কীর্তন

  • আমি কি সুখে লো গৃহে রবো

    বাণী

    আমি কি সুখে লো গৃহে রবো
    সখি গো —
    আমার শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
    আমি যোগিনী হবো
    শ্যাম যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
    সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
    আমার বঁধুর পথের ধূলি হবো
    আমায় চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
    সখি গো —
    আমি আমার সুখের গোধূলি বেলার
    রঙে রঙে তারে রাঙাইব
    তার গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
    জড়াইয়া রবো দিবস যামী
    সখি গো —
    সখি আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
    তার মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
    আমার এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
    মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
    পোড়ার কি আর বাকি আছে
    আমার শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে।।
    
  • বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ

    বাণী

    বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই।
    মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।।
    সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো –
    বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।।
    সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো –
    মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো।
    হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে,
    নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে।
    নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া
    কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া।
    গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।।
    আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি,
    হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী;
    শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।।
    বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও –
    ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও,
    ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে
    হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।
    

    বেতার গীতিচিত্রঃ ‌‘যুগল মিলন’

  • মাকে আদর করে কালী বলি

    বাণী

    মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
    তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
    			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
    (কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
    পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
    			সত্যি কালো নয় রে।।
    (আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
    মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
    (রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
    রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
    শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
    (ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
    (সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
    (সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।
    
  • মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি

    বাণী

    মোরে সেইরূপে দেখা দাও হরি।
    তুমি ব্রজের বালারে রাই কিশোরীরে
    ভুলাইলে যেই রূপ ধরি’।।
    হরি বাজায়ো বাঁশরি সেই সাথে,
    যে বাঁশি শুনিয়া ধেনু গোঠে যেত উজান বহিত যমুনাতে।
    যে নূপুর শুনে ময়ূর নাচিত এসো হে সেই নূপুর পরি।।
    নন্দ যশোদা কোলে গোপাল
    যে রূপে খেলিতে, ক্ষীর ননী খেতে এসো সেই রূপে ব্রজ দুলাল।
    যে পীত বসনে কদম তলায় নাচিতে এসো সে বেশ পরি।।
    কংসে বধিলে যে রূপে শ্যাম,
    কুরুক্ষেত্রে হলে সারথি এসো সেইরূপে এ ধরাধাম।
    যে রূপে গাহিলে গীতা নারায়ণ, এসো সে বিরাট রূপ ধরি।।
    
  • সুবল সখা এই দেখ্ এই পথে

    বাণী

    সুবল সখা! এই দেখ্ এই পথে তাহার, সোনার নূপুর আছে পড়ে,
    	বৃন্দাবনের বনমালী গেছে রে ইে পথ ধরে।
    	হরি চন্দন গন্ধ পথে পথে পাই
    	ঝরা ফুলে ছেয়ে আছে বনবীথি তাই।
    	ভ্রমে ভ্রমর শ্রীচরণ-চিহ্ন ঘিরে
    	রাঙ্গা কমল ভ্রমে, ভ্রমে শ্রীচরণ-চিহ্ন ঘিরে।
    	ভাসে বাঁশির বেদন তার মৃদু সমীরে।
    	তারে খুঁজবো কোথায় — সেই চোরের রাজায় খুঁজবো কোথায়?
    	তারে খুঁজলে বনে, মনে লুকায়, চোরের রাজায় খুঁজবো কোথায়?
    	সুবল রে —
    	শ্রীদাম দেখেছে তারে রাখাল দলে,
    	গোপিনীরা দেখিয়াছে যমুনা-জলে।
    	বাঁশরি দেখেছে তারে কদম শাখায়
    	কিশোরী দেখেছে তারে ময়ূর পাখায়।
    	বৃন্দা এসেছে দেখে রাজা মথুরায়,
    	যশোদানন্দ বলে কোলে সে ঘুমায়।
    	জানি না কোথায় সে দে রে দেখায়ে দে কোথা ঘনশ্যাম
    	কবে বুকে পাব তারে, মুখে জপি যাঁর নাম।।
    
  • হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম

    বাণী

    নারদ	:	হৃদি-পদ্মে চরণ রাখো বাঁকা ঘনশ্যাম।
    ধ্রুব	:	বাঁকা শিখী-পাখা নয়ন বাঁকা বঙ্কিম ঠাম॥
    নারদ	:	তুমি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে!
    ধ্রুব	:	অধরে মুরলী ধরি দাঁড়ায়ো ত্রিভঙ্গে॥
    নারদ	:	সোনার গোধূলি যেন নিবিড় সুনীল নভে
    		পীতধড়া প’রো কালো অঙ্গে (হরি হে)
    ধ্রুব	:	নীল কপোত সম চরণ দুটি
    		নেচে যাক অপরূপ ভঙ্গে (হরি হে)
    উভয়	:	যেন নূপুর বাজে
    		হরি সেই পায়ে যেন নূপুর বাজে।
    		বনে নয় শ্যাম মনোমাঝে যেন নূপুর বাজে।
    		ঐ চরণে জড়ায়ে পরান আমার
    		(যেন) মঞ্জির হয়ে বাজে॥
    

    চলচ্চিত্রঃ ‘ধ্রুব’ (ধ্রুব ও নারদের গান)