কাহার্‌বা

  • নাই চিনিলে আমায় তুমি

    বাণী

    নাই চিনিলে আমায় তুমি রইব আধেক চেনা।
    চাঁদ কি জানে কোথায় ফোটে চাঁদনি রাতে হেনা।।
    	আধো আঁধার আধো আলোতে
    	একটু চোখের চাওয়া পথে —
    জানিতাম তা ভুলবে তুমি, আমার আঁখি ভুলবে না।।
    আমার ঈষৎ পরিচয়ের এই সঞ্চার লয়ে
    হয় না সাহস কোথায় যাব মনের কথা কয়ে।
    	একটু জানার মধু পিয়ে
    	বেড়াই কেন গুন্‌গুনিয়ে —
    তুমি জান, আমি জানি, আর কেহ জানে না।।
    
  • নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার

    বাণী

    নাই হ'ল মা বসন ভূষণ এই ঈদে আমার।
    আল্লা আমার মাথার মুকুট রসুল গলার হার।।
    নামাজ রোজার ওড়না শাড়ি, ওতেই আমায় মানায় ভারি,
    কল্‌মা আমার কপালে টিপ, নাই তুলনা তার।।
    হেরা গুহারই হীরার তাবিজ, কোরান বুকে দোলে
    হাদিস্‌ ফেকাহ্‌ বাজুবন্দ্‌ দেখে পরাণ ভোলে।
    হাতে সোনার চুড়ি যে মা, হাসান হোসেন মা ফাতেমা,
    মোর অঙ্গুলিতে অঙ্গুরি, মা নবীর চার ইয়ার।।
    
  • নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে

    বাণী

    নাইতে এসে ভাটির স্রোতে কলসি গেল ভেসে
    সেই দেশে যাইও রে কলসি, বন্ধু রয় যে দেশে।।
    জলকে এসে' কাল সকালে কখন মনের ভুলে
    ভাসিয়েছিলাম বন্ধুর লাগি' খোঁপার কুসুম খুলে'
    কূলে এসে লাগলো সে ফুল আজকে বেলাশেষে।।
    কালকে আমার খোঁপার কুসুম পায়নি খুজেঁ যারে,
    কলসি আমার যাও রে ভেসে' খুঁজে আনো তারে।
    আমার নয়ন-জল নিয়ে যাও, ঢেলো বন্ধুর পা'য়;
    পিদিম জ্বেলে' রইব জেগে তাহারি আশায়
    আর কতদিন রইব এমন যোগিনীরই বেশে।।
    

  • নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল

    বাণী

    নাচিয়া নাচিয়া এসো নন্দদুলাল,
    মোর প্রাণে মোর মনে, এসো ব্রজগোপাল॥
    এসো নূপুর রুনুঝুনু পায়ে, এসো প্রেম যমুনা নাচায়ে
    এসো বেণু বাজায়ে, এসো ধেনু চরায়ে এসো কানাই রাখাল॥
    ঝুলনে হোরিতে রাসে, এসো কুরুক্ষেত্র রণে এসো প্রভাসে,
    (এসো) শিশু রূপে, এসো কিশোর বেশে
    এসো কংস, অরি, এসো মৃত্যুকরাল॥
    
  • নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল

    বাণী

    নাচে ঐ আনন্দে নন্দ-দুলাল
    তাতা থৈ তাতা থৈ — নাচে বৃন্দাবনে হরি ব্রজ-গোপাল।।
    ছন্দ নামে, দক্ষিণে বামে,
    টলে বাঁকা শিখী-পাখা।
    উছল যমুনা-জলে বাজিছে তাল।
    		নাচে নন্দ-দুলাল।।
    বিরাট খেলে হের আজ শিশুর রূপে,
    স্বর্গে কাঙাল করি’ ধরায় এলো চুপে চুপে।
    এত রূপ কেমনে দেখি,
    দিলে কেন দুটি আঁখি
    তাহে আবার পলক পড়ে;
    আজি বিশ্ব-পালক হ’ল বালক রাখাল।।
    
  • নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা

    বাণী

    নাচে গৌরীদিবা হিম-গিরি-দুহিতা।
    নাচে দীপ্তিমতী নাচে উমা তপতী নাচে রে চির-আনন্দিতা।।
    তার কিরণ-আচল দোলে ঝলমল
    গিরি-পাষাণ অটল করে টলমল
    গলিয়া তুষার ঝরে নির্ঝর জল
    তার চরণ-ছন্দ-চকিতা।।
    তার নাচের মায়ায় প্রাণ পায় জড় জীব
    ভুলি’ বিরহ সতীর জাগে যোগীন্দ্র শিব,
    জাগে কুসুম-কলি গাহে বিহগ-অলি,
    তার রূপে ত্রিদিব হ’ল দীপন্বিতা।।
    
  • নাচে শ্যাম সুন্দর গোপাল নটবর

    বাণী

    নাচে শ্যাম সুন্দর গোপাল নটবর
    সুঠাম মনোহর মধুর ভঙ্গে
    ঘিরি' সে চরণ ঘুরিছে অগণন
    গ্রহ-তারা গোপী সম রঙ্গে।।
    হেরিয়া তাহারি নৃত্যের হিল্লোল
    পবন উন্মন সাগরে জাগে দোল
    সে নাচে বিবশ নিশীথ দিবস
    জাগে হিন্দোল আলো-আঁধার তরঙ্গে।।
    সে নাচে বৃষ্টি হয় কোটি সৃষ্টি নির্ঝর সম ঝরে ছন্দ
    সে নাচ হেরিয়া বন্ধন টুটে গো জাগে অনন্ত আনন্দ।
    ষড় ঋতু ঘুরে' ঘুরে' হেরে সেই নৃত্য
    প্রেমাবেশে মাতোয়ারা নিখিলের চিত্ত
    তাই এ ত্রিভুবন হলো না রে পুরাতন
    পেল চির-যৌবন নাচি' তারি' সঙ্গে।।
    

  • নাচো শ্যাম-নটবর কিশোর-মুরলীধর

    বাণী

    নাচো শ্যাম-নটবর কিশোর-মুরলীধর অঙ্গ মিশায়ে মম অঙ্গে।
    তোমার নাচের শ্রী ফুটুক আমার এই নৃত্য-বিভঙ্গে।।
    মম রক্তে বাজুক তব পায়ের নূপুর
    আমার কণ্ঠে দাও বাঁশরির সুর,
    	তব বাঁশরির সুর।
    লীলায়িত হয়ে উঠুক এ তনু তোমার প্রেম-আনন্দ-তরঙ্গে।।
    আমার মাঝে হরি, নাচো যবে তুমি আমি নাচি আপনা ভুলি’
    			হরি আমি নাচি আপনা ভুলি’
    শরম ভরম যায় এই দেহ যমুনায় ছন্দের হিল্লোল তুলি’।
    মনে হয় আমি যেন রাসের রাধা জনম জনম আমি নাচি তব সঙ্গে।।
    
  • নাম মোহাম্মদ বোল রে মন

    বাণী

    নাম মোহাম্মদ বোল রে মন নাম আহমদ বোল।
    যে নাম নিয়ে চাঁদ-সেতারা আস্‌মানে খায় দোল।।
    	পাতায় ফুলে যে নাম আঁকা
    	ত্রিভুবনে যে নাম মাখা,
    যে নাম নিতে হাসিন ঊষার রাঙে রে কপোল।।
    	যে নাম গেয়ে ধায় রে নদী,
    	যে নাম সদা গায় জলধি,
    যে নাম বহে নিরবধি পবন হিল্লোল।।
    	যে নাম রাজে মরু-সাহারায়,
    	যে নাম বাজে শ্রাবণ-ধারায়,
    যে নাম চাহে কাবার মসজিদ — মা আমিনার কোল।।
    
  • নামাজ পড় রোজা রাখ কল্‌মা পড় ভাই

    বাণী

    নামাজ পড়, রোজা রাখ, কল্‌মা পড় ভাই।
    তোর আখেরের কাজ করে নে, সময় যে আর নাই।।
    	সম্বল যার আছে হাতে
    	হজ্বের তরে যা কা'বাতে,
    জাকাত দিয়ে বিনিময়ে শাফায়াত যে পাই।।
    ফরজ তরক্ ক'রে কর্‌লি করজ ভবের দেনা,
    আল্লাহ ও রসুলের সাথে হ'ল না তোর চেনা। 
    	পরানে রাখ কোরআন বেঁধে,
    	নবীরে ডাক কেঁদে কেঁদে্‌
    রাত্রি দিন তুই কর মোনাজাত — আল্লাহ্ তোমায় চাই।।
    
  • নামাজ রোজা হজ্জ-যাকাতের পসারিণী আমি

    বাণী

    নামাজ রোজা হজ্জ-যাকাতের পসারিণী আমি
    নবীর কল্‌মা হেঁকে ফিরি পথে দিবস-যামী।।
    আমার নবীজির পিয়ারি আয়রে ছুটে মুসলিম নারী,
    দ্বীনের সওদা করবি কে আয় আয় রে মুক্তিকামী।।
    জন্ম আমার হাজার বছর আগে আরব দেশে
    সারা ভুবন ঠাঁই দিয়েছে আমায় ভালোবেসে।
    আমার আজান ধ্বনি বাজে — কুল মোমিনের বুকের মাঝে
    আমি নবীর মানস কন্যা আল্লাহ্‌ মোর স্বামী।।
    
  • নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী

    বাণী

    নাহি কেহ আমার ব্যথার সাথী,
    জ্বলি পিল্‌সুজে একা মোমের বাতি।
    পতঙ্গ সুখি, পুড়ে এক নিমেষে –
    পুড়িয়া মরি আমি সারা রাতি।।
    আসে যে সুখের দিনে বন্ধু রূপে,
    অসময়ে যায় স’রে চুপে চুপে।
    	উড়ে গেছে অলি
    	ফুল ঝরেছে বলি’ – 
    কাঁদি একাকী কণ্টক-শয্যা পাতি’।।
    কেহ কারো নয় তবু প্রাণ কাঁদে
    চকোর চাহে যেন সুদূর চাঁদে,
    শুধু বেদনা পাই প্রেম-মোহে মাতি’।।
    
  • নিখিল ঘুমে অচেতন সহসা শুনিনু আজান

    বাণী

    নিখিল ঘুমে অচেতন সহসা শুনিনু আজান
    শুনি’ সে তকবিরের ধ্বনি আকুল হল মন-প্রাণ
    বাহিরে হেরিনু আসি বেহেশতী রৌশনীতে রে
    ছেয়েছে জমিন ও আসমান
    আনন্দে গাহিয়া ফেরে ফেরেশ্‌তা হুর গেলেমান —
    এলো কে, কে এলো ভুলোকে! দুনিয়া দুলিয়া উঠিল পুলকে।।
    তাপীর বন্ধু, পাপীর ত্রাতা, ভয়-ভীত পীড়িতের শরণ-দাতা
    মুকের ভাষা নিরাশার আশা, ব্যথার শান্তি, সান্ত্বনা শোকে
    এলো কে ভোরের আলোকে।।
    দরুদ পড় সবে : সাল্লে আলা, মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
    কেহ বলে, এলো মোর কম্‌লিওয়ালা — খোদার হাবীব কেহ কয় নিরালা
    মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
    কেহ বলে, আহমদ নাম মধু ঢালা — মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে আলা।
    মজনুঁরও চেয়ে হল দীওয়ানা সবে, নাচে গায় নামের নেশায় ঝোঁকে।।
    
  • নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা

    বাণী

    নিরালা কানন-পথে কে তুমি চল একেলা।
    দু'ধারে চরণ-পাতে ফুটায়ে ফুলের মেলা।।
    তোমার ওই কেশের সুবাস ফুলবন করিছে উদাস
    কুসুম ভুলিয়া মলয় ও কেশে করিছে খেলা।।
    লুটায়ে পড়ে ফুল-দল পরিবে বলিয়া খোঁপায়
    ওগো চলিবে বলি' বনতল ফুলেরা পরাগে রাঙায়,
    ও-পায়ে আলতা হ'তে চায় রঙিন গোধূলি-বেলা।।
    'চলিয়া যেয়ো না, যেয়ো না' বলি' লতারা চরণে জড়ায়,
    রোধিতে কন্টক-তরু, আঁচল ছাড়িতে না চায়;
    আকাশে ইশারায় ডাকে দ্বিতীয়া চাঁদের ভেলা।।
    
  • নিশি জেগে আমি গান শোনাবো

    বাণী

    নিশি জেগে আমি গান শোনাবো
    বন বিহগ যদি মাগে বিদায়
    আমার অন্তর মধু পিয়াবো
    পিয়াল ফুলের পিয়ালায়।।
    বেল ফুল যদি যায় ঝরে
    প্রেম ফুল দেব ডালি ভ’রে
    মাধবী কুঞ্জ রচিব হিয়ায়
    ফাল্গুন যদি ফিরে যায়।।
    যদি নাহি বয় দখিনা বাতাস
    আমার আছে অঞ্চল আছে কেশ পাশ।
    যায় ডুবে যাক আকাশে চাঁদ
    মোর চাঁদ যেন নাহি ডুবে যায়।।
    
  • নিশি ভোর হলো জাগিয়া পরান-পিয়া

    বাণী

    নিশি ভোর হলো জাগিয়া, পরান-পিয়া
    কাঁদে ‘পিউ কাহাঁ’ পাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	ভুলি’ বুলবুলি-সোহাগে
    	কত গুল্‌বদনী জাগে
    রাতি গুল্‌সনে যাপিয়া, পরান-পিয়া।।
    	জেগে রয়, জাগার সাথী
    	দূরে চাঁদ, শিয়রে বাতি
    কাঁদি ফুল-শয়ন পাতিয়া, পরান-পিয়া।।
    	গেয়ে গান চেয়ে কাহারে
    	জেগে র’স কবি এপারে
    দিলি দান কারে এ হিয়া, পরান-পিয়া।।
    
  • নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে

    বাণী

    নিশি-ভোরে অশান্ত ধারায় ঝরঝর বারি ঝরে।
    আকাশ-পারের বিরহীর বীণা যেন সুর ঝুরে আকুল স্বরে।।
    কাহার মদির নিঃশ্বাস আসে
    বকুলের বনে ঝরা ফুল বাসে
    কর হানি দ্বারে যেন বারে বারে
    খোল দুয়ার বলি ডাকে ঘুমঘোরে।।
    ডাকে কেয়া বনে ডাহুক কেকা
    বিরহের ভার বহি কত আর একা
    ম্লান হয়ে এলো চোখে কাজলের লেখা অশ্রু-লোরে।।
    

  • নিশুতি রাতের শশী গো

    বাণী

    নিশুতি রাতের শশী গো।
    ঘুমায় সকলে নিশীথ নিঝুম
    হরিল কে নয়নেরই ঘুম,
    কার অভিসারে জাগো গগন-পারে —
    চাঁদ ভুলানো সে-কোন্ রূপসী।।
    লুকায়ে হেরি আমি অভিসার তব
    তারকারা হেরে লুকায়ে নীরব,
    কপট ঘুম ভেঙে হের হাসিছে সব —
    দূর অলকার বাতায়নে বসি’।।
    

    নাটকঃ ‘সাবিত্রী’

  • নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী

    বাণী

    নীল কবুতর লয়ে নবীর দুলালী মেয়ে খেলে মদিনায়
    দেহের জ্যোতিতে তার জাফরানি পিরহান ম্লান হয়ে যায়॥
    	মুখে তার নবীজীর মুখেরি আদল
    	আঁখি দুটি করুণায় সদা ঢল ঢল,
    মেষ শাবকেরে ধরি মধুর মিনতি করি কলেমা শোনায়॥
    জুম্মার মস্‌জিদে কোন্ সে ভক্ত পড়ে কোরান আয়াত,
    অমনি সে খেলা ভুলি কচি দুটি হাত তুলে করে মোনাজাত।
    	নীল দরিয়ার পানি নয়নে বহে
    	‘উম্মতে কর ত্রাণ’ কাঁদিয়া কহে
    হজরত কোলে তুলে ‘বেহেশ্‌ত্‌ রানী তুমি’ বলে ফাতেমায়॥
    
  • নূরজাহান! নূরজাহান!

    বাণী

    নূরজাহান, নূরজাহান!
    সিন্ধু নদীতে ভেসে,
    এলে মেঘলামতীর দেশে, ইরানি গুলিস্তান।।
    নার্গিস লালা গোলাপ আঙ্গুর–লতা
    শিঁরি ফরহাদ সিরাজের উপকথা
    এনেছিলে তুমি তনুর পেয়ালা ভরি’
    বুলবুলি দিলরুবা রবাবের গান।।
    তব প্রেমে উন্মাদ ভুলিল সেলিম, সে যে রাজাধিরাজ –
    চন্দন সম মাখিল অঙ্গে কলঙ্ক লোক–লাজ।
    যে কলঙ্ক লয়ে হাসে চাঁদ নীল আকাশে,
    যাহা লেখা থাকে শুধু প্রেমিকের ইতিহাসে,
    দেবে চিরদিন নন্দন–লোক–চারী
    তব সেই কলঙ্ক সে প্রেমের সম্মান।।
    

    সঙ্গীতালেখ্য : ‌‘পঞ্চাঙ্গনা’