দিগন্তে দুলে তার এলোকেশ পিঙ্গল
    	ছিটায় মন্ত্রপূত ধারাজল অবিরল তন্বী-মোহিনী।।
    	অশনি-ডমরু ওঠে দমকি’
    	পাতালে বাসুকি ওঠে চমকি’
    তার 	ডাক শুনে ছুটে আসে নদীজল যেন পাহাড়িয়া নাগিনী।।
    

  • গগনে প্রলয় মেঘের মেলা

    বাণী

    গগনে প্রলয় মেঘের মেলা জীবন-ভেলা দোলে টলমল
    নীর অপার ভব পারাবার তীর না হেরে পরান বিকল
    	তীর না হেরে নয়নে পরান বিকল।।
    	দীন দয়াল ভীত দীন জনে
    	মাগে শরণ তব অভয় চরণে
    দুস্তর দুর্গম দুঃখ জলধি তরিতে চরণ-তরী ভরসা কেবল।।
    
  • গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে

    বাণী

    গভীর নিশীথে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
    দূর গগনে প্রিয় তিমির-‘পারে।।
    জেগে যবে দেখি হায় তুমি নাই কাছে
    আঙিনাতে ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
    বাণ-বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
    লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।
    মৌন নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
    এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।
    কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
    কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
    দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
    কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।
    

  • গম্ভীর আরতি নৃত্যের ছন্দে

    বাণী

    গম্ভীর আরতি নৃত্যের ছন্দে।
    হে প্রভু! তোমারে প্রকৃতি বন্দে।।
    	চন্দ্র সূর্য কত শত গ্রহ তারা
    	তোমারে ঘিরি’ নাচে প্রেমে মাতোয়ারা,
    অনন্ত কাল ঘোরে ধূমকেতু উল্কা আগুন জ্বালায়ে বুকে উগ্র আনন্দে
    লীলায়িত সিন্ধু অবোধ১ উল্লাসে২,
    মেঘ হ’য়ে উড়ে যেতে চায় তব পাশে।
    	নব নব সৃষ্টি বৃষ্টিধারার প্রায়
    	সেই ছন্দের তালে অবিরাম ঝ’রে যায়,
    ধরণীর গোপন অনুরাগ ভক্তি ফুটে ওঠে নীরব পুষ্প-সুগন্ধে।।
    

    ১. প্রেম ২. ভাব উল্লাসে

  • গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে

    বাণী

    গহন বনে শ্রীহরি নামের মোহন বাঁশি কে বাজায়।
    ভুবন ভরি’ সেই সুরেরি সুরধুনি বয়ে যায়।।
    সেই নামেরি বাঁশির সুরে, বনে পূজার কুসুম ঝুরে
    সেই নামেরি নামাবলি, গ্রহ তারা আকাশ জুড়ে
    অন্ত বিহীন সেই নামেরি সুর-স্রোতে কে ভাসবি আয়।।
    

    চলচ্চিত্রঃ ধ্রুব (কাহিনীকার: গিরিশ ঘোষ)

  • গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে

    বাণী

    গহীন রাতে ঘুম কে এলে ভাঙাতে
    ফুল-হার পরায়ে গলে দিলে জল নয়ন-পাতে।।
    	যে জ্বালা পেনু জীবনে
    	ভুলেছি রাতে স্বপনে
    কে তুমি এসে গোপনে ছুঁইলে সে বেদনাতে।।
    	যবে কেঁদেছি একাকী
    	কেন মুছালে না আঁখি
    নিশি আর নাহি বাকি, বাসি ফুল ঝরিবে প্রাতে।।
    

  • গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই

    বাণী

    গাঙে জোয়ার এলো ফিরে তুমি এলে কই
    খিড়কি দুয়ার খুলে পথ-পানে চেয়ে' রই।।
    	কালো জামের ডালের ফাঁকে
    	আমায় দেখে কোকিল ডাকে,
    আজও কেন যায় না দেখা তোমার নায়ের ছই।।
    চুল বেঁধে আজ সেজেগুজে পিদিম জ্বালাই সাঁঝে,
    ঠাকুরঝিরা মুচকি হাসে, আমি মরি লাজে।
    	বাদলা রাতে বৃষ্টি ঝরে
    	মন যে আমার কেমন করে,
    আমার চোখের জলে বন্ধু মাঠ করে থই-থই।।
    
  • গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে

    বাণী

    গানের সাথি আছে আমার সুরের সেতু-পারে।
    তা’রি আশায় গানের ভেলা ভাসাই পারাবারে।।
    	জানি জানি আমার এ সুর
    	পাবেই পাবে চরণ বঁধুর
    ঐ ভেলাতে আসবে বঁধু গভীর অন্ধকারে।।
    ঘুমে যখন মগ্ন সবাই বন্ধু আমার আসে
    ফুলের মতন সুরগুলি তার মুখ চেয়ে’হাসে।
    	উদ্দেশে তার গানগুলি মোর
    	যায় ভেসে যায় নেশায় বিভোর
    যেমন ক’রে ছায় গো তপন চাঁদের অধিকারে।।
    
  • গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম

    বাণী

    গাহ নাম অবিরাম কৃষ্ণনাম কৃষ্ণনাম।
    মহাকাল যে নামের করে প্রাণায়াম।।
    যে নামের গুণে কংস কারার খোলে দ্বার।
    বসুদেব যে নামে যমুনা হ’ল পার।
    যে নাম মায়ায় হল তীর্থ ব্রজধাম।।
    দেবকীর বুকের পাষাণ গলে,
    যে নাম দোলে যশোদার কোলে।
    যে নাম লয়ে কাঁদে রাই রসময়ী,
    কুরুক্ষেত্রে যে নামে হল পান্ডব জয়ী।
    গোলকে নারায়ণ, ভূলোকে রাধাশ্যাম।।
    
  • গাহে আকাশ পবন নিখিল ভুবন

    বাণী

    গাহে আকাশ পবন নিখিল ভুবন (গাহে) তোমারই নাম।
    সাগর নদী বন উপবন (গাহে) তোমারই নাম।।
    	মধুর তোমার গানের নেশায়
    	ঘোর লাগে ঐ গ্রহ-তারায়,
    অনন্ত কাল ঘুরিয়া বেড়ায় — ঘিরি’ অসীম গগন।।
    	তোমার প্রিয় নামে, হে বঁধূ,
    	ফুলের বুকে পুরে মধু।
    	তোমার নামের মাধুরি মাখি’
    	গান গেয়ে যায় বনের পাখি,
    নিখিল পাগল ও নাম ডাকি’ — কোটি চন্দ্র তপন।।
    
  • গিন্নির চেয়ে শালী ভালো

    বাণী

    গিন্নির চেয়ে শালী ভালো মেসোর চেয়ে মামা।
    আর ডাইনের চেয়ে ডুগি ভালো অর্থাৎ কিনা বামা।।
    একশালা সে দোশালা আচ্ছা, চন্ডুর চেয়ে গাঁজা,
    আর হাতের চেয়ে ভালো, তেনার হাতদিয়ে পান সাজা,
    আর ধাক্কার চেয়ে গুঁতো ভালো, উকোর চেয়ে ঝামা।।
    টিকির চেয়ে বেণী ভালো, ধূতির চেয়ে শাড়ি,
    আর পাঠার চেয়ে মুরগি ভালো, থানার চেয়ে ফাঁড়ি
    ঠুঁটোর চেয়ে নুলো ভালো, প্যান্ট চেয়ে পায়জামা।।
    আর পেয়াদার চেয়ে যম ভালোরে (ভাই), শালের চেয়ে বাঁশ,
    আর দাঁড়ির চেয়ে গোফ্ ভলো ভাই আঁটির চেয়ে শাঁস,
    আর ছেলের চেয়ে ছালা ভালো (ওগো), ঝুড়ির চেয়ে ধামা।।
    পাকার চেয়ে কাঁচা ভালো, কালোর চেয়ে ফরসা
    আর পেত্‌নীর চেয়ে ভূত ভালো ভাই, ছাড়বার থাকে ভরসা,
    আর ঝগ্‌ড়ার চেয়ে কুস্‌তি ভালো, কাল্লুর চেয়ে গামা।।
    
  • গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল

    বাণী

    গিরিধারী গোপাল ব্রজ গোপ দুলাল
    অপরূপ ঘনশ্যাম নব তরুণ তমাল॥
    বিশাখার পটে আঁকা মধুর নিরুপম
    কান্ত ললিতার শ্রীরাধা প্রীতম
    রুক্মিণী-পতি হরি যাদব ভূপাল॥
    যশোদার স্নেহডোরে বাঁধা ননীচোর
    নন্দের নয়ন-আনন্দ-কিশোর
    শ্রীদাম-সুদাম-সখা গোঠের রাখাল॥
    কংস-নিসূদন কৃষ্ণ মথুরাপতি
    গীতা উদ্‌গাতা পার্থসারথি
    পূর্ণ ভগবান বিরাট বিশাল॥
    
  • গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো ফুলের পরাগ মেখে

    বাণী

    গুনগুনিয়ে ভ্রমর এলো ফুলের পরাগ মেখে
    তোমার বনে ফুল ফুটেছে যায় ক'য়ে তাই ডেকে।।
    	তোমার ভ্রমর দূতের কাছে
    	যে বারতা লুকিয়ে আছে —
    দখিন হাওয়ায় তারি আভাস শুনি থেকে থেকে।।
    দল মেলেছে তোমার মনের মুকুল এতদিনে —
    সেই কথাটি পাখিরা গায় বিজন বিপিনে।
    	তোমার ঘাটের ঢেউগুলি হায়
    	আমার ঘাটে দোল দিয়ে যায় —
    লতায় পাতায় জোছনা দিয়ে সেই কথা চাঁদ লেখে।।
    
  • গোঠের রাখাল বলে দে রে

    বাণী

    		গোঠের রাখাল, বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন।
    (যথা)		রাখাল–রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ।।
    (যথা)		দিনে রাতে মিলন–রাসে
    		চাঁদ হাসে রে চাঁদের পাশে,
    (যা’র)		পথের ধূলায় ছড়িয়ে আছে শ্রীহরি–চন্দন।।
    (যথা)		কৃষ্ণ–নামের ঢেউ ওঠে রে সুনীল যমুনায়,
    (যা’র)		তমাল–বনে আজো মধুর কানুর নূপুর শোনা যায়।
    		আজো যাহার কদম ডালে
    		বেণু বাজে সাঁঝ–সকালে,
    		নিত্য লীলা করে যথা মদন–মোহন।।