শ্যামা-সঙ্গীত

  • ‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি

    বাণী

    ‘কালী কালী’ মন্ত্র জপি ব’সে শোকের ঘোর শ্মশানে।
    মা অভয়ার নাম গুণে শান্তি যদি পাই এ প্রাণে।।
    	এই শ্মশানে ঘুমিয়ে আছে
    	যে ছিল মোর বুকের কাছে,
    সে হয়ত আবার উঠবে জেগে মা ভবানীর নাম-গানে।।
    সকল সুখ শান্তি আমার নিল হ’রে যে-পাষাণী,
    শূন্য বুকে বন্দী ক’রে রাখব আমি তারেই আনি’।
    	মোর, যাহা প্রিয় মাকে দিয়ে
    	জাগি আশার দীপ১ জ্বালিয়ে,
    মা’র সেই চরণের নিলাম শরণ, যে-চরণে মা আঘাত হানে।।২
    

    ১. বুকে চিতা, ২. যে চরণে প্রলয় আনে

  • আমায় আর কতদিন মহামায়া

    বাণী

    (আমায়)		আর কতদিন মহামায়া রাখ্‌বি মায়ার ঘোরে।
    (মোরে)		কেন মায়ার ঘূর্ণিপাকে ফেল্‌লি এমন করে।।
    		(ওমা) কত জনম করেছি পাপ
    			কত লোকের কুড়িয়েছি শাপ,
    		তবু মা তার নাই কি গো মাফ ভুগব চিরতরে।।
    		এমনি ক’রে সন্তানে তোর ফেল্‌লি মা অকূলে,
    		তোর নাম যে জপমালা তাও যাই হায় ভুলে’।
    			পাছে মা তোর কাছে আসি
    		তাই	বাঁধন দিলি রাশি রাশি,
    কবে		মুক্ত হ’ব মুক্তকেশী (তোর) অভয় চরণ ধ’রে।।
    
  • আমার মা আছে রে সকল নামে

    বাণী

    (আমার)	মা আছে রে সকল নামে মা যে আমার সর্বনাম।
    	যে নামে ডাক শ্যামা মাকে পুর্‌বে তাতেই মনস্কাম।।
    		ভালোবেসে আমার শ্যামা মাকে
    		যার যাহা সাধ সেই নামে সে ডাকে,
    	সেই নামে মা দেয় রে সাড়া১ কেউ শ্যামা কয়, কেহ শ্যাম।।
    	এক সাগরে মিশে গিয়ে সকল নামের নদী,
    	সেই হরি হর কৃষ্ণ ও রাম, দেখিস্ তাঁকে যদি।
    		নিরাকারা সাকারা সে কভু
    		সকল জাতির উপাস্য সে প্রভু,
    	নয় সে নারী নয় সে পুরুষ, সর্বলোকে তাঁহার ধাম।।
    

    ১. দেয় রে ধরা।

  • আমি রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি

    বাণী

    আমি	রচিয়াছি নব ব্রজধাম হে মুরারি
    সেথা	করিবে লীলা এসো গোলক-বিহারী।।
    মোর	কামনার কালীদহ করি মন্থন
    	কালীয় নাগে হরি করিও দমন
    আছে	গিরি-গোরবর্ধন মোর অপরাধ
    যদি	সাধ যায় সেই গিরি ধ'রো গিরিধারী।।
    আছে	ষড় রিপু কংসের অনুচর দল
    আছে	অবিদ্যা পুতনা শোক দাবানল
    আছে	শত জনমের সাধ আশা-ধেনুগণ
    আছে	অসহায় রোদনের যমুনা-বারি
    আছে	জটিলতা কুটিলতা প্রেমের বাধা
    হরি	সব আছে, নাই শুধু আনন্দ-রাধা
    তুমি	আসিলে হরি ব্রজে রাসেশ্বরী
    	আসিবেন হ্লাদিনী রূপে রাধা প্যারী।।
    
  • ও মা বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ

    বাণী

    ও মা	বক্ষে ধরেন শিব যে চরণ শরণ নিলাম সেই চরণে
    	জীবন আমার ধন্য হলো ভয় নাই মা আর মরণে।।
    		যা ছিল মা মোর ত্রিলোকে
    		তোকে দিলাম, দিলাম তোকে
    	আমার ব’লে রইল শুধু তোর চরণের ধ্যান, এ মনে।।
    তোর	কেশ নাকি মা মুক্ত হলো ছুঁয়ে তোর ওই রাঙা চরণ
    	মুক্তকেশী, মুক্ত হবো ওই চরণে নিয়ে শরণ।
    	তোর	চরণ-চিহ্ন বক্ষে এঁকে
    		বিশ্বজনে বলবো ডেকে — মা
    	‘দেখে যা কোন্ রত্ন রাজে আমার হৃদয়-সিংহাসনে’।।
    
  • ওমা নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে

    বাণী

    ওমা	নির্গুণেরে প্রসাদ দিতে তোর মত কেউ নাই।
    তোর	পায়ে মা তাই রক্তজবা গায়ে শ্মশান-ছাই।।
    		দৈত্য-অসুর হনন ছলে
    		ঠাঁই দিস্ তুই চরণ তলে,
    আমি	তামসিকের দলে মা গো তাই নিয়েছি ঠাঁই।।
    	কালো ব’লে গৌরী তোরে কে দিয়েছে গালি,
    (ওমা)	ত্রিভুবনের পাপ নিয়ে তোর অঙ্গ হ’ল কালি।
    		অপরাধ না করলে শ্যামা
    		ক্ষমা যে তোর পেতাম না মা,
    (আমি)	পাপী ব’লে আশা রাখি চরণ যদি পাই।।
    
  • ওরে আজই না হয় কালই তোরে

    বাণী

    ওরে		আজই না হয় কালই তোরে কালী কালী বল্‌তে হবে।
    তুই 		কাঁদ্‌বি ধ’রে কালীর চরণ মহাকাল আসিবে যবে।।
    		তুই জন্মের আগে ছিলি শিখে মা বল্‌তে মা কালীকে,
    তুই 		ভুল্‌লি আদি-জননীকে দু’দিন মা পেয়ে ভবে।।
    তুই 		কালি দিয়ে লিখ্‌লি হিসাব কেতাব-পুঁথি শিখ্‌লি পড়া,
    তোর		মাঠে ফসল ফুল্ ফুটালো কালো মেঘের কালি-ঝরা।
    		তোর চোখে জ্বলে কালীর কালো তাই জগতে দেখিস্ আলো,
    (কালি)	প্রসাদ গুণে সেই আলো তুই হৃদ্‌পদ্মে দেখ্‌বি কবে।।
    
  • কে তোরে কি বলেছে মা

    বাণী

    কে	তোরে কি বলেছে মা ঘুরে বেড়াস কালি মেখে
    ওমা	বরাভয়া ভয়ঙ্করী সাজ পেলি তুই কোথা থেকে।।
    	তোর এলাকেশে প্রলয় দোলে
    	আমি চিনতে নারি গৌরী বলে।
    ওমা	চাঁদ লুকাল মেঘের কোলে তোর মুখে না হাসি দেখে।।
    ওমা	শঙ্কর কি গঙ্গা নিয়ে,কাঁদায় তোরে দুঃখ দিয়ে
    ওমা	শিবানী তোর চরণ তলে এনেছি তাই শিবকে ডেকে।।
    
  • কে বলে মোর মাকে কালো

    বাণী

    কে বলে মোর মাকে কালো, মা যে আমার জ্যোতির্মতী।
    কোটি চন্দ্র সূর্য তারা নিত্য করে যার আরতি।।
    	কালো রূপের মায়া দিয়ে
    	মহামায়া রয় লুকিয়ে,
    মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
    যোগীন্দ্র যাঁর চরণ-তলে ধ্যান করে রে যাঁর মহিমা,
    দু’টি নয়ন-প্রদীপ জ্বেলে খুঁজি সেই অসীমার সীমা।
    	সাজিয়ে কালী গৌরী মাকে
    	পূজা করি তমসাকে,
    মায়ের শুভ্ররূপ দেখেছে শুভ্র শুচি যার ভকতি।।
    
  • তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে

    বাণী

    তুই কালি মেখে জ্যোতি ঢেকে পারবি না মা ফাঁকি দিতে।
    ঐ অসীম আঁধার হয় যে উজল মা, তোর ঈষৎ চাহনিতে।।
    		মায়ের কালি মাখা কোলে
    		শিশু কি মা, যেতে ভোলে?
    আমি দেখেছি যে, বিপুল স্নেহের সাগর দোলে তোর আঁখিতে।।
    কেন আমায় দেখাস মা ভয় খড়গ নিয়ে, মুন্ডু নিয়ে?
    আমি কি তোর সেই সন্তান ভুলাবি মা ভয় দেখিয়ে।
    		তোর সংসার কাজে শ্যামা,
    		বাধা আমি হব না মা,
    মায়ার বাঁধন খুলে দে মা ব্রহ্মময়ী রূপ দেখিতে।।
    
  • তোর কালো রূপ লুকাতে মা

    বাণী

    তোর কালো রূপ লুকাতে মা বৃথাই আয়োজন।
    ঢাকতে নারে ও রূপ, কোটি চন্দ্র তপন।।
    	মাখিয়ে আলো আমার চোখে
    	লুকিয়ে রাখিস তোর কালোকে,
    তোর অতল কালো রূপে মাগো বিশ্ব নিমগন।।
    আঁধার নিশীথ সে যেন তোর কালো রূপের ধ্যান
    তোর গহন কালোয় গাহন ক’রে জুড়ায় ধরার প্রাণ।
    হেরি তোর কালো রূপ স্নিগ্ধ-করা
    	শ্যামা হ’ল বসুন্ধরা,
    নিবল কোটি সূর্য, তোরে খুঁজে অনুক্ষণ।।
    
  • দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী

    বাণী

    দেখে যারে রুদ্রাণী মা সেজেছে আজ ভদ্রকালী।
    শ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে আছে শ্মশান মাঝে শিব-দুলালী॥
    	আজ শান্ত সিন্ধু তীরে
    	অশান্ত ঝড় থেমেছে রে,
    মা’র কালো রূপ উপ্‌চে পড়ে ছাপিয়ে ভুবন গগন-ডালি॥
    আজ অভয়ার ওষ্ঠে জাগে শুভ্র করুণ শান্ত হাসি,
    আনন্দে তাই বসন ফেলি’ মহেন্দ্র ঐ বাজায়-বাঁশি,
    	ঘুমিয়ে আছে বিশ্ব ভুবন
    	মায়ের কোলে শিশুর মতন,
    পায়ের লোভে মনের বনে ফুল ফুটেছে পাঁচমিশালি॥
    
  • মহাকালের কোলে এসে

    বাণী

    	মহাকালের কোলে এসে গৌরী হ’ল মহাকালী,
    	শ্মশান–চিতার ভস্ম মেখে ম্লান হ’ল মার রূপের ডালি।।
    		তবু মায়ের রূপ কি হারায়
    	সে যেছড়িয়ে আছে চন্দ্র তারায়,
    	মায়ের রূপের আরতি হয় নিত্য সূর্য–প্রদীপ জ্বালি’ ।।
    	উমা হ’ল ভৈরবী হায় বরণ ক’রে ভৈরবেরে,
    হেরি’	শিবের শিরে জাহ্নবী রে শ্মশানে মশানে ফেরে।
    		অন্ন দিয়ে ত্রি–জগতে
    		অন্নদা মোর বেড়ায় পথে,
    	ভিক্ষু শিবের অনুরাগে ভিক্ষা মাগে রাজদুলালী।।
    
  • মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

    বাণী

    (মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
    (এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
    			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
    			অধরে না ধরে হাসি
    		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
    		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
    		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
    			জননী-প্রায় আঘাত করে
    			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
    		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।
    
  • মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা

    বাণী

    মা মেয়েতে খেল্‌ব পুতুল আয় মা আমার খেলাঘরে।
    আমি মা হয়ে মা শিখিয়ে দেব পুতুল খেলে কেমন করে।।
    কাঙাল অবোধ করবি যারে বুকের কাছে রাখিস্ তারে (মা)
    [নইলে কে তার দুখ ভোলাবে
    যারে রত্ন মানিক দিবি না মা, উচিত সে তার মাকে পাবে]
    আবার কেউ বা ভীষণ দামাল হবে কেউ থাকবে গৃহ কোণে প’ড়ে।।
    মৃত্যু সেথায় থাকবে না মা থাকবে লুকোচুরি খেলা
    রাত্রি বেলায় কাঁদিয়ে যাবে আসবে ফিরে সকাল বেলা।
    কাঁদিয়ে খোকায়, ভয় দেখিয়ে, ভয় ভোলাবি আদর দিয়ে (মা)
    [বেশি তারে কাঁদাস না মা, মা ছেড়ে সে পালিয়ে যাবে]
    সে খেলে যখন শ্রান্ত হবে ঘুম পাড়াবি বক্ষে ধ’রে।।
    
  • মাগো আমি তান্ত্রিক নই

    বাণী

    মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
    আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
    	যাই না আমি শ্মশান মশান
    	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
    খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
    ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
    তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
    	শিশু যেমন অনায়াসে
    	জননীরে ভালোবাসে,
    তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।
    
  • মাতল গগন-অঙ্গনে ঐ

    বাণী

    মাতল গগন-অঙ্গনে ঐ আমার রণ-রঙ্গিণী মা।
    সেই মাতনে উঠল দুলে ভূলোক দ্যুলোক গগন-সীমা।।
    	আঁধার-অসুর-বক্ষপানে
    	অরুণ-আলোর খড়গ হানে,
    মহাকালের ডম্বরূতে উঠল বেজে মা’র মহিমা।।
    সৃষ্টি-প্রলয় যুগল নূপুর বাজে শ্যামার যুগল পায়ে,
    গড়িয়ে পড়ে তারার মালা উল্কা হয়ে গগন-গায়ে।
    লক্ষ গ্রহের মুন্ডমালা দোলে গলে দোলে ঐ
    বজ্র-ভেরীর ছন্দ-তালে নাচে শ্যামা তাথৈ থৈ,
    অগ্নি-শিখায় ঝলকে ওঠে খড়গ-ঝরা লাল শোণিমা।।
    
  • শ্যামা নামের ভেলায় চ'ড়ে

    বাণী

    শ্যামা নামের ভেলায় চ'ড়ে কাল-নদীতে দুলি।
    ঘাটে ঘাটে ঘটে ঘটে (আমি) সুরের লহর তুলি।।
    	কাল-তরঙ্গে ভাসিয়ে অঙ্গ,
    	দেখে বেড়াই কত রঙ্গ,
    কায়ায় কায়ায় রঙ-বেরঙের (ওরে) শত মায়ার ঠুলি।।
    জন্মান্তর ঘাটে ঘাটে ভাসি উঠি ডুবি
    মা নিশিদিন ডাকে আমায়, 'ওরে আয় আমারে ছুঁবি'।
    	মোরে কাল-স্রোতে ভাসানের ছলে
    	মা লীলা দেখান নাট-মহলে
    ওই খেলার (ছলে) শেষে আপনি এসে (মা) বক্ষে নেবেন তুলি।।