কীর্তন

  • আমরা শক্তি আমরা বল আমরা ছাত্রদল

    বাণী

    		আমরা শক্তি আমরা বল, আমরা ছাত্রদল।
    মোদের	পায়ের তলায় মূর্চ্ছে তুফান
    		ঊর্ধ্বে বিমান ঝড় বাদল!
    				আমরা ছাত্রদল॥
    মোদের	আঁধার রাতে বাধার পথে যাত্রা নাঙ্গা পায়,
    আমরা		শক্ত মাটি রক্তে রাঙাই বিষম চলার ঘায়।
    		যুগে যুগে রক্তে মোদারে সিক্ত হল পৃথ্বীতল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    মোদের	কক্ষচ্যুত ধূমকেতু-প্রায় লক্ষ্যহারা প্রাণ,
    আমরা		ভাগ্যদেবীর যজ্ঞবেদীর নিত্য বলিদান।
    যখন		লক্ষীদেবী স্বর্গে উঠেন আমরা পশি নীল অতল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    		আমরা ধরি মৃত্যু রাজার যজ্ঞ-ঘোড়ার রাশ,
    		মোদের মৃত্যু লেখে মোদের জীবন-ইতিহাস।
    		হাসির দেশে আমরা আনি সর্বনাশী চোখের জল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    		সবাই যখন বৃদ্ধি যোগায়, আমরা করি ভুল।
    		সাবধানীরা বাঁধ বাঁধে সব, আমরা ভাঙি কূল।
    		দারুণ রাতে আমরা তরুণ রক্তে করি পথ পিছিল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    মোদের	চক্ষে জ্বলে জ্ঞানের মশাল বক্ষে ভরা বাক্‌,
    		কণ্ঠে মোদের কুণ্ঠা-বিহীন নিত্য-কালের ডাক।
    আমরা		তাজা খুনে লাল করেছি সরস্বতীর শ্বেত-কমল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    ঐ		দারুণ উপপ্লবের দিনে আমরা দানি শির,
    		মোদের মাঝে মুক্তি কাঁদে বিংশ-শতাব্দীর!
    মোরা		গৌরবেরি কান্না দিয়ে ভরেছি মা’র শ্যাম আঁচল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    		আমরা রচি ভালোবাসার আশার ভবিষ্যৎ,
    মোদের	স্বর্গ-পথের আভাস দেখায় আকাশ-ছায়াপথ!
    		মোদের চোখে বিশ্ববাসীর স্বপ্ন দেখা হোক সফল।
    				আমরা ছাত্রদল॥
    
  • আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি

    বাণী

    আমি কলহেরি তরে কলহ করেছি বোঝনি কি রসিক বঁধূ।
    তুমি মন বোঝ মনোচোর মান বোঝ নাকি হে —
    তুমি ফুল চেন, চেন নাকি মধু?
    তুমি যে মধুবনের মধুকর,
    তুমি মধুরম মধুরম মধুময় মনোহর
    কলহেরি কূলে রহে অভিমান-মধু যে, চেন নাকি বঁধু হে —
    রাগের মাঝে রহে অনুরাগ-মধু যে, দেখ নাকি বঁধু হে —
    কলঙ্কী বলে গগনের চাঁদ প্রতি দিন ক্ষয় হয়
    তুমি নিত্য পূর্ণ চাঁদ সম প্রিয়তম চির অক্ষয়
    এ চাঁদে একাদশী নাই হে —
    শুধু রাধা একা দোষী হলো নিত্য কেন পায় না
    মোর কৃষ্ণ চাঁদে যে একাদশী নাই হে —
    সেই ব্রজগোপীদের ঘর আছে পর আছে
    কৃষ্ণ বিনা নাই রাধার কেহ
    আমিও জানি যেন আমাও শ্রীকৃষ্ণ কেবল রাধাময় দেহ।
    সে রাধা প্রেমে বাঁধা সে রাধা ছাড়া জানে না, রাধাময় দেহ
    সে রাধা প্রেমে বাঁধা।
    
  • আমি কি সুখে লো গৃহে রবো

    বাণী

    আমি কি সুখে লো গৃহে রবো
    সখি গো —
    আমার শ্যাম হলো যদি যোগী ওলো সখি আমিও যোগিনী হবো।
    আমি যোগিনী হবো
    শ্যাম যে তরুর তলে বসিবে লো ধ্যানে
    সেথা অঞ্চল পাতি’ রবো
    আমার বঁধুর পথের ধূলি হবো
    আমায় চলে যেতে দলে যাবে সেই সুখে লো ধূলি হবো
    সখি গো —
    আমি আমার সুখের গোধূলি বেলার
    রঙে রঙে তারে রাঙাইব
    তার গেরুয়া রাঙা বসন হয়ে
    জড়াইয়া রবো দিবস যামী
    সখি গো —
    সখি আমার কঠিন এ রূপ হবে রুদ্রাক্ষেরই মালা
    তার মালা হয়ে ভুলব আমার পোড়া প্রাণের জ্বালা
    আমার এ দেহ পোড়ায়ে হইব চিতা ছাই
    মাখিবে যোগী মোর পুড়িব সেই আশায়
    পোড়ার কি আর বাকি আছে
    আমার শ্যাম গেছে যোগী হয়ে ছায়া শুধু পড়ে আছে।।
    
  • এ কি অপরূপ রূপের কুমার

    বাণী

    এ কি অপরূপ রূপের কুমার হেরিলাম সখি যমুনা কূলে,
    তার	এ সুনীল লাবনি গলিয়া গলিয়া ঢলিয়া পড়িছে গগন-মূলে ॥
    যেন	কমল ফুটেছে সখি, সহস্র-দল রূপে-কমল ফুটেছে,
    	রূপের সাগর মন্থন করি’ সখি চাঁদ যেন উঠছে। সখি গো —
    	কালো সে রূপের মাঝে হয়ে যায় হারা
    	কোটি আলো-রাধিকা-রবি, শশী, তারা,
    	প্রেম-যমুনার তীরে সই আমি রিবধি দেখি তারে,
    		দেখি আর চেয়ে রই।
    	আমি এই রূপ চেয়ে থাকি
    সখি	জনমে জনমে জীবনে মরণে এই রূপ চেয়ে থাকি।
    ঐ	মোহন কালোর গহন কাননে হারাইয়া যাক আঁখি ॥
    
  • ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ

    বাণী

    ওগো	প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে।
    তবু	মনের মাঝে বেণু বাজে সেই পুরানো সুরে সুরে॥
    	বাজে মনের মাঝে বেণু বাজে
    	প্রিয় বাজাতে যে বেণু বনের মাঝে আজো তার রেশ মনে বাজে॥
    	তব কদম-মালার কেশরগুলি
    	আজি ছেয়ে আছে ওগো পথের ধূলি,
    	ওগো আজিকে করুণ রোদন তুলি’ বয় যমুনা ভাটি সুরে॥
    	(আর উজান বয় না,)
    	ওগো আজিকে আঁধার তমাল বনে, বসে আছি উদাস মনে
    	ওগো তোমার দেশে চাঁদ উঠেছে আমার দেশে বাদল ঝুরে॥
    	সেথা চাঁদ উঠেছে —
    	ওগো শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
    	সেথা শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
    	সখি তাদের দেশে আকাশে আজ আমার দেশের চাঁদ উঠেছে।
    	ওগো মোর গগনে কৃষ্ণা তিথি আমার দেশে বাদল ঝুরে॥
    
  • কেন প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া

    বাণী

    কেন		প্রাণ ওঠে কাঁদিয়া
    		কাঁদিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া গো।
    আমি		যত ভুলি ভুলি করি, তত আঁকড়িয়া ধরি
    		শ্যামের সে রূপ ভোলা কি যায়, নিখিল শ্যামল যার শোভায়
    		আকাশে সাগরে বনে কান্তারে লতায় পাতায় সে রূপ ভায়।
    আমার		বঁধুর রূপের ছায়া বুকে ধরি’ আকাশ-আরশি নীল গো
    বহে		ভুবন প্লাবিয়া কালারে ভাবিয়া কালো সাগর-সলিল গো। সখি গো —
    		যদি ফুল হয়ে ফুটি তরু-শাখে, সে যে পল্লব হয়ে ঘিরে থাকে। সখি গো —
    আমি		যেদিকে তাকাই হেরি ও-রূপ কেবল
    সে যে		আমারি মাঝারে রহে করি’ নানা ছল
    সে যে		বেণী হয়ে দোলে পিঠে চপল চতুর।
    সে যে		আঁখির তারায় হাসে কপট নিঠুর।
    		তারে কেমনে ভুলিব, সখি কেমনে ভুলিব।
    থাকে		কবরী-বন্ধে কালো ডোর হয়ে কাল্‌ফণী কালো কেশে গো
    থাকে		কপালের টিপে, চোখের কাজলে কপোলের তিলে মিশে’ গো!
    আমার 	এ-কূল ও-কূল দু’কূল গেল।
    		কূলে সই পড়িল কালি সেও কালো রূপে এলো।
    রাখি		কি দিয়া মন বাঁধিয়া, বাঁধিয়া বাঁধিয়া বাঁধিয়া গো।।
    

  • কেন হেরিলাম নব ঘনশ্যাম কালারে

    বাণী

    কেন হেরিলাম নব ঘনশ্যাম কালারে কাল্‌ কালিন্দী-কূলে।
    (সে যে) বাঁশরির তানে সকরুণ গানে ডাকিল প্রেম-কদম্ব মূলে।।
    কেন কলস ভরিতে গেনু যমুনা-তীরে,
    মোর কলস সাথে গেল ভাসি, লাজ-কূল-মান আকুল নীরে।
    কলসির জল মোর নয়নে ভরিয়া সই আসিনু ফিরে।।
    সখি হে তোদের সে রাই নাই, গোকুলের রাই গোকুলে নাই।
    সে যে হারাইয়া গেছে শ্যামের রূপে লো নবীন নীরদে বিজলি প্রায়।
    সে রবি-শশী সম ডুবিয়া গেছে লো সুনীল রূপের গগন-গায়।।
    হরি-চন্দন-পঙ্কে লো সখি শীতল ক’রে দে জ্বালা,
    দুলায়ে দে গলে বল্লভ-রূপী শ্যাম পল্লব মালা।
    নীল কমল আর অপরাজিতার, শেজ্‌ পেতে দে লো কোমর বিথার
    পেতে দে শয্যা পেতে দে, নীল শয্যা পেতে দে পেতে দে!
    পরাইয়া দে লো সখি অঙ্গে নীলাম্বরী, জড়াইয়া কালো বরণ আমি যেন মরি।।
    
  • গভীর ঘুম ঘোরে স্বপনে শ্যাম-কিশোরে

    বাণী

    গভীর ঘুম ঘোরে স্বপনে শ্যাম-কিশোরে হেরে’ প্রেমময়ী রাধা।
    রাধারে ত্যজিয়া আঁধার নিশীথে চন্দ্রার সাথে বাঁধা।(শ্যাম-চাঁদ)
    যেন চাঁদের বুকে কলঙ্ক গো নির্মল শ্যাম-চাঁদের বুকে চন্দ্রা যেন কলঙ্ক গো।।
    অরুণ নয়ানে মলিন বয়ানে জাগিল অভিমানিনী
    (ভাবে) রাধার হৃদয় আধার যাহার সে কেন ভজে কামিনী।
    শ্রীরাধার মান ভয়হীন, তাই শ্রীরাধা অভিমানিনী,
    পরমশুদ্ধ প্রেম শ্রীরাধার, নির্ভয় অভিমানিনী।।
    কৃষ্ণকেও সে ভয় করে না, নির্ভয় অভিমানিনী রাধা বুঝতে নারে গো
    চির-সরল অমৃতময় গরল কেন হয় বুঝতে নারে গো
    কাঁপে থরথর সারা কলেবর, ভাবে রাধা একি বিপরীত।
    প্রেম ভিক্ষু কহে, বুঝি বুঝিবার নহে চঞ্চল শ্যামের রীত।।
    বোঝা যে যায় না চঞ্চল শ্যামের রীত
    অবুঝ মনের বোঝা যায় না তাতে তবু কখন সে রাধার, কখন সে চন্দ্রার।।
    

    গীতিচিত্র: ‘অভিমানিনী’

  • চাঁপার কলির তুলিকায় কাজল লেখায়

    বাণী

    চাঁপার কলির তুলিকায়, কাজল লেখায় শ্রীমতী শ্রীহরির ছবি আঁকে।
    রাই ছবি আঁকে পটে গো, যারে হেরে নিতি গোঠে যেতে
    যমুনার তটে গো, সে বংশী বাজায়ে মঞ্জির পায়ে
    নাচে ছায়া বটে গো, রাই ছবি আঁকে পটে গো।
    আঁকিয়া শ‍্যামের মূরতি আঁকিল না রাধা শ্রীচরণ ,
    রাধা চরণ আঁকে না, তুলি তুলিয়া রাখে চরণ আঁকে না।
    তখন ললিতা বলে- ‘রাধা! রাধা! রাধা!
    তুই আঁকলি না কেন চরণ রাধা!’
    ‘জীবন মরণ যে চরণে বাঁধা, আঁকলি না কেন চরণ রাধা —
    বিশ্বের ত্রাণ বৃন্দাবনের ধ‍্যানজ্ঞান ব্রজগোপী সাধা’ —
    ‘আঁকলি না কেন চরণ রাধা’ —!
    তখন রাধা কেঁদে বলে- ‘ওগো ললিতা —
    সখি আঁকিলে চরণ যাবে সে পালায়ে আমি হব পদদলিতা।
    পলায়ে যাবে গো মথুরায়, আবার পালায়ে যাবে গো —
    চির চপল সে মথুরায় আবার পালায়ে যাবে গো —
    থাক লুকানো হৃদয়ে শ্রীচরণ।’
    
  • ছি ছি ছি কিশোর হরি

    বাণী

    ছি ছি ছি কিশোর হরি, হেরিয়া লাজে মরি
    সেজেছ এ কোন রাজ সাজে
    যেন সঙ্ সেজেছ, হরি হে যেন সঙ্‌ সেজেছ —
    ফাগ মুছে তুমি পাপ বেঁধেছ হরি হে যেন সঙ্ সেজেছ;
    সংসারে তুমি সঙ্ সাজায়ে নিজেই এবার সঙ্ সেজেছ।
    বামে শোভিত তব মধুরা গোপিনী নব
    সেথা মথুরার কুবুজা বিরাজে।
    মিলেছে ভাল, বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল,
    ত্রিভঙ্গ অঙ্গে কুবুজা সঙ্গে বাঁকায় বাঁকায় মিলেছে ভাল।
    হরি ভাল লাগিল না বুঝি হৃদয়-আসন
    তাই সিংহাসনে তব মজিয়াছে মন
    প্রেম ব্রজধাম ছেড়ে নেমে এলে কামরূপ
    হরি, এতদিনে বুঝিলাম তোমার স্বরূপ
    তব স্বরূপ বুঝি না হে
    গোপাল রূপ ফেলে ভূপাল রূপ নিলে স্বরূপ বুঝি না হে।
    হরি মোহন মুরলী কে হরি’ নিল
    কুসুম কোমল হাতে এমন নিঠুর রাজদন্ড দিল
    মোহন মুরলী কে হরি।
    দন্ড দিল কে, রাধারে কাঁদালে বলে দন্ড দিল কে
    দন্ডবৎ করি শুধাই শ্রীহরি দন্ড দিল কে
    রাঙা চরণ মুড়েছে কে সোনার জরিতে 
    খুলে রেখে মধুর নূপুর, হরি হে খুলে রেখে মধুর নূপুর।
    হেথা সবাই কি কালা গো ?
    কারুর কি কান নাই নূপুর কি শোনে নাই, সবাই কাল গো
    কালায় পেয়ে হল হেথায় সবাই কি কালা গো।
    তব এ রূপ দেখিতে নারি, হরি আমি ব্রজনারী,
    ফিরে চল তব মধুপুর
    সেথা সকলি যে মধুময়, অন্তরে মধু বাহিরে মধু
    সেথা সকলি যে মধুময় — ফিরে চল হরি মধুপুর।
    
  • ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত

    বাণী

    ঝাঁপিয়া অঞ্চলে কেন বিধুবদন অবনত কাঁদে নয়ান।
    অভিমান পরিহর হরি-হৃদি বিহারিণী প্রেম দিয়া জুড়াও এ প্রাণ।
    তুয়া বিনা নয়নে অন্যে না হেরি
    একই রাধা আছে ত্রিভুবন ঘেরি’
    (আমি রাধা ছাড়া জানি’ না
    অনন্ত বিশ্বে রাধারই রূপধারা,
    রাধা ছাড়া দেখি না)
    ভৃঙ্গার ভরি’ তুমি শৃঙ্গার রস
    করাও পান, তাই হই যে অবশ।।
    তুমি রাধা হয়ে মধু দিলে মাধব হই,
    তুমি ধারা হয়ে নামিলে সৃষ্টিতে রই
    রাধা, সকলি তোমার খেলা
    তবে কেন কর অভিমান, কেন কর হেলা।
    প্রতি দেহ-বিম্বে তোরি
    পদতলে হর হয়ে রহি তাই ছবি।
    হরিরত হর-জ্ঞান মহামায়া হরিলী
    (এ যে) তোমারই ইচ্ছা, আমি নিজে নিজে রূপ ধরিণী।
    ভোল মানের খেলা
    দূরে থেকোনা, দাও চরণ ভেলা
    আমি তরে’ যাই, তরে’ যাই
    রাধা-প্রেম যমুনায় ডুবিয়া মরে’ যাই।।
    

    পাঠান্তর : রেকর্ডের জন্য কবি এই গানটির বহু অংশ বর্জন করেন।বর্জিত অংশগুলো এই:
    গলে দিয়া পীতধড়া গো, পদতলে দিয়া শিখী-চূড়া গো
    পদযুগ ধরিয়া চাহি ক্ষমা, ক্ষম অপরাধ প্রিয়তমা!
    হরি-মনোরমা ক্ষমা কর গো।।
    তব প্রেমে অবগাহন করি সব দাহন চিরতরে জুড়াব
    কল্প-কদম-তরু-তলে চিরদিন তোমার প্রেম-কণা কেশর কুড়াব।।

  • তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

    বাণী

    তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
    তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
    হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
    গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
    বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
    আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
    ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
    বন্ধু, ওগো বন্ধু;
    তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।
    
  • তোরা বলিস্ লো সখি মাধবে মথুরায়

    বাণী

    তোরা বলিস্ লো সখি, মাধবে মথুরায়
    কেমনে রাধার কাঁদিয়া বরষ যায়॥
    খর-বৈশাখে কি দাহন থাকে বিরহিণী একা জানে
    ঘৃত-চন্দন পদ্ম পাতায় দারুণ দহন-জ্বালা না জুড়ায়
    ‘ফটিক জলে’র সাথে আমি কাঁদি চাহিয়া গগন-পানে।
    জ্বালা না জুড়ায় গো —
    হরি-চন্দন বিনা ঘৃত-চন্দনে জ্বালা না জুড়ায় গো
    শ্যাম-শ্রীমুখ-পদ্ম বিনা পদ্ম পাতায় জ্বালা না জুড়ায়॥
    বরষায় অবিরল ঝর ঝর ঝরে জল জুড়াইল জগতের নারী
    রাধার গলার মালা হইল বিজলি-জ্বালা তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি!
    সখি রে, তৃষ্ণা মিটিল না তা’রি।
    প্রবাসে না যায় পতি সব নারী ভাগ্যবতী বন্ধু রে বাহুডোরে বাঁধে
    ললাটে কাঁকন হানি’ একা রাধা অভাগিনী প্রদীপ নিভায়ে ঘরে কাঁদে।
    জ্বালা তা’র জুড়ালো না জলে গো
    শাওনের জলে তা’র মনের আগুন দ্বিগুণ জ্বলে গো
    কৃষ্ণ-মেঘ গেছে চ’লে, অকরুণ অশনি হানিয়া হিয়ায় (সখি)॥
    আশ্বিনে পরবাসী প্রিয় এলো ঘরে গো মিটিল বধূর মন-সাধ (সখি রে)
    রাধার চোখের জলে মলিন হইয়া যায় কোজাগরী চাঁদ (মলিন হইয়া যায় গো)।
    আগুন জ্বালালে শীত যায় নাকি রাধার কি হ’ল হায়
    বুক ভরা তার জ্বলিছে আগুন তবু শীত নাহি যায়।
    যায় না, যায় না আগুন জ্বলে —
    বুকের আগুন জলে, তবু শীত যায় না, যায় না,
    শীত যদি বা যায় নিশীথ না, যায় গো
    যায় না, যায় না, রাধার যে কি হ’ল হায়॥
    কলিয়া কৃষ্ণ-ছূড়া, ছড়ায়ে ফাগের গুঁড়া আসিল বসন্ত
    রাধা-অনুরাগে রেঙে কে ফাগ খেলিবে গো, নাই ব্রজ-কিশোর দুরন্ত।
    মাধবী-কুঞ্জে কুহু কুহরিছে মুহুমুহু ফুল-দোলনায় সবে দোলে,
    এ মধু মাধবী রাতে রাধার মাধব নাই
    দুলিবে রাধা কার কোলে সখি রে —  রাধা দোলে কার কোলে গো
    শ্যাম-বল্লভ বিনা রাধা দোলে কার কোলে গো, বল্ সখি, দোলে কার কোলে।
    ফুল-দোলে দোলে সবে পিয়াল-শাখে
    রাধার প্রিয়া নাই, বাহু দু’টি দিয়া বাঁধিবে কাহাকে,
    ঝরা-ফুল-সাথে রাধা ধূলাতে লুটায়॥
    
  • নব কিশলয়-রাঙা শয্যা পাতিয়া

    বাণী

    নব কিশলয়-রাঙা শয্যা পাতিয়া
    বালিকা-কুঁড়ির মালিকা গাঁথিয়া
    আমি একেলা জাগি রজনী
    বঁধু,এলো না তো কই সৃজনী,
    বিজনে বসিয়া রচিলাম বৃথা
    বনফুল দিয়া ব্যজনী।
    কৃষ্ণচূড়ার কলিকা অফুট
    আমি তুলি আনিবৃথা রচিনু মুকুট,
    মোর হৃদি-সিংহাসন শূন্য রহিল
    আমি যাহার লাগিয়া বাসর সাজাই
    সে ভাবে মিছে এ খেলনা (সখি)।
    সে- যে জীবন লইয়া খেলা করে সখি,
    আমি মরণের তীরে ব'সে তা'রে ডাকি
    হেসে যায় বঁধু আনঘরে
    সে-যে জীবন লইয়া খেলা করে।
    সে-যে পাষাণের মুরতি বৃথা পূজা-আরতি
    	নিবেদন করি তার পায়:
    সাধে কি গো বলে সবে পাষাণ গলেছে কবে?
    	তবু মন পাষাণেই ধায় (সখি রে)।
    আমি এবার মরিয়া পুরুষ হইব,বঁধু হবে কুলবালা
    দিয়ে তারে ব্যথা যাব যথাতথা বুঝিবে সেদিন কালা,
    বিরহিণীর কি যে জ্বালা তখনি বুঝিবে কালা।
    দিয়ে তারে ব্যথা যাব যথাতথা বুঝিবে সেদিন কালা।।
    

  • না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ

    বাণী

    	না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ
    	আঁধার করিয়া ব্রজধাম, সখা হে —।
    	সোনার বরনী রাই অঙ্গে মাখিয়া ছাই
    	দিশা নাই কাঁদে অবিরাম, সখা হে —।।
    	অবিরাম কাঁদে রাই
    	তারে কাঁদায় যে তারি তরে
    	অবিরাম কাঁদে সখা হে।
    	এখনো মাধবী-লতা
    	কহেনি কুসুম-কথা
    		জড়াইয়া তরুর গলে,
    	এখনো ফোটেনি ভাষা
    	আধ-ফুট ভালোবাসা
    		ঢাকা লাজ পল্লব-তলে।
    		বলা হলো না,হলো না,
    	বুকের ভাষা মুখে বলা যে হলো না।
    সখা	আমরা নারী, বলতে নারি!
    	দুঃখের কথা মুখে বলতে নারি
    	নয়ন জলে গলতে পারি
    	তবু মুখে বলতে নারি
    	মরণ-কোলে ঢলতে পারি
    সখা	মুখ ফুটে তবু বলতে নারি, সখা হে —
    	নবীন নীরদ-বরণ শ‍্যাম জানিতাম মোরা তখনি,
    ঐ	করুণ সজল কাজল মেঘে থাকে গো ভীষণ অশনি।
    	তুমি আগুন জ্বালিলে,
    ওহে	নিরদয়! বুকে কেন আগুন জ্বালিলে।
    বুকে	আগুন জ্বালায়ে চোখে সলিল ঢালিলে।
    তাহে	আগুন নেভে কি?
    	চোখেরি জলে ডুবে আগুন নেভে কি
    	সথা হে- আগুন নেভে কি।।
    
  • ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে

    বাণী

    ফিরে যা সখি ফিরে যা ঘরে
    থাকিতে দে লো এ পথে পড়ে
    যে পথ ধরে গিয়াছে হরি চলি’
    আমি যাব না আর গোকুলে,
    সখি শিশিরে আর ভয় কি করি ভেসেছি যবে অকূলে
    সখি দিসনে লো দিসনে লো রাখ গোপী-চন্দন,
    চন্দনে জুড়ায় না প্রাণের ক্রন্দন।
    দ্বিগুণ বাজায় জ্বালা নব মালতী-মালা,
    ও যে মালা নয়, মনে হয় সাপিনীর বন্ধন।।
    সখি যাহার লাগিয়া বসন ভূষণ, সেই গেল যদি চলে
    কি হবে এ ছার ভূষণের ভার ফেলে দে যমুনা-জলে।
    সকলের মায়া কাটায়েছি সখি, টুটিয়াছে সব বন্ধন,
    যেতে দে আমায়, যথা মথুরায় বিহরে নন্দ-নন্দন।।
    দেখব তারে, রাজার সাজে দেখব তারে
    রাজার সাজে কেমন মানায় গো-রাখা রাখাল-রাজে।
    
  • বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি

    বাণী

    বাজে মঞ্জুল মঞ্জির রিনিকি ঝিনি
    নীর ভরণে চলে রাধা বিনোদিনী
    তার চঞ্চল নয়ন টলে টলমল
    যেন দু'টি ঝিনুকে ভরা সাগর জল।।
    ও সে আঁখি না পাখি গো
    রাই ইতি-উতি চায়
    কভু তমাল-বনে কভু কদম-তলায়।
    রাই শত ছলে ধীরে পথ চলে কভু কন্টক বেঁধে চরণে
    তবু যে কাঁটা-লতায় আঁচল জড়ায় বেণী খুলে যায় অকারণে।
    গিয়ে যমুনার তীরে চায় ফিরে ফিরে আনমনে ব'সে গণে ঢেউ
    চকিতে কলসি ভরি’লয় তার যেই মনে হয় আসে কেউ।
    হায় হায় কেউ আসে না
    “ভোলো অভিমান রাধারানী” বলি’ শ্যাম এসে সম্ভাষে না।
    রাই চলিতে পারে না পথ আর,
    বিরস বদন অলস চরণ শূন্য-কলসি লাগে ভার।
    বলি,কালা নাহি এলো যমুনা তো ছিল লইয়া শীতল কালো জল।
    কেন ডুবিয়া সে-কলে উঠিলি আবার কাঁদায়ে ভাসাতে ধরাতল।।
    

  • বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ

    বাণী

    বাঁধিয়া দুইজনে দুঁহু ভুজ বন্ধনে কাঁদিছে শ্যাম রাই।
    মিলনের মাঝে এত বেদনা যে বাজে গো – দেখি নাই, শুনি নাই।।
    সাগরে মিশে নদী, তবু কাঁদে নিরবধি, বুঝি না কেন গো –
    বুকে যত পায়, তত তৃষ্ণা বেড়ে যায়, সাধ মেটে না যেন গো।।
    সাধ কি মেটে গো চাঁদকে হেরে চকোরিণীর সাধ কি মেটে গো –
    মেঘ দেখে চাতকিনীর সাধ কি মেটে গো।
    হের, নব নাগরি নব নাগর মাতিল প্রেম-রসে,
    নব প্রভাত-কমলে যেন বন ভ্রমর বসে।
    নব সোনার শতদলে যেন নব মেঘের ছায়া
    কনকমালা ঘিরিল যেন বন নীল গিরি কায়া।
    গিরিধারীরে ধরিল, ধিরিধিরি রাধা গিরিধারীরে ধরিল।।
    আধ অধরে ধরে নাক’ হাসি, আধ-অধরে বাঁশি,
    হেরি’ আধ অঙ্গ দাস হতে চায়, আধ অঙ্গ দাসী;
    শ্রীচরণ ঘিরিয়া মন মধুকর গাহে, চরণাম্বুজ-রজ মাধুকরী চাহে।।
    বলে, ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও –
    ওই চরণ কমল-মধু ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও,
    ঐ যুগল-রূপ রাধা-শ্যাম দেখি যেন অবিরাম (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি আনন্দ-যমুনা হয়ে, চরণ ধুয়ে যাব বয়ে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)
    আমি নিত্য হৃদি-ব্রজধামে
    হেরিব মোর রাধা-শ্যামে, (ভিক্ষা দাও, ভিক্ষা দাও)।।
    

    বেতার গীতিচিত্রঃ ‌‘যুগল মিলন’

  • মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে

    বাণী

    মণি-মঞ্জির বাজে অরুণিত চরণে সখি
    রুনু ঝুনু রুনু ঝুনু মণি-মঞ্জির বাজে।
    হের গুঞ্জা-মালা গলে বনমালী চলিছে কুঞ্জ মাঝে।।
    চলে নওল কিশোর,
    হেলে দুলে চলে নওল কিশোর।
    হেরি সে লাবনি কৌস্তুভমণি নিষ্প্রভ হ’ল লাজে।
    চরণ-নখরে শ্যামের আমার চাঁদের মালা বিরাজে।। সখি গো —
    বঁধূর চলার পথে পরান পাতিয়া র’ব চলিতে দলিয়া যাবে শ্যাম;
    আমি হইয়া পথের ধূলি বক্ষে লইব তুলি’ চরণ-চিহ্ন অভিরাম।
    ভুলে যা তোরা রাধারে কৃষ্ণ-নিশির আঁধারে
    হারায়ে সে গেছে চিরতরে,
    কালো যমুনার জলে ডুবেছে সে অতল তলে
    ভেসে গেছে সে শ্যাম-সাগরে।।
    ঐ বাঁশি বাজিছে শোন রাধা ব’লে,
    তরুণ তমাল চলে, অঙ্গ-ভঙ্গে শিখি-পাখা টলে।
    তা’র হাসিতে বিজলি, কাজল-মেঘে যেন উঠিছে উছলি’।
    রূপ দেখে যা দেখে যা,
    কোটি চাঁদের জোছনা-চন্দন মেখে যা, মোর শ্যামলে দেখে যা।।
    
  • মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম

    বাণী

    মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম গিরিধারী
    কৃষ্ণমুরারী, আনন্দ ব্রজে তব সাথে মুরারি।।
    যেন নিশিদিন মুরলী-ধ্বনি শুনি
    উজান বহে প্রেম-যমুনারি বারি
    নূপুর হয়ে যেন হে বনচারী
    চরণ জড়ায়ে ধরে কাঁদিতে পারি।।